রাঙ্গাবালীতে কারামুক্ত ২ শিবির নেতাদের সংবর্ধনা দিলো জামায়াত-শিবির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আটক হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গাবালী উপজেলার সাবেক অফিস সম্পাদক মো: নাঈম ইসলাম ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো: আবরার হোসাইন নবীন কারামুক্ত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ কবির হুসাইনের নেতৃত্বে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কারামুক্ত শিবিরের দুই নেতাকে স্বাগত জানাতে কোড়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট জমায়েত হন। পরে তারা কারামুক্তদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।

কারামুক্ত শিবিরের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো: আবরার হোসাইন নবীন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মোস্তফার ছেলে এবং সাবেক অফিস সম্পাদক মো: নাঈম ইসলাম একই ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ কবির হুসাইন বলেন, ‘পতন হওয়া স্বৈরাচারিদের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছে আমাদের দুই শিবির সৈনিক। তাদের এই মুক্তিতে আমরা আনন্দিত। তাই তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বুধবার (৭ আগষ্ট) নারাণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাত পৌনে ১১টায় মুক্ত হয় বলে জানান তারা।




বরিশালে কাজে ফিরছে পুলিশ

বরিশাল অফিস :: পুলিশের মনে যে আতঙ্ক তা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। যোগ দিতে শুরু করেছে থানায়। তবে দায়িত্বরত পুলিশের সংখ্যা কম দেখা গেছে। থানায় ও বাহিরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় মাঠে নামার কথা জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি জানান।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা থানার থানায় অবস্থান নিয়েছেন। যে কোন বিষয়ে জনগণকে সহায়তা করা হচ্ছে। নাগরিকরা তার যেকোন অভিযোগ থানায় এসে দিতে পারে। সবার সম্মিলিত সহায়তায় চলমান সংকট দ্রুতই কেটে যাবে আশা পুলিশের।

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা জানায়, তারা আগেও কাজে ছিলেন, এখনো আছেন। ধীরে ধীরে আরও বাড়বে।




যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূ‌সের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদের মো: মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছে।

আসিফ মাহমুদ ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে বেরিয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে দলটি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সামাজিকমাধ্যমে বেশ সরব দেখা গেছে আসিফ মাহমুদকে। বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে আন্দোলনকারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

পুরো নাম আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র সমন্বয়ক থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা’ হয়েছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মো. বিল্লাল হোসেন ও মাতার নাম রোকসানা বেগম। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 




২৭ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ড. ইউনূ‌সের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ ২৭ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়গুলো হলো- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয, খাদ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।




নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা ব্যাহত

বরিশাল অফিস :: চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় প্রধান ভরসা নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। সিজারসহ অন্যান্য অপারেশনের জন্য রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ব্যয়বহুল খরচে প্রাইভেট ক্লিনিক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব রোগীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।

নলছিটি উপজেলার এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল। এ উপজেলা থেকে জেলা সদরে আসতে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়। দিনে ভোগান্তি নিয়ে রোগী আনা-নেওয়া করা হলেও রাতে জেলা সদরে আসার কোনো ব্যবস্থা নেই। নলছিটি থেকে বরিশালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে যেতেও অনেক খরচ ও সময় লেগে যায়।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজনরা জানান, চিকিৎসক না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ক্লিনিক বা বরিশাল হাসপাতালে ছুটতে হয়। এতে খরচ হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এছাড়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিউলি পারভীন বলেন, হাসপাতালে সব ধরনের ভালো সেবা আছে। এসব ধরে রাখতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক দরকার। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ। মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে এতগুলো বিভাগ চালানো কষ্টকর। এ থেকেও তিনজন চলে যাবেন, তাহলে খুব সমস্যায় পড়তে হবে। আশা করি দ্রুত এর সমাধান হবে।




আ’লীগের চার প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ধ্বংসস্তূপ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরে প্রথম ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মিত হয় ২০০৫ সালে ব্রাউন কম্পাউন্ড সড়কে। তখনকার সময়ে নগরে সবচেয়ে সুরম্য অট্টালিকাটির নাম দেওয়া হয় ‘বীরউত্তম ভবন’। বাড়িটিকে ঘোষণা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলনকেন্দ্র হিসেবে।

তবে এ ভবনে মাঝেমধ্যে শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা এসে বাস করতেন। তিনি হলেন এ অট্টালিকার মালিক ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি।

বছর তিনেক আগে নগরের বগুড়া সড়কে আরেকটি ডুপ্লেক্স নির্মাণ করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু। দুটি অট্টালিকাই এখন পোড়া বাড়ি। ক্ষুব্ধ জনতা তাতে আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করেছে।

এই দুই নেতার নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠি। এলাকায় গেলে তারা রাতযাপন করতেন এই বাড়িতে।

নগরীতে আওয়ামী লীগের আরও দুই নেতার বাসভবন পোড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে। তবে তাদের বাড়ি আমু ও ওমরের মতো দৃষ্টিনন্দন ছিল না। কালীবাড়ি সড়কে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বাড়িটি বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। অপরদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগে হাসানাত বিরোধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল নগরের নবগ্রাম সড়কে সদ্য সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের ‘বেগম ভিলা’।

এর মধ্যে ৩টি বাড়ি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং জাহিদ ফারুকের বাড়িটি আন্দোলন চলাকালেই বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। উৎসুক জনতা ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসছেন।

বীরউত্তম ভবন ::

বুধবার দুপুরে বাড়িটির সামনে গেলে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখা যায়। বাড়িটির ঠিক বিপরীত দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর। ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের ধ্বংসযজ্ঞ অনুমান করা যায়। ৩ তলা ডুপ্লেক্সে একটি গ্লাসও অবশিষ্ট নেই। সর্বত্র ভাঙচুর ও আগুনে পোড়ার চিহ্ন। পোড়া আসবাবপত্র এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভবনের বাইরে।

বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক জালাল আহমেদ দাবি করেন, দশ বছর আগে এ বাড়িটিতে চাকরি করেছেন। এখন করেন না। তবে চলাফেরা ও বাড়ির দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে বোঝা গেছে তিনিই দেখভালের দায়িত্বে আছেন। জালাল ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে তালা ভেঙে ভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

আমুর বাড়ি ::

দেশের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন গ্রুপের মালিকের বাড়ি বরিশাল নগরের বগুড়া সড়কে। গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান ও তাঁর সহোদররা এবং আমু আপন খালাতো ভাই। জানা গেছে, এ বাড়ির দুইশ গজ দূরে অপসো স্যালাইন নামক প্রতিষ্ঠানটি ছিল আমুর পৈতৃক নিবাস। ছাত্র রাজনীতির জীবনে তিনি এ বাড়িতেই থেকেছেন। পৈতৃক ভিটিতে কয়েক দশক আগে অপসো স্যালাইন নির্মিত হলে আমু বরিশালে এলে সবুর খানদের বাড়িতে উঠতেন।

বছর তিনেক আগে বাড়ির সামনে সুরম্য ডুপ্লেক্স করেন আমু। নান্দনিক সৌন্দর্যে সাজানো হয় ভবনের ভেতর-বাইর। কিছুটা আড়ালে থাকা বাড়িটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পথচারীরা উঁকিঝুঁকি দিতেন। সোমবার বিকেলে এ আগুন দেয় ক্ষুব্ধ জনতা।

বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটক শেকল দিয়ে তালা লাগানো। নিরাপত্তাকর্মী ফজলু জানান, মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনী এসে বাড়িটিতে তালা মেরেছে। ফটকের সামনে দাঁড়ানো স্থানীয় এক নারী জানান, সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অচেনা মুখের কিশোর-যুবকরা এসে বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে গেছে।

সেরনিয়াবাত ভবন ::

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বাড়ি থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে আওয়ামী লীগের পুরো জেলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের একাংশ নিয়ন্ত্রিত হতো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাড়িটিকে অনেকে বরিশালের ৩২ নম্বর বাড়িও বলতেন।

সোমবার বিকেলে বিক্ষুব্ধদের দেওয়া আগুনে তিনতলা বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন দেওয়া হলে রাত ৯টা পর্যন্ত জ্বলতে দেখা গেছে। বাড়ির সামনের ৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। দমকল কর্মীরা রাতে বাড়ির তিনতলা থেকে ৩ জনের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে। তার মধ্যে ২ জন সাদিক অনুসারী আওয়ামী লীগ কর্মী এবং একজন গৃহকর্মী বলে জানা গেছে। বুধবার ওই বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা মারা দেখা গেছে। সংলগ্ন সড়কের ব্যবসায়ীদের কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি।

বেগম ভিলা ::
নবগ্রাম সড়কের বেগম ভিলা নামের বাড়িটি জাহিদ ফারুক শামীম নির্মাণ করেন এক বছর আগে। পাঁচতলা ভবনটি থেকে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম চলত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দফা হামলা চালায় জাহিদ ফারুকের বাড়িতে। নিচতলায় দেওয়া আগুন তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। বাসায় থাকা কমপক্ষে ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।




বাফুফে থেকে সালাম মুর্শেদীর পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছাড়লেন আব্দুস সালাম মুর্শেদী। বৃহস্পতিবার (৮ আগষ্ট) রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সালাম মুর্শেদীর পদত্যাগের কথা জানিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিবৃতিতে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে ছিলেন মুর্শেদী।

এছাড়া দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ফিন্যান্স কমিটি ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি; ওই দুটি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার।

কিছু দিন আগে আর্থিক কেলেংকারির দায়ে ফিফা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয় বাফুফের একাধিক কর্মকর্তাকে। সবশেষ গত মে মাসে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এথিকস কমিটি ১০ হাজার সুইস ফ্র্যাঁ জরিমানা করে মুর্শেদীকেও।

দেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর ক্রীড়াঙ্গনেও উঠতে শুরু করেছে পরিবর্তনের দাবি। কদিন আগে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগের দাবি করে সংস্থাটির ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ‘বাংলাদেশ ফুটবল আল্ট্রাস’ ফ্যান গ্রুপ।

এই ডামাডোলের মধ্যে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছাড়লেন মুর্শেদী।

 




বরগুনায় ট্রলার ডুবি ভাসমান অবস্থায় ১১ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ এক

বরিশাল অফিস :: বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বরগুনার নলী এলাকার মো: মধু মিয়ার মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া নামের একটি ট্রলার ১২ জেলেকে নিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১১ জেলে উদ্ধার হলেও ইলিয়াস (৫০) নামের এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, সকাল ১০টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ ইলিয়াস বরগুনা সদর উপজেলার নলী এলাকার বাসিন্দা। এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত তার বাবার নাম জানা যায়নি এবং উদ্ধার জেলেদের বাড়ি বরগুনার জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ট্রলার মালিক মধু মিয়ার বরাত দিয়ে জানান, গত রোববার বিকেলে পাথরঘাটা মৎস্য ঘাট থেকে রসদ সামগ্রীসহ ১২ জন জেলেকে নিয়ে মাছ শিকারের জন্য সমুদ্রে যান। হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে পরে। সাগরে জাল ফেলে মাছ শিকারের জন্য অপেক্ষা করলে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। উল্টে যাওয়া ট্রলারের ১১ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় অন্য একটি ট্রলারে উদ্ধার করে ঘাটে নিলেও ইলিয়াস নামের এক জেলেকে খুঁজে পায়নি তারা।

তিনি আরো জানান, ‘উদ্ধার হওয়া জেলেদের মহিপুর নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক হলে জেলেদের বাড়িতে পাঠানো হবে এবং সাগর উত্তাল থাকায় নিখোঁজ জেলের সন্ধানে কোনো ট্রলার পাঠানো যাচ্ছে না।

ট্রলারের মালিক মধু মিয়া আরো জানান, ‘২৫ লাখ টাকা খরচ করে নতুন নির্মাণ করেছেন ট্রলারটি। তার সকল সম্পদ এর পিছনে ব্যয় করে সাগরে পাঠিয়েছেন। তিনি এখন ‘আমি নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানান।

কোস্টগার্ডের দক্ষিণ স্টেশন কমান্ডার লে. শাকিব মেহবুব জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনাটি আপনার মাধ্যমেই জেনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ বিষয়টি জানায়নি। যেহেতু পাথরঘাটা থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ট্রলার ডুবেছে, যা চট্টগ্রাম জোনের আওতায়। হেড অফিসে জানাচ্ছি। তারা জেলেকে উদ্ধারের জন্য ব্যাবস্থা নিবেন।

 




টিভিতে দেখুন আজকের খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:

প্যারিস অলিম্পিক
লাইভ ইভেন্ট
সকাল ১১-৩০ মিনিট, এমটিভি ও স্পোর্টস ১৮-১

ক্রিকেট
গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি
ব্রাম্পটন-মন্ট্রিয়ল
রাত ৯টা, টি স্পোর্টস

মিসিসাগা-টরন্টো
রাত ২টা, টি স্পোর্টস

দ্য হানড্রেড
লন্ডন স্পিরিট–ম্যানচেস্টার অরিজিনালস
রাত ১১-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস টেন ৫

ফুটবল

ডুরান্ড কাপ
ভারতীয় নৌবাহিনী-ইন্টার কাশী
বিকেল ৪-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস টেন ২

নর্থইস্ট ইউনাইটেড-বিএসএফ
সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস টেন ২




দেশের প্রথম আলেম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন যা বললেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আলেম উপদেষ্টা।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালিদ হোসেন বলেন, আমরা একটি ক্রান্তিকাল পেরিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময় আমাদের মূল কাজ শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও বজায় রাখা। মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে তা নিরসন করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন আমরা সুস্থ প্রতিনিধিত্বশীল নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারি। মানুষের মধ্যে যেন স্বস্তি ফিরে আসে প্রথমে এ নিয়ে আমরা কাজ করব। বাকি কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে করব।

আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামি অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয়। তার মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন।

সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত খালিদ হোসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত তাওহিদের সম্পাদক, বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

এ ছাড়া তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং নেজামে ইসলাম পার্টির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বিশ্ব মুসলীম লীগের মুখপাত্র দ্য ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ জার্নালসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার দুই শতাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে খালিদ হোসেনের শিক্ষাজীবন শুরু। এখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে সাতকানিয়া আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ১৯৭৩ সালে ফাজিল পাস করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম চন্দনপুরা দারুল উলুমে হাদিস অধ্যয়ন করেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে এমএ পাশ করেন। পরে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খুতবা : একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’র ওপর পিএইচডি করেন খালিদ হোসেন।