রাঙ্গাবালীর ১ কিমি. রাস্তা ৪ গ্রামের মানুষের গলার কাঁটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চরমোন্তাজের দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর ও পশ্চিম চরমোন্তাজকে একত্রিত করেছে একটি সড়ক। সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের আট হাজার মানুষ। আর বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরো দ্বিগুণ। রাস্তা নির্মাণের ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের রাস্তায় পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) ও উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের একপাশে দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া ও নয়ারচর গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে পশ্চিম চরমোন্তাজ গ্রাম। এই চার গ্রামকে একত্রিত করেছে ১ কিলোমিটারের এই চরমোন্তাজ লঞ্চ ঘাট-বাইলাবুনিয়া সড়কটি। ১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১০ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিংয়ের সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের। এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। সড়কের বেহাল দশায় পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকরা।

ভ্যানচালক ইমন গাজী বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।

স্থানীয় কৃষক খলিল কাজী বলেন, নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ভ্যান চালকরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।

রাঙ্গাবালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকুলে এলে এ সড়কসহ উপজেলার আরো কয়েকটি সড়ক পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) কাজ শুরু হবে।




উপকূলে আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত – পায়রা বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলায় ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাসা বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে গেছে।

এদিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা সহ সব সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বলেন, আমাদের মাছধরা ট্রলার মহিপুর শিব্বারিয়া নদীতে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে, তবে কিছু ট্রলার সাগরে আছে।




হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ ফেলে পালালেন স্বামী – আটক দুই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হালুয়া ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সুমী বেগম নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুমীর স্বামীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সুমীর মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান স্বামী ইব্রাহিম প্যাদা ও তার ভাই সাইদুল।

পরে খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ নিহত সুমীর মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। শুক্রবার তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সুমীকে বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন তারা ।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান, নিহত গৃহবধূর ভাই পলাশ হাওলাদার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে তিনজনের নামে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ইব্রাহিম প্যাদা ও সাইদুলকে আটক করেছে। কেন কি কারণে সুমী মারা গেছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।




মোবাইল নেটওয়ার্কে আবার বন্ধ ফেসবুক




ঝালকাঠির বাসন্ডা খাল থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক নবজাতকের লাশ পাওয়া গেছে। জন্মের পরপরই নবজাতকটিকে কেউ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা পুলিশ ও স্থানীয়দের। ঝালকাঠি সদর উপজেলার চামটা এলাকার বাসন্ডা খাল থেকে বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ওই নবজাতকের লাশটি উদ্ধারকরে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ঝালকাঠি থানা পুলিশ লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চামটা বাজার এলাকার বাসন্ডা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি নবজাতকের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা লাশটি উদ্ধার করে স্থানীয় মুকুল হাওলাদারের রাইস মিলের সামনে ঘাটলার উপর তুলে রাখে। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি থানায় নিয়ে আসেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরোয়ার হোসেন জানান, খালের পানিতে ভেসে আসা একটি মেয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নবজাতকটির ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে কে বা কারা এভাবে নবজাতক শিশুটি নদীতে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়ায়নি।




এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জামিনে সহায়তা করবে সরকার




বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘তিন দিনের বৃষ্টির লইগ্যা ঘরের বাইরে যাইতে পারি না। বেইন্নাকালে কিছু খাই নাই। একটু আগে কোলা (বিল) দিয়া কিছু কচুর লতি টোহাইছি, হেইয়া কুড়ি টাহায় বেইচ্চা দিছি। আইজ এ কুড়ি টাহা দিয়াই পেট চালামু।

কয়েক দিন পেট ভইরা খাইতে পারি নাই। বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে। আল্লায় হেগো ভালো করবে। আমি আল্লার কাছে দুই হাত তুইল্লা মোনাজাতে দোয়া করমু।
’ কথাগুলো বলছিলেন গলাচিপা পৌর এলাকার রাজিয়া বেগম।

পেশায় তিনি একজন ভিক্ষুক। অন্যের বাড়ি থেকে যে খাবার দেয় তা দিয়েই দিন চলে। গলাচিপা পৌরসভার অন্যের ঘরের বারান্দায় থাকেন।

বিধবা রাজিয়ার কোনো সন্তান না থাকায় কষ্টে দিন কাটছিল তার।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের বিধবা রোকসনা বেগমের চার কন্যাসন্তান নিয়ে ভিক্ষা করে দিন চলে। ছোট একটি খুপরি ঘর তা-ও ঘূর্ণিঝড় রিমেলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ভিক্ষা করে কোনো মতে পেট চললেও খুপরি ঘর আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। টানা বর্ষণে কন্যাসন্তানদের নিয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।
আশ্রয় মিললেও খাবার জোটেনি তাদের।

রোকসানা বলেন, ‘আইজ আমার ময়নাগুলার (মেয়েদের) মুহে ( মুখে) ভাত দিতে পারি নাই। আইজ আল্লায় নিজে আমার ধারে বসুন্ধরার সাহায্য পাডাইছে। এইডা আমার লইগ্যা নেয়ামিত। আমি এই মালিকের লইগ্যা দোয়া করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অসহায় দরিদ্রের চাল, ডাল, তেল, আলু, চিনি, মরিচ, হলুদ, লবণ ও নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। নগদ অর্থ সহায়তা করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

খাদ্য সহায়তা বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, প্রভাষক বাদল চন্দ্র মিতে, বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান তালাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মলি, দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সদস্য সাদিক মাহমুদ প্রমুখ।




সাংবাদিকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “সকলের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিপক্ষরা কিছুই করতে পারবে না। গরিব-ধনী উর্দ্ধে সেবা নিতে যে লোকই আসবে, সকলেই সেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবান জানাই। দল-মত সকলকে সাথে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধ-পরিকর।”

মতবিনিময় সভায় গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত প্রথম নারী চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু এমনটি বলেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে গলাচিপা উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ আহসান কচিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোসাঃ তহমিনা আক্তার, স্টার্ফ রিপোর্টার শংকর লাল দাস, সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন, প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, মোঃ কাওসার, মোঃ হারুন অর রশিদ, সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ,সাইমুন রহমান এলিট, জাকির হোসেন, রুবেল আকন, মোনাজাতসির মামুন, মাসুদ রানা, রিয়াদ হোসেন, হাসান এলাহী, সঞ্জিব দাস, নাসির উদ্দিন, সোহাগ রহমান, মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সোহেল আরমান, আহসান উদ্দিন জিকো, সাকিবুল হাসান সাকিব, মিঠুন চন্দ্র পাল, কমল সরকার ও আরেফিন লিমন ,পঙ্কজ গাঙ্গুল, সঞ্জীব সাহাসহ সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




তরুনী গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ৩দিন আটকে পাষবিক নির্যাতন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জেলার কলাপাড়ায় তরুনী এক গৃহবধূকে উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ৩ দিন আটকে রাখা হয়েছে একটি কক্ষে। টানা মারধরে ধেতলে দেয়া হয়েছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসহ মুখ। থেতলানো জায়গায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। বাদ দেয়া হয়নি যৌ-না-ঙ্গ। সেখানেও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। খাবার, পানি কিংবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বললেই নেমে আসতে স্বামী, শাশুড়ী, জাঁ, ভাসুর এবং ননদের ভয়াবহ গন নির্যাতন। স্বামীর চাহিদার যৌতুক দিতে না পারায় এবং পরকীয়া দেখে ফেলায় পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গৃহবধূ কাকলীর উপড় চালানো হয়েছে এমন নারকীয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন।

মেয়ের উপড় চলমান ভয়াবহ নির্মমতার কথা জানতে কাকলীর বাবা-মা শশুড় বাড়ী ছুটে আসলেও পারেননি মেয়েকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে উদ্বার করতে। বাধ্য হয়ে থানা অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ এনে উদ্বার করেন মুমুর্ষ প্রায় কাকলীকে।

গুরুতর আহত কাকলী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন।

কাকলীর পারিবার জানায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের কালাম ফরাজীর কন্যা কাকলীর সাথে লতাচাপলী এলাকার খাজুরা গ্রামের ইউনুচ খা’র পুত্র রুবেল খা’র সাথে ৮ বৎসর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের রয়েছে সওদা (৫) ও ইসা নামের আট মাসের দু’সন্তান। বিয়ের পর থেকেই ইজিবাইক চালক রুবেল ও তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের যৌতুকের দাবী করে কয়েকবার মারধর করে। এনিয়ে বছরে প্রায় ২ বার শালিস বৈঠক এ মিমাংসা হয়। ফলে সন্তানদের কথা চিন্তা করে কাকলী ফিরে যায় স্বামীর কাছে।

সর্বশেষ রবিবার (১৪ জুলাই) ২ লাখ দাবী করে রুবেল ও তার পরিবার। এনিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কাকলী তুলে ধরেন স্বামীর পরকীয়ার খবর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল ও তার পরিবার। চিৎকার যাতে না করতে পারে সেজন্য কাকলীর মুখ বেঁধে স্বামী রুবেল খা, ভাসুর হানিফ খা, জাঁ সুরমা, ননদ রহিমা শুরু করে গন নির্যাতন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কাকলী যন্ত্রনা কাতর গলায় চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, উপর্যপরি নির্যাতনে কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলেই আবার শুরু হত নির্যাতন। টানা তিনদিন উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ফেলা রাখা হয় জাঁ সুরমার কক্ষে। সারা শরীর এমনকি গোপনা-ঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছে। খাবার কিংবা পানি চাইলে পেতে হত নির্যাতন। হাত-পা ধরে প্রান ভিক্ষা চেয়েছি। শশুড় ইউনুচ খাঁ আমার প্রানভিক্ষা দেয়ার জন্য ওদের কাছে অনুরোধ করেছেন। বলেছেন মরে গেলে সবগুলো আসামী হবে। ওরা একটা মরলেও যা, ৩টা মরলেও তা। তিনটাকেই মেরে ফেলবে।

নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠছিল তরুনী গৃহবধূ কাকলী বলেন, মেয়ে সাওদাকে ওরা লুকিয়ে রেখেছে। ওরা ওকে মেরে ফেলবে। আমি স্বামীর কাছে ফিরে যাব না। ওদের সবার বিচার চাই।

হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে কাকলীর মা শাহিনুর বেগম বলেন, জামাতা রুবেল যখন যা দাবী করেছে সাধ্যমত দেয়ার চেস্টা করেছি। তারপরেও মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলতে চেয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) স্বন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ নিয়ে মেয়েকে উদ্বার করে এনেছি। এসময় ওরা পুলিশকে লাঞ্চিতও করেছে।

কাকলীর বাবা কালাম ফরাজী বলেন, আমার মেয়ের উপড় চালানো নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই। আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য রুবেল খা’ বলেন, আভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। পারিবারিক সামান্য বিরোধকে বড় আকারে তুলে ধরে আমাকে হয়রানি করার চেস্টা করা হচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, রুবেল-কাকলীর বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা আমাকে জানানো হলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলে দিয়েছি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পূর্ব দিকের সৈকতের ঝাউ বাগান এলাকা থেকে ভেসে আসা এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে সাগরের জোয়ারে মরদেহটি ভেসে এসে বালু চরে আটকে পড়ে।

কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) দেলোয়ার হোসেন জানান, সকালে ভেসে আসা মরদেহটি দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিহত যুবকের বয়স ২৫-৩০ বছর। তার শরীর ও মুখমণ্ডলে পচন ধরেছে। অনেকদিন সাগরে ভেসে থাকায় এ অবস্থা হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ধারণা, এটি সাগরে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ কোনো জেলের মরদেহ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, নৌ পুলিশ এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।