ভোলায় সড়ক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজার মনিটরিংয়ে শিক্ষার্থীরা

বরিশাল অফিস :: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠেকাতে এবার বাজার মনিটরিং ও চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে বেরিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর এবার ভোলার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও দ্রব্যমূল্যের তালিকা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমারা জেনেছি যে সিন্ডিকেটে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন ও বিভিন্ন যায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এখানে এসেছি যেন ভোলার কোথাও সিন্ডিকেট ও কোনো চাঁদাবাজি না হয়। আমরা এটা বন্ধ করবো। আর দ্রব্যমূলের দাম কতটুকু বেড়েছে বা কমেছে সেটা দেখে ভোক্তাদেরও সচেতন করবো।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীদের বাজার মনিটরিংয়ের প্রশংসা করে চকবাজার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সুমন বলেন, তাদের এই কাজকে স্বাগত জানাই। না খেয়ে তারা রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করছে। এই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় জীবন দিয়েছে তবুও তারা রাস্তা ছাড়েনি। রাস্তায় কোনো পুলিশ নেই, সরকার তাদের কোনো বেতন দিবে না তবুও তারা রাস্তা সামাল দিচ্ছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সারাদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও, যুব রেডক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, স্কাউটের সদস্য ও ফুল কুড়ি আসরের সদস্যরা ভোলার সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ড. আমানুর আমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ই-মেইলযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

এর আগে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। ২০২১ সালের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ড. মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের মেয়াদ। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারের মেয়াদ শেষ হতো ২০২৫ সালে। সরকারের পতনের কারণে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তায় থাকতে চাননি বিধায় পদত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।




আহতদের দেখতে ঢামেকে ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধাধীন রোগীদের দেখতে এসেছিলেন অন্তর্বতিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার পর তিনি তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

হাসাপাতালে প্রবেশ করে তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। পরে ১০টা ৪৩ মিনিটে বেরিয়ে যান। তবে ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে শপথ নেন ড. ইউনূস। রাত ৮টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যরা শপথগ্রহণের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৯টায় করা হয়।

তার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথগ্রহণ করতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন শান্তিতে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 




ঢাকার বাইরে থাকায় শপথ নেননি ৩ উপদেষ্টা




ড. ইউনুসকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

এরআগে রাত ৯টা ২০ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ পাঠ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩ উপদেষ্টা।

মোদি একইসঙ্গে বাংলাদেশে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছেন এবং হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর পরপরই মোদি লিখেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমার শুভকামনা। আমরা হিন্দু ও অন্যান্য সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা করি। শান্তি, নিরাপত্তা এবং আমাদের উভয় দেশের জনগণের উন্নয়নের যৌথ আকাঙ্খা পূরণে ভারত বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 




পটুয়াখালীতে সহিংস প্রতিরোধ কমিটি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতে সৃষ্ট সহিংসতা এড়াতে প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টির নেতৃত্বে এ প্রতিরোধ কমিটি গঠন হয়েছে।

জেলা-উপজেলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিএনপির নেতৃত্বে প্রতিরোধ কমিটি কাজ করছে বলে জানান জেলা যুবদল নেতা গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লব।

গত কয়েক দিন নিরাপত্তা জটিলতার কারণে জেলা পুলিশ কর্মবিরতি দায়িত্ব পালন করছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ জানমাল নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্কে ভুগছে। জেলা-উপজেলাগুলোতে ঘটছে সহিংসতা ও দুর্বৃত্তায়ন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য বাহার উদ্দিন, যুবদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা যুবদল দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল-আল নোমান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক এইচএম ইয়াকুব, জেলা ছাত্রদল সাবেক সাংগঠনিক গাজী সানী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপর একটি সুবিদাবাদী মহল প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে ব্যক্তিগত এবং নানা ইস্যুতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দেশের সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী আতঙ্কে রয়েছে। এসব আতঙ্ক রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে জেলা শহর-উপজেলা এবং গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি নিজ খরচে দিনরাত নিরাপত্তার নিশ্চিত করেছে। মন্দিরগুলোতে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া অব্যাহত রেখেছি। যার ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীতে এখন পর্যন্ত কোনো সংখ্যালঘুদের ধর্মশালায় কোনো সহিংসতা ঘটেনি।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার স্বৈরশাসনে সাধারণ মানুষ অবরুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ ছিল। ফলে চলমান পরিস্থিতিতে খানিকটা বিশৃঙ্খলা এবং সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে মানুষের জানমাল নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া পটুয়াখালীতে আমরা সম্প্রীতি বজায় রেখেছি। ভবিষ্যতেও এ সম্প্রীতি বজায় থাকবে।




দ্রুত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হবে: আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে স্বৈরাচার তো পতন হয়েছে এখন অনেকগুলো রিফর্ম করতে হবে। রিফর্ম করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া। এর আগে প্রধান কাজ হচ্ছে ল এন্ড অর্ডার সিচুয়েশন ইম্প্রুভ করা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, যে সমস্ত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার বিচার করা। যারা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

 




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের পরিচয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের সবার নজর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে। স্বাভাবিকভাবেই জানতে ইচ্ছে করে এদের পরিচয়। পাঠকদের জন্য তাই এ আয়োজন :

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন সামাজিক উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক। তিনি ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্রবিত্ত ধারণার প্রবর্তনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

ড. ইউনূস অর্ধশতাধিকেরও বেশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননাও।

সালেহউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবম গভর্নর ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

ড. ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব ত্যাগের পর তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে।

এম সাখাওয়াত হোসেন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশি সামরিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও লেখক। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ছিলেন।

এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রিকায় কলাম লেখেন। তা ছাড়া, ২০টিরও অধিক বই লিখেছেন তিনি।

চাকরি ও নির্বাচন কমিশন থেকে অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গবেষণার কাজ করছেন। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকার কলামলিস্ট এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

আসিফ নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি একজন লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। টিভি টক-শো ও সাহসী কলামের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তিনি দশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আসিফ নজরুল বাংলাদেশি লেখক হুমায়ূন আহমেদের মেয়ে শীলা আহমেদকে বিয়ে করেন। তার প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।

হাসান আরিফ

ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি, এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হাসান আরিফ। তিনি একজন বাংলাদেশি আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

মো. তৌহিদ হোসেন

সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা মো. তৌহিদ হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার ছিলেন।

১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব ১৯৫৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একজন বাংলাদেশি আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী। তিনি পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এনজিও বেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রেন্ডস অফ আর্থ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য; এনভায়রনমেন্টাল ল’ এলায়েন্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং এনভায়রনমেন্টাল ল’ কমিশন অব দ্যা আইইউসিএনের সদস্য।

তিনি তার কাজের স্বীকৃতিসরূপ বেশকিছু খেতাব ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ, হিরোজ অফ এনভায়রনমেন্ট। এছাড়া তিনি ২০১২ সালে রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান। ২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পান।

শারমিন মুরশিদ

অধিকার ভিত্তিক সংগঠন ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে রয়েছেন শারমিন মুরশিদ। সংস্থাটি ২০০১ সাল থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিশেষ করে আদিবাসী জনগনের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে।

তিনি ড. ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফারুক-ই-আজম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টায় যুক্ত হচ্ছেন ফারুক-ই-আজম। তিনি হলেন নৌকমান্ডো ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’। চট্টগ্রাম বন্দরে আক্রমণের জন্য গঠিত ওই অভিযানিক দলের উপ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

আদিলুর রহমান খান

আদিলুর রহমান খান একজন মানবাধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশের একজন আইনজীবী এবং সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন তিনি।

সুপ্রদীপ চাকমা

নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১৬ উপদেষ্টার মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্তব্যরত রয়েছেন। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সুপ্রদীপ চাকমার জন্ম ১৯৬১ সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সুপ্রদীপ চাকমা বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি সপ্তম বিসিএসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সুপ্রদীপ চাকমা।

ফরিদা আখতার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার একজন লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী।

ফরিদা আখতারের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন তিনি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের মারাত্মক কুফল ও নারী স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিকার আন্দোলের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত ফরিদা আখতার। তিনি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বর্তমানে তিনি উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) এর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও গাছ, কৈজুরী গ্রামের নারী ও গাছের কথা।

নবীন-প্রবীণে অন্তর্বর্তী সরকার, কার কী পরিচয়

মশিউর রহমান (জারিফ)

মশিউর রহমান (জারিফ)
৮ আগস্ট ২০২৪, ২১:১৭
422Shares
facebook sharing button
অ+
অ-
নবীন-প্রবীণে অন্তর্বর্তী সরকার, কার কী পরিচয়



শপথ নিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও ১৩ উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান।শপথ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩ উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার  বঙ্গভবনে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

তিনজন উপদেষ্টা ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। তারা হলেন— ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক), সুপ্রদীপ চাকমা, বিধান রঞ্জন রায়।

আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে টায় শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বঙ্গভবনে পৌঁছান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ সদস্যের নাম

প্রধান উপদেষ্টা : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

উপদেষ্টা:

উপদেষ্টা:

১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ

২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

৩. ড. আসিফ নজরুল

৪. হাসান আরিফ

৫. তৌহিদ হোসেন

৬. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

৭. শারমিন মুরশিদ

৮. ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক)

৯. আদিলুর রহমান খান

১০. সুপ্রদীপ চাকমা

১১. ফরিদা আখতার

১২. বিধান রঞ্জন রায়

১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান

১৪. নুরজাহান বেগম

১৫. মো. নাহিদ ইসলাম

১৬. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

এর আগে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইউনূসকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।




অচিরেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করবে: বরিশালের ডিসি

বরিশাল অফিস :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে বরিশালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, বরিশালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সবাই কাজ করছে। তারপরও কিছু ঘটানো হচ্ছে বা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আশা করি সেগুলোও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

আর অন্তরবর্তী সরকার গঠনের পর আমরা সেখান থেকে দিক নির্দেশনা পাব। আর সেই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার পর অচিরেই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

জনজীবন এখন অনেকটাই স্বাভাবিক, আর তখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার বাহিনীর কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থাকলে পুলিশ বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।

সভায় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের বক্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশাসনের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

এসময় তারা দুর্বৃত্ত যারাই হোক না কেন তাদের প্রতিহত করে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানান।

সভায় উপস্থিতির উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কমান্ডিং অফিসার আল আমিন বলেন, আপনারা দল-মত নির্বিশেষে মিলিত হয়ে প্রতিটি মহল্লায় কমিটি গঠন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করলে আমাদের কাজ আরও অনেক সহজ হবে।

এছাড়া সভায় কোটা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এদিকে একই ধরনের সভা বরিশালের ১০টি উপজেলা করেছে উপজেলা প্রশাসন।