শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বঙ্গভবনে দুপুর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
এসময় তিন বাহিনী প্রধানসহ উপদেষ্টাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বঙ্গভবনে দুপুর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
এসময় তিন বাহিনী প্রধানসহ উপদেষ্টাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এমন অবস্থায় সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছ। এই সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, এই সপ্তাহে সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস রয়েছে। তবে কোথাও কম কোথাও বেশি। কিছু কিছু জেলায় কোনো কোনো দিন বৃষ্টিশূন্য থাকতে পারে।
রোববার (১১ আগস্ট) আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে তিনি বলেন, আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবারের পূর্বাভাসে তিনি বলেন, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র চলছিল। কথা ছিল—হবে জুডিশিয়াল ক্যু। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। এই জুডিশিয়াল ক্যুয়ের পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে যান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা। তাদের দেওয়া তথ্য পেয়ে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১০ আগস্ট) এমন কথা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে পোস্টটি করেন সহসমন্বয়ক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ।
‘ষড়যন্ত্র ফাঁস’ শিরোনামে তিনি তার টাইমলাইনে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো—
সজীব ওয়াজেদ জয় এতদিন আপনাদের সঙ্গে ‘আমি নাই, মা নাই’ বলে বলে হঠাৎ শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন তার মা পদত্যাগ করেননি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘোষণা ছিল যা বোঝা গেছে আজ।
সেনাবাহিনীর নিচের দিকের অফিসাররা যদি জনগণের পক্ষে না থাকত, তাহলে আজকে আরেকটা রক্তের বন্যা বয়ে যেত। আজকেও সেনাবাহিনীর ছোট অফিসাররা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে ছাত্র জনতাকে বাঁচিয়েছেন।
আজকে একটা ক্যুয়ের প্ল্যান করেছিল জয় এবং আরাফাত। কিন্তু সঠিক সময়ে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা ছাত্রদের কাছে তথ্য ফাঁস করে দেয়। এই তথ্য জানার পরে জুডিশিয়াল ক্যু রুখে দেয় ছাত্ররা।
জয় আরাফাত আর তাদের গাইডদের গোপন প্ল্যান ছিল এইরকম। ড. মোহাম্মদ ইউনুস যখন রংপুরে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শন এবং কবর জিয়ারতের জন্য যাবেন এবং তারপর উনার হেলিকপ্টার যখন আকাশে থাকবে, ঠিক সেই সময়ে হাইকোর্টের অ্যাপিলিয়েড ডিভিশনের বিচারপতিরা ফুল কোর্ট বসিয়ে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করবেন।
সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যুয়ের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনীর ২৫ কর্মকর্তা, চাকরি থেকে কর্মবিরতিতে থাকা দুর্নীতিবাজ পুলিশের একটি দল রাজধানীতে হট্টগোল শুরু করবে আর শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা মাঠে চলে আসবেন।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বিচারপতি সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ ৫৭ বিচারপতিকে জরুরি মিটিংয়ে ডাকেন। স্ক্রলে জরুরি মিটিং ডাকার সংবাদ দেখে দর্শকরাও কনফিউজড হন। কিন্তু আগে থেকে গোপন খবর পাওয়া ছাত্র জনতা সকাল ৯টার আগেই চতুর্দিক থেকে ছুটে এসে হাইকোর্ট ঘেরাও করে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধান বিচারপতি পিছু হটতে বাধ্য হন এবং পালিয়ে থাকেন। মিটিং স্থগিত হয়। ছাত্ররা বিচারপতির বাসা ঘেরাও করে রাখে। সেনাবাহিনী শৃংখলা রক্ষার আবরণে সেখানে ছিল। পদত্যাগপত্র সরকারকে দেওয়া হয়েছে নিশ্চিত হয়ে ছাত্ররা হাইকোর্ট এবং বাসভবন ত্যাগ করে।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
এ বিষয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। আজ দুপুরে বঙ্গভবনে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।
তাকে এ পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মোঃ গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ছেলে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এম এ ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।
১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম সৈয়দ রেফাত আহমেদের। তিনি ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, ভারত, পাকিস্তান, আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল সহ পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দেশ ছেড়ে পালানোর হিড়িক পড়েছে। কেউ দেশ ছাড়ছেন একা, কেউ আবার সপরিবারে।
সংবাদ মাধ্যম যুগান্তর আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনেকে ভয়ে দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শুধু মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালীই নয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও ভয়ে আত্মগোপনে গেছেন।
এই তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় গত ১৪ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ২৭ দিনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৯০ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতা। এছাড়া বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে অন্তত ১০ জন মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীদের।
বিমানবন্দরে এসেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফিরে গেছেন কমপক্ষে ২৫ জন মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা। শাহজালাল বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে সরকার পতনের একদিন পর থেকে ৬ আগস্ট শাহজালালসহ দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট একাধিক তালিকা পাঠানো হয়। এই তালিকায় হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা কমিটির নেতাদের নামও রয়েছে।
এছাড়া হাসিনা সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের এমপি, সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দলবাজ কর্মকর্তাদের নামও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। কিন্তু ওইদিন দেশ ছাড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ইমিগ্রেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সোমবার দুপুরে। তার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা, আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রী।
রোববার রাতেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে। তিনি সদ্য সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রোববার সকালে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন শেখ হাসিনার আত্মীয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
আন্দোলনের শুরু থেকেই নানা তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সকাল থেকে তাকে দেখা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তিনিও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসভবন সোমবার ভাঙচুর করা হয়। তবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন জানা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।
সোমবার সারাদিন রাজধানীর বনানীর বাসায় অবস্থান করলেও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এদিন রাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।
ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।
পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।
এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।
ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।
পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।
এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।
এছাড়া ১৬ জুলাই বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৩) দুবাই চলে যান সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি মুজিবুল হক। ওইদিন বেলা ১২টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বিজি-৩০৮ ফ্লাইটে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।
বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে বিমানের বিজি-৩১৫ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যান সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় দেশ ছাড়েন নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ১৭ জুলাই রাত আড়াইটায় ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সে (সিএক্স-৬৬২) হংকং যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফায়জুর রহমান।
একই তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিজেড-৩৯১) চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর পালান ময়মনসিংহ-৮ আসনের মাহমুদুল হাসান সুমন।
১৮ জুলাই সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৪ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে যান সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এএফএম রুহুল হক।
বিসিবির প্রেসিডেন্ট, ক্রীড়ামন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি নাজমুল হাসান পাপন গত ২০ জুলাই বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সে (ইএল-১৯০) দেশ ছাড়েন।
২১ আগস্ট রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেশ ছাড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি সৈয়দ একেএম একরামুজ্জামন, ২২ আগস্ট বিজি ৫৮৪ যোগে সিঙ্গাপুর যান নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ২৫ জুলাই বেলা ১২টা ১০ মিনিটে ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি এ এম তাহের। ওইদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ব্যাংককে যান ময়মনসিংহ-৭ আসনের এবিএম আনিসুজ্জামান। বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের নীলুফার আনজুম।
সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডা পালান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খান। ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সে (কিউআর-৬৪৩) গ্রিসে পালান কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ।
সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ২৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে ইকে-৫৮৭ ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। ৩ আগস্ট দেশ ছাড়েন ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
৪ আগস্ট এমিরেটাস এয়ারলাইন্স ইকে ৫৮৫ যোগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সাবেক এমপি নুর ই হাসনা চৌধুরী লিলির পরিবারের একজন সদস্য দুবাই যান। একইদিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ হাবিব হাসানের মেয়ে বিজি ৫৮৪ যোগে দেশ ছাড়েন।
৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর স্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের মেয়ে ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।
আলোচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী ২৮ জুলাই ২টায় এমিরেটাস এয়ারে (ইকে-৫৮৫) নেদারল্যান্ডসে যান। তিনি আবার ৩ আগস্ট ফেরত আসেন। ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় তাকে আটক করা হয় বলে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় ইউএস-বাংলার বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যান কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।
২৯ জুলাই বেলা ১১টা ১০ মিনিটে এমিরেটাসে (ইকে-৫৮৩) তেহরান যান সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ওইদিন বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে নভোএয়ারে কলকাতা যান যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ। একইদিন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে বিমানের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটে মদিনা যান বরগুনা-৫ আসনের মো. মজিবুর রহমান মজনু।
৩০ জুলাই ২টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন পটুয়াখালী-৩ আসনের এসএম শাহাজাদা। ৩১ জুলাই বেলা ২টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৫) নিউইয়র্ক যান ঢাকা-১৮ আসনের খসরু চৌধুরী।
এদিন দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে দিল্লি পাড়ি দেন শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক। একইদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিএস-৩৯২) চীনের গুয়াংজু যান কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন।
২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে টার্কিশ এয়ারের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল যান ঝিনাইদহ-২ আসনের নাসের শাহরিয়ার জাহিদী। এদিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে (বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে) সিঙ্গাপুর যান সংরক্ষিত মহিলা আসনের পারুল আক্তার।
একইদিনে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৫৮৪) সিঙ্গাপুর যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। ৪ আগস্ট বেলা ১২টায় বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৩৯৭) ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক সচিব নেত্রকোনা-৪ আসনের সাজ্জাদুল হাসান।
৫ আগস্ট রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর গেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। একইদিন রাত ২টা ৩৫ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) মালয়েশিয়া যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এদের মধ্যে কয়েকজন দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও জানা গেছে সরকার পতনের পর তাদের অনেকে আর ফিরে আসেননি।
এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কোনোভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, এদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশ ত্যাগ করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলেও জানা গেছে।
৬ আগস্ট বিকালে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক করা হয়।
দেশ ছেড়ে পালানোর পাশাপাশি আত্মগোপনে চলে গেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ প্রভাবশালী নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীরা। অনেকেই চেষ্টাও করছেন দেশ ত্যাগের। দলের সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও গা-ঢাকা দিয়েছেন। সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। হামলা-মামলার ভয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।
সর্বশেষ ৪ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশেই মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেশে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টাও করেছিলেন তারা। সোমবার সকাল থেকে পালটে যায় দৃশ্যপট। ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দিন সকাল থেকে দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান।
শুধু তাই নয়, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলার কার্যালয় ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও দলের কাউকে তা প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত শতাধিক মন্ত্রী, এমপি ও নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। অনেকেই নিজে যেতে না পারলেও পাঠিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের।
সূত্রে জানা গেছে, এখনো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-মন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা সপরিবারে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পালানোর জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েও ছাত্র-জনতার দৌড়ানি খেয়ে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় দফা কলকাতা যাওয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
এদিকে দলীয় প্রধান, দলের শীর্ষ নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীদের দেশ ছাড়া ও আত্মগোপনের বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: মাঠপর্যায়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে পুলিশ বাহিনী। গত দেড় দশকে এ বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক নতুন পদ সৃজন ও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশে মোট ৮৩ হাজার ৭০টি নতুন পদ সৃজন করা হয়। কিন্তু এ দেড় দশকে শুধু কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জনকে, যা মোট পুলিশ সদস্যের প্রায় অর্ধেক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের এ নিয়োগের বড় অংশই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,আমাদের ক্ষমতাসীনদের একটি বড় সমস্যা হলো তারা ক্ষমতা ছাড়তে চান না; ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চান। গত দেড় দশকে এ ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং অর্থ লোপাট করতে গিয়ে পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ইনস্টিটিউশনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। পুলিশের এ বড় নিয়োগের পেছনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য মুখ্য ছিল এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে তারা জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’
জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত দেড় দশকে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তন নিয়ে গত নভেম্বরে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ৯২৫ জন কনস্টেবল, ১১ হাজার ৫১০ জন এসআই ও ২ হাজার ৪৮৪ জন পুলিশ সার্জেন্টকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর। তাদের মধ্যে এসআই ও সার্জেন্ট পদে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে। এ মেয়াদে এসআই পদে ৪ হাজার ৯০৮ জন এবং সার্জেন্ট পদে ৭২৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া ২০০৯-২০১৩ সময়কালে এসআই পদে ৩ হাজার ৭৫১ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৪-২০১৮ সময়কালে এসআই পদে ২ হাজার ৮৪৫ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
এ দেড় দশকে দেশে ৬৪টি নতুন থানা, ৯৭টি তথ্যকেন্দ্র ও একটি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। এছাড়া দেড় দশকে পুলিশের জন্য মোট ২ হাজার ৭৬০টি পিকআপ, ৫২৪টি জিপ, ৩৫৪টি ট্রাক, ১৩টি এপিসি, ১৭৮টি জলযান এবং ৭ হাজার ৬৩৪টি মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্রও আধুনিকায়ন হয়েছে।
বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও একাধিকবার উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তবে সর্বশেষ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলির ঘটনা জনরোষ তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশের বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুও ঘটেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট একদিনে সারা দেশে ৪৫০টিরও বেশি থানা আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে ৪ আগস্টেই মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জন পুলিশ সদস্যের। আহত হয়েছিল তিন শতাধিক। এসব ঘটনার জেরে পুলিশকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়াসহ ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যান নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা। ফলে দেশের সব থানাসহ ট্রাফিক পয়েন্টগুলো কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়।
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরো আগেই চলে গিয়েছিল। দেখা যেত মানুষ তখনই পুলিশের কাছে যেত, যখন তার আর উপায় থাকত না। কিন্তু তখনো দেখা যেত যে ভুক্তভোগী পুলিশের সহায়তা পাচ্ছে না, বরং অপরাধীকেই পুলিশ রক্ষা করছে। ফলে মানুষ পুলিশের ওপর আরো আগেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। গত কয়েক দিনে আমরা পুলিশের প্রতি জনগণের যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখালাম, তা একসময় ঘটতই। ছাত্র-জনতার আন্দোলন থামাতে পুলিশ যেভাবে দলীয় নির্দেশে কাজ করেছে, গুলি চালিয়েছে, তার জেরে এটা আমরা এখন দেখতে পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, তবে পুলিশ হত্যা বা থানায় ছাত্ররা আগুন দিয়েছে বলে মনে করি না। কারণ তারা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিচার চেয়েছিল। এ সহিংসতা হয়তো কোনো সুযোগসন্ধানী মহল করেছে। তবে আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কাজে ফেরাতে হবে। যে ছাত্ররা কোটা সংস্কার থেকে রাষ্ট্র সংস্কারে আন্দোলন করছে, তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে, বাকিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, সব পুলিশই অপরাধী নয়, যারা হুকুম পালন করেছে এবং যারা হুকুম দিয়েছে তাদের উভয়েরই বিচার করতে হবে। আর পুলিশসহ সব ইনস্টিটিউটে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, যেন ইনস্টিটিউটগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে জনকল্যাণে কাজ করে। এ পরিবর্তন একদিনে আসবে না। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে।’
দেশজুড়ে পুলিশের ওপর হামলার জেরে ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতি ঘোষণা দেন পুলিশ সদস্যরা। দেশের সব থানাসহ ট্রাফিক পয়েন্টগুলো কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে। ৭ আগস্ট পুলিশ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এ সময় পুলিশের অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় গতকাল দেশের বিভিন্ন থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ সংকট নিরসনে পুলিশকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবং সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে জনগণের আস্থা অর্জনে। পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে সাবেক আইজিপি মুহম্মদ নূরুল হুদা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুলিশকে পুনর্গঠন করতে হবে, তবে পুনর্গঠন সহজ বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং ব্যাপক আলোচনার বিষয়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে সামনে আসতে হবে। জনসম্মুখে আসতে হবে। তাদের কাজে ফিরতে হবে।’
পুলিশের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ যা করেছে, তা নিঃসন্দেহে অমার্জনীয়। সেটার জন্য যারা সবচেয়ে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে অনুসন্ধানের আগেই জনগণ যদি পুলিশকে মেরে ফেলে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেড় দশকে এত পুলিশ অবশ্যই রাজনৈতিক কারণেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার মন্ত্রণালয়ে যাব, সেখানে পুলিশ নিয়ে কথা হবে। পুলিশকে কীভাবে রাজনীতিমুক্তভাবে পরিচালিত করা যায়, নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কীভাবে আরো স্বচ্ছ করা যায়, যেসব পুলিশ মারা গেছে, তাদেরকে ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেয়া যায়, এসব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কতদিন থাকতে পারব। তবে যতদিন থাকব, পুলিশে সংস্কারে কাজ করে যাব। পুলিশে কীভাবে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। আমি চাই, পুলিশকে এমনভাবে সংস্কার করতে, যেন পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। এ ধরনের কিছু মেকানিজম আমরা তৈরির চেষ্টা করব। পুলিশকে কতখানি জনবান্ধব করা যায়, পুলিশের ভেতর দুর্নীতি কতখানি কমানো যায়, সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের পুলিশিং ব্যবস্থা দেখব। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, পুলিশ কিন্তু মানব প্রজাতিরই অংশ। তারা প্রযুক্তি নয় যে, কোথায় সমস্যা আছে, তা নির্ধারণ করে একদিনেই সমাধান করে ফেলা যাবে। এটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

চন্দ্রদ্বীপ লাইফস্টাইল :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার।
অতিরিক্ত ওজন দেহের জন্য কখনই মঙ্গল বয়ে আনে না। অসংক্রামক অনেক রোগের জন্য বাড়তি ওজন দায়ী। অস্বাস্থ্যকর বিভিন্ন খাবার সহ প্রসেস ফুড খাওয়ার অভ্যাস দিন দিন দেহের ওজন বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ সহ নানা অসংক্রামক ব্যাধি বেড়েই চলছে।
তবে অনেকেই ওজন কমাতে চায় ঠিকই, কিন্তু খাওয়ার সময় সেটা মনে থাকে না। ফলে ওজনও কমে না। তবে নিয়মিত পেট ভরে খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। এজন্য দিনে অন্তত একবার সালাদ খেতে হবে।
কম ফ্যাট, কম ক্যালোরি এবং পানিযুক্ত সবজি ও ফল যেমন ক্যাপসিকাম, লেটুস পাতা, শসা, টমেটো, মুলা, গাজর, পেঁয়াজ, তরমুজ, আঙ্গুর, আম, স্ট্রবেরি দিয়ে সালাদ খেতে পারেন। কারণ সালাদ ফাইবারের ভালো উৎস, এতে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত সালাদ খেয়ে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু মজাদার সালাদের রেসিপি যা ওজন কমাতে সাহায্য করবে:
ডিমের সালাদ
যা লাগছে

ডিমের সাদা অংশ ( ২টি ডিম),সবুজ আপেল: ১টা,টমেটো: ২টো,অলিভ অয়েল: ১ চামচ, লবণ পরিমাণমতো, গোলমরিচ গুঁড়া
যেভাবে বানাবেন
ডিম, আপেল, টমেটো চৌকো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। লেটুস পাতা দিতে পারেন। সেই সঙ্গে সিজনিং করুন অলিভ অয়েল, লবণ আর গোলমরিচের গুঁড়াতে। প্রতিদিন সকালে একবাটি করে খেলে ওজন কমবেই।
চিকেন-বুট সালাদ
অনেকের দুপুরবেলা বেশি খাওয়া হয়ে যায়। যার ফলে ওজন কমার বদলে বাড়তে থাকে। তাদের জন্য রইল দুপুর বেলার এক সুস্বাদু সালাদ। এই সালাদ ভোজনরসিকদের মনকে শান্ত রাখবে এবং পাশাপাশি ওজনও কমাবে।
যা লাগছে
মুরগির সেদ্ধ হাড় ছাড়া মাংস ২৫ গ্রাম, ফ্যাট ছাড়া দই ২ টেবিল চামচ (টক মিষ্টি দই ব্যবহার করতে পারেন), ১ টি শসা, ১ কাপ ছোলা বুট সেদ্ধ, লেটুস, ১০/১৫ টি আঙুর লবণ, সামান্য লবণ এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল।
যেভাবে বানাবেন
ছোলাবুট সারারাত ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নিন। মুরগির সেদ্ধ মাংস ছোট ছোট টুকরা করে নিন। শসা কেটে নিন কিউব করে। এরপর সব উপকরণ একসাথে দই এবং অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে নিন। দুপুরে ভারী খাবার বাদ দিয়ে এই সালাদটি খান ওজন কমবে।
সবজি সালাদ
যা লাগছে
গাজর: ২টি, মুলা: ১টি, ক্ষীরা/ শসা: ২টি , টমেটো: ৪টি, ক্যাপসিকাম (ঐচ্ছিক): ১টি, পেঁয়াজ পাতা বা পেঁয়াজকলি: ১ আঁটি, লেটুস পাতা: ৬টি
যেভাবে বানাবেন ::
সব সবজি ধুয়ে রাখুন। গাজর খোসা ছাড়িয়ে ৬ সে.মি. লম্বা ফালি করুন। মুলা খোসাসহ গোল চাক করে কাটুন। ক্ষীরা খোসা ছাড়িয়ে লম্বা ফালি করুন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম লম্বা টুকরো করুন। পেঁয়াজ পাতার পেঁয়াজের পাতলা খোসা ছাড়ান। পেঁয়াজসহ পেঁয়াজ পাতা লম্বা রেখে আগা কেটে ফেলুন। কচি এবং ছোট আকারের লেটুস পাতা নিন। আয়তাকার স্বচ্ছ কাচের পাত্রে সবজিগুলো রং মিলিয়ে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।বিশেষ করে শেখ হাসিনার সময়ের হত্যাকাণ্ডের জন্য।
শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) কেন বাংলাদেশ থেকে পালালেন তা জানতে আমি কিউরিয়াস। শেখ হাসিনার সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আমরা সেসবের বিচার চাইব। এটা আমাদের অন্যতম দাবি। যদি তিনি ফিরে না আসেন, তাহলে আমরা সে ব্যাপারে কাজ করব।’
অন্তর্বর্তী সরকারে অংশ নেওয়া নাহিদ বলেন, ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে চাই। তার বিচারের ইস্যুতে আলোচনা চলছে। ’
নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রধিকার হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। কারণ আগের নির্বাচন বিরোধীদলগুলো বয়কট করেছিল। তাছাড়া আগের সরকারের দুর্নীতির বিচারের কথাও বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ছাত্রজনতার বিক্ষোভের মুখে গত সোমবার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। সেখান থেকে তার লন্ডনে যাওয়ার কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘শান্তি ফিরে আসুক তোমার-আমার এই ভালোবাসার ভুবনে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বাংলাদেশে যারা কার্যভার গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা রইল। আশা করি, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নতি, শান্তি, প্রগতি ও সর্বস্তরের মানুষের আরো ভালো হোক, এ কামনা করি। ওখানকার ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, মহিলা থেকে শুরু করে সকলের প্রতি আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।’
এছাড়া খুব শিগগিরই সংকট কেটে শান্তি ফিরে আসবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানো তথা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সব রেঞ্জ ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার এবং সব মহানগর পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাদের সরানোর পর সেখানে কাদের নিয়োগ করা হবে সেই তালিকাও করা হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রধান হিসেবে আছেন তাদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে মাইনুল হাসানকে নতুন কমিশনার বানানো হয়েছে। অন্যান্য মহানগর পুলিশ কমিশনার পদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে যেসব কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তাদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়া হবে। তাদের রেখে পুলিশে পুনর্গঠন কাজ ঠিকমতো করা যাবে না বলে পুলিশের আইজিকে জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের কথা বলছেন।
বিভিন্ন দাবি আদায়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভ করছেন। এই বিক্ষোভের পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কোনো কোনো কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে ইতোমধ্যে সরকারের কাছে তথ্য এসেছে। যে কারণে এ সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশের সব রেঞ্জ ডিআইজি, সব মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।