তিন নদীর মোহনায় অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে ‘নিদ্রার চর’

বরগুনার তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরের নয়নাভিরাম নিদ্রার চর সৈকত এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। সবুজ কেওড়া–ঝাউবন, খাঁজকাটা বেলাভূমি আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এ স্থানকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ছে প্রতিদিনই।
পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলনমোহনায় গড়ে ওঠা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতটি শীতকালে হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। চারপাশে টেংরাগিরি ইকোপার্ক আর শুভসন্ধ্যা সৈকতের অবস্থান নিদ্রার চরকে দিয়েছে বাড়তি আবেদন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এই সৈকতের রূপ দেখতে।
তবে পর্যটকদের অভিযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় এখানে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা সীমিত। নেই পর্যাপ্ত হোটেল, মানসম্মত খাবার কিংবা নিরাপদ শৌচাগার। স্থানীয় উদ্যোক্তারা স্বেচ্ছাশ্রমে সৈকত পরিষ্কার রাখা, গাইড দেওয়া ও অস্থায়ী তাঁবুতে রাতযাপনের ব্যবস্থা করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, ‘‘নিদ্রার চর শুধু বরগুনা নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গর্বের স্থান হতে পারে। এখানে পর্যটন বোর্ড বা প্রশাসনের স্বীকৃতি পেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’’
ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক উন্নয়ন ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ শুরু হয়েছে। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানান, ধাপে ধাপে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে, যাতে পর্যটকেরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশেষজ্ঞদের মত, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে নিদ্রার চর হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমীরা একে বলছেন—এক অনাবিষ্কৃত কবিতার পঙ্ক্তি, যেখানে প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত রচনা করে নতুন এক রূপকথা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫







