টিভিতে খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউরো ও কোপা আমেরিকার কোনো খেলা নেই আজ। উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডের খেলা আছে।
টেনিস
উইম্বলডন
৪র্থ রাউন্ড
বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১, ২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউরো ও কোপা আমেরিকার কোনো খেলা নেই আজ। উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডের খেলা আছে।
টেনিস
উইম্বলডন
৪র্থ রাউন্ড
বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১, ২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় মাটির ক্ষয়রোধ, বেড়িবাঁধ সুরক্ষা ও সুফল প্রকল্পের আওতাভুক্ত সদস্যদের সুবিধায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় এক লাখ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ।
শনিবার বিকারে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট পূর্ব পাশে ঝাউবন এলাকায় এই বনায়নের উদ্বোধন করেন কোস্টাল অঞ্চল বরিশাল বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশিদ খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে নতুনপাড়া পর্যন্ত সমুদ্র রক্ষা বেড়িবাঁধের দুই পাশে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ২০টি সারিতে মোট ১ লাখ গাছের চারা লাগানো হবে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে চারা রোপণ শেষ করা হবে বলে বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় এই প্রকল্পের আওতায় লাগানো হবে ঝাউ, আকাশমনি, অর্জুন, তেঁতুল, ইপিল ইপিল, মেহগনি, শিশু, জারুল, আমলকিসহ ১৫ প্রজাতির গাছের চারা।
কোস্টাল অঞ্চল বরিশাল বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশিদ খান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়-ঝাপটায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে উপকূলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তাই এই উপকূল এলাকা ও সমুদ্র রক্ষা বেড়িবাঁধ টেকসই করতে সরকারের সুফল প্রকল্পের আওতায় এই ১ লাখ গাছের চারা রোপণের উদোগ নেয়া হয়। এতে একদিকে মাটিক্ষয় রোধসহ ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূল রক্ষা হবে। অন্যদিকে এই সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০০ জন সুফলভোগীও উপকৃত হবেন।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন রোভার বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণের উদ্দেশে বের হয়েছেন।
রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৭টায় পাঁচ দিনব্যাপী এ যাত্রা শুরু করেন তারা। এ যাত্রা শেষ হবে ১১ জুলাই।
রোভার স্কাউটস এর সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির লক্ষ্যে পরিভ্রমণ ব্যাজ অর্জন করতে এই পরিভ্রমণ সম্পন্ন করবেন সিনিয়র রোভার মেট অভিজিৎ দাস, রাশেদ ইমরান ও রবিন চন্দ্র মজুমদার।
পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রোগ্রামে তারা বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও কুয়াকাটা পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণ করবে। এই সময় সমাজ সচেতনতামূলক তিনটি স্লোগান তারা বহন করে।
পথে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস ইত্যাদি পরিদর্শন করবে। এছাড়া গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবে।

ত্বকের জন্য উপকারী ফল খাওয়ার পাশাপাশি বাদ দিতে হবে এমন খাবার যেগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, ডিপ ফ্রায়েড খাবার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলো এড়িয়ে চলবেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, কোন ফলগুলো আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ
পরিচিত একটি ফল পেঁপে। পাকলে বেশ মিষ্টি স্বাদের খেতে এই ফল। শুধু স্বাদই নয়, এটি নানাভাবে শরীরের উপকারও করে। আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে পেঁপে। এতে থাকে প্যাপেইন নামক এনজাইম। এর এক্সফোলিয়েটিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে কাজ করে। যে কারণে নিয়মিত পেঁপে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় দ্রুতই।
স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি ভিনদেশি ফল হলেও এখন আমাদের দেশে বেশ সহজলভ্য। সুস্বাদু এই ফলও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করতে পারে। আসলে উপকারী এই ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। যে কারণে স্ট্রবেরি আমাদের ত্বকের নানা উপকারে আসে। বিশেষ করে পিগমেন্টেশন কমানো এবং উজ্জ্বলতা বাড়ানোর মতো কাজে সাহায্য করতে পারে স্ট্রবেরি।
কিউই
কিউই ফলের স্বাদ পছন্দ করেন কি? এটিও বিদেশি ফল তবে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পাওয়া যায়। এই ফল ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। তাই নিয়মিত কিউই ফল খেলে তা ত্বকের কোষকে পুষ্ট করতে এবং ত্বকের ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে। খাবারের তালিকায় এসব ফল যোগ করার পাশাপাশি ফেসমাস্ক তৈরিতেও কাজে লাগাতে পারেন ফলগুলো।

এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- এক হাদিসে নবী করিম সা: বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর কাছে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ’ (মুসলিম-৩৬৮)।
দিন, মাস আর সনের হিসাব ছাড়া আধুনিক পৃথিবীতে কোনো কাজই চলে না। আমাদের বাংলাদেশে তিনটি বর্ষপঞ্জির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সরকারি-বেসরকারি দাফতরিক কাজকর্ম, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ইংরেজি বর্ষপঞ্জি একটি অপরিহার্য মাধ্যম। হিন্দু-সম্প্রদায়ের পূজা-পার্বণ, বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ আর কৃষিজীবীদের আবাদি মৌসুমের হিসাব ছাড়া বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়। মুসলমানদের নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, শবেবরাত, শবেকদর, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ ধর্মীয় বিষয়াবলির জন্য হিজরি সনের হিসাব অপরিহার্য।
হিজরি সন গণনার সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক এক অবিস্ময়রণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে। রাসূল সা: ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আরবি মহররম মাসকে হিজরি সনের প্রথম মাস ধরে সাল গণনা শুরু হয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তথা দ্বীনের স্বার্থে পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় রাসূল সা: ও সাহাবায়ে কেরামদের হিজরতের বছর থেকেই হিজরি সনের সূচনা।
খলিফা হজরত ওমর ফারুক রা:-এর শাসনামলে ১৬ হিজরি সনে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মূসা আশআরি রা: ইরাক ও কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদা হজরত আবু মূসা আশআরি রা: খলিফা ওমর রা:-এর খেদমতে এ মর্মে পত্র লিখেন যে, আপনার পক্ষ থেকে পরামর্শ কিংবা নির্দেশ সংবলিত যেসব চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছে তাতে দিন, মাস, কাল, তারিখ ইত্যাদি না থাকায় কোন চিঠি কোন দিনের তা নিরূপণ করা আমাদের জন্য সম্ভব হয় না। এতে করে আমাদের নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্যা হয়। অনেক সময় আমরা বিব্রত বোধ করি চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে।
হজরত আবু মূসা আশআরির চিঠি পেয়ে হজরত উমর রা: এ মর্মে পরামর্শসভার আহ্বান করেন যে, এখন থেকে একটি ইসলামী তারিখ প্রবর্তন করতে হবে। ওই পরামর্শসভায় হজরত উসমান রা: হজরত আলী রা:সহ বিশিষ্ট অনেক সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ওই সভায় ওমর রা: সিদ্ধান্ত দেন ইসলামী সন প্রবর্তনের। তবে কোন মাস থেকে বর্ষের সূচনা করা হবে তা নিয়ে পরস্পরের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়।
কেউ এ মত পোষণ করেন- রাসূল সা:-এর জন্মের মাস রবিউল আওয়াল থেকে বর্ষ শুরু করার। আবার কেউ কেউ মত পোষণ করেন রাসুলের ওফাতের মাস থেকে বর্ষ শুরু করা হোক। অন্যান্যের মতে, হুজুর সা:-এর হিজরতের মাস থেকে বর্ষ করা হোক। এভাবে বিভিন্ন মতামত আলোচিত হওয়ার পর হজরত উমর রা: বললেন, হুজুর সা:-এর জন্মের মাস থেকে হিজরি সনের গণনা শুরু করা যাবে না। কারণ খ্রিষ্টান সম্প্রদায় হজরত ঈসা আ:-এর জন্মের মাস থেকেই খ্রিষ্টাব্দের গণনা শুরু করেছিল। তাই রাসূল সা:-এর জন্মের মাস থেকে সূচনা করা হলে বাহ্যত খ্রিষ্টানদের অনুসরণ ও সদৃশতা হয়ে যায়, যা মুসলমানদের জন্য পরিত্যাজ্য।
এ সম্পর্কে রাসুলের বাণী- ‘তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বিরোধিতা করো’ (বুখারি ও আবু দাউদ শরিফ)।
অপর দিকে, হুজুর সা:-এর ওফাত দিবসের মাস থেকেও গণনা শুরু করা যাবে না, কারণ এতে হুজুর সা:-এর মৃত্যু ব্যথা আমাদের মাঝে বারবার উত্থিত হবে। পাশাপাশি অজ্ঞ যুগের মৃত্যুও শোক পালনের ইসলামবিরোধী একটি কুপ্রথারই পুনরুজ্জীবন ঘটবে।
হজরত ওমর রা:-এর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের সাথে হজরত উসমান রা: ও হজরত আলী রা: একবাক্যে সহমত পোষণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওমর ফারুক রা: হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপঞ্জি গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল উলা ৬৩৮

বৃহস্পতিবার জনপ্রিয় একটি হ্যাকিং ফোরামে ‘‘ওবামাকেয়ার’’ নামের একজন ব্যবহারকারী ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডের সংকলন প্রকাশ করেছেন। রকইউ২০২৪ নামে তৈরি পাসওয়ার্ডের এই সংকলনে এক দশকের বেশি সময়ের চুরি করা পাসওয়ার্ড রয়েছে।
তবে ওবামাকেয়ার এবারই যে প্রথম এই ধরনের চুরি করা ডাটা ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছেন বিষয়টি তেমন নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও ওই ব্যবহারকারী আইনি সংস্থা সিমন্স অ্যান্ড সিমন্সের কর্মচারীদের ডাটাবেস শেয়ার করেছিলেন। এমনকি অনলাইন ক্যাসিনো আসক গ্যাম্বলার্স ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির রোয়ান কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের ডাটাবেসও প্রকাশ করেছিলেন ওবামাকেয়ার।
সাইবারনিউজের গবেষকরা ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড সংকলন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা বলেছেন, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব পাসওয়ার্ড চুরি করা হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ধরনের ডাটাসেট হ্যাকিং ফোরামে প্রকাশ করা হয়েছে।
রকইউ২০২৪ ডাটাসেটে নতুন করে চুরি যাওয়া পাসওয়ার্ড যুক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেক পাসওয়ার্ড অনেক আগেই চুরি করা হয়েছিল বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
এর আগে, ২০২১ সালে রকইউ২০২১ নামের ডাটাসেটে প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাসওয়ার্ড প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত ডাটাসেটে ১৫ বিলিয়নের বেশি পাসওয়ার্ড রয়েছে।
২০২১ সালে চুরি করা পাসওয়ার্ডের যে ডাটাসেট প্রকাশ করা হয়েছিল, তা ২০০৯ সালে প্রকাশিত আরেকটি ডাটাসেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়; যেখানে লাখ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছিল।

বরিশাল অফিস :: দোয়া পড়তে পড়তে ঢুকতে হয় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিসে। যে কোনো কাজে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয়ে বুকটা দুরুদুরু করে অনেকের। বড় বড় ফাটল আর পলেস্তারা খসে পড়ছে ভবনটির। ফলে সেবার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ ভবনে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম।
পাঁচ যুগেরও বেশি সময়ের পুরোনো এ ভবনটিতে বড় বড় ফাটল আর একাংশ ভেঙে গেছে। ভবনের পেছনে একটি খাল রয়েছে, যার ফলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই ভেতরে পানি ঢুকে ফ্লোর থইথই করে। আরেক দিকে ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে চেয়ার-টেবিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হচ্ছে।
কিন্তু উপায় নেই এ ভবনে সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ভবন ভেঙে পড়ার ভয় ও আতঙ্ক নিয়েই সেবা দিচ্ছেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও জরুরি নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সবাই।
অফিসে সেবা নিতে আসা চর এককরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, আমি সেবা নেওয়ার জন্য এসেছি। অফিসের বেহাল অবস্থা দেখে ভেতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছি না।
ইউপি সদস্য নাছির হোসেন বলেন, ভবনটি এতটা ঝুঁকিপূর্ণ, যে কোনো সময় ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। আমরা নতুন ভবনের দাবি জানাই।
সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজ কর্মী আরিফুজ্জামান বলেন, ভবনের ভেতরে ঢোকার আগে দোয়া পড়ি। ভবনের ভেতরে কাজ করার সময়ে ভয়ে বুকটা দুরুদুরু করে।
বড় বড় ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়ছে, পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, ভিতরে স্যাঁতসেঁতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের অফিসিয়াল কাজ করতে হচ্ছে। কাজের সময় ভয়ে কখনো ছাদের দিকেও তাকাই।
প্রতিদিন গড়ে অফিসে ৩-৪ শতাধিক সেবাপ্রত্যাশী আসা-যাওয়া করে। আতংকিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে তারা কাজ শেষ করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ভবন ভেঙে পড়ার ভয় ও আতংক থাকলেও কিছু করার নেই। মানুষকে সেবা দিতেই হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এ ভবন পরিদর্শন করলেও এখনও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। অনেকবার বিষয়টি লিখিতভাবেও জানানো হয়েছে।
৫০ বছরের পুরোনো ভবনটিতে জীবন বাজি রেখে তারা অফিস করছেন। ভবনের একাংশে বড় বড় ফাটল, দেবে গেছে, খালের দিকে হেলে পড়েছে, বার বার মনে হয় এই বুঝি মাথার ওপর ভেঙে পড়ল ছাদ! বর্তমানে এই জরাজীর্ণ ভবনে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে ডেকে এনে কথা বলেন উপকার ভোগীরা। অতি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি। উপজেলা মাসিক মিটিংয়েও তা তুলে ধরে রেজুলেশন করা হয়েছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ ভবনটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অতিদ্রুত সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য জরাজীর্ণ পুরোনো এ ভবনটি ভেঙে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ই-জিপি বিষয়ক কর্মশালা। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. নাছিমুর রহমান শরীফ।
তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি সিস্টেম উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে এনেছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আছিমুর রহমান শরীফ তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ই-জিপিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন সিস্টেমে পরিণত করার জন্য এতে কিছু নতুন মডিউল যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোট সরকারি ক্রয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ এখন ই-জিপি’র মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দেশে ই-জিপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্জিত ইতিবাচক ফলাফলগুলিও উল্লেখ করেন। ‘এ পর্যন্ত ১১টি দেশ এবং পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের ই-জিপি সাফল্য সম্পর্কে জানার জন্য বিপিপিএ পরিদর্শন করেছে’।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, ই-জিপি এখন সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ক্রয়কারী সংস্থাগুলির জন্য বাধ্যতামূলক।
একই ধরনের একটি কর্মশালা আগামীকাল (সোমবার) বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস (বিসিসিপি) বিপিপিএ কর্তৃক নিয়োজিত পরামর্শক হিসেবে কর্মশালাটি পরিচালনা করেছে।
স্থানীয় ক্রয়কারী সংস্থা, দরদাতা, ব্যাংক ও গণমাধ্যমের প্রায় ৭৫ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কিছু ক্রয়কারী সংস্থা ও দরদাতা সরকারি ক্রয় ও ই-জিপি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মো. নাসিমুর রহমান শরীফ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮ অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
বিপিপিএ (পূর্বতন সিপিটিইউ) সরকারি ক্রয়ের ডিজিটাইজেশনের জন্য ই-জিপি চালু করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের ২ জুন ই-জিপি পোর্টাল উদ্বোধন করেন। বিপিপিএ কর্তৃক নিয়োজিত দোহাটেক নিউ মিডিয়া প্রধান পরামর্শক হিসাবে, বেক্সিমকো আইটি এবং জিএসএস ইনফোটেকের সাথে ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।

ফলে শাহবাগ ও তার আশপাশের এলাকার সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে সড়কে আটকে থাকা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
শুরুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন। এরপর একে একে শাহবাগ মোড়ের চারটি রাস্তা বন্ধ করে দেন। ফলে শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাবের দিকের রাস্তা, শাহবাগ থেকে বাংলামটরের দিকের রাস্তা, শাহবাগ থেকে সায়েন্সল্যাবের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এখনও শাহবাগ থেকে পরিবাগ হয়ে সায়েন্সল্যাবের সড়কে তীব্র যানজট লেগে আছে। তবে পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে শাহবাগের দিকে আসা যানবাহনগুলো ঘুরিয়ে কাকরাইল মসজিদের রাস্তাসহ অন্যান্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। অন্যদিকে বাংলামটরের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো ইন্টারকন্টিনেন্টালের আগের রাস্তা দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।
ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন তখনকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে সরকারি চাকরিতে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে) সব ধরনের কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালে সেই পরিপত্রের ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে’র অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।
সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে সে ব্যাপারে আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
পরে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে গত এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু বর্ণাঢ্য আয়োজনে পটুয়াখালীতে শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব।
রোববার (৭ জুলাই) সকালে বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির (ইসকন)-এ সাত দিনব্যাপী এই উৎসবের সূচনা হয়। এ সময় হাজারো ভক্তের সমাগমে মন্দির চত্বর পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোহিতরা দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।
আজ বিকেলে মন্দিরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মেয়রসহ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা। পরে মন্দির প্রাঙ্গন থেকে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথটি যাত্রা শুরু করে শহর প্রদক্ষিণ করেন।
ইসকন কর্তৃপক্ষ সাত দিনব্যাপী এ উৎসবে হরিনাম সংকৃর্ত্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে। এছাড়া পুরান বাজার শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর আখড়া বাড়ি থেকে জগন্নাথ দেবকে নিয়ে আরো একটি রথ বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন।
শাস্ত্র মতে, ভক্তদের দর্শন দিতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব প্রতিবছরের আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথে চড়ে নগর পরিভ্রমণ করে মাসির বাড়ি বেড়াতে যান। সাত দিন পরে তিনি আপন আলয়ে ফিরে আসেন। তখন হয় উল্টো রথ। বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ উৎসবটি পালন করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া শ্রী শ্রী জগন্নাথ নাট মন্দিরের পুরোহিত শিশির বলেন, ‘যজ্ঞানুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রচারনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেছি। বিকেলে মন্দির থেকে রথযাত্রা অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাত দিনব্যাপী মন্দিরে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।