বরিশালে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোর চক্র, যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় পানির দরে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরচক্র। মেট্রোপলিটন এলাকার চার থানায় প্রতি মাসে মোটরসাইকেল চুরির দুই-তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, নিজ বাসাবাড়ি, গ্যারেজ থেকে অভিনব কায়দায় নতুন মোটরসাইকেল চুরি হয়ে থাকে। একাধিক ভুক্তভোগী চুরির ঘটনায় পরদিন থানায় সাধারণ ডায়ারি করেছেন।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছু দিন গা-ঢাকা দেয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কমে আসলেই শুরু হয়ে যায় চুরি। চুরি হওয়া মোটরসাইকেল মালিকরা জানান, গভীর রাতে নগরীর চার থানায় এত টহল পুলিশ এড়িয়ে মোটরসাইকেলগুলো কীভাবে চোরচক্র নিয়ে গেল তা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেননা রাত ১২টার পর থেকেই চার থানার পুলিশ টহল জোরদার করে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশের টহলদল নগরীর মোড়ে মোড়ে টহল দেয়। প্রশাসনের এ কঠোর নজরদারিতে চোর চক্রের এ বীরদর্পের চুরিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কাউনিয়া ও পলাশপুরের রসুলপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় চুরি সংঘটিত করে। দামি এসব মোটরসাইকেল তারা দুভাগে বিক্রি করে থাকে। নগরীর এক শ্রেণির অসাধু মোটরসাইকেল মেকানিক হচ্ছে এদের প্রধান ক্রেতা। দামি মোটরসাইকেলগুলো রাতেই কাউনিয়া ও রসুলপুরের নির্জন এলাকায় আলাদা করে চাকা, টায়ারসহ অপর যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করা হয়। পানির দরে তাদের নির্ধারিত মেকানিকের দোকানে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হয় দামি মোটর সাইকেলগুলোর।
অপর চক্রটির সঙ্গে নদীবেষ্টিত উপজেলাগুলোসহ দ্বীপ জেলা ভোলার অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। তারা নৌ-পথে অতি সহজেই ভোলাসহ মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও অপর উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ করে বিক্রি করে দেয়। সেখানে বেশি দাম না পেলেও যন্ত্রাংশ আলাদা করার ঝামেলাবিহীন ও একসঙ্গে কিছু টাকা পাওয়ায় পৌঁছে দিয়ে আসা হয়।
উপজেলাগুলোতে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ চোরাই মোটর সাইকেলগুলো। চোর চক্র বিক্রি না করে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতেও মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে থাকে।
এছাড়াও চোরাই মোটরসাইকেলের ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রটি অনলাইনে কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করায় থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি চোরাই মোটরসাইকেল কম দামে কিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বিকাশ-সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় অপর জেলায় বিক্রি হয়ে যায় ভুয়া কাগজপত্রের এ মোটরসাইকেল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। দরবেশ ও ফকির বেশে তারা রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করছে। এরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় পুলিশ এ চক্রটিকে গ্রেফতারে হিমশিম খাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশের পক্ষে নিজ নিজ এলাকা থেকে এসব চোর চক্র গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, চোর চক্র যে এলাকায় বসবাস করে সেসব এলাকায় কখনোই মোটরসাইকেল চুরি করে না। তাই গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়া এসব চোর চক্র চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার করতে থানা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।








