ঝালকাঠিতে ওলামা লীগ ও যুবলীগের সাবেক দুই নেতা আটক

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ওলামা লীগ ও যুবলীগের সাবেক দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতের পৃথক অভিযানে উপজেলার দুটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উপজেলা ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন (৫৬) এবং ঝোড়খালী বাজার এলাকা থেকে পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহারাজ মল্লিক (৪৪)-কে আটক করা হয়।

আটক মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন উপজেলার মশাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় চিংড়াখালী সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অপরদিকে মহারাজ মল্লিক পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তিনি দীর্ঘদিন যুবলীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের মোহাম্মদ রায়হান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এলাকায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে বিটিআরসির নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে,  মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সেবা নিয়ে সবাইকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এতে বলা হয়, এনইআইআরসংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র বিটিআরসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।

বিভ্রান্তিকর কোনো লিংকের মাধ্যমে এনইআইআর সেবা গ্রহণে কোনো রকম ফি প্রদান করবেন না। বিনামূল্যে এনইআইআর সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম।

এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।




টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী আযম খানকে শোকজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে সারা দেশে । চলছে ভোটারদের মন জয়ের জন্য নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ।

এবার টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।একইভাবে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানকেও কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন।

অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪১. ৯৩৮৫.০০০.০৪.০০৩.২৫.১১৬৪ মূলে গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বারের নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামী নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেবে।’

এ ছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।




নারীর শ্রমে ঘুরছে বরগুনার প্রান্তিক অর্থনীতি

কৃষি, মৎস্য ও তাঁতশিল্পে প্রান্তিক নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদলাতে শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার অর্থনৈতিক চিত্র। সংসারের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠ, নদী ও তাঁতঘরে নারীদের অবিরাম শ্রম আজ পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত তৈরি করছে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের গৃহবধু নারীরা দলবদ্ধভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুরুষের সহায়তা ছাড়াই তারা ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও মৌসুমি ফসল উৎপাদন করছেন। ধান কাটা, মাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানো থেকে শুরু করে চাল ভাঙানো পর্যন্ত সব কাজ নিজেরাই সম্পন্ন করছেন তারা। বলেশ্বর নদীসংলগ্ন গাববাড়িয়া গ্রামে ধান কাটার মৌসুমে নারীদের দলবদ্ধ শ্রম এখন নিয়মিত দৃশ্য।

স্থানীয় নারী কৃষক রোকেয়া বেগম, আলেয়া বেগম ও জোছনা বেগম জানান, কৃষিকাজে সফল হওয়ায় তারা এখন নিজেরাই আয় করছেন এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করে এসব নারী কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। তাদের উদ্যোগ টেকসই করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য খাতেও বরগুনার নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার জেলের বসবাস। এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জেলেবধূ সরাসরি মাছ আহরণে যুক্ত। তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা গ্রামের জেলে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম প্রতিদিন ভোরে স্বামীর সঙ্গে নদীতে গিয়ে জাল তোলা, মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানদের দেখভালের দায়িত্বও তাকেই সামলাতে হয়।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করলেও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে তালতলী উপজেলার রাখাইন পল্লীগুলোতে হস্তচালিত তাঁতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাখাইন নারীরা। মায়ানমার থেকে আনা সুতা দিয়ে তারা শীতের চাদর, শার্ট পিস, লুঙ্গি, গামছা ও ব্যাগ তৈরি করছেন। শীত মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তালতলীর ১৭টি রাখাইন পল্লীতে দুই শতাধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে একাধিক তাঁত পরিচালিত হচ্ছে।

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংতেন তালুকদার বলেন, তাঁতশিল্প রাখাইন নারীদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। এই শিল্প তাদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগই উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে এসব কর্মঠ নারী অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি মিললে বরগুনার এই প্রান্তিক নারীরাই ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঘন কুয়াশায় আড়াল সূর্য, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত বরিশাল

মেঘনা অববাহিকাসহ বরিশাল ও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব বাড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, তাও কুয়াশার আবরণ ভেদ করে। কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। ফলে কুয়াশা ও ঠান্ডার মিলিত প্রভাবে জনজীবনে অস্বস্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাত—উভয় ক্ষেত্রেই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য মেঝেতেও ঠাঁই দিতে হচ্ছে।

কৃষিখাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিবিদরা বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া গোল আলুতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য শীতকালীন সবজির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গোল আলু ও ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কনকনে ঠান্ডায় অনেক কৃষক ও কৃষিশ্রমিক সকালবেলা মাঠে নামতে পারছেন না। একই কারণে জেলেরা নদ-নদীতে মাছ ধরতে না পারায় বাজারে মাছের সংকটও দেখা দিচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূলসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বুধবার পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, মেঘনা অববাহিকায় ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে পাগল কুকুরের তাণ্ডব, ৩৫ জন হাসপাতালে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় হঠাৎ করে একটি পাগল কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুমকির বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি বেপরোয়া ভাবে ছুটে বেড়িয়ে পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শুরু করে শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পীরতলা বন্দর, দুমকি বাজার ও জলিশা গ্রাম পর্যন্ত কুকুরটির তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষজন হঠাৎ আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (সাড়ে ৩ বছর), মাহিনুর বেগম (৩৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), নাইমুল (২), মাধবী রানী (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), খোকন (৪০), আবদুল লতিফ মৃধা (৮০)সহ আরও অনেকে। আহতদের বয়সের পরিসর দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত।

আহতদের দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি লুথারন হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কুকুরটির হামলা থামাতে প্রশাসনের নির্দেশে পবিপ্রবির নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে অভিযান চালান। পরে গ্রামীণ ব্যাংক সড়কের একটি বাড়িতে কুকুরটিকে আটকে ফেলতে সক্ষম হন তারা। এতে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই মুহূর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। আহতদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে এই কম্পন অনুভূত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শিমান প্রিফেকচারের আশপাশের এলাকায় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ২ বলা হলেও পরবর্তীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের অপেক্ষাকৃত অল্প গভীরে, যার ফলে কম্পন বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াসুগি শহরসহ আশপাশের এলাকায় জাপানের শিন্দো স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫-এর ওপরে উঠে যায়। এই মাত্রায় ভারী আসবাবপত্র নড়ে পড়তে পারে, ঘরের ভেতরে থাকা মানুষ ভারসাম্য হারাতে পারেন এবং যানবাহন চালানোর সময় চালকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা আরও জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর একই অঞ্চলে একাধিক পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৪ এর মধ্যে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুনামি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা দেখা যায়নি। এজন্য দেশজুড়ে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হলেও আহত বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা। দেশটি চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় প্রায়ই ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের বসবাসকারী এই দ্বীপ রাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার বেশিরভাগই কম মাত্রার।

তবে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। সে কারণেই জাপানে উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত মহড়া চালু রয়েছে। এবারের ভূমিকম্পেও সেই প্রস্তুতির সুফল মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রুমিন ফারহানার নির্বাচনী মঞ্চ ভাঙচুর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  লড়ছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, অরুয়াইলে আজ আমার নির্ধারিত সভা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন আমার মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমি আজ দরজায় দরজায় গিয়েছি এবং শেষমেশ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছি।

যদিও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেন নি।

একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব নির্বাচন করছেন।

তবে নির্বাচনী অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান এ নেত্রী।

সভায় তিনি অরুয়াইল চিত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের ব্যাপক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এমপি থাকাকালীন এই সেতুর জন্য আবেদন করেছিলাম। নির্বাচিত হলে এই সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করব। নতুন বাংলাদেশে আমরা কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা বালু ব্যবসা প্রশ্রয় দেব না। নিরীহ মানুষকে টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচিত হলে সরাইল-আশুগঞ্জকে নতুন রূপে সাজাব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেব।




রাঙ্গাবালীতে নিজ ঘরেই মিলল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর আয়েশা আক্তার (১১) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। নিজ বাড়ির রান্নাঘরের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় লুকিয়ে রাখা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে বাবুল প্যাদার বাড়ি থেকে আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে নিজ ঘরের মধ্যেই এমন নির্মম চিত্রের মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

নিহত আয়েশা মাঝনেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করলেও কোনো তথ্য মেলেনি। নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

রোববার দুপুরে বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে রাখা বড় একটি বস্তার প্রতি পরিবারের এক সদস্যের সন্দেহ হয়। বস্তাটি খুলে দেখতেই ভেতরে পাওয়া যায় নিথর আয়েশার মরদেহ। মুহূর্তেই কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শিশুটিকে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি একটি নির্মম ঘটনা। কীভাবে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম