পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী ২৫০ বেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ৫শ বেডে উন্নীত করণের জন্য গ্রহণ করা প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩০ জুন কাগজে কলমে সমাপ্ত হলেও বাস্তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি।

আর প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে ছাত্রলীগের চাহিদার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে মারধর করে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়াসহ কাজ বন্ধ করারও অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে চিঠি দিয়েছেন।

৯ জুলাই গণপূর্ত বিভাগের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, শের ই বাংলা নগর ঢাকা-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ নিয়োগপ্রাপ্ত। উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন হোস্টেলের জন্য নির্ধারিত আসবাবপত্র সরবরাহ পরবর্তীতে তার চাহিদার প্রেক্ষিতে পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলে আসবাবপত্র সেটিং ও ফিটিং করানোর জন্য ঢাকা থেকে গত ১২ মে টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয়।

হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করার সময় কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি টেকনিশিয়ানদের কাজে বাধা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ গত ২০ মে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আসবাবপত্র সেটিং করণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অধ্যক্ষসহ ২৫০ বেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। পরে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে কাজের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে বিস্তরিত আলাপ-আলোচনা করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে পুনরায় টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয় গত ২২ জুন।

নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ কে-০১৩১৬৬৬৪৩৪৩ নাম্বার থেকে আনুমানিক রাত ১১.৩০টায় ফোন করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং টেকনিশিয়ান যাতে প্রেরণ না করা হয় সে ব্যাপারে হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে অবহিত করা হয়। ঈদ-উল-আজহা পরবর্তীতে হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় টেকনিশিয়াদের পুনরায় পটুয়াখালী মেডিকেলের ছাত্রলীগ কর্মীরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এমনকি টেকনিশিয়ানরা যে হোটেলে রাতে অবস্থান করে সেখান থেকেও মারধর করে, মোবাইল কেড়ে নেওয়াসহ কলেজে ঢুকে যাতে কাজ না করে সে ব্যাপারে হুমকি প্রদর্শন করা হয়।

পরে টেকনিশিয়ানরা ভয়ে কাজ না করে তারা পটুয়াখালী ত্যাগ করেন। গত ১ জুলাই ঢাকা থেকে কর্তৃপক্ষের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুনরায় নতুন (দশ) টেকনিশিয়ানদের হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করণের জন্য প্রেরণ করা হলে মহিলা হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মী সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন এবং কাজ না করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করায় তারা প্রাণ ভয়ে কাজ করতে এবং স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে চাচ্ছে না।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘বৃহন্নলা’

এমতাবস্থায়, বারবার টেকনিশিয়ান পাঠানোর পরেও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মারধরের হুমকি সহ কলেজে প্রবেশে নিষেধ করায় সরকারের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হবে না মর্মে প্রতীয়মান। সুতরাং যথাসময়ে সরকারি কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের সরকারি কাজে বাধা প্রদানে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হল। অন্যথায় প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে সমাপ্ত হবেনা মর্মে আশংকা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। ছাত্রলীগের ওরাও তো আমাদের ছাত্র। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। তবে বর্তমানে পুলিশের পাহারায় কাজ চলছে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগ ও হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের জন্য আনা বিভিন্ন আসবাবপত্র নতুন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে মজুত করে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময় কাজ করলে এসব আসবাবপত্র সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সংযোজন করার কথা। কিন্তু ছাত্রলীগের বাধার কারণে তার অধিকাংশই মজুত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে হোস্টেলে অবস্থান করা ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রাথমিক ভাবে তারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, এ নিয়ে শিক্ষকরা একাধিকবার কথা বললে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে। তবে এ বিষয় মেডিকেল কলেজ শিক্ষকরা সরাসরি কেউ কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করছেন না।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তারা পুরো বিষয়ের সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। পাশাপাশি এটিকে বিএনপি জামায়াত ঘরানার শিক্ষকদের একটি কর্মকাণ্ড বলেও জানান তারা।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ঠিক রাখার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সবাই।




হত্যাচেষ্টার পরে প্রথম সাক্ষাৎকারে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প




কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘বৃহন্নলা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৃহন্নলা’।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বৃহন্নলা’র আয়োজনে এ পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হয়। পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সৈকতের জিরো পয়েন্টের ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেন তারা।

এর আগে রোববার বিকালে বৃহন্নলা’র আয়োজনে ম্যারাথান অনুষ্ঠিত হয়। এ দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় লিঙ্গের ৯ জনসহ বৃহন্নলার ২৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বৃহন্নলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাদিকুল ইসলাম বলেন, সমাজের সকল স্তরের সদা বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ আয়োজন। এর অংশ হিসাবে রোববার সকালে কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারে রাখাইন শিক্ষার্থীদের সাথে জেন্ডার সেনসিটাইজেশন সেশনের আয়োজন করা হয়। বিকালে কুয়াকাটা সৈকতে দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ আমরা সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে শিশুকাল থেকেই যাতে আলাদা বৈষম্য তৈরি না হয়, এজন্য আমরা কাজ করছি।




কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে ফাহিমা আক্তার (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নাওভাংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। বাড়ীর সবার অগোচরে নিজেদের পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে ফাহিমা আক্তার পানিতে পড়ে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর পুকুর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যককমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।




গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর




আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়া জয়, কোপার শিরোপা মেসিদের




বার্লিনে রেকর্ডের রাতে স্পেনের ইউরো জয়




প্রশ্ন ফাঁসে আরও ১১ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

বরিশাল অফিস :: প্রশ্ন ফাঁসে অভিযুক্ত আরও ১১ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএফআইইউ। আগামী ৩০ দিনের জন্য এসব ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুলাই) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ৯ জুলাই পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। অ্যাকাউন্ট জব্দের তালিকায় থাকা এসব ব্যক্তিকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত রবিবার বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে খবর প্রকাশের পরদিন রাজধানীর পল্টন থানায় সরকারি কর্ম কমিশন আইনে মামলা করে সিআইডি। ওই মামলায় আবেদ আলীসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।

অ্যাকাউন্ট জব্দের তালিকায় রয়েছেন-পিএসসির উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক এসএম আলমগীর কবির, ডেসপ্যাচ রাইডার খলিলুর রহমান, অডিটর প্রিয়নাথ রায় ও অফিস সহকারী মো. সাজেদুল ইসলাম।

এই তালিকায় আরও আছেন-সাবেক সেনা সদস্য মো. নোমান সিদ্দিক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, ঢাকার পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী মামুনুর রশীদ, নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের টেকনিশিয়ান নিয়ামুল হাসান ও ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম।




ভরা বর্ষায় বরিশাল মহানগরীর ১৬৫টি রাস্তার কাজ শুরু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগরীর ভাঙাচোড়া রাস্তাঘাট মেরামত ও পুননির্মাণ কাজ শুরু হলেও এর সুফল পেতে নগরবাসীকে আরো ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভরা বর্ষার মধ্যেই নগরীর ৫৫ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেনসহ যে ১৬৫টি ছোট-বড় রাস্তার নির্মাণ ও পুননির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে তার বেশিরভাগই মেকাডামের ওপর বিটুমিনাস কার্পেটিং হওয়ায় বর্ষার কারণে গুনগতমান রক্ষা করা দুরুহ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন অধিদফতরের প্রকৌশলীগণ। তবে নগর ভবনের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীগণ কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপোষ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলেও মত প্রকাশ করেছেন।

বর্তমান নগর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন কয়েক আগেই ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক’-এর সভায় বরিশাল মহানগরীর ড্রেন, কালভার্ট ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ রক্ষণাবেক্ষণে ৭৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে অনুমোদিত প্রকল্পটি ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনসহ নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

নগর ভবন থেকে ঐ অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষ ৩২২ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৬৫টি রাস্তার পুননির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন ছাড়াও ৫৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু রাস্তার মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও বেশিরভাগ রাস্তার কাজ শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। অনেকগুলো রাস্তার ম্যাকাডামের কাজ চলছে। কিন্তু গত ২৬-২৭ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এর বয়ে আনা জলোচ্ছ্বাসসহ প্রবল বর্ষণে নির্মাণাধীন প্রায় সব রাস্তার বেডই পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। জুন মাসেও বরিশাল মহানগরীতে স্বাভাবিকের ৬০ ভাগ কম বৃষ্টি হলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৯১ মিলিমিটার। চলতি মাসেও এ নগরীতে ৪২০ থেকে ৫৭০ মিলি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। জুলাই-আগস্টকেই বরিশালে ভরা বর্ষার মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

কিন্তু আষাঢ়-শ্রাবণ ও ভাদ্রের ভরা বর্ষার মধ্যে নগরী জুড়ে ১৬৫টি রাস্তার মেরামত, পুননির্মাণসহ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরুকে কারিগড়ি বিশেষজ্ঞ মহল আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে মনে করলেও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রকৌশলীগণ কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছেন।

নগর ভবনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো ইসরাইল জানান, যে ১৬৫টি রাস্তার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে বেশকিছু আরসিসি সড়ক রয়েছে। পাশাপাশি অনেক রাস্তার পাশে আরসিসি ড্রেন’ও রয়েছে। বর্ষার মধ্যে আমরা শুধু এসব আরসিসি’র কাজগুলোই করব। কোনো ধরনের বিটুমিনাস কার্পেটিং কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগের আগে করা হবে না। এক্ষেত্রে প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি কর্মীকে সতর্ক করে দেয়ার কথা জানিয়ে ঠিকাদারদেরও বর্ষার মধ্যে কোনো ধরনের বিটুমিনাস কাজ না করতেও বলা হয়েছে বলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

পাশাপাশি তিনি চলতি অর্থবছরের শেষে বরিশাল মহানগরীর রাস্তাঘাট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারমতে, মহানগরীতে ইতোমধ্যে যেসব উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে, বর্ষার পরে তা আরো গতিলাভ করবে। ডিসেম্বরের মধ্যে মহানগরীতে উন্নয়নের ব্যাপক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হবে এবং চলতি অর্থবছরের শেষে এ নগরী ভিন্নরূপ লাভ করবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের খাল সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরো দুটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প সারপত্র-ডিপিপি’ পরিকল্পনা কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শপথ গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করায় আইনি জটিলতায় সেখানে কোনো উপ-নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে এ ওয়ার্ডটির রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দুরের কথা, জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজও বন্ধ রয়েছে। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজকুমার ঘোষ রোডটি ইতোমধ্যে যানচলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ মাত্র ৪শ’ মিটারের এ সড়কটিতে ৩টি স্কুল ছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠান ও বিপুল সংখ্যক আবাসিক স্থাপনা রয়েছে। প্রায় দুবছর আগে এ সড়কটির সাথে সিএন্ডবি রোডর সংযোগটি বন্ধ করে জাতীয় মহাসড়কের ওপর নির্মিত একটি পার্কের প্রবেশ পথ নির্মাণ করে সাবেক নগর পরিষদ। সেখানে প্রায় ২শ’ মিটার বিকল্প সড়কের ম্যাকাডাম তৈরি করা হলেও তার ওপর কোনো কার্পেটিং করা হয়নি। অবশিষ্ট ২শ’ মিটারের বিটুমিনাস কার্পেটিং উঠে গিয়ে সেখানে ম্যাকাডামও সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এ সড়কটি দিয়ে পায়ে হেটে চলাও দুরুহ হয়ে পড়ছে। অথচ প্রতিদিনই অসংখ্য শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকগণ এ সড়কটি দিয়েই ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে মহাবিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

এব্যাপারে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, রাজকুমার ঘোষ রোডের পরিপূর্ণ মেরামতসহ বিটুমিনাস কার্পেটিং-এর লক্ষে ঠিাকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।




দেশে মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আভাস