অপ্রতিরোধ্য কলম্বিয়াকে ফাইনালে পেলো আর্জেন্টিনা 




গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানাচ্ছেন পিএসসির উপ-পরিচালক আবু জাফর : প্রশ্নফাঁস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর নিজ গ্রামে নির্মাণ শুরু করেছিলেন ডুপ্লেক্স বাগান বাড়ি। আর সে কারণেই নিজ এলাকায় কিনেছিলেন ৬০ শতাংশ জমি। এমনটাই জানিয়েছেন আবু জাফরের নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মিয়া বাড়ির আশেপাশের লোকজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে গত রোববার ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিএসসির দুজন উপ-পরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আটককৃতদের মধ্যে একজন পিএসসির উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর মিয়া। যার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মিয়া বাড়ি।

গলাচিপার কলাগাছিয়া ইউপির ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু জাফর এলাকায় তেমন একটা আসা যাওয়া ছিল না। এ কারণে নিজ গ্রামের অনেকেই তাকে ভালোভাবে চেনেন না। বিশেষ ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বাড়িতে গেলেও থাকতেন ৬নং ওয়ার্ডের কল্যাণকলস গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে। বয়স্ক অনেকেই চিনলেও যুবসমাজ তাকে তেমন একটা চিনেন না। কথাবার্তায় তাকে খুব ভালো মানুষ হিসেবেই জানতেন গ্রামের পরিচিত ব্যক্তিরা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার সকলেই বিস্মিত ও লজ্জিত।

আরো পড়ুন : মহিপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দিলো অবৈধ স্থাপনা

কলাগাছিয়া গ্রামের কুমারখালী বাজারে আবু জাফরের বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের কাছেই সীমানাপ্রাচীর দেয়া বাগান বাড়ির আদলে ছাদ ঢালাই দেয়া বাড়িটি দেখিয়ে দেন। এর বাইরে এ গ্রামে কিছু আছে বলে জানেন না তবে ঢাকায় তার কি পরিমান সম্পদ আছে তা গ্রামবাসী জানেন না এমনটাই বলছিলেন বাজারে আসা ষাটোর্ধ আবুল মিয়া।

কলাগাছিয়া কুমারখালী বাজার এলাকায় আবু জাফরের ৬০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গেলে দেখা যায়, সীমানাপ্রাচীর দেয়া নির্মাণাধীন বাগান বাড়ির চারিদিকে ঝোপঝাড়ে ভরা। বাড়ির প্রবেশমুখে গেট ও ভেতরে বাগানবাড়ির আদলে নির্মাণের কাজ শুরু করে ছাদ ঢালাই পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কলাগাছিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, আবু জাফরের বাড়ি আর আমার বাড়ি কাছাকাছি। তাদের পুরোনো বাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর আগে কলাগাছিয়া কুমারখালী বাজার এলাকায় ৬০ শতাংশ জমি কিনে নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাড়ি নির্মাণে ধীরগতি হওয়ায়র কারণ জানতে চাইলে বাড়িটি বড় করে নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আবু জাফর। এমটাই বলছেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, আবু জাফরের নিজ এলাকায় এর বাইরে তেমন সম্পদ নেই। যদি থাকে তা অন্যত্র থাকতে পারে। আবু জাফর তেমন একটা এলকায় আসেন না। এমন একটা জঘন্য ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবে এমনটা আমরা আশা করিনি। এতে আমরা লজ্জিত।

কলাগাছিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির ছোট্ট একটি ঘরে অভিযুক্ত আবু জাফরের ভাই মো. জালাল মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।

অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনার বিষয়ে আবু জাফরের শ্যালক আমিন উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবু জাফর তেমন লোক নয়। সে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। হয়তো তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

কলাগাছিয়া মিয়া বাড়ি মসজিদের সভাপতি ও অভিযুক্ত আবু জাফরের দূর সম্পর্কের চাচা মো. আউয়াল মিয়া জানান, আবু জাফর ছোট বেলা হইতে এলাকায় আল্লেনা। ওর বোনেইর লগে খুলনায় থাইক্কা লেখাপড়া করছে। ওইখানে বড় হইছে। তবে বাড়িতে না আইলেও এই মসজিদে থাকা এতিমের জন্য মাঝেমধ্যে টাকা পাঠাইতো।




মহিপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দিলো অবৈধ স্থাপনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগে বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার মহিপুর বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযানে সহযোগিতা করেন মহিপুর থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন : বাউফলে দুই ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত

নির্বাহী মাজিস্ট্রেট জানায়, অত্র এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পূর্ণবাসনের জন্য সরকার অস্থায়ীভাবে সরকারি জমিতে এক বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এই জমিগুলো। প্রতিবছরের নবায়ন করতে হবে। এই বরাদ্দগুলোতে স্পষ্ট শর্ত থাকে যে, এখানে কোন প্রকার স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। সরকারের শর্ত ভঙ্গ করে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এখানে বেশ কয়েকটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হস্তে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পাঁচ থেকে সাতটি স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে , অভিযান চলবে। সকলের সতর্কতার জন্য জানানো হইতেছে যে সরকারি শর্তের বাইরে গিয়ে উপস্থাপনা নির্মান না করেন। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।




কোপার ফাইনাল মাতাবেন শাকিরা




জনদুর্ভোগ তৈরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর




রিজার্ভ কমলো ১৩২ কোটি ডলার




বাউফলে দুই ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সেলিম সরদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাউফল-কালাইয়া সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অপর আরও তিনজন। সবার বাড়ি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত একটি অটো গাড়ি যাত্রী নিয়ে কালাইয়া থেকে বাউফলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। বাউফল-কালাইয়া সড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পৌঁছলে অপরদিক থেকে আসা আরেকটি অটো যাত্রীবাহী গাড়িটিকে ধাক্কা দিলে ছিটকে পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক বৃদ্ধ। আহত হন এক নারী ও শিশুসহ তিনজন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজা বেগম (৩২) ও সিদ্দিক সরদারকে (৭৯) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার বলেন, একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




রাস্তা নয় যেন চাষের জমি

বরিশাল  অফিস :: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাংলা বাজার থেকে হাটখোলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা। এ রাস্তা দেখলে মনে হবে, এটি রাস্তা নয় ধানের চারা রোপণের জন্য হাল চাষ করা হয়েছে। দেখে মনে হবে যেন চাষের জমি।

রাস্তাটির এমনই বেহাল দশা যে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। গাড়ি নিয়ে চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাচলেরও কোনো অবস্থা নেই। প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাংলা বাজার থেকে হাটখোলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। এ রাস্তায় কোথাও ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে পানি আর কাদা। ৩ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা।

পল্লি চিকিৎসক আফসার উদ্দিন বলেন, এ এলাকায় ৬০০ পরিবারের প্রায় দুই হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। পুরো বর্ষায় কাদামাটি মাড়িয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আমাদের জন্য চরম কষ্টের। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে রাস্তা পানির নিচে ডুবে থাকে, পানি সরে গেলে রাস্তা কাদা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে কষ্ট হয়, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে করে নিতে হয়। রাস্তার বিষয়ে অনেকবার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

কোড়ালমারা বাংলা বাজার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী মো. নুহাদ বলেন, আমাদের এ এলাকা থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে ও মাদরাসায় যায়। বর্ষাকালে এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে কাদাপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে আমাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে দিলে এলাকাবাসীসহ সবার উপকার হবে।

শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজের হিসাব সহকারী মো. আব্বাসউদ্দীন বলেন, রাস্তাটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। এখানে রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও হিন্দুদের শ্মশান। কিন্তু কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষায় চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আশা করি জনগণের কথা চিন্তা করে কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাসেল মিয়া বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের মূল রাস্তাগুলোর উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে আরও কিছু কাঁচা রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ রাস্তাটি আইডির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এসব রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ বলেন, রাস্তাটি আইডি নম্বর ছিল না। কিছুদিন আগে আইডি নম্বর দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানানো হয়েছে। সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। এটি একটি ঘনবসতি এলাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।




বাবুগঞ্জে একটি কর্দামক্ত রাস্তায় হাজারো মানুষের ভোগান্তি!

বরিশাল অফিস :: বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি গ্রামের প্রবেশের মূল রাস্তাটি প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা হওয়ায় জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় কোনোভাবে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুম রাস্তায় নরম কাঁদামাটি এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদাপানির সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

অথচ ওই সড়কে রয়েছে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ধর্মীয় উপাসনালয়। এছাড়াও রাস্তাটি দিয়ে রফিয়াদী, চাঁদপাশা কিসমত, আরজি কালিকাপুর গ্রামের সাথে বটতলা বাজার, ময়দানের হাট, বাবুগঞ্জ বাজার সহ সকল স্কুল কলেজ ও উপজেলা সদরে যাতায়ত করেন।দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বছরের শুষ্ক মৌসুমে সড়কে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদামাটির ভোগান্তির শিকার হতে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এ এলাকার মানুষের আতঙ্ক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটু সমান কাঁদামাটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভ্যান-রিকশা আসে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে চায় না। অনেক সময় কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান তারেক বলেন আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না। নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাট-বাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের এখানকার শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে রাস্তার কাদামাটি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কত কাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে।

জানতে চাইলে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে সর্বসাধারণের দুর্ভোগে পরিণত হয়। রাস্তাটির প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে।




বরগুনা জেলা কারাগারের বেহাল দশা, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

বরিশাল অফিস :: ১৯৬৯ সালে নির্মাণ করা হয়েছে বরগুনা জেলা কারাগার। তবে প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরের উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার না হওয়ায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে কারাগারটি। এতে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বাস করছেন বন্দি ও দায়িত্বরত কারারক্ষীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে নির্মাণ করা হয় কারাগারটি। কিন্তু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে তেমন কোনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে কারাগারটিতে প্রায় ৩০০ জন কারাবন্দি রয়েছেন। যদিও এর ধারণ ক্ষমতা ২০০ জনের। এছাড়া কারাগারটিতে নেই কোনো নিচু পেরিমিটার ওয়াল ও বাউন্ডারি ওয়াল। যার ফলে যে-কোনো সময় কারাবন্দি পালিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সরজমিনে কারাগারের বাইরের ভবন ঘুরে দেখা যায়, কারাগারের মূল ভবন থেকে শুরু করে কারাবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘরে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে বেরিয়ে গেছে রড। অধিকাংশ জায়গায় খসে পড়েছে পলেস্তারা। সবচেয়ে বেহাল দশায় খোদ কারারক্ষীদের বাসভবনগুলোর। জরাজীর্ণ এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পরিবার নিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

বরগুনা কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া একজন বলেন, কারাগারের সব নিয়মতান্ত্রিকভাবে চললেও অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে কারাগারের হাসপাতাল, বিষখালী এবং পায়রা নামের ভবনগুলো অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। একটু বাতাসেও থরথর করে কাঁপে ভবনগুলো। অন্যদিকে কিশোর ওয়ার্ডের অবস্থা আরও বেহাল। বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যায় মেঝে। উপায় না থাকায় এসব ভবনে থাকতে হচ্ছে বন্দিদের।

মো. হান্নান মিয়া নামের এক কারাবন্দির স্বজন বলেন, সাক্ষাতের ঘরটি বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে বেরিয়ে গেছে রড। যেকোনো সময় পলেস্তারা খুলে ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। এছাড়া দর্শনার্থীদের অপেক্ষার জন্যে গেটের বাইরে একটা টিনশেড ঘর আছে সেটার অবস্থাও করুণ। নেই ব্যবহার যোগ্য কোনো টয়লেট। তাই অতিদ্রুত এগুলোর মেরামত দাবি জানাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারারক্ষী জানান, পুরোনো ভাঙাচুরা ভবনে কোনোরকম টিনের বেড়া বা পলিথিন দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কারাগারে শুধু নতুন একটি ভবন ছাড়া বাকি সব আবাসিক ভবনই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। মূল অফিস ভবনের ২য় তলায় জেল সুপারের বাসভবনের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে তাই বাধ্য হয়েই তিনি অন্য একটি কোয়াটারে থাকছেন। জেলার ও ডেপুটি জেলারের জন্যে নেই কোনো কোয়ার্টার।

বরগুনা জেলা কারাগারের বেসরকারি কারাপরিদর্শক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব মৃধা যুগান্তরকে বলেন, ১৯৬৮ সালে নির্মাণের পর ১৯৬৯ সালে এটি চালু হয়। তখনকার সময়ে করা কারাবন্দিদের আটকে রাখার পেরিমিটার ওয়ালটিও অনেক নিচু। বন্দীদের ব্যারাক ভবনগুলো আলাদা করার জন্যে নেই কোনো আলাদা দেয়াল। এছাড়া ধারণ ক্ষমতার থেকেও বেশি বন্দী থাকায় পুরোনো ভবনে গাদাগাদি করে বন্দীদের থাকতে হয়। নতুন একটি কারাগার নির্মাণের জন্যে আমরা সুপারিশ করেছি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কারাগারের সকল সমস্যার বিষয়ে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। যাতে দ্রুতই এসব ভবন নতুন করে নির্মাণ করা যায় ।