পিরোজপুরে নৌকায় ভেসে সবজির হাট, প্রাণ ফিরে এলো নদীতে

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া নদীতে ভেসে বেচাকেনার ঐতিহ্যবাহী হাট জমে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই নদী-খালের তীরে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিক্রেতারা নৌকায় পণ্যের পসরা সাজান, ক্রেতারা নৌকা থেকে নৌকায় ঘুরে দর কষেন ও কেনাকাটা করেন। দিনের আলো প্রখর হওয়ার আগেই দিনের কেনাবেচা শেষ করে সবাই ফিরে যান। স্থানীয়ভাবে এই বাজারকে ‘ভাসমান হাট’ বলা হয়।

তথ্য মতে, স্বাধীনতার আগে দক্ষিণাঞ্চলের নদী-খাল-বিল এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সীমিত থাকায় নৌকায় ভাসমান হাটের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে এসব হাট জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। বর্ষার মৌসুমে ভাসমান হাটগুলো সবচেয়ে জমজমাট হয়। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এবং ঝালকাঠি সদরের ভীমরুলি হাট পর্যটন খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটক, সরকারি কর্মকর্তারা এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা এই হাট দেখতে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান হাট কমপক্ষে ২০০ বছর আগে শুরু হয়। নাজিরপুরের বেলুয়া নদীর সবজিসহ কৃষিপণের হাটও শতবর্ষের ইতিহাসের ধারক। এছাড়া পিরোজপুর-ঝালকাঠির বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে ভাসমান হাট রয়েছে। স্বরূপকাঠি, ঝালকাঠি ও বানারীপাড়া উপজেলায় ফলের বাগানও রয়েছে। বিশেষ করে পেয়ারা ও আমড়া বাগান এই অঞ্চলকে পরিচিত করেছে।

ভাসমান হাটে পেয়ারা ও আমড়া মৌসুমে প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার লাখ লাখ টাকার পাইকারি লেনদেন হয়। পাইকাররা সারাদেশে সরবরাহ করেন। আটঘর হাটে কৃষকরা নৌকা কিনে নিয়ে যান। ভাসমান হাটের এই অনন্য বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংস্কৃতি এখানে দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে।

পর্যটকরা নৌকায় ঘুরে ঘুরে বাগানের সৌন্দর্য ও ফলের বেচাকেনা উপভোগ করেন। বিশেষ করে ভীমরুলি বাজারে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতরা পিরোজপুরের এই ভাসমান হাট দেখতে আগ্রহী। এই বাজার ও বাগানগুলো স্থানীয় ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনার একটি চমৎকার উদাহরণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 ঐক্যবদ্ধ না হলে গুপ্ত স্বৈরাচার দেখা দিতে পারে:তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকে, আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের উদ্ভব ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “একটি কথা, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই আমাদের শুরু, এটাই আমাদের শেষ। সবার আগে বাংলাদেশ।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “বক্তব্য অনেক হয়েছে। এখন আমাদের কাজ করতে হবে। সম্মেলনের শ্লোগান হোক – ঐক্য, জনগণ এবং পুনর্গঠন। নেতাকর্মীরা হাজার হাজার জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করছেন। কেউ জেলে গেছেন, কেউ গুম হয়েছেন। স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখনই সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে। সকলকে মিলে সুন্দর ঘর গঠন করতে হবে এবং জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।”

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন।

কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনের ১০টি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ১০৭টি ইউনিয়ন এবং ৯৯৯টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বর্তমান আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমনকে সভাপতি ও সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধর্ম-বর্ণ ভুলে সবাইকে একযোগে কাজের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবাইকে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে মিলিত হয়ে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।

ড. ইউনূস শনিবার একটি বাণীতে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সকল অশুভ, অন্যায় ও অন্ধকারকে পরাজিত করে শুভ চেতনার জয় হবে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে কল্যাণ ও সমৃদ্ধির পথে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সৃষ্টিকর্তার কাছে এ প্রার্থনা করি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু ধর্মমতে, দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে এসে ভক্তদের কল্যাণ সাধন করেন, শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরকে আরাধনা করার এই উৎসবের তাৎপর্য বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন তৈরি করেছে।

ড. ইউনূস বলেন, “সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাংলাদেশকে শান্তি, মৈত্রী ও সমৃদ্ধির দেশে পরিণত করতে পারে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের দূর্গাপূজা সারাদেশে নির্বিঘ্নে, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপিত হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাকে সমুন্নত রাখবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ছালাম চান পুরুষ নির্যাতনের বিচার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের ষাটোর্ধ্ব ব্যবসায়ী ছালাম আকন এখন পুরুষ নির্যাতনের সঠিক বিচার দাবি করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৪০ বছর বয়সী এক নারী রেহেনা বেগম কৌশলে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে তার সম্পত্তি ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

ছালাম আকন জানান, তিনি পার্শ্ববর্তী লেবুখালী এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার মুদি দোকানে নিয়মিত বাজার করতেন রেহেনা। পরিচয় গড়ে ওঠার পর রেহেনা কৌশলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সরকারের অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নিয়ে তার বিয়ে করেন।

দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও শীঘ্রই রেহেনা দুধলমৌ গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় তাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন এবং নানা ছলনা চালিয়ে তার নামে ২৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার জমি ক্রয় করেন। এছাড়া ঘরের আলমারিতে রাখা ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে রাখা অর্থও রেহেনা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও করেছেন ছালাম। বর্তমানে তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ছালাম আকন জানিয়েছেন, তিনি বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং এই মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তিনি চান আত্মসাত করা টাকা ফেরত পেতে এবং পুরুষ নির্যাতনের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে রেহেনা বেগম জানান, বিয়ে আদালতের মাধ্যমে হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করেছেন। তিনি বলেন, “আমার জানা মতে ছালাম আমাকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন, বাকি বিষয়ে আমার কোনও জ্ঞান নেই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ১ আসামী কারাগারে

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২৬ সেপ্টেম্বর এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের ঘটনায় রাতেই থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

  • আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্বসুজনকাঠী গ্রামের ওই গৃহবধূ ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে পশ্চিমসুজনকাঠী গ্রামে বেড়াতে যান।
  • রাত ১টার দিকে ঘরের বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিন যুবক তাকে মুখ চেপে ধরেন এবং পাশের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
  • ধর্ষণ শেষে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিৎকার শুনে ঘরে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করেন।

মামলার তথ্য:

  • মামলা দায়েরের তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • মামলা নং: ১২(২৬-৯-২০২৫)
  • আসামীরা: নাবিল সরদার (২০), মো. ফয়সাল বেপারী (২৬), অজ্ঞাত নামা এক ব্যক্তি

পুলিশ ও আদালতের ব্যবস্থা:

  • শনিবার পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামী মো. ফয়সাল বেপারী কে উপজেলার ফুল্লশ্রীর বাইপাস সড়কের চৌরাস্তা থেকে গ্রেফতার করে।
  • তাকে আদালতে হাজির করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
  • প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তা সুশংকর মল্লিক জানিয়েছেন, ধর্ষণ মামলার তল্লাশি ও তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সকল আসামীর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোটের মাঠে সরগরম ঝালকাঠি, ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছোটাছুটি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঘোষিত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা সমর্থন চাইছেন। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন, ফলে নির্বাচনী মাঠে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জেলার দুটি আসনেই বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী জেলার সব আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঝালকাঠি-২ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন চাইবেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন: ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নিউইয়র্ক দক্ষিণ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন। এছাড়া সদ্য যোগ দেওয়া নতুন সদস্য কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও দলের সদস্য ড. ফয়জুল হক মনোনয়ন চান।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী: জেলা কমিটির কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন।

ঝালকাঠি-২ (জেলা সদর ও নলছিটি):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা আল গাজী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাবেক সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর।
জামায়াতে ইসলামী: ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
এবি পার্টি: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

মাঠে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হওয়ার কারণে ভোটপ্রচারের গতিপ্রকৃতি গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক তীব্র। নির্বাচনী পদচারণা ও জনসংযোগে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠিতে গৃহবধূকে হত্যার পর সাড়ে ৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরৎকাঠি গ্রামে গৃহবধূ সুখি বেগমকে (৪০) শ্বাসরোধে হত্যার পর নগদ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত সুখি বেগম স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী মনির হাওলাদারের স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোরে মনির হাওলাদার দুই ছেলেকে নিয়ে দোকানে যান। সকালে বাড়ির অন্যরা সুখি বেগমের কোনো সাড়া না পেয়ে ডাকাডাকি করেন। পরে স্বামী এসে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তিনি স্ত্রীর নিথর দেহ খাটে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আলমিরার ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। মনির হাওলাদারের দাবি, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা লুট হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাদায় হেঁটে স্কুল, ভোগান্তিতে বরগুনার ‘জেলখানা’ গ্রামের মানুষ

বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলখানা গ্রামে নেই কোনো স্থায়ী রাস্তা-ঘাট। চারদিকে খরস্রোতা পায়রা নদী আর ভাঙাচোরা কাঁচা সড়কে ঘেরা গ্রামটি আজও উন্নয়ন বঞ্চিত। ফলে গ্রামবাসীর জীবন যেন প্রকৃত কারাগারের বন্দিদের মতো কষ্টকর।

২০০৩ সালে প্রায় এক কিলোমিটার ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হলেও তা আজ খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষায় কাদাজলে ডুবে যায় গ্রাম। শিশুরা কাদামাখা পোশাকে স্কুলে যায়। অসুস্থ হলে রোগীকে কখনো ভ্যানে, আবার কখনো বাঁশে চেয়ার বেঁধে হাসপাতালে নিতে হয়। বড় বিপদে পড়লে ভোগান্তির শেষ থাকে না।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সোনালী স্বপ্ন যুব সংসদ জেলখানা চৌমুহনী বাজারে মানববন্ধন করে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাফেজ আল-আমীন এতে সভাপতিত্ব করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে, তখনো জেলখানা গ্রামের মানুষ রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বঞ্চিত। সংগঠনের সভাপতি মো. রাজীব ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এলেও তা প্রভাবশালী কিছু মানুষের পকেটে চলে যায়। ফলে বছরের পর বছর অবহেলা আর বঞ্চনার মধ্যে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

গ্রামের মানুষ মনে করেন, শুধু নামেই নয়—বাস্তব জীবনেও জেলখানা একটি কারাগার। তারা অবিলম্বে স্থায়ী রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নেটওয়ার্ক সুবিধাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভারতের কারাগারে বন্দি ১৯ জেলে, ভোলায় হতাশায় ডুবে পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে ভারতে চলে যাওয়া ভোলার ১৯ জেলে এখন বন্দি রয়েছেন neighboring দেশের কারাগারে। তাদের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর অশ্রুসিক্ত প্রতীক্ষায়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের শান্তিরহাট খাল এলাকা থেকে সফিজল ব্যাপারীর নেতৃত্বে একটি ফিশিংবোটে ১৯ জন জেলে মাছ শিকারে বের হন। ঝড়ের কবলে পড়ে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে দিক হারিয়ে তারা ভারত সীমান্তে ঢুকে পড়েন। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে কোস্টাল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তারা সবাই ভারতের কারাগারে বন্দি।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলো। ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াংকা দাস কাঁদতে কাঁদতে বলে, “বাবা বলেছিল পূজার জন্য নতুন জামা কিনে দেবে। কিন্তু বাবা তো এখনো আসেনি।” তার বাবা রাজীব চন্দ্র দাসও বন্দিদের একজন।

রাজীবের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস জানান, সংসার চালাতে স্বামী মাছ ধরার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করতেন। এখন তিনি বন্দি হওয়ায় পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। দুই মেয়ে নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

ফিশিংবোটের মালিক সফিজল ব্যাপারীর স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, তার স্বামীসহ সব জেলেই গরিব। ধার-দেনা করে বোটটি তৈরি করেছিলেন তিনি। এখন স্বামী বন্দি হওয়ায় দেনা শোধ করা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ভারতের একটি স্থানীয় সংবাদপোর্টালের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে। ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে এবং প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছে। ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত পরিবারগুলোর পাশে থাকতে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে বন্দি জেলেদের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়বে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিন নদীর মোহনায় অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে ‘নিদ্রার চর’

বরগুনার তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরের নয়নাভিরাম নিদ্রার চর সৈকত এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। সবুজ কেওড়া–ঝাউবন, খাঁজকাটা বেলাভূমি আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এ স্থানকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ছে প্রতিদিনই।

পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলনমোহনায় গড়ে ওঠা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতটি শীতকালে হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। চারপাশে টেংরাগিরি ইকোপার্ক আর শুভসন্ধ্যা সৈকতের অবস্থান নিদ্রার চরকে দিয়েছে বাড়তি আবেদন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এই সৈকতের রূপ দেখতে।

তবে পর্যটকদের অভিযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় এখানে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা সীমিত। নেই পর্যাপ্ত হোটেল, মানসম্মত খাবার কিংবা নিরাপদ শৌচাগার। স্থানীয় উদ্যোক্তারা স্বেচ্ছাশ্রমে সৈকত পরিষ্কার রাখা, গাইড দেওয়া ও অস্থায়ী তাঁবুতে রাতযাপনের ব্যবস্থা করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, ‘‘নিদ্রার চর শুধু বরগুনা নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গর্বের স্থান হতে পারে। এখানে পর্যটন বোর্ড বা প্রশাসনের স্বীকৃতি পেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’’

ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক উন্নয়ন ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ শুরু হয়েছে। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানান, ধাপে ধাপে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে, যাতে পর্যটকেরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

বিশ্ব পর্যটন দিবসে (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশেষজ্ঞদের মত, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে নিদ্রার চর হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমীরা একে বলছেন—এক অনাবিষ্কৃত কবিতার পঙ্‌ক্তি, যেখানে প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত রচনা করে নতুন এক রূপকথা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫