পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলমান রয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও পিপিএফটি এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী ও আনসারের পাশাপাশি ৪২ নৌ কনটিনজেন্ট সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করছে। পাবকের প্রশাসনিক, আবাসিক ও প্রকল্প এলাকায় অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান জানান, গতকাল কয়লাবাহী একটি মাদার ভ্যাসেল ২৪ হাজার মে টন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরের বিসিপিসিএল জেটিতে ভিড়েছে ও এর খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বন্দরের ইনার অ্যাংকোরেজে অবস্থান করছে। একটি জাহাজ কয়লা খালাস শেষ করে গতকাল বন্দর ত্যাগ করেছে। এ ছাড়া একটি মাদার ভ্যাসেল ৮ আগস্ট ১৯ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন লাইমস্টোন নিয়ে পায়রা বন্দরে আসবে।

এ ছাড়াও তিনি আরো জানান, আমদানি-রফতানি পণ্য লোডিং-আনলোডিং-সহ সব কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে এবং বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, রাস্তা ও ব্রিজ ইত্যাদি প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলমান রয়েছে।




ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকার বেশি তোলা যাবে না আজ




বেনাপোল বন্দরে আটকা দুই শতাধিক পাসপোর্টধারী

বরিশাল অফিস :: বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে সকাল থেকে সব ধরনের পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছে। তবে ভারতীয় ইমিগ্রেশন সচল থাকায় ভারত থেকে ফিরছেন সব শ্রেণির পাসপোর্টধারীরা।

বৃহস্পতিবার(০৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত কোনো পাসপোর্টধারী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেনি।

ভারতগামী মেডিকেল ভিসার পাসপোর্টধারী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বেনাপোল বন্দরে আসেন। তবে ইমিগ্রেশন যেতে না দেওয়ায় তারা আটকে পড়েছেন। আটকে থাকা অনেকের বিমান ও রেলের টিকিট করা আছে। এতে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

ভারতীয় এক পাসপোর্টধারী জানান, তিনি বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। বর্তমানে এদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তিনি দেশে ফিরতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে এসে আটকা পড়েছে। কখন যেতে পারবেন কেউ কিছু বলছে না।

ভ্রমণকর প্রদানকারী বেনাপোল বন্দরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের বুথ ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপাতত যাত্রীদের ভ্রমণ কর দিতে বন্ধ রাখতে বলায় সকাল থেকে কোনো যাত্রীকে ভ্রমণ কর দেওয়া হয়নি।

পাসপোর্টধারী কবির হোসেন জানান, গতকালও কম বেশি, সব ভিসার দেশ বিদেশি পাসপোর্টধারী বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছে। তবে হঠাৎ করে আজ সকাল থেকে কোনো যাত্রী ছাড়ছে না ইমিগ্রেশন।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ নাহিদুজ্জামান জানান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টধারীদের পাসপোর্টে সিল না দেওয়ায় মেডিকেল, টুরিস্ট ও বিজনেস ভিসার যাত্রী বন্দরে অপেক্ষা করছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি ওমর ফারুক জানান, সম্প্রতি সহিংস ঘটনায় তাদের অনেক সহকর্মীরা জীবন হারিয়েছেন। এতে তারা শোকাহত। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকে অফিস করতে পারছেন না। জনবল কম থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে । যাচাই, বাছাই করে ছাড়া হবে।




নোবেলজয়ী থেকে সরকার প্রধান ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছিলেন শিক্ষকতা পেশায়। সেখান থেকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। পরে ওই ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই থেকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। কিন্তু নিজ দেশেই গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন কোণঠাসা। কর্তৃত্ব হারিয়েছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই গ্রামীণ ব্যাংকের। নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় রাজনৈতিক দল গঠনের কার্যক্রম করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরাতে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বেশ আলোচনায় ছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার পেছনে অধ্যাপক ইউনূসকে একজন মাস্টারমাইন্ড মনে করতেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংকের কর্তৃত্ব হারানোসহ বিভিন্ন মামলায় আদালতে বারবার হাজিরা দিতে হয়েছে অধ্যাপক ইউনূসকে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। গত মার্চে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, সে সময় রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ ভুল ছিল। যে ভুলের খেসারত তাকে দিতে হচ্ছে এখনো।

২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে এবং ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। তখন সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল মইন ইউ আহমেদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদ এবং সেনাপ্রধান উভয়ে মিলে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নামে একটি তত্ত্ব বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। যেখানে ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেত্রীদ্বয়কে নির্বাসিত বা বন্দী রেখে নতুন একটি সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। সেই সময় অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে একটি দল গঠনের আলোচনাও ছিল জোরালো। এই সময় রাজনৈতিক দল গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা হয়েছিল অধ্যাপক ইউনূসের।

তিনি জানান, সে সময়কার সেনাবাহিনী তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হবার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। তবে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক শক্তি নামে একটি দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সেই প্রক্রিয়া থেকেও সরে এসেছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। গত মার্চে বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বিরকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল গঠনের এই উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

২০০৬ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যখন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তখন একইসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকও পেয়েছিল নোবেল পুরস্কার। অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার অর্জন করায় সে সময় বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ সবার আগেই শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।

তবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকে দলটি এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার প্রথমটা শুরু হয় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়ার মধ্য দিয়ে।

২০১১ সালের দোসরা মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ জারি করে।

এর বিরুদ্ধে ড: ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নয়জন পরিচালক দু’টি রিট মামলা করেছিলেন। দু’টি রিট আবেদনই খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট ডঃ ইউনূসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ বহাল রাখে। পরে ওই বছরের ১২ই মে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দেন অধ্যাপক ইউনূস। ক্ষমতায় আসার পরই পদ্মাসেতু তৈরিতে প্রকল্প প্রস্তুত করে বাংলাদেশ। সে সময় অর্থায়নে রাজিও হয় বিশ্ব ব্যাংক। কিন্তু মাঝপথে সেই অর্থায়ন আটকে যায় দুর্নীতির অভিযোগে।

এরপর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ তোলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রভাবিত করার কারণেই আটকে গিয়েছিলো পদ্মাসেতুর অর্থায়ন। মার্চে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, আমার বাধা দেয়ার তো কোনও কারণ নাই। বিশ্ব ব্যাংক তো আমার প্রভাবিত করার জন্য অপেক্ষা করে নাই। তারা তো বলছে দুর্নীতি হয়েছে। এই সময় অধ্যাপক ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কয়েকটি মামলায় খালাস দেয়া হয়েছে তাকে।

দেশের বাইরে পড়াশোনা শেষে অধ্যাপক ইউনূস প্রথমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে। অধ্যাপক ইউনূস জানান, নতুন বিভাগ হওয়াতে তখন বিভাগে তেমন বেশি কোন কাজ ছিল না। বিভাগে ঘোচানোর পাশাপাশি তিনি আশপাশের গ্রামে ঘুরতেন। সেখানকার মানুষের জন্য কিছু করতেন চাইতেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ‘রুরাল ইকনোমিকস প্রোগ্রামের’ প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস তখন জোবরা এবং সংলগ্ন গ্রামগুলোতে শুরু করেছিলেন একটি মাঠ গবেষণা, যেখানে তিনি যাচাই করতে চেয়েছিলেন সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের মধ্যে ব্যাংকঋণ সরবরাহের সম্ভাব্যতা। সেখানে শুরুতে তেভাগা পদ্ধতি কৃষকদের খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমের কার্যক্রম শুরু করেন অধ্যাপক ইউনূস। যার নাম ছিল নবযুগ তেভাগা খামার।

অধ্যাপক ইউনূস বলছিলেন, জমি যার সে ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ পাবে। আর যে বীজ দেবে সার দেবে সে পাবে এক ভাগ। আর চাষ করবে, পানি দেবে সে পাবে এক ভাগ। এরকম করে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। পরে গ্রামের অবহেলিত নারী ও পুরুষদের নিয়ে একটা সমিতি শুরু করেন। সেই সমিতিতে সঞ্চয় করতো সবাই। এই কৃষকদের খামার থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। পরবর্তীতে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারনা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আনুষ্ঠানিক জন্ম হয় গ্রামীণ ব্যাংকের।

গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। ব্যাংকের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাথে দরিদ্রদের রক্ষা করতে ব্যাংক অন্যান্য পদ্ধতিও প্রয়োগ করে। ক্ষুদ্রঋণের সাথে যোগ হয় গৃহঋণ, মৎস্য খামার এবং সেচ ঋণ প্রকল্প সহ অন্যান্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা। গরিবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য উন্নত বিশ্ব এমন কি যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশসমূহকে গ্রামীণের এই মডেল ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অধ্যাপক ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের এই কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করলে ২০০৬ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ইউনূসের সাথে বৈরিতা তৈরি হয় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সাথে।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অধ্যাপক ইউনূসকে ‘রক্তচোষা’ ও ‘সুদখোর’ বলতে দেখা গেছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের। এ নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন যখন আমরা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ শুরু করেছি তখন লোকে বলতো আমরা রক্তচোষা। এখন তো এই ব্যবসা সবাই করছে। সরকারও করছে। সরকার নিয়ম নীতি করে দিচ্ছে। এখন কে কার রক্ত চুষছে? চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামের সেই নবযুগ খামার থেকে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার থেকে শুরু হয় গ্রামীণ ব্যাংকের। যেখান থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এর কার্যক্রম। অধ্যাপক ইউনূস সেই জোবরা গ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে জানাচ্ছিলেন সে সময়কার কথা।

তিনি জানাচ্ছিলেন, তখন এই জোবরা গ্রামে বাস করতো হত দরিদ্র অনেক মানুষ। কিন্তু তিনি অর্থনীতির শিক্ষক হয়েও সে সব মানুষের জন্য কিছু করতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার। তখন আমি ভাবলাম আমি অযথা সময় নষ্ট করছি। এই অর্থনীতি দিয়ে আমি কি করবো যা মানুষকে কোন ধরনের উপকারে আসে না। আলোচিত সেই জোবরা গ্রামটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পাশে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শেষে প্রতিদিনই জোবরা গ্রামে যাওয়া শুরু করলেন অধ্যাপক ইউনূস। কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে বলতেন, তাদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতেন। তখন কৃষিকাজের জন্য কোন পানির ব্যবস্থা ছিল না এই গ্রামে। অধ্যাপক ইউনূস বলছিলেন, তখন বাংলাদেশে প্রথম আসে ইরি ধানের চাষ। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জমিতে ইরি ধানের চাষ করার জন্য উদ্যোগ নেই। কিন্তু তখন সেখানকার বাসিন্দারা বললেন সেখানে পানির সমস্যা।

পরে টিউবয়েল বসিয়ে ইরি ধানের চাষ শুরু করলাম। তেভাগা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা শুরু করেন কৃষকদের নিয়ে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেই সামাজিক ব্যবসা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। যে সামাজিক ব্যবসা শুরু হয়েছিল সেই জোবরা গ্রাম থেকে। অধ্যাপক ইউনূস বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি জোর করে কাউকে করতে হচ্ছে না। সরকারের হুকুম দিয়ে করতে হচ্ছে না। মানুষ সেটা পছন্দ করে আনন্দিত হয়ে করছে। বিশ্বের বিভিন্ন মানুষ এখন এই ধরনের সামাজিক ব্যবসায় নেমেছে”।

১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় মুহাম্মদ ইউনূস মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অধিকার করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ এবং এমএ পাশ করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি ব্যুরো অব ইকোনমিক্স-এ যোগ দেন গবেষণা সহকারী হিসাবে। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই ১৯৭৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষুদ্রঋণের ধারণার মাধ্যমে সারাবিশ্বে একটি সাড়া ফেলে গ্রামীণ ব্যাংক।




রাশিয়ায় প্রবেশ করে ইউক্রেন সেনাদের তীব্র লড়াই

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তীব্র লড়াই হয়েছে। এ ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার একটি।

জানা গেছে, বুধবার (৭ আগস্ট) আকস্মিকভাবে বিপুল ইউক্রেনের সেনা রাশিয়ায় ঢুকে পড়ে। তাদের সঙ্গে রয়েছে কিয়েভপন্থি যোদ্ধাদের একটি দলও। তবে রুশ সেনারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। চলে ভয়ংকর যুদ্ধ।

যে অঞ্চলটিতে এ লড়াই হয়েছে তা কুরস্ক নামে পরিচিত। এর আগেও অঞ্চলটিতে ইউক্রেনের সেনারা অনুপ্রবেশ করে রুশ ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছিল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানায়, অঞ্চলটি প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রান্সমিশন হাব। এটি রক্ষা করা রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে ইউক্রেনীয়রা সফল হলে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির পড়বে। শত্রুপক্ষ বিষয়টি জেনেই পরিকল্পিত হামলা করছে। তবে রাশিয়ার বাহিনী এ হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে।

পুতিন-কিমের শক্তিবৃদ্ধির নেপথ্যে কে?
এদিকে ইউক্রেন পুরোপুরি সফল না হলেও ব্যাপক ধ্বংস চালিয়েছে। তারা রুশদের সেনাঘাঁটির একটি অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে রুশ নিহত সেনার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 




দুপুরে দেশে পৌঁছাবেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।

গ্রামীণ টেলিকমের এমডি নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) রওনা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

চিকিৎসাজনিত কারণে বর্তমানে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থান করছেন নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপরই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনীর সাথে আলোচনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন।




লুটপাট-ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে: সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা লুটপাটসহ ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী অন্য বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যারা এই সমস্ত (লুটপাট, ধ্বংসাত্মক) কাজে জড়িয়েছে তাদের আমরা আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

যথাসাধ্য চেষ্টার পরও কিছু কিছু ঘটনা ঘটার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, এটা ঘটার পেছনে কিছু কারণও আছে।

পরিস্থিতি এখন অনেক শান্ত হয়ে আসছে।
খুব শিগগিরই পুলিশ তাদের দায়িত্বপালন শুরু করবে আশা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

একজন পুলিশপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে পুলিশের মনোবল আবার ফেরত আসবে, পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশ ভালোভাবে আবার তাদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।

পুলিশের শূন্যতা প্রসঙ্গে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পুলিশ কিন্তু ডিউটিতে নেই। পুলিশের মতো একটা ফোর্সের অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতা (ভয়েড) সৃষ্টি হয়েছে এই শূন্যতা সেনাবাহিনীর সক্ষমতা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব না। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী সর্বদা জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। আমরা সবার সঙ্গে মিলে কাজ করে যাবো। সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস রাখি।

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, আগামীকাল (অন্তবর্তীকালীন সরকার) শপথের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। একটা প্রস্তাব ছিল বিকেলে করার। বিকেলে খুব টাইট হয়ে যেতে পারে। উনি (অন্তবর্তী সরকারের প্রস্তাবিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস) ২টা ১০ এর দিকে এখানে (ঢাকায়) আসবেন। আমরা হয়তো তাহলে রাতের বেলা, রাত ৮টার দিকে করতে পারি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কতজন উপদেষ্টা থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, তার ধারণা আপাতত ১৫ জন হতে পারে।

গুজব-রটনায় কান না দেওয়ার আহ্বান
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অনেক ধরনের গুজব চলছে। জনগণকে আহ্বান করবো কোনো গুজবে যেন কান না দেয়। আমরা একটা চমৎকার পরিবেশে, সুন্দরভাবে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছি। আমার সেনাবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সেনানিবাসের মধ্যে বিভিন্ন গুজব রটনা করা হচ্ছে, এগুলোতে আপনারা কান দেবেন না।

তিনি আরও বলেন, নিশ্চিত না হয়ে এই ধরনের কোনো সংবাদ দেওয়া থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। তাহলে এটা আমাদের সাহায্য করবে।




প্যারিস অলিম্পিকে আজ ২৫ সোনার লড়াই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্যারিস অলিম্পিকে আজ ২৫টি সোনার লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকসে ৫টি, ক্যানো স্প্রিন্ট ও বক্সিংয়ে রয়েছে ৩টি। আজ (বুধবার) লড়াই শুরু হবে ম্যারাথন সুইমিং দিয়ে। খেলা শুরু হবে বেলা সাড়ে ১১টায়। মেয়েদের ১০ কিলোমিটারে এই খেলাা হবে।

এরপর স্পোর্টস ক্লাইম্বিং পুরুষ স্পিড ফাইনাল বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। ক্যানো স্প্রিন্টের প্রথম খেলা পুরুষ ডাবল ৫০০ মিটার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে, মেয়েদের কায়াক ফোর ৫০০ মিটর ৫টা ৪০ মিনিটে ও পুরুষ কায়াক ফোর ৫০০ মিটার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে হবে।




লুট করা কিছু মালামাল ফেরত পেল বরিশাল ক্লাব

বরিশাল অফিস :: বরিশাল ক্লাবের লুট করা কিছু মালামাল ফেরত দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা কিছু মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দিয়েছেন বলে ক্লাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দুপুরে সেনাবাহিনী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীরা এসে কিছু মালামাল ফেরত দিয়েছে। গত সোমবার বিকেলে বরিশাল ক্লাবে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়।

ক্লাবের শুধু ভবন ছাড়া, যা নেওয়া যায় সবই নিয়ে গেছে। ক্লাবের ২/৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

বরিশাল নগরের বেসরকারি ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ভ্যানে করে টেবিল চেয়ারসহ কিছু আসবাবপত্র বরিশাল ক্লাবে নিয়ে আসেন।

তারা জানান, বিজয়ের আনন্দে এখান থেকে কিছু লোক এগুলো নিয়ে গিয়েছিল।

কাশিপুর এলাকায় তাদের আটকে এগুলো উদ্ধার করেছে শিক্ষার্থীরা। আমরা আজ এগুলো ফেরত দিয়ে গেলাম।
একইসময় একটি পরিবার কিছু হাঁড়িপাতিল নিয়ে আসেন বরিশাল ক্লাবে।

এছাড়াও নগরের কয়েকটি বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের মালামাল আসবাবপত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হয়েছে বেলস পার্ক ও শহীদ মিনারের সৌন্দর্য বর্ধনের লাইটপোস্ট ও রেলিং।




ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান সাময়িক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারপ্রধানের পদ ও দেশ ছেড়ে গত সোমবার ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান সাময়িক। তিনি দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাননি। বরং যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

কিন্তু বাংলাদেশ ত্যাগের তিন দিন পরও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় কিংবা চূড়ান্ত গন্তব্যের বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। এর মধ্যে শুধু ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যেই  বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর, শেখ হাসিনা লন্ডনে যেতে চান। সেখানে তাঁর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক থাকেন। টিউলিপ যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য, সরকারের সিটি মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর, শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত বাধা’ আছে। আর সেটা যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন ঘিরে।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, আশ্রয় বা সাময়িক আশ্রয়ের জন্য কাউকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এমনকি যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকেও কেউ দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন না।

সে ক্ষেত্রে ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থান করতে হবে। এরপরই যে কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন।

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে সমস্যাটা এখানেই। তাঁর যুক্তরাজ্যের বৈধ ভিসা নেই। এমনকি এখন তাঁর কাছে কূটনৈতিক বা অফিশিয়াল কোনো পাসপোর্ট নেই। কাজেই রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে হলে শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট–ভিসা করিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর দেশটিতে অবস্থান করতে হবে। এরপরই তিনি আশ্রয় চাইতে পারবেন।