ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের হামলা, নিহত ১২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে রকেট হামলায় ১২ শিশু-কিশোর নিহত হয়েছে। তারা সবাই আরবিভাষী ‘দ্রুজ’ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য। ফুটবল খেলার সময় গোলানের মাজদাল শামস শহরে শনিবার এ হামলা হয়। এর জন্য ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। বিবিসির খবর।

রোববার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননে গোষ্ঠীটির সাতটি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে দুই পক্ষ সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য গত অক্টোবরে ‘গাজা যুদ্ধ’ শুরুর পর থেকেই হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। ইসরায়েলে হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহর এই আঘাতটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গোলানে রকেট হামলার পর ফুটবল মাঠে আতঙ্কিত মানুষ ছোটাছুটি করছে। হতাহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এ এলাকায় দ্রুজ জাতিগোষ্ঠীর ২ হাজার ৫০০ সদস্য বাস করে।

হামলার পর রোববার যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে তড়িঘড়ি দেশে ফেরেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহকে এজন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

আইডিএফ মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারির অভিযোগ, হিজবুল্লাহ হামলায় ফালাক-১ রকেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরানের তৈরি। দ্রুজ সম্প্রদায়ের নেতারা হামলাটিকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েল ফের হামলা চালালে পরিণতি খারাপ হবে।

এদিকে গোলানে হামলার সঙ্গে হিজবুল্লাহ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি বলেন, গোলানে আঘাত হানা প্রতিটি রকেটই হিজবুল্লাহর। আমরা ইসরায়েলি নাগরিকদের অধিকার রক্ষার পক্ষে। গাজায় যুদ্ধবিরতিই শুধু ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে শান্তি ফেরাতে পারে। আমরা সংঘাত বাড়াতে চাই না। এ ব্যাপারে ব্লিংকেন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

তবে গোলানে হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়েছে, তা বিশ্বাস করেন না লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বোহাবিব। তিনি বিবিসিকে বলেন, তিনি মনে করেন না হিজবুল্লাহ ওই হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকের ওপর যে কোনো হামলা নিন্দনীয়। তিনি বলেন, এ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। সীমান্তে শান্তি ফেরাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে সংযমী হতে হবে। প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব থেকে হিজবুল্লাহর সরে আসা উচিত।

গোলানে হামলার ঘটনায় লেবানন সরকার ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। দেশটির আশঙ্কা, এ যুদ্ধ এখন সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নেবে, যার বিপর্যয়কর পরিণতি হতে পারে। গাজার সঙ্গে ইসরায়েল যা করছে, বৈরুতের সঙ্গেও একই আচরণ করতে পারে বলে শঙ্কা দেশটির। আগে থেকেই লেবানন সরকার সীমান্তে হিজবুল্লাহর হামলাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। ইসরায়েল এখন কী পদক্ষেপ নেবে, সেদিকেই দেশটির নজর। লেবাননের কর্মকর্তারা মনে করেন, এত দিন হিজবুল্লাহর সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছিল ইসরায়েল। গোলানে হামলার পর এবার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।

জানা যায়, দ্রুজ জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ সদস্য উত্তর ইসরায়েল, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ায় বাস করেন। এ জনগোষ্ঠীর লোকেরা ইসরায়েলে পূর্ণ নাগরিকত্ব পায়। তারা ইসরায়েলের জনসংখ্যার ১.৫ শতাংশ। ১৯৮১ সালের দিকে দ্রুজদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেওয়া শুরু হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতেও এ জাতিগোষ্ঠীর অনেক সদস্য রয়েছেন।




ভারতকে কাঁদিয়ে এশিয়া সেরা শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঘরের মাঠে বাজিমাত করলো শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। ভারতকে কাঁদিয়ে প্রথমবার নারী এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে চামারি আথাপাত্তুর দল।

২৮ জুলাই ডাম্বুলায় আসরের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী দল। ৮ বল হাতে রেখেই ভারতের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

ফাইনালে টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেয় ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ওপেনার স্মৃতি মান্ধানার ৪৭ বলে ৬০ এবং রিচে ঘোষের ঝোড়ো ১৪ বলে ৩০ ও জেমিমা রদ্রিগেসের ১৬ বলে ২৯ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ১৬৫ রান করে ভারত।

সেই রান তাড়ায় নেমে শ্রীলঙ্কার দুই টপ অর্ডার ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়। চামারি আথাপাত্তুর ৪৩ বলে ৬১ এবং হর্ষিতা সামারাবিক্রমার ৫১ বলে ৬৯ রানের সুবাদে অনায়াস জয় পায় শ্রীলঙ্কা।

১৬ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন কাভিসা দিলহারি। এর আগে বল হাতেও ২ উইকেট নেন তিনি।




সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা ৬ সমন্বয়কের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোটা সংস্কার আন্দোলনের সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ক। তারা হলেন– মো. নাহিদ ইসলাম, মো. সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মো. আবু বাকের মজুমদার, আসিফ মাহমুদ ও নুসরাত তাবাসসুম।

রোববার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে আলোচনা শেষে ডিবি কার্যালয় থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অন্য পাঁচ সমন্বয়ক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকে অপ্রত্যাশিতভাবে আহত ও নিহত হয়েছেন। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার, যা ইতোমধ্যে সরকার পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে আমরা এই মুহূর্ত থেকে আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।




সহিংসতায় নিহত ৩৪ পরিবারকে সঞ্চয়পত্র-নগদ অর্থ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। 

রোববার (২৮ জুলাই) সকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৩৪ জনের পরিবার গণভবনে আসেন। প্রধানমন্ত্রী ৩৪ জনের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অশ্রু সজল হতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এসময় অশ্রুসজল প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমি আপনাদের বেদনা বুঝি। আমাকে প্রতিনিয়ত বাপ-মা-ভাই হারানোর বেদনা নিয়ে চলতে হয়। বাপ-মায়ের লাশটাও দেখতে পারিনি, দেশে ফিরতে পারিনি। ৬ বছর পর দেশে এসেছি। তারপর যখন এসেছি সারা দেশ ঘুরেছি। কারণ আমার বাবা বলত, দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে হবে। আমি সেই কাজটাই করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের মতোই একজন। বাবা-মা ভাই হারানো। কাজের আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। আর আমি আপনাদের পাশে আছি। আমার চেষ্টা থাকবে এই খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা।

এ সময় গণভবনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।




পটুয়াখালীতে জমি দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী এক মু‌ক্তি‌যোদ্ধা প‌রিবা‌রের ওপর হামলার অভি‌যোগ উঠে‌ছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুলাই) সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের শিয়াকাঠি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় নান্নু ও বাবুল গাজীর বিরু‌দ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান গাজীর স্ত্রী সোনাবান বেগম। আর এ ঘটনায় সদর থানায় লি‌খিত অভিযোগ করা হলেও পু‌লিশ কোনো ব‌্যবস্থা নেয়‌নি ব‌লেও তিনি জানান।

রোববার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লা‌বে আয়োজিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তিনি এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে সোনাবান বেগম আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার দুই সন্তান পৈতৃক জ‌মি‌তে ঘর তুল‌তে গে‌লে নান্নু ও বাবুল গাজীর নেতৃ‌ত্বে একদল সন্ত্রাসী বাধা দেয়। একপর্যা‌য়ে হামলা চা‌লি‌য়ে রক্তাক্ত জখম ক‌রে। এ সময় খোকন, ফারুক ও রেখাসহ আ‌রও কয়েকজন গুরুতর আহত হ‌ন। তা‌দের‌কে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয়েছে।’ বর্তমা‌নে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগ‌ছেন ব‌লেও লি‌খিত বক্ত‌ব্যে উল্লেখ করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে নান্নু ও বাবুলের চাচা হাবলু গাজী বলেন, ‘এই জমি ১০০ বছর ধরে আমাদের ভোগদখলে আছে। বর্তমানে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আমরা হামলা করিনি, আমাদের বাড়িতে এসেই তারা হামলা করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।




দুই অতিরিক্ত আইজিপি, ৫ অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৪৮ এসপিকে বদলি




কলাপাড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘূনিভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় গত ৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন নিচু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ২৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, সুষ্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সকল মাছ ধরার ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কলাপাড়ার টিয়াখালীর পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের হাসনাইন বলেন, চার দিন ধরে বৃষ্টি এখন ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকেছে। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

একই এলাকার শিহাব হোসেন জানান, বৃষ্টির পানি পুকুরে তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। উঠোনে হাটু সমান পানি। দুর্ভোগে আছি।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা উপকূলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।




বিকেল ৩টায় চালু হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আজ (রোববার) বিকেল ৩টায় সারা দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু হবে।



শাফিনের মরদেহ দেশে কবে আসবে জানালেন ভাই হামিন

বরিশাল অফিস :: যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে গেল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোরে প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’র প্রধান ভোকাল ও বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শাফিন আহমেদের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ভার্জিনিয়ার মেনাসাসে দ্বার আল নূর ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে শাফিন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়।

মরদেহ দেশে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথাও ছিল বড় ভাই হামিন আহমেদের; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৯ জুলাই বিকেলে শাফিনের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

হামিন আহমেদ আরও জানান, ৩০ জুলাই দুপুরে গুলশানের আজাদ মসজিদে শাফিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরে সমাহিত করা হবে শাফিনকে।

পাশে তার মা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের কবর রয়েছে।

জানা গেছে, শাফিন আহমেদের অসুস্থ হওয়ার পরই তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। মৃত্যুর খবর শোনার পর বড় ভাই হামিন আহমেদেরও দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিবারিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের সিদ্ধান্তে তার যাওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৯ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান শাফিন আহমেদ। ২০ জুলাই কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু এর আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এই শিল্পী। ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।




সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি এবং ইন্টারনেটের ক্ষতিকর দিক

বরিশাল অফিস :: শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনের জের ধরে দেশে একরকম অস্থিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জানমালের। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তার প্রভাব বেশ প্রকটভাবেই দৃশ্যমান।

বাস চলাচল, বাজারঘাট তো বন্ধ রয়েছেই, তার সাথে স্কুলকলেজ আর অফিস-আদালত কোনো কিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলছে না। সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ার মতো ঘটনা হলো বেশ কয়েকদিন ধরে সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ডেটা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় সারাদেশে সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সংযোগ ফিরিয়ে আনার পূর্ণ চেষ্টা করছে। তবুও, এখনো অবধি ইন্টারনেট সংযোগ করতে নানারকম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু যোগাযোগ বা বিনোদন নয়. জরুরি যোগাযোগ এবং দেশের পরিস্থিতির তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিথিল হওয়ার এই ব্যাপার টায় আমাদের নেতিবাচকে নজর দেওয়ার চেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোতে দৃষ্টিপাত করা উচিত। এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ফলে দুনিয়া আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মুহূর্তেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়, এসবের অতিরিক্ত ব্যবহারও তাই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। খুব সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে এটা আসক্তিও বলা যেতে পারে।

‘সিনেট’- এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার মানুষের উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে দেয়। এক মুহূর্তও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে মনে হতে থাকে, ‘হয়ত কোনো জরুরি খবর সময়মতো জানতে পারলাম না!’ তাই অকারণেই অনেকে জরুরি কাজ ছাড়াও সারাক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, টিভির সামনে বসে থাকে। এর ফলে দেখা যায়, কোনো কাজে ভালোভাবে পরিপূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বারবার অবচেতন মন এইসব ডিভাইসের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।

তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আমাদের নির্ভরতাকে অনুধাবন করে, এইসব অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেন আসক্তি তৈরি না হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে। অবসর সময় কাটাতে বিকল্প অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।