পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়র সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি করেন এবং মামলাটির অনুলিপি পটুয়াখালীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।

মামলায় হারুন অর রশিদের কাছ থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত নগদ ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার মার্কিন ডলার, ৪৮ দশমিক ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং বেশ কিছু চেক বই–দলিল উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

হারুন অর রশিদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাউজিং এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে হারুন-অর-রশিদ গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ২৮তম বিসিএসের কর্মকর্তা।

মামলার আরজিতে বলা হয়, দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ৮ আগস্ট বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হারুন অর রশিদ বরিশালের হাতেম আলী চৌরাস্তা পার হচ্ছিলেন। গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটক করেন। এ সময় প্রকৌশলীর স্ত্রী সালমা আক্তার, ছেলে আশফাক অর রশিদ ও মেয়ে সানজিদা রশিদ ওই গাড়িতে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা গাড়িটিতে তল্লাশি করে নগদ টাকা, ডলার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেন। এসব সম্পদের সঠিক উৎস সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবগত করলে তাঁরা জব্দ মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বরিশাল কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই জিডির আলোকে পটুয়াখালীতে দুদক মামলাটি করেছে।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি জানান, দুদক এই মামলা তদন্ত করে খুব শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে।




কাঁটাতারে ঘেরা ধানমন্ডি ৩২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এখন সুনসান নীরবতা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই এলাকার আশপাশে অবস্থান নিয়েছে ছাত্র-জনতা। মূল সড়ক থেকে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পর্যন্ত সড়ক এখন ফাঁকা। নেই জনমানব। পুরো এলাকা রয়েছে কাঁটাতারে ঘেরা।বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি আগে থেকে ঘোষণা করা হলেও এদিন সকাল থেকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে এখানে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী ফুল দিতে আসলেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।




ওয়াসার এমডি : ৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ছিলেন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। অবশেষে গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) তার পদত্যাগের খবর দিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। অত্যন্ত সমালোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি থাকার তথ্যকে এর আগে তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা সময় অনিয়ম-দুর্নীতি ও বির্তক লেগেই ছিল। কিন্তু তারপরও তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এমডি পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে অনুরোধ করে এই পদে রেখেছে সরকার।

সংবাদ মাধ্যম যুগান্তরে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ বলা হয়, তাকসিম এ খানের সময়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এতে রাজধানীবাসীর পানি ও পয়ঃসেবার দাম বেড়েছে। বৈদেশিক সহায়তানির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে এই সংস্থাটি প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্যপরিষদের নেতারা।

তাদের মতে, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের সঞ্চালন লাইন নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের নিুমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৬০০ কোটি টাকা, পানি ও পয়ঃবিলের ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ৬২১ কোটি টাকা।

তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতাড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় বলে তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে যা খুশি তাই করেছেন। অন্যায়ভাবে অনেককে চাকরিচ্যুত করেছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দিলেও অনেককে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দেননি। কয়েকদিন ধরে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। জনরোষে পড়ার ভয়ে নিজ বাসায় না থেকে তিনি এখন হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে অনলাইনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ মে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রকৌশলী তাকসিমের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখেছিলাম। মন্ত্রণালয় তার তদন্ত না করে উপরন্তু চার দিনের মাথায় আমাকে সরিয়ে দেয়। দুর্নীতির টাকার জোরে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করেছেন। পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলী তাকসিমের সময়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে; তা খুবই পরিষ্কার। পদ্মা (যশলদিয়া), দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে সঠিক তদন্ত করলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এছাড়া আরও যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোও সরকার তদন্ত করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একবার তদন্ত শুরু করে রহস্যজনক কারণে থেমে যায়। মন্ত্রণালয়কে তিনি নিজ হাতের পুতুলে পরিণত করেছেন।

তিনি জানান, এখন পরিবর্তিত সময়; মন্ত্রণালয় বা দুদক চাইলে সঠিক তদন্ত করতে পারবে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা ওয়াসা থেকে এই জগদ্দল পাথরকে না সরালে রাজধানীবাসীকে পানি ও পয়ঃসেবা পেতে বহুগুণ বেশি অর্থ গুনতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই নগর সংস্থাটি আরও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টদের তার দুর্নীতির বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানাব। জনরোষের ভয়ে তিনি এখন বাসায় না থেকে পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন বলে জানতে পেরেছি।

ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ বিগত সময়ে ঢাকা ওয়াসায় সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি হিসাব কষেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী-প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প নির্মাণে নিুমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। এছাড়া এ প্রকল্পের নেটওয়ার্ক না করে মূল প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় সেখান থেকে কোনো সুফল মিলছে না। এতে সেখানে কোনো বাসা-বাড়ির বর্জ্য যেমন শোধন করা যাচ্ছে না, তেমনি কোনো রাজস্বও আদায় হচ্ছে না।

শোধনাগারের প্ল্যান্ট চালু রাখতে হাতিরঝিলের ময়লা পানি সেখানে নিয়ে শোধন করা হচ্ছে। এতে ঢাকা ওয়াসার বছরে গচ্চা যাচ্ছে ৫১২ কোটি টাকা; ২০২৭ সালে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলে বছরে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা। ২ বছর আগে প্রকল্প চালু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সঞ্চালন লাইন (নেটওয়ার্ক) প্রকল্প প্রস্তাব করেনি। এই মুহূর্তে সঞ্চালন লাইনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও বাস্তবায়নে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। ততদিনে পয়ঃশোধনাগারের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়বে।

একই চিত্র পদ্মা-যশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পেও। মূল সঞ্চালন লাইনে নির্মাণে নিুমানের পানি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আত্মসাৎ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে সরবরাহ লাইন তৈরি না করে প্রকল্প চালু করায় দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেকেরও কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ঢাকা ওয়াসার গচ্চা গেছে ১৪২ কোটি টাকা। আর ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় চলতি অর্থবছর থেকে গচ্চা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে; ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসার ফান্ডে টাকা থাকলেও বহস্যজনক কারণে এই প্রকল্পের সরবরাহ রাইন করা হচ্ছে না।

ঐক্যপরিষদের নেতাদের হিসাব মতে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ওয়াসার ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা খোয়া গেছে। পানির দাম ও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, বিলিং পদ্ধতি ডিজিটাইজেশন হওয়ার পরও সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তদের চুরি, অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে সংস্থা বঞ্চিত হচ্ছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে সংস্থার সিস্টেম লস ছিল ৩৪.৮২ শতাংশ এবং বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৮২ শতাংশ; অথচ ঢাকা ওয়াসার বর্তমান প্রশাসন দাবি করছে ঢাকা ওয়াসার সিস্টেম লস ২০ শতাংশ।

তারা বলেন, সমবায় আইন অমান্য করে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি থেকে ৬২১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়া সমিতির মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তার আনুমানিক মূল্যও প্রায় শতকোটি টাকা। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সমবায় অধিদপ্তরের তদন্তে ৩৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা লোপাটের প্রতিবেদন এসেছে। এরপর বাকি টাকা লোপাট হয়েছে। প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের ছত্রছায়ায় দুর্নীতি হওয়ায় তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তারা জানান, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের ১৫ বছরে রাজধানীবাসীকে ন্যূনতম সেবা না দিয়ে অর্থ আদায়েরও নানা উদাহরণ রয়েছে। নগরীতে পয়ঃসেবা না থাকলেও বছরে এ খাতে নগরবাসীর কাছ থেকে ৪০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার এমডির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৪ সালে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ৭০ শতাংশ এবং ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে ৩০ শতাংশ পানি উৎপাদনের ঘোষণা ছিল। বাস্তবে তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। এখনো ঢাকা ওয়াসার মোটর পানির ৭৬ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে।

আর ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৪ শতাংশ।

তারা আরও জানান, ঢাকা ওয়াসায় পদোন্নতিতে তার সময়ে জ্যেষ্ঠতা মানা হয়নি। অবৈধ অর্থের লেনদেন পাকাপোক্ত করতে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের আর্থিকভাবে লাভবান করার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। তার সময়ে অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। লোপাট নির্বিঘ্ন করতে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের সময়ে ঢাকা ওয়াসায় ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তার একটি হিসাবও আমরা করেছি। সেটা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার কাছে আগামীকাল জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পানি ও পয়ঃবিলে টাকা থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি করেছে। এতে করে প্রকল্পগুলো রুগ্ণ হয়ে পড়েছে। যেখানে এখন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ঢাকা ওয়াসাকে। বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে সংস্থাকে। এই দুর্নীতিবাজ এমডিকে আমরা আর চাই না।

তিনি জানান, জনরোষের ভয়ে প্রকৌশলী তাকসিম বাসা ছেড়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছে বলে জানতে পেরেছি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাব, সে যেখানে থাকুক সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ে অফিসে না এলেও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জুমে মিটিং করছে বলে শোনা গেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াজদানী বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের অন্যায় নির্দেশ না মানায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়। উচ্চ আদালত ২০২৩ সালের ১০ জুন তা বাতিল করলেও তাকে তিনি কাজে যোগদান করতে দেননি।

তিনি বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির শত শত প্রমাণ রয়েছে। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ জানাব সেসব অনুসন্ধান করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে। আর তিনি যাতে কোনোভাবে পালিয়ে যেতে না পারেন সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখার অনুরোধ জানাব। তিনি আমেরিকার পাসপোর্টধারী, তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকেন, যে কোনো সময় তিনি পালিয়েও যেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১৪টি বাড়ি আছে বিতর্কিত তাকসিম এ খানের। গত বছরের জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর এক দিন পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম-দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ির বিষয়ে কথা বলেন তাকসিম এ খান।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তার ১৪টি বাড়ির যে খবর পত্রিকায় বেরিয়েছে, সেটা সর্বৈব মিথ্যা। যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচটি বাড়িতে আমার পরিবার সেখানে বিভিন্ন সময় ভাড়া থেকেছেন। আর একটি বাড়ি আমার স্ত্রীর নামে। আমি, আমার স্ত্রী, সন্তান সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

দুদকের তদন্ত নিয়ে তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসার ভালো কাজ দেখে যাদের ক্ষতি হয়, তারাই এমন অভিযোগ করেন। আমি জীবনে হারাম পয়সা খাইনি। খাব না।

গত বছর তাকসিমসহ ওয়াসার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ) তাকসিম এ খানের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করে চিঠি দেয়। এর মধ্যেই গত সোমবার ‘ওয়াসার তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সব বাড়ির দাম টাকার অঙ্কে হাজার কোটি ছাড়াবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি কেনার অর্থের উৎস ও লেনদেন প্রক্রিয়ার তথ্য তালাশে নেমেছে ইন্টারপোলসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থে একের পর এক বাড়ি কেনার ঘটনায় দেশটির গোয়েন্দা তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকসিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঢাকা ওয়াসার এই এমডির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তাকসিম যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি করে বাড়ি করেছেন কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বাড়ি ও অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে বলে যে খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেটা স্টান্টবাজি। আমার স্ত্রী-সন্তান সেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত, তাই সেখানে একটি বাড়ি কেনায় খুব অসুবিধার কিছু নেই। আমার স্ত্রীর নামে ওই একটা বাড়ি আছে। সেটাকে বাড়ি বলা যাবে না, এটা একটা অ্যাপার্টমেন্ট।… বিভিন্ন সময় আমাকে নিয়ে এমন নানান রিপোর্ট এসেছে কিন্তু এগুলো সব মিথ্যা, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এগুলো পুরোটাই অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা ওয়াসা থেকে অনৈতিক সুবিধা পায়নি বা পাচ্ছে না, তারাই মূলত এসব করিয়ে থাকে।’

দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি কেনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি সেখান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকেই ওয়াসায় চাকরি করতে এসেছি। এমন নয় যে, এখানে চাকরি করে আমার সম্পদ ওখানে গড়েছি। আমার স্ত্রী সেখানে সরকারি চাকরি করেন। আমার সন্তানও সেখানে খুব ভালোমানের চাকরি করে। আমি যে ইনকাম করি, তা থেকে ওদের কিছুই দিতে হয় না। তারা ওখানে অনেক ভালো আছে; যে কারণে আমার স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে রিপোর্টে যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি অসত্য। এর মধ্যে ৫টি বাসার যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে আমার পরিবার বিভিন্ন সময় ভাড়া থেকেছে। কিন্তু মিথ্যা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে দেওয়া হলো। আমার ছেলেও একসময় সেখানে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল, কিন্তু তা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে অভিভাবক হিসেবে আমার নাম আছে। এই নামগুলো ইন্টারনেট থেকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন করা হয়েছে।’

ওই প্রতিবেদনে বাড়ির যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও কথা বলেন তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, ‘একটা বিল্ডিংয়ে ১০-১৫টা অ্যাপার্টমেন্ট থাকে। সেই অ্যাপার্টমেন্টগুলার বর্তমান বাজার দর কত সেটাও আপনারা ওয়েবসাইট থেকে পাবেন। ১০২টা বেডরুমওয়ালা কোনো বাসা হয় না, আবার ১০২টা বাথরুমওয়ালা কোনো বাসা হয় না। যেগুলো হয় সেগুলা প্রেসেডিয়েনশিয়াল… যেগুলো আমাদের আলোচনার মধ্যেও নাই। সাধারণত আমেরিকায় এমন কোনো বাসা থাকে না। অতএব এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, কাজেই এটার কোনো ভিত্তি নেই।’




আজ সকাল ১০টায় শাহবাগে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: খুনি শেখ হাসিনার বিচারসহ’ চার দফা দাবিতে ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১০টায় রাজধানী শাহবাগে মোড়ে জমায়েত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।

বুধবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার প্রেরিত এক বার্তায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট ঘিরে ‘ক্যু’ হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা পিলখানা হত্যা, ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডব, শাপলা চত্বরে রাতের অন্ধকারে আলেম ও মাদরাসা ছাত্র হত্যা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করাসহ কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হাসিনার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। রাজশাহীর তিনটি পয়েন্টে তালাইমারী, রেলগেট এবং সিএন্ডবি মোড়ে জড়ো হবেন ছাত্রজনতা। সেখান থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি পালিত হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, তারা বুধবার রাত থেকে ধানমন্ডি ৩২ ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীল পরিবেশ অস্বাভাবিক গতিবিধি যেন না হয়, সেজন্য পাহারায় থাকবেন। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোটিল ইনস্টিটিউট অব আইটিসহ ধানমন্ডির আশেপাশের সকল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তারা ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আওয়ামী সরকারের সময়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হত, দিনটি সরকারি ছুটি ছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীসভা এই ছুটি বাতিল করেছে।

কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে এখনও প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এজন্য গত তিনদিন থেকে মাঠে রয়েছেন তারা। গত সোমবার তারা ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিনই তারা সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।




আজ বঙ্গবন্ধুর ৪৯তম শাহাদতবার্ষিকী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আজ ১৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল।

এ জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগিনীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগিনা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই মর্মান্তিত ঘটনার ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে পালানোর পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে। এবার সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচিও থাকছে না দিনটিতে।

তবে ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার কর্মসূচি রয়েছে আওয়ামী লীগের। এছাড়াও বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও নিহত অন্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। ১৫ আগস্টের কর্মসূচি সফল করার জন্য কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে প্রচারও চালাচ্ছেন তারা।

এদিকে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় শান্তিশৃঙ্খলভাবে শোক দিবস পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।




ছাত্র আন্দোলনে হত্যার তদন্ত করবে জাতিসংঘ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় শিগগিরই তদন্ত শুরু করবে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের বরাত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার বিষয়ে তদন্তের জন্য খুব শিগগির জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি তদন্ত শুরু করা হবে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল তদন্ত শুরু করতে শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।’

বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এ কথা বলেন। অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায় ফলকার টুর্ককে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।




সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলককে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ




পটুয়াখালী সদর উপজেলার আইনশৃংঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্ম্পকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রতিতে এখন অবদি জেলার কোথাও কোন ধরনের বিশৃংখলার খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগনের বন্ধু সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা জনগনের সেবায় সেনাবাহিনী মাঠে আছে।

পটুয়াখালীতে আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেবুখালী সেনানিবাসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল মোহসীন এসব কথা বলেন।

আজ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে সদর উপজেলার আইন শৃংখলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবুল আলম এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেজর সাব্বির, পুলিশ সুপার আবদুস সালাম, জেলা জামাতের নায়েবে আমির এডভোকেট নাজমুল আহসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র অন্দোলনের তোফাজ্জেল হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ শামিম চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া আহম্মেদ প্রমুখ ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুল রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা জামাতের আমির অধ্যক্ষ মোঃ শাহআলম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্ট্রান ঐক্যপরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস, জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন ,জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হ্রদয় , সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, মো: জাকির হোসেন সহ ১৪টি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সহ সুশীল সমাজের নেতৃবুন্দ।

তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে ভাল থাকতে চাই, এ দেশে জনসাধারন যখন যেভাবে চেয়েছে সেভাবে দেশ পরিচালিত হয়েছে। যদি কখনো সেভাবে দেশ পারিচালিত না হয়, সেক্ষেত্রে জনসাধারন তাদের ভবিষৎ এর গতি প্রকৃতি নির্ধারন করে নিয়েছে। ইতিহাস বলে শাসকগোষ্টি যখন গনমানুষের কথা বুঝতে পারে নাই, তখন গনমানুষ নতুন করে নতুন দিক নিয়ে এসেছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ একরকম চাচ্ছে, ১০ভাগ অন্য ভাবে চাচ্ছে-এ ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ মানুষের কথাই শুনতে হবে। আমরা সকলে ভাল থাকতে চাই, শান্তিতে থাকতে চাই-এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে কর্নেল মোহসীন হোসেন বলেন, এদেশের ছাত্র ও যুব সমাজ একটি ভালো ভূমিকা রেখেছে-তারাই নেতৃত্বে ছিল শুরুতে, তাদের সাথে দেশের জনসাধারন মিশে গেছে যখন দেখেছে তাদের দাবী গুলি যৌক্তিক।

সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ দেশ সবার, এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে আলাদা করা ঠিক না, তারা আমাদের ভাই সবার অধিকার সমান। পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু হিসেবে কারও উপর কোন হামলা হয়েছে-এ ধরনের কোন অভিযোগ সেনা ক্যাম্পে আসে নাই। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই আপনারা কেন বিক্ষোভ মিছিল করছেন, মানববন্ধন করছেন, কেন করছেন? আক্রমন না হয়ে থাকলেও প্রতিদিন মিছিল করার পরিকল্পনা, একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন কারনটা কি? আপনাদের কোন ধরনের নিরাপত্তার হুমকী থেকে থাকলে আমাদের সেনাবাহিনীকে
জানান, আপনাদের নিরাপত্তার পুরোদায়িত্ব আমরা নেব। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই কিসের উস্কানীতে এগুলি আপনারা করছেন? কারা আপনাদের এগুলি করাচ্ছেন? আপনারা কোন খেলার গুটি হবেন না। এ এলাকার মানুষ অসম্প্রদায়িক, এখানে একজন আরেক জনকে দেখে রাখেন। এখানে সাধারন ছাত্রদের সাথে মাদরাসার ছাত্ররাও রয়েছে। আমি ছবি দেখেছি বেড়া দিয়ে রেখে নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে-
মন্দিরের পাশে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন। আমরা যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বলি, এর চেয়ে ভালো দৃশ্য আর কি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, একটি অশুভ গোষ্টি ১৪ ও ১৫ তারিখকে সামনে রেখে যদি কোন নিরাপত্তা বিঘিœত করতে চেষ্টা করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমরা সকলে মিলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ঠান সম্প্রদায়সহ সকল উপসানালয় নিরাপত্তার চাদরে রাখবো। আমরা সকলে মিলে সব সময় নজরে রাখবো, যাতে এগুলি ভাংচুর করে বা নিরাপত্তা বিঘিœত করে কোন ই্যসু তৈরী করতে না পারে, সেদিকে আমরা খেয়ালরাখবো।

তিনি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ বাহিনী একটি সংস্কারের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সংস্কারে পরে যে পুলিশ বাহিনী আসবে তা জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। কোন সংস্থাকে ঘৃনা করবেন না, পাপকে ঘৃনা করি পাপিকে নয়। পুলিশের নেতৃত্বে সমস্যা ছিল, তারা এখন কেউ নেই কিন্তু এলাকায় যারা অফিসার বা কনষ্টেবল হিসেবে আছেন তাদের সহযোগীতা করেন।আমি সব কয়টি থানায় গিয়েছি তাদের মধ্যে অনুশোচনা হয়েছ, তারা আমাকে বলেছেন তারা বাধ্য হয়েছেন ঐ কাজ গুলি করতে। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে, তারা নিশ্চয়ই আপনাদের আস্থার জায়গায় ফিরে আসতে পারবেন, জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের চালুকৃত কমিউনিটি পুলিশের সাথে ছাত্র সমন্বয়ক ও ভলান্টিায়রদের নিয়ে টিম গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সুমন গাজীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার পর পরই তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক রিমন শিকদার জানান, সকালে নিজ বাড়ি থেকে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সুমন গাজী। পথিমধ্যে আওয়ামী দলীয় কার্যালয়ের সামনে তার উপর হামলা করে দূর্বৃত্তরা।
তিনি বলেন, এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

হামলায় যুবদল নেতার ডান পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা আমার সামনে ঘটেনি। গায়েবি অভিযোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মেদ জানান, আমরা এ ধরনের সংবাদ পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।




পটুয়াখালীতে শহীদ হৃদয় তারুয়ার বাড়িতে পবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হৃদয় তারুয়ার বাড়িতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছে হৃদয় পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তারা, এ-সময় নগত অর্থ এবং পরিবারের একজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক বৃন্দু ও শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার নিয়ে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন হৃদয় তারুয়ার। সেখানে তিনি ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলতে তার মৃত্যু হয়। নিহত হৃদয় তারুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় তার বাড়ি।