এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :;কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পর স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলোর নতুন সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন সূচি অনুযায়ী, স্থগিত পরীক্ষাগুলো শুরু হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, কুমিল্লা চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা এ সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।

গত মঙ্গলবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্থগিত পরীক্ষা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিন অবনতি ঘটলে ১৬ জুলাই রাতে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ১ আগস্ট পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা স্থগিত করে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি।

পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা স্বাপেক্ষে ৪ আগস্ট থেকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই পরীক্ষাগুলোও স্থগিত হয়ে যায়।

 




অপসোনিন ফার্মার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে হুমকি-হয়রানি

বরিশাল অফিস :: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক ও দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও এস এল (অপসোনিন) ফার্মার শ্রমিকদের অযৌক্তিক ছাঁটাই বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবির ন্যায্য আন্দোলনে মালিক ও সেনাবাহিনীর যৌথ হুমকি-হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৫ আগস্ট) বিকাল ৪টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এই অবস্থান কর্মসূচি করার সময় মালিকপক্ষ তাদেরকে নানান রকম হুমকি হয়রানি করে এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনী এসে জোরপূর্বক শ্রমিকদের অবস্থান থেকে উঠিয়ে দেয় এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে আন্দোলন না করার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অপসোনিন ফার্মা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার অনাচার করে আসছে। এতদিন ক্ষমতাসীনদের সাথে নানান যোগসাজস করে তারা শ্রমিক বিক্ষোভ দমন করে আসছিল।

গতকাল থেকে অপসোনিন কারখানায় অযৌক্তিক শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হলে শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ করে এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা সহ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ এবং ন্যায্য মজুরি প্রদান, ৮ ঘন্টা ডিউটিসহ ৯ দফা দাবিতে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করা প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বৈষম্য বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের আমলে যদি শ্রমিকের ন্যায্য আন্দোলনের উপরে হয়রানি করা হয় সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অপসোনিন ফার্মার শ্রমিকদের উপর সকল হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া আহবান জানান।




বিছানায় কাতরাচ্ছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গু*লিবিদ্ধ বেল্লাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুই পায়েই গুলি লেগেছে। পা দুটোর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা। ডান পায়ের হাটুর নীচের ক্ষত অনেক বড়। বাম পায়ের গোড়ালীর ক্ষতও কম নয়। ব্যাথায় কাতরাচ্ছে বিছানায়। ঢাকার এক হাসপাতালে পায়েবিদ্ধ গুলি বের করার পর বাড়ি এসে নিরাপত্তার ভয়ে অনেকটা আড়াল করে রাখলেও নিজেকে আর ঢেকে রাখকে পারছিলেন না কিছুতেই। ওষুধপত্র আর উন্নত চিকিৎসার সাধ্যও নেই তার পরিবারের। কথা বলতে চাইলে তাই ভেজাচোখে বেল্লাল (২০) নিজেই জানাচ্ছিল বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে যোগদান থেকে তার বর্তমান শারিরিক অবস্থার কথাগুলো।

পুরো নাম তার মো. বেল্লাল ইসলাম। বাবা মো. আলাউদ্দিন গাজী পেশায় সিইনজি চালক। মা সোসা. নাজমা বেগম গৃহিনী। পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া গ্রামে বাড়ি। নিজ গ্রাম লাগোয়া কালাইয়া বন্দরের ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাসের পর আর্থিক অনটনে বিএ ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। ইচ্ছে ছিল ছোটখাট উপার্জনে জড়িয়ে পরিবারের আয়ের সহোযোগি হওয়া আর সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের। তাই মাস ছয়েক আগে রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম চাকুরি নেয় সে। গত ৫আগস্ট (সোম বার) বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উল্টোদিকে প্রগতি সরনির মেরুলবাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় সে।

অন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিজয়ের কথায় সামান্য হাসির রেখা ফুটে উঠলেও ব্যাথায় আবার মলিন হচ্ছিল মুখাবয়ব। এমনি আনন্দ-বিষাদের শারিরিক পরিস্থিতি নিয়ে বেল্লাল জানায়, পরিবারের সহায়-সম্বল বলতে বসতঘরের জায়গাটুকু ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। সিএনজি চালক বাবার কামাই রোজগারেও খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না। তাই সংসারে আয়ের জোগান দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের ইচ্ছায় ছুটে যায় রাজধানী ঢাকায়। রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নেয় পার্টটাইম চাকুরি। ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে বেড়িয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে সড়কে। একই সময় গুলিবিদ্ধ হয় ইফাত নামে নরসিংদী এলাকার অপর একজন। চোখের সামনে মারা যেতেও দেখে সে ইফাতকে। এ সময় উপস্থিত বয়স্ক কয়েকজন মিলে তাকে আফতাব নগরের জহিরুল ইসলাম সিটির সি ব্লোকের নাগরিক স্পেসালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। তবে সেখানে রোগির ভিরে জায়গা মেলেনি। রাখা হয় হেলথ কেয়ার নামে একই এলাকারই ছোট পরিসরে সদ্য গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে। দুই দিন পরে খবর পেয়ে ছুটে আসেন নারায়নগঞ্জ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত বড় বোন আখি আক্তার। এরপর তার পায়ের গুলি বের করা হয় বাসাবো এলাকার মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে। গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) গ্রামর বাড়ি চলে আসেন বেল্লাল।

বেল্লাল জানায়, পায়ের ক্ষতে ব্যান্ডেস করে দেয় ডাক্তার। ১৫ দিনের আগে কোন কিছু করা যাবে বলে জানায়। ওষুধ নিতে হয় চার ঘন্টা পর পর। মাসে ১টি করে টিকা নেয়া আর এক মাসের আগে সুস্থ্য হওয়ার নয় বলেও ডাক্তার জানায় তখন। এখন পর্যন্ত দুপায়ে ভর করে কোন মতেই দাঁড়াতে পারছেন না সে। ব্যান্ডেসের ভেতরে তীব্র জ্বালাযন্ত্রনা। বিছানায় কাতরাচ্ছে সে। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ড্রেসিং করতে গেলে সেখানে গ্রাম্য ডাক্তার বেল্লালের অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও সামর্থ নেই তার পরিবারের। কয়েকদিন আগে ঘরগৃহস্থলীর কাজে গিয়ে পায়ে কারাতের আগাতে গুরুতর আহত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন বাবা আলাউদ্দিন গাজী। শারিরিক অসুস্থ্য মা নাজমা বেগমও।

বেল্লাল ইসলাম বলেন, ‘আমি হৃদয়ের টানেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাসায় থেকে বেড় হয়ে যাই। বসে থাকার উপায় ছিল না ওই দিন। পায়ে গুলি লাগলে সড়কে পড়ে যাই। ব্যাথায় জ্বলতেছিল। বয়স্ক কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডান পায়ে যে গুলি লেগেছে, তা রাবার বুলেট বা ছররা গুলি নয়। শরীরে ব্যাথা কিছু নয়। পঙ্গু হয়ে গেলে কেমনে চলমু।’

বেল্লালের বাবা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন গাজী বলেন, ‘দুইটা ছেলেমেয়ে। কামাই ভাল না। সারাটা জীবন কস্ট করে চলছি। একমাত্র ছেলে বেল্লালের সংসারে সাহায্য করার সঙ্গে পড়াশুনার ইচ্ছে ছিল। ঝামেলায় পড়তে চাই নাই। তাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কাউকে জানানোর ইচ্ছাও ছিল না। আমিও অসুস্থ। এখন ওর চিকিৎসা চালামু কিভাবে।’

শাড়ির আচলে চোখ মুছে মা মোসা. নাজমা বেগম বলেন, ‘অর গুলি লাগুনের কথা হুইনগ্যা যেন আসমান ভাইঙ্গা মাথায় পড়ছে। সংসারের দুরাবস্থা। ঋন কইর‌্যা ঘরের কাজ ধরছিলাম। সারাটা জীবন কস্ট কইরগ্যা চলছি। ওর বাপ আর আমিও অসুস্থ। বিছনায় ব্যাথায় কাতরাচ্ছে ছেলেডা। এ্যাহন অরে ভাল চিকিৎসা করানোর কোন টাহা-পয়সা আমাগো হাতে নাই।’




বাউফলে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে অর্ধশত দোকান তালাবদ্ধ করে চাঁদা দাবী করায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় উপজেলার বগা বন্দরে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে খলিল মৃধা বলেন, সরকার পতনের সাথে সাথে ৫০ থেকে ৬০টি দোকান তালাবদ্ধ করে আনিচ নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে খুলে দেওয়া হয় দোকানগুলো। চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় এখনও কয়েকটি দোকান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের সাথে মিট না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললে লুটপাট করার ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন সমাধান পাননি বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

মুসলিম সুইটস মিট এর মালিক আবুল হোসেন শিকদার জানান, স্থানীয় নেতা আনিচুর রহমান এ বিষয়ে নাসরনী জাহান রেখা বলেন, তার দুটি ভাড়া দেয়া য়ো মহিমা স্যানেটিরি এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ও আঃ সালামের চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয়। পরে আনিচের মাথে রফাদফার মাধ্যমে ওই দোকান খুলে দিয়ে প্রতি মাসের ভাড়া তাকে দিতে হবে বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিচুর রহমান বলেন, তারা এতদিন আমার সম্পত্তি সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ব্যবসা করতে আমার সাথে নতুন করে চুক্তিনামা সম্পাদনের কথা বলেছি। বিশেষ কিছু ব্যক্তির পরামর্শে আমার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে।




রোববার খুলছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়




সাকিবের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন শিশির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না সাকিব আল হাসানকে। হোক মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, আলোচনায় থাকতেই পছন্দ করেন এই অলরাউন্ডার। তবে, এবার পুরোপুরি ভিন্ন একটি বিষয়ে আলোচনায় সাকিব। ঘটনা এতদূর গড়িয়েছে যে, শেষমেশ স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হয়েছেন সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির।

গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) রাতে হুট করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিব আল হাসানের বেশকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে সাকিবকে একটি হোটেলে দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে দেখা যায় বিপিএলের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কর্ণধার নাফিসা কামালকে।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। নেটিজেনদের অনেকেই সাকিব-নাফিসার ‘বিশেষ’ সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করছেন। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে শিশির লেখেন, ‘আপনারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মতামত জানাতেই পারেন। সেই বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। তাকে (সাকিব) যত মন চায় সমালোচনা করুন। তবে, সেটা যেন আমাদের সম্পর্কের সঙ্গে না জড়ায়। সে দারুণ একজন স্বামী ও বাবা। সে সবসময় আমার প্রতি সৎ ও অনুগত। সে এমন কিছু করবে না যাতে আমি কষ্ট পাই।’

শিশির আরও যোগ করেন, ‘সে এমন একজন ব্যক্তি যে আমার পাশে থাকার জন্য একবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। আমির তার প্রায় সব বিষয়ে জানি। আমরা বেশিরভাগ  সময় একসাথেই থাকি। আমি ১৩ বছর আগে তাকে যেমন দেখেছিলাম, এখনও সে একইরকম আছে। আমাদের দারুণ একটি পরিবার আছে। আলহামদুলিল্লাহ! দয়া করে এসব গুজব বন্ধ করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবসময় যা দেখেন তা বিশ্বাস করবেন না। কিছু অংশ কেটে এটা তৈরি করা হয়েছে, পুরো কাহিনী এখানে নেই। যারা এগুলো করছেন তাদের বলতে চাই, এগুলো করে আপনাদের কোনো লাভ হবে না। আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি চুপ থাকতে চেয়েছিলাম, তবে এতো এতো কল আর ম্যাসেজের কারণে বাধ্য হয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করলাম। সে এখন ব্যস্ত পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে, আর আমি পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। আমরা একটি পরিবার হিসেবেই থাকব, ইনশাল্লাহ।

শেষে শিশির লেখেন, ‘আমি সাকিবের সঙ্গে আমার কোনো ছবি কিংবা ভিডিও ডিলিট করিনি। আমি সেগুলোকে প্রাইভেট করে রেখেছি। ছবি কিংবা পোস্ট কোনো সম্পর্ককে বিচার করে না।’




অনুপস্থিত থাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের জায়গায় ক্ষমতা পেলেন ইউএনও




কলাপাড়ায় লাখ টাকায় ভাড়া হয় সার ডিলার লাইসেন্স

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল খলিফার ব্যক্তির নামে সার ডিলার লাইসেন্সটি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। আর ঐ লাইসেন্স মনির হোসেনের কাছে ভাড়া দেয়। বেশি লাভের আশায় আবার অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে নিজে লাভবান হন দুলাল খলিফা। দুলাল খলিফা ব্যক্তির নামে অনুমতিপত্র দেওয়া লাইসেন্সটি। এভাবে ব্যক্তির অনুমতিপত্র চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন অন্য ব্যক্তি।

ধুলাসার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খলিফা টেডার্স নামের অনুমতিপত্রটির সত্বাধিকারী দুলাল খলিফা। এই অনুমতিপত্র ভাড়ার দেওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ে সরাসরি কৃষকদের ওপর। এতে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার কিনতে হয় কৃষকদের। যার ফলে কৃষকের দুর্ভোগের শেষ নেই।

কৃষকদের অভিযোগ, অসাধু ব্যক্তিদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে বছরে হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনছেন তারা। এমনকি কৃষি বিভাগকে অবহিত করেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তারা। কৃষক ও খুচরা সার বিক্রেতাদের এমন অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডের সার বিক্রেতা মনির হোসেন হাওলাদার অনুমতিপত্র মাস চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন। এখন আবার অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে নিজে লাভবান হন দুলাল খলিফা। এ ব্যাপারে সার বিক্রেতা মনির হোসেন হাওলাদার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

ধুলাসার ইউনিয়নে তারিকাটার কৃষক মহিউদ্দিন খা জানান, সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার কিনতে হয় আমাদের। এতে আমরা কৃষকরা চরম ভোগান্তির স্বীকার। আমরা তার ডিলার লাইসেন্স বাতিল চাই। প্রকৃত ডিলারকে লাইসেন্স দেওয়া হোক।

খলিফা টেডার্স সত্বাধিকারী দুলাল খলিফার তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার মেয়ে বিসিভ করে বলেন, বাবা বিলে গেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, এ নিয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কৃষি অফিস থেকে মাঠে গিয়ে ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া হয় কিনা তা খুঁজে দেখা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।

কলাপাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের কাছে শুনলাম। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে দেখার জন্য আমি বলব। বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া যায় না। সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গুলিবিদ্ধ হয়েও মাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বাকি বিল্লাহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘আমার সামনেই পুলিশ-বিজিবির গুলিতে কয়েকটি তাজা প্রাণ ঝরে যায় চোখের পলকে। তখন আমিও গুলিবিদ্ধ। বাম হাত নাড়াতে পারছি না, এর মধ্যে আরেকজন গুলি খেয়ে আমার সামনেই লুটিয়ে পড়ে। ডান হাত দিয়ে কোনো রকম তাকে আগলে সামনে অগ্রসর হতেই আমার বাম পায়ের রানে পেছন দিক থেকে আরেকটি গুলি এসে লাগতেই মাটিতে পড়ে যাই। তখন আশপাশ থেকে কয়েকজন এগিয়ে এসে আমাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যায়। আমি ততক্ষণে অচেতন হয়ে পড়ি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এমনই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র মো. বাকি বিল্লাহ (২৪)।

তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেনের বড় ছেলে।

গত ১৮ জুলাই দেশব্যাপী যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পুরো চাঙা হয়ে ওঠে তখন বাকি বিল্লাহ ঢাকার রামপুরায় অবস্থান করছিলেন। সহপাঠীদের সঙ্গে তিনিও নেমে পড়েন সেই আন্দোলনে।

শেখ হাসিনার নামফলক ঢাকা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবি দিয়ে
ছাত্র-প্রশাসন মুখোমুখি, থমথমে অবস্থা। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল রাজধানীর অলিগলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ-বিজিবি এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। তবুও ছাত্ররা পিছু না হটে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, ঘড়ির কাঁটায় ৭টা ছুঁই ছুঁই। স্লোগানে স্লোগানে এগিয়ে যেতেই বাকি বিল্লাহর বাম হাতে একটি গুলি এসে লাগে। হাত ছিদ্র হয়ে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তবুও মরণপণ এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন সময় তার সামনে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। তাকে ডান হাত দিয়ে কাঁধে তুলে সামনে অগ্রসর হওয়ার সময় আরেকটি গুলি লাগে তার পায়ে।

বাকি বিল্লাহ বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মৃত্যু আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে, খুব কাঁদিয়েছে। আমার সামনেই একটি পথশিশুকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেটা আমাদের মিছিলের সঙ্গেই ছিলো। ওর বাহুতে একটি গুলি লেগে ওর বাম হাতটা প্রায় ৪-৫ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে, ছেলেটা ওখানেই মারা যায়। চোখ বুজলেই আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। এখনও গা শিউরে ওঠে, কান্না আসে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রাজধানীর নাগরিক হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পরিচিত এক আইনজীবী অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তার বাসায় রেখে সেবাযত্ন করেন। পরে মা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি নিয়ে আসেন।

এরই মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, বাকি বিল্লাহ তার মাকে আসল ঘটনা আড়াল করে অ্যাজমা সমস্যার কথা বলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মা হার্টের রোগী। আমি চাইনি মা-বাবা টেনশন করুক, কিংবা আমার এমন অবস্থার কথা শুনে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ুক। তাই বিষয়টা গোপন রেখেছিলাম।

বাকি বিল্লাহ বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে যেন এভাবে আর কারও ওপর গুলি ছোঁড়া না হয়। অধিকার আদায়ের জন্য যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। আমি মনে করি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা হবে বৈষম্যহীন।




শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে পটুয়াখালী নদী বন্দরে বিএনপির খণ্ড খণ্ড মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের ফাঁসির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হয় পটুয়াখালী নদী বন্দরের সামনে। পরে বেলা ১১টায় জেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শ্নেহাশু সরকার কুট্টি।

অবস্থান কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের সব নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার ফাঁসি কার্যকর করা হোক। আমাদের মধ্যে অনেক চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ঢুকে পড়েছে তাদের প্রতিহত করতে হবে।