বাস-ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ল ইজিবাইক, নিহত ৪

বরিশাল অফিস :: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ইজিবাইকের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বশার শেখ (৩০), খায়ের শেখ (৩৮), হাচান শেখ (২৯) ও ইয়ারআলী শেখ (৩৪)। নিহতরা সবাই মুকসদুপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বিশ্বম্ভরদী গ্রামের বাসিন্দা তারা ইজিবাইকে করে টেকেরহাট যাচ্ছিলেন

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. খায়রুল আনাম জানান, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস একই দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে যায়। এ সময় বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের দুই যাত্রী বশার শেখ ও খায়ের শেখ নিহত হন এবং ইজিবাইক চালক হাসান শেখ ও ইয়ার আলী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ইজিবাইক চালকসহ ২১ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়ার আলী ও হাসান শেখ মারা যান।




২৪ মাসেও শেষ হয়নি বরিশালের ভুয়াই সেতুর নির্মাণকাজ

বরিশাল অফিস :: কার্যাদেশ অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মান কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২৪ মাস পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি জেলার মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের ভুয়াই সেতুর নির্মাণকাজ। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় শতাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভুয়াই সেতুর জন্য ৮৯ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের মে মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণের জন্য ছয় মাস সময় নির্ধারণ করে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ সেতুর নির্মান কাজ পান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদার ৫০ ফুটের কিছুটা কম দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করেন। ফলে সেতুর দুই পাশে প্রায় ৩০ ফুট ফাঁকা রয়েছে। ২০২৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকৌশলী এসে সেতু পরিদর্শন করে সংযোগ সড়কের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ কিংবা সংযোগ সড়ক করেননি ঠিকাদার। গত তিন মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

ভুয়াই বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করেই ঠিকাদার ২০২২ সালের মে মাসে কাজ শুরু করেন। ওইসময় থেকে স্থানীয় লোকজন একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। ঠিকাদার সেতুর পিলার নির্মাণ করে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখেন। পরে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দপ্তরের কাছে আবেদন করার প্রেক্ষিতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সেতুর পাটাতন ঢালাইয়ের কাজ করেছেন ঠিকাদার। কিন্তু সেতুর দুই পাশে প্রায় ৩০ ফুট করে ফাঁকা রয়েছে। ওই জায়গা মাটি ভরাট না করায় সেতু দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছেনা।

সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা গ্রামের বাসিন্দ সুমন ঘরামী বলেন, এই সেতু দিয়ে পূর্ব চরপদ্মা, উত্তর চরপদ্মা, পাতারচর, ছোট পাতারচর লক্ষীপুর, চিতলীয়া, বালিয়াতলী ও উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়া ভুয়াই বাজার, পূর্ব চরপদ্মা বাজারের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। সেতুর নির্মান কাজ শুরুর পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সেতু নির্মান কাজের ঠিকাদার কাজী মাইনুল আহসান সবুজ বলেন, সেতুটির পাটাতন ঢালাই শেষ হয়েছে। বর্ষার কারণে মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দুই পাশে মাটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা শেষ হলেই দ্রুত মাটি ভরাটসহ সেতুর বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বরিশাল মুলাদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার বলেন, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধ থাকায় বালু না পাওয়ায় সেতুর সংযোগ সড়ক করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম শেষে সেতুর দুই পাশে মাটি ও বালু ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।




বিটিভি প্রাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে শিল্পীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শোকাবহ আগস্ট মাসের প্রথমদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গনে হাজির হয়েছিলেন সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বিলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। ‘সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা’- এই স্লোগান ব্যানারে ধারণ করে বিটিভি প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে তাদের মতপ্রকাশ করেন শিল্পীরা।

উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সুজাতা, অভিনেতা রিয়াজ, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, নিপূণ, নাট্যব্যক্তিত্ব শমী কায়সার, আজিজুল হাকিম, রোকেয়া প্রাচী, সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, চন্দন রেজা, সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এ হক অলিক, খোরশেদ আলম খসরুসহ নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা।

বিটিভিতে এ ধ্বংসযজ্ঞ কেন, এর পেছনে কারা?- সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান শিল্পীরা। পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমি দেখেছি, ছাত্ররা যে কোটার আন্দোলনে নেমেছিল সে কোটার পক্ষে আমরা সকলেই ছিলাম, কিন্তু আন্দোলনে এই ছাত্রদেরকে ঢাল করে একদল মানুষরূপী পশু জালিয়ে-পুড়িয়ে ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ছারখার করে দিয়েছে আমাদের এ দেশটিকে। দেশটি হয়তো আবার আমরা কষ্ট করে ঠিক করে ফেলবো কিন্তু যে প্রাণগুলো ঝরে গেল সেগুলো আর আমরা আর কোনোদিন ফিরে পাবো না। আজকে আমরা বিটিভিতে এসেছি। আমাদের সংস্কৃতির অস্তিত্বের একটি জায়গা এটি। সে বিটিভিতে আগুন কেন? এ অগ্নিসন্ত্রাসী কারা? তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে, চিহ্নিত করতে হবে। যতগুলো প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, আপনারা যদি দেখেন, বাচ্চারাও যদি দেখে বুঝতে পারবে সুপরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে। তাদের বিচার চাই। আজ আমরা সকল অঙ্গনের শিল্পীরা এখানে একত্রিত হয়েছি, আমাদের সংহতি প্রকাশ করার জন্য। সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা।’

শমী কায়সার বলেন, ‘সকল সংস্কৃতি কর্মীরা আমরা দাঁড়িয়েছি আজ শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে। আগস্ট মাস আমাদের একটি প্রতিবাদের মাস। যে মাসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাসকে হত্যা করা হয়েছে। সেরকম একটি মাসে আমরা আবারো দাঁড়াবো এই বাংলাদেশ টেলিভিশন চত্তরে সেটা আমাদের জীবদ্দশাতেও কখনো ভাবিনি। আজকে আমরা ব্যথিত, ক্ষুব্ধ, মর্মহত। কারণ যে বাংলাদেশ টিলিভিশন বাঙালির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছে- সেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে এসে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত হয়েছি। এখানে আমরা বেড়ে উঠেছি, শিল্পী হিসেবে এই প্রাঙ্গনে বড় হয়েছি। এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের সকলের আমরা বিচার চাই। বাংলাদেশে এরকম নৃশংসতাা, এমন ধ্বংসযজ্ঞ, এতো প্রাণহানি আমরা আর চাই না।’

রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যহত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সব সময় থাকে। এই গণতান্ত্রিক দেশে বঙ্গবন্ধু কন্যা সকলকে তার অধিকারের কথা বলতে, দাবীর কথা বলতে সুযোগ দিয়েছেন। এই ছাত্রদের আন্দোলনকে ঘিরে জঙ্গি হিসেবে, দুঃস্কৃতিকারী হিসেবে যারা সহিংসতার রাজনীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চাই। জীবনের যেমন মূল্য আছে তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের মূল্য আছে। আমরা প্রতিবাদ জানাতে চাই। নিরীহ ছাত্রদের আন্দোলনকে যারা ছিনতাই করে সারা দেশে সহিংসতা চালিয়েছে এসব রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াতে চাই।’

আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যে সকল প্রাণ আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলের বিদেহী আত্মার প্রতি আমি সমবেদনা জানাই, আত্মার শান্তি কামনা করি।  আমরা সুন্দর বাংলাদেশ চাই, সম্প্রতির বাংলাদেশ চাই, স্বস্তির বাংলাদেশ চাই, সন্ত্রাসের বাংলাদেশ চাই না। সবাই মিলে আসুন, দেশটাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। আর সন্ত্রাস আমাদের কাম্য নয়।’
শুভ্র দেব বলেন, ‘এই বিটিভি ছিল বাংলাদেশের প্রখ্যাত সব শিল্পীদের পদচারণামুখর একটি পবিত্র জায়গা। আমি বিশ্বাস করি, কোনো বাংলাদেশী এই বিটিভিতে আক্রমণ করতে পারে না, আক্রমণ করতে পারে কোনো টিক্কাখানের বংশধর। প্রত্যেকটা শিল্পীর হৃদয়ে যে ক্ষরণ হয়েছে, যে ক্ষত হয়েছে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। যারা এ ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে তাদের সকলকেই  বিচারের আওতায় আনতে হবে। যে সকল প্রাণহানি হয়েছে, সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে সে সবের বিচার হবে এটাই আমার কাম্য।’

সুজাতা বলেন, ‘ সন্ত্রাসীরা এখনো ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে খুঁজে বের করে এর বিচার হোক। আমরা শিল্পীরা যেন ঐক্যবদ্ধ হই এবং যেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। যখন দেশটা উন্নতির দিকে তখনই শত্রুরা আঘাত হানে, ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে দেয় দেশকে। আমরা শিল্পীরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকবো। দেশজুড়ে জ্বালাও, পুড়াও এ সন্ত্রাস আমরা চাই না, আমরা মানি না।’
এছাড়াও সহিংসতার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, হৃদি হক, সোহানা সাবা, সাজু খাদেম, অরুণা বিশ্বাস, নিপূণসহ উপস্থিত অনেক তারকাই।




জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আইনি মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।

দুপুরে আইনি মতামত দেওয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই দলগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পর তারা আর এই নামে রাজনীতি করতে পারবে না।

আদালতের রায়ে নির্বাচন কমিশন ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে। জামায়াতের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দলটির নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা হয়েছে।




জামায়াত-শিবিরকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে: শেখ হাসিনা

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা তো (জামায়াত-শিবির) জঙ্গিবাদী হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। সে কারণে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে এদের মোকাবিলা করা ও মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়িতে কেআইবি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা তো জঙ্গিবাদী হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। সে কারণে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে এদের মোকাবিলা করা ও মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে। কারণ, বাংলার মাটিতে জঙ্গির ঠাঁই হবে না। সেভাবে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমি দেশবাসীকে সজাগ থাকতে এবং তাদের সহযোগিতা চাই। আমি জানি বারবার আঘাত আসবে। আমি পরোয়া করি না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, একদিন নিয়েও যাবেন। কিন্তু যেখানে মানুষের জন্য কল্যাণের কাজ, সে কল্যাণের কাজ আমরা করেই যাবো।

তিনি বলেন, ১ আগস্ট রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যম আমরা শোকের মাস শুরু করেছি। সব সংগঠনের নেতাদের এই শোকের মাসে শুধু শোক পালন নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতা তো এ জাতির জন্য কাজ করে গেছেন। কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই নিয়ে যাননি। শুধু দিয়েই গেছেন। তার সেই আদর্শ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উম্মুল কুলসুম স্মৃতির সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে নিহতদের স্মরণে ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন




ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৬ সমন্বয়ককে




সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিপদের কারবার: প্রধান বিচারপতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিপদের কারবার। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কিছু বললে আবার রাইটস টু ফ্রিডম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আজ এই মন্তব্য করেন।
সাত আইনজীবীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সাত আইনজীবীর বিষয়ে দিন পিছিয়ে ২২ আগস্ট ধার্য করে আজ আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
গত ১২ জুন সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীকে আদালত অবমাননার মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সাত আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, ফাহিমা নাসরিন, মো. আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান ও গাজী কামরুল ইসলাম। এই সাত আইনজীবী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বাপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের দুইজন বিচারপতি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে এই সাত আইনজীবীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৯ আগস্ট আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়। আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা।
শুনানি নিয়ে গতছর ১৫ নভেম্বর আপিল বিভাগ আদেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে আদালত অবমাননার আবেদনে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে এই সাত আইনজীবীকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টায় আপিল বিভাগে (১ নম্বর কোর্টে) হাজির হতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ধার্য তারিখে তারা আদালতে হাজির হন।
আদালত অবমাননার আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে গত বছরের ২৭ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করা হয়। বিচারপতিদের নিয়ে ব্যানার-লিফলেটসহ বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মিছিল-অবস্থানের ছবিও আবেদনে যুক্ত করা হয়।

খবর বাসস।




মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ডক্টর ইউনুসের দাবি অসাংবিধানিক ও বেআইনি- ওবায়দুল কাদের।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ডক্টর ইউনুসের দাবি অসাংবিধানিক ও বেআইনি। বাংলাদেশের ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপে তার বিবৃতি রাষ্ট্রদোহীতার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত হবে এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।




উত্তাল বঙ্গোপসাগর – পটুয়াখালীতে বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীতে গত এক সপ্তাহ ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বুধবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা থেকে টানা মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কলাপাড়া উপজেলায় ১৫২.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

জানা গেছে, টানা বর্ষণে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সকল মাছধরা ট্রলার উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ জুলাই বুধবার শেষ বিকেলে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের একাংশ আয়োজিত শান্তি মিছিল ও পথসভার নেতৃত্ব দেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর তৈয়বুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনন্ত মুখার্জি, কাউন্সিলর আবুল হোসেন ফরাজি, হাবিবুর রহমান, মজিবর রহমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠেনর কয়েকশত নেতাকর্মী।

এ সময় পথসভায় পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কোটা আন্দোলনকে ঘিরে জামায়াত-বিএনপি সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাই ছাত্রছাত্রীদের ঘরে ফিরে যাবার অনুরোধ করেন তিনি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র।