কোটা বাতিলের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল অফিস :: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, নগরীর নতুল্লাবাদ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মহাসড়ক অবরোধের শুরুতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সড়কের উভয় প্রান্তে যানবাহন আটকে যায়।

ফলে অফিসগামীসহ সাধারণ যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। আর পণ্যবাহী গাড়িগুলো সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা। তাদের দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে তারা।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি অবরোধ হলেই বরিশাাল-কুয়াকাটার পাশাপাশি বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়ছেন বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলার সাধারণ মানুষ। এ ভোগান্তি লাঘবে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে, অবরোধের কারণে মহাসড়কে অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিএম কলেজ শিক্ষার্থী হুজাইফা রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশকে মুক্ত করা হলেও আজ কোটা পদ্ধতি পাকিস্তানী শোষণ-বৈষম্য বহন করছে। অতি সত্বর আমরা এ কোটা পদ্ধতি থেকে মুক্তি চাই।

বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলের দাবিতে মহাসড়কে অবরোধ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’–এর সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন




পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ফ্রিল্যান্সিং শিখুন, ক্যারিয়ার গড়ুন’ স্লোগানে পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনে ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় কোর্সটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইকম ডিজিটাল টেকনলোজি।

বুধবার (১০ জুলাই) সকালে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থেকে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ মোস্তফা কামাল।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ঋণ বকেয়ার অভিযোগে নারী নেত্রী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রান্তে জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) এস.এ.এম. রফিকুন্নবী।এ ছাড়াও পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোদাচ্চের বিল্লাহ, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজালাল সহ সহকারী প্রোগ্রামার ও প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ইকম ডিজিটাল টেকনলোজি সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ঋণ বকেয়ার অভিযোগে নারী নেত্রী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সোনালী ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা ঋন বকেয়ার অভিযোগে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা বেবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় নিজ বাসা থেকে বেবিকে আটক করে থানায় নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মোঃ জসিম।

এদিকে পটুয়াখালী অর্থ ঋণ আদালতের গ্রেপ্তারী পরোয়ানার বলে বেবিকে আটকের কথা পুলিশ দাবী করলেও গ্রেপ্তারকৃত বেবি জামিনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান।

পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, ১৯৮৫ সালে পটুয়াখালী বিসিক এলাকায় মেসার্স পটুয়াখালী টেক্সটাইল নামে একটি কোম্পানি খুলে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন জাকিয়া সুলতানা বেবির স্বামী সিরাজুল ইসলাম খান। ওই কোম্পানির অর্ধেক শেয়ার নিজ নামে রেখে কোম্পানির পরিচালক পদ দিয়ে ২৫ ভাগ করে শেয়ার দেখানো হয় সিরাজুল ইসলাম এর স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা বেবি এবং হামিদুল হক নামে এক ব্যক্তির নামে।

টেক্সটাইলটি কিছুদিন চালু থাকার পর ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের বকেয়া দাড়ায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ সময়ের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম এবং হামিদুল হক মারা যান। এরপর ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় ব্যাংক ম্যানেজার বাদী হয়ে পটুয়াখালী অর্থ ঋণ আদালতে জাকিয়া সুলতানা বেবিকে আসামি করে ২০০৪ সালে একটি মামলা দায়ের করেন।

আরো পড়ুন : শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালীর জেল সুপার মাহাবুবুল আলম

ব্যাংক ম্যানেজার জিল্লুর রহমান আরো জানান, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সুদে-আসলে বর্তমান লেজার স্থিতি অনুযায়ী এ পর্যন্ত সুদ মওকুফের পর জাকিয়া সুলতানা বেবির আবেদনের প্রেক্ষিতে তার কাছে ব্যাংকের বকেয়া পাওনা দাড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর ঋণ গ্রহিতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

গত মে মাসে জাকিয়া সুলতানা বেবি ১৯ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের কাছে সুদ মওকুফের আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড সভায় তিন কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত না মেনে বেবি প্রতিনিয়ত খিলাপি তালিকার শীর্ষ ওঠেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের হস্তক্ষেপে বুধবার বেবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সদর থানার ওসি মোঃ জসিম আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত জাকিয়া সুলতানা বেবিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালীর জেল সুপার মাহাবুবুল আলম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশালের বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মাহাবুবুল আলম। বন্দি কল্যাণ, কারাবন্দিদের সংশোধন ও পূনর্বাসন এবং কারা কর্মচারীদের কল্যাণে অবদান রাখায় তিনি গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন।

ইতোপূর্বে তিনি নারায়নগঞ্জ জেলা কারাগার, গাইবান্ধা জেলা কারাগারেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গাজীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী-বাউফল সড়ক অবরোধ পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

তিনি ১৯৯৯ সালে ডেপুটি জেলার পদে কারা বিভাগে যোগদান করেন। আজ এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতায় বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির তাকে ক্রেষ্ট, সনদপত্র এবং এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।




পটুয়াখালী-বাউফল সড়ক অবরোধ পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বর ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে পটুয়াখালী-বাউফল সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে পটুয়াখালী-বাউফল সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফজলে রাব্বি সজীব বলেন, শুধু বিসিএস নয় সরকারি সকল সেক্টরে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে এবং পোষ্য কোটার মতো অযৌক্তিক সব কোটা বাতিল করতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সৈয়দ স্বাধীন বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নই, বরং মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে অযৌক্তিক কোটার বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, ৯ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত না করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এরপরই নতুন করে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন।




ইউরোর সেমিফাইনালসহ টিভিতে খেলার সূচি




দাপুটে জয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনা




ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার পথ সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকেই ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতে চান। তবে কোনও নীতিমালা না থাকায় তারা ব্যাংকঋণ শোধ করতে সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় ব্যাংকগুলো একেবারে পুরো অর্থ শোধ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে অনেকেই ঋণ থেকে বেরিয়ে যেতে সমস্যায় পড়েন। নতুন নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো সুবিধা পাবে এবং ব্যবসায়ীরাও সুবিধা মতো ঋণ শোধ করে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, এক্সিট সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরো ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের মানের কোনও পরিবর্তন হবে না এবং এই সময়ে গ্রাহক নতুন ঋণও নিতে পারবেন না। এই সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে পুরো ঋণ শোধ করতে হবে। এসব গ্রাহক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবেও চিহ্নিত হবেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এমন বিরূপভাবে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অথবা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রকল্প বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে অথবা ঋণগ্রহীতা কর্তৃক প্রকল্প বা ব্যবসা বন্ধ করার ক্ষেত্রে নিয়মিত ঋণের প্রস্থান সুবিধা দেওয়া যাবে। বিদ্যমান ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১০ শতাংশ এককালীন নগদে পরিশোধপূর্বক এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে। ঋণগ্রহীতার আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা নির্বাহী কমিটির দ্বারা এই সুবিধা অনুমোদন হতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। তবে মূল ঋণ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এক্সিট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর অর্পণ করা যাবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, এ সুবিধার আওতায় সুদ মওকুফ করা হলে মওকুফযোগ্য সুদ পৃথক ব্লকড হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের পর ব্লকড হিসাবে রক্ষিত সুদ চূড়ান্ত মওকুফ হিসেবে গণ্য হবে। এক্সিট সুবিধার আওতায় এক বা একাধিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। একাধিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিশোধ সূচি প্রণয়ন করতে হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সাধারণভাবে ২ বছরের বেশি হবে না। তবে পরিচালনা পর্ষদ যুক্তিসংগত কারণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ আরও এক বছর সময় বৃদ্ধি করতে পারবে।

নীতিমালার প্রেক্ষাপট হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ঋণগ্রহীতার ব্যবসা, শিল্প বা প্রকল্প কখনও কখনও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে বন্ধ হয়ে যায় অথবা লোকসানে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে গ্রাহকের নগদ প্রবাহ বন্ধ কিংবা কিস্তি পরিশোধের জন্য নগদ প্রবাহ অপর্যাপ্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের ঋণ আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এসব ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকৃত হয়ে যায়, যা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি পর্যায়ে পড়ে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে গ্রাহকের প্রকৃত বিরূপ আর্থিক অবস্থা হলে ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হতে পারে। এ ধরনের ঋণ একবারে প্রস্থানের মাধ্যমে আদায় বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ব্যাংকগুলো একবারে প্রস্থানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি বা মানদণ্ড অনুসরণ করছে। তাই এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ঋণ আদায়ের মাধ্যমে ব্যাংকের তারল্য প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য একটি অনুসরণীয় নীতিমালা জারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এক্সিট সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ঋণের দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত এক্সিট-পূর্ববর্তী ঋণের শ্রেণি মান বহাল থাকবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যথানিয়মে খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ওই ঋণ হিসাবের তথ্য পূর্ববর্তী শ্রেণি মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে রিপোর্ট করতে হবে। তবে নিয়মিত ঋণে এক্সিট সুবিধা প্রদান করা হলে শুধু এক্সিট হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে।

এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্তদের নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বলা হয়েছে, এক্সিট সুবিধা গ্রহণকারী যে কেউ ওই ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোনও নতুন ঋণ নিতে পারবেন না। এক্সিট সুবিধার ঋণ সমন্বয়ের পূর্বে ঋণের বিপরীতে গৃহীত জামানত অবমুক্ত করা যাবে না। তবে ব্যাংক, গ্রাহক ও ক্রেতা আগ্রহী হলে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আলোচ্য ঋণের বিপরীতে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করা যাবে। এক্সিট সুবিধা প্রাপ্তির পর গ্রাহক পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আদায়ে ব্যাংক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




ফ্রান্সকে হতাশার নীলে ডুবিয়ে ইউরোর ফাইনালে স্পেন




প্রথমবার এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়ে যা বললেন আম্পায়ার জেসি