বরিশালে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোর চক্র, যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় পানির দরে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরচক্র। মেট্রোপলিটন এলাকার চার থানায় প্রতি মাসে মোটরসাইকেল চুরির দুই-তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, নিজ বাসাবাড়ি, গ্যারেজ থেকে অভিনব কায়দায় নতুন মোটরসাইকেল চুরি হয়ে থাকে। একাধিক ভুক্তভোগী চুরির ঘটনায় পরদিন থানায় সাধারণ ডায়ারি করেছেন।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছু দিন গা-ঢাকা দেয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কমে আসলেই শুরু হয়ে যায় চুরি। চুরি হওয়া মোটরসাইকেল মালিকরা জানান, গভীর রাতে নগরীর চার থানায় এত টহল পুলিশ এড়িয়ে মোটরসাইকেলগুলো কীভাবে চোরচক্র নিয়ে গেল তা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেননা রাত ১২টার পর থেকেই চার থানার পুলিশ টহল জোরদার করে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশের টহলদল নগরীর মোড়ে মোড়ে টহল দেয়। প্রশাসনের এ কঠোর নজরদারিতে চোর চক্রের এ বীরদর্পের চুরিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কাউনিয়া ও পলাশপুরের রসুলপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় চুরি সংঘটিত করে। দামি এসব মোটরসাইকেল তারা দুভাগে বিক্রি করে থাকে। নগরীর এক শ্রেণির অসাধু মোটরসাইকেল মেকানিক হচ্ছে এদের প্রধান ক্রেতা। দামি মোটরসাইকেলগুলো রাতেই কাউনিয়া ও রসুলপুরের নির্জন এলাকায় আলাদা করে চাকা, টায়ারসহ অপর যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করা হয়। পানির দরে তাদের নির্ধারিত মেকানিকের দোকানে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হয় দামি মোটর সাইকেলগুলোর।

অপর চক্রটির সঙ্গে নদীবেষ্টিত উপজেলাগুলোসহ দ্বীপ জেলা ভোলার অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। তারা নৌ-পথে অতি সহজেই ভোলাসহ মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও অপর উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ করে বিক্রি করে দেয়। সেখানে বেশি দাম না পেলেও যন্ত্রাংশ আলাদা করার ঝামেলাবিহীন ও একসঙ্গে কিছু টাকা পাওয়ায় পৌঁছে দিয়ে আসা হয়।

উপজেলাগুলোতে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ চোরাই মোটর সাইকেলগুলো। চোর চক্র বিক্রি না করে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতেও মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে থাকে।

এছাড়াও চোরাই মোটরসাইকেলের ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রটি অনলাইনে কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করায় থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি চোরাই মোটরসাইকেল কম দামে কিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বিকাশ-সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় অপর জেলায় বিক্রি হয়ে যায় ভুয়া কাগজপত্রের এ মোটরসাইকেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। দরবেশ ও ফকির বেশে তারা রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করছে। এরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় পুলিশ এ চক্রটিকে গ্রেফতারে হিমশিম খাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশের পক্ষে নিজ নিজ এলাকা থেকে এসব চোর চক্র গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, চোর চক্র যে এলাকায় বসবাস করে সেসব এলাকায় কখনোই মোটরসাইকেল চুরি করে না। তাই গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়া এসব চোর চক্র চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার করতে থানা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।




পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

বরিশাল অফিস :: এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে শ্রীলঙ্কা। আজ ডাম্বুলায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দলটা পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৩ উইকেটে।

টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় লঙ্কানরা। গুল ফিরোজা আর মুনিবা আলীর ওপেনিং জুটিতেই চলে এসেছিল ৬১ রান। গুল করেন ২৪, মুনিবার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান।

সিদরাহ আমিনও ১৩ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন। শেষ দিকে নিদা দার আর ফাতিমা সানা দুজনেই ১৭ বলে ২৩ করে করেন, আলিয়া রিয়াজ করেন ১৫ বলে ১৬ রান। তাতে দলের পুঁজি দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৪০।

জবাবে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতেই ধাক্কা দেন সাদিয়া ইকবাল। প্রথম ওভারেই ভিশ্মি গুনারত্নকে ফেরান। চতুর্থ ওভারে হার্শিতা সামারাবিক্রমাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ওমাইমা সোহেইল। এরপর অবশ্য চামারি আতাপাত্তু দেয়াল তুলে দাঁড়ান। তৃতীয় উইকেটে কাভিশা দিলহারিকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন তিনি।

শুরুতে লঙ্কাকে ধাক্কা দেওয়া সাদিয়া আবারও পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার দায়িত্বটা নেন। ৩ বলে তুলে নেন ২ উইকেট। শুরুতে কাভিশা, এরপর নীলাক্ষীকে ফেরান তিনি।

চামারি আতাপাত্তুর অন্যপাশে ছিলেন বলেই লঙ্কানদের ওপর চাপ ছিল না। তবে চাপটা এল তিনি ফিরে গেলে। ৪৮ বলে ৬৩ রান করা চামারিকে ফেরান সেই সাদিয়া ইকবালই। পরের ওভারে হাসিনি পেরেরাও ফেরেন রান আউট হয়ে।

এরপর আনুষ্কা সঞ্জীবনী আর সুগন্ধা কুমারির ১৫ রানের জুটি লঙ্কাকে নিয়ে যায় শঙ্কার বাইরে। শেষ দিকে সুগন্ধা ফেরেন। তবে শ্রীলঙ্কা ততক্ষণে জয়ের সুগন্ধ পেয়ে গেছে। শেষমেশ ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় দলটা। চলে যায় ফাইনালে।

এশিয়া কাপের ফাইনালে আগামী রবিবার মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। তাদের সামনে থাকবে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল ভারত।




বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন বার্তা

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার কর্মপন্থা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এক বার্তায় জানান, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে পাঠদান শুরু করার জন্যে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি অনুরোধ জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা শুরু হওয়ায় গত ১৬ জুলাই রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

একই দিন রাতে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।




গাজায় ইসরায়েলি হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯১৭৫

বরিশাল অফিস :: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ১৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই)) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর গাজা শহরে আরও দু’জন এবং নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার ৩৯ হাজার ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ৯০ হাজার ৭০৩ জন। তাছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও কয়েক লাখ মানুষ। নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও নারী।

অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলি ১১৩৯ জন নিহত হয়েছে।




কারফিউ তুলে নেয়া হবে কবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে কারফিউ তুলে নেয়া হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার রাতে নিজ বাসভবনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারফিউ শিথিল করা যায় কিনা আমরা দেখছি। পুলিশ বিজিবি, সেনাবাহিনী কাজ করছে। জনজীবন স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে। জনগণকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। এ বিষয়ে শনিবার আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সৃষ্ট সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশের এত ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের হেফাজতে নেয়া প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তার জন্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের ডেকে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারাদেশে সৃষ্ট সহিংসতার জেরে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য গত ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। এ সময় রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার ৩ দিন নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।




কারফিউর মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে সবজিতে

বরিশাল অফিস :: কারফিউর কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে অনেকটা। তবে বুধবার থেকে কারফিউ শিথিল ও যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ঢাকার সবজির বাজারে।

শুক্রবার রাজধানীর পলাশী কাঁচাবাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও হাতিরপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু আগের মতো চড়া দামেই চাল, পেঁয়াজ ও আলু বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা।

বাজারে গাজর, বেগুন, টমেটো ও করলা ছাড়া এখন বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে প্রায় প্রত্যেকটি সবজির দাম ছিল ৭০ টাকার উপরে।

প্রতিকেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়শ ৬০ টাকায়, প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতিপিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ টাকায়, শসা প্রতিকেজি ৮০ টাকায়, কচুরমুখী প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, টমেটো প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, গাজর প্রতিকেজি ২০০-২৩০ টাকায়, লাউ প্রতিপিস সাইজভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি করলা প্রায় ৫০-৭০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।

বাজারে প্রতিকেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে আজ প্রতিকেজি কাঁচামরিচ মিলছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

রাজধানীর কাঁচাবাজারের একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে টমেটো আর গাজর ছাড়া সবধরনের সবজির দাম কমেছে। টমেটো আর গাজর আমদানি করে আনতে হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশি রসুন প্রতিকেজি ২২০ টাকায়, আমদানিকৃত রসুন প্রতিকেজি ২০০ টাকায়, ছোট দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ১৪০ টাকায় এবং বড় দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে মুরগির দাম। প্রতিকেজি ২০ টাকা পর্যন্ত কমে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালী মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আগের মতোই প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকায় আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি ১ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতিকেজি রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা করে। এছাড়া প্রতিকেজি তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়, চিংড়ি ৭০০ টাকায়, দেশি টেংরা মাছ ৮০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।




তান্ডবের সময় রাজপথে না থাকা দায়িত্বশীল নেতাদের কমিটি বিলুপ্তের দাবি

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কারের নামে দেশব্যাপী বিএনপি ও জামায়াতের নাশকতায় জেলার গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এক যুবদল নেতা ঢাকায় এবং আরেকজন নারায়ণগঞ্জে নিহতের পর রাজপথে সরব হওয়ার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলো বিএনপির নেতাকর্মীরা। অথচ সন্ত্রাসীদের প্রতিহতের জন্য সরকারের পক্ষে জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুরোপুরি নিস্কিয়। এমনকি ওইসব কমিটির নেতৃবৃন্দের অনুসারীদেরও রাজপথে দেখা মেলেনি।

শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিরব ভূমিকায় সরকার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে আরো কোন কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম আসলে এসব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কেমন ভূমিকা পালন করবেন তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাই উপজেলার সকল স্তরের কমিটি বিলুপ্তের দাবি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোটা বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বর্তমান নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া এবং নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আলহাজ¦ মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার
নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা রাজপথে সরব ছিলেন। সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে নবনির্বাচিত ওই দুই জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ও পৌর প্যানেল মেয়র ইখতিয়ার হাওলাদার তাদের অনুসারিদের নিয়ে রাজপথে সরব থেকে শান্তি মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

সেখানে পুরোপুরি নিস্কিয় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সূত্রমতে, সদ্য সমাপ্ত গৌরনদী পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান। উভয়নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছেন ওই দুই পরাজিত প্রার্থী ও তাদের কতিপয় সমর্থকরা।

এরইমধ্যে কারফিউ জারির আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গৌরনদী বন্দরস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের অনুসারিরা প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরব উপস্থিতি ছিলেন। কিন্তু দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে যখন রাজনৈতিক কালো থাবা ভর করে, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর

মেয়রের নেতৃত্বে তাদের অনুসারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য সরব ছিলেন।

বরিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দেশের ক্লান্তি লগ্নে একটিবারের জন্যও রাজপথে পাওয়া যায়নি। তারা তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিজদলের নেতৃবৃন্দকে শায়েস্তা করাসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর
ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিলেন। যেকারণে ওইসব বির্তকিত নেতৃবৃন্দকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও
সমর্থকরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন। তিনি আরও বলেন, অনতিবিলম্বে ওই বির্তকিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজপথে সরব থাকা নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কমিটি গঠণ করার জন্য সর্বস্তরে জোর দাবি উঠেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন বলেন, দেশের ক্লান্তি লগ্নে দায়িত্বপ্রাপ্ত
যেসব নেতৃবৃন্দ রাজপথে অনুপস্থিত ছিলেন তাদের দলীয় শীর্ষ পদ আটকে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি মরহুম মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, যারা বিরোধী দল করেনি তাদের দিয়ে দলের দুর্দীনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ সঠিক নেতৃত্ব আশা করা যায়না। বর্তমান সরকারের টানা মেয়াদে গৌরনদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের একতরফা ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলের দুর্দীনের নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছ থেকেও দুর্দীনের নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, যে লোক (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) কোনদিনও বিরোধী দল করেননি সে কিভাবে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিবেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যা স্পস্ট হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক :/




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




ভোলায় চরম দুর্ভোগে জরাজীর্ণ আবাসনের বাসিন্দারা

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহন উপজেলার ২৭টি আবাসনে অন্তত ১ হাজার ৯০০ পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এসব আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ দিনমজুর, কেউ লেবার, কেউ অটোরিকশা চালক, আবার কেউ জেলে। এখানে নিম্নবিত্তদের বসবাস। ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টিনশেড এসব আবাসন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকে আবাসনের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে এসব আবাসনের ঘরের অবস্থা খুবই নাজুক এবং জরাজীর্ণ আবাসনের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনের বদরপুর ইউনিয়নে ৪টি আবাসনের ব্যারাক রয়েছে। যেখানে দুটি আবাসনের ব্যারাক ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলো জরাজীর্ণ। কালমা ইউনিয়নে রয়েছে একটি আবাসন। সেটিও জরাজীর্ণ। ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৩টি আবাসনের মধ্যে দুটির কাজ নতুন করে করা হয়েছে। তবে এখনো একটি আবাসন জরাজীর্ণ। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নেও ৩টি আবাসন রয়েছে। এর সবগুলোই জরাজীর্ণ। লালমোহন ইউনিয়নে একটি আবাসন রয়েছে, তাও জরাজীর্ণ। পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে রয়েছে ৬টি আবাসন। যার সবগুলোই জরাজীর্ণ। রমাগঞ্জ ইউনিয়নে রয়েছে দুটি আবাসন। ওই দুটিও জরাজীর্ণ। সবচেয়ে বেশি আবাসনের ঘর রয়েছে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে মোট আবাসন রয়েছে ১১টি। যেখানের সবগুলো ঘরই জরাজীর্ণ। এসব জরাজীর্ণ ঘরে বর্তমানে ১ হাজার ৯০০ পরিবার বাস করছেন।

সরেজমিনে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়াখালী আবাসনে গিয়ে দেখা গেছে, এই আবাসনের প্রতিটি ঘরই জরাজীর্ণ। কোনো রকমে দিন পার করতে টিনশেড ঘরগুলোর ওপরে বাসিন্দারা দিয়েছেন তেরপল এবং পলিথিন। তবুও বৃষ্টি হলে রক্ষা মেলে না এখানের বাসিন্দাদের। বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ে ভিজে যায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস ও আসবাবপত্র। অধিক বৃষ্টিতে কখনো কখনো ঘরগুলো পানিতে টইটুম্বুরও হয়ে যায়। তবে এই আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারদেনা করে নিজেরা ঘরগুলোকে মেরামত করে নিয়েছেন। আর বাকিরা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে।

ওই আবাসনের বাসিন্দা মো. আবু মিয়া এবং মো. সফিজল ইসলাম বলেন, আমরা অসহায় মানুষ। তাই আবাসনে আমাদের ঘর দেওয়া হয়েছে। তবে ঘরগুলো নির্মাণের পর থেকে বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও মেরামত করা হয়নি। যার জন্য এসব ঘর এখন খুবই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। এর থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে ভাঙা টিনের ছাউনির ওপর তেরপল এবং পলিথিন দেওয়া হয়েছে। তবে বেশি বৃষ্টি হলে পানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। ঘরের বেড়ার টিনগুলোও এখন মরীচিকা ধরে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। এখন ঘরগুলো মেরামতের অবস্থায় নেই। তাই এই আবাসনের ঘরগুলো পুনঃনির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ ঘোষ জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবাসনের টিনশেড এসব ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পরও মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় ঘরগুলো এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে করে বাসিন্দারা ব্যাপক দুর্ভোগে রয়েছেন। তাদের এই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৩৮টি ঘরের তালিকা পাঠিয়েছি। যার মধ্যে ১৬৩টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি। ওইসব ঘরের কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া বাকি ঘরগুলোও পুনঃনির্মাণের জন্য পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে বাকি ঘরগুলোরও কাজ শুরু করা হবে।




বরিশালে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে মিম আক্তার (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নগরীর পলাশপুরের জামাই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মিম আক্তার (১৪) বরিশাল সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পলাশপুর এলাকার মিলন হাওলাদারের মেয়ে।

মিমের মা রেনু বেগম জানান, ভোরে মেয়ের রুমে গিয়ে দেখতে পান রুম খালি। পরে বাথরুম ভেতর থেকে আটকানো দেখে তালা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন।

বরিশাল কাউনিয়া থানার এসআই নাইম আহম্মেদ বলেন, বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।