পিরোজপুরের সাঈদীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা

বরিশাল অফিস :: জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ও কর্ম নিয়ে পিরোজপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে পিরোজপুরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রতিষ্ঠিত আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনে এ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে মাওরানা সাঈদীর জন্য দোয় মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট বক্তা ক্বারী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় হাজার হাজার মানুস কান্নায় ভেঙে পড়ে।

আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের সভাপতি শামীম সাঈদীর সভাপতিত্বে শনিবার বিকেলে সাঈদী ফাউন্ডেশনের এ সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। বিকেল ৪টার আগেই পিরোজপুর সাঈদী ফাউন্ডেশনের মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে এই মাঠে মাওরানা সাঈদীকে যারা জানাজা পরতে দেয় নাই আজ তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন’।

মাওলানা সাঈদীর সেজ ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী। তাই তারা টার্গেট করে এদেশের শীর্ষ আলম সমাজকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যুদ্ধাপরাধী মামলা সাজিয়েছে।

আরো বক্তব্য রাখেন ক্বারী মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাওলানা আবুল কালাম আজহারী, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে সূরার সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দীন খান গাজী, জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলার নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব, পিরোজপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মজিানুর রহমান শাহীন, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সভাপতি এ বি এম খাইরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।




ক্ষমা চাইলেন ববি উপাচার্য, দুঃখ প্রকাশ প্রক্টরের

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুঁইয়া শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও আন্দোলনের সময় তার কর্মকাণ্ডের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি উপস্থাপন ও আলোচনা সভায় উপাচার্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ক্ষমা প্রার্থনা করে উপাচার্য বলেন, বক্তব্যের শুরুতে আমি আমার শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তোমরা আমার পরিবার, আর পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়াটা লজ্জাজনক নয় বরং আন্তরিকতার পরিচয়।

উপাচার্য বলেন, আমাদের অনেক ভুল ছিল। আমরা সেই ভুলগুলো শুধরে নিব। তিনি শিক্ষকদেরকেও শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আন্তরিক হওয়ার কথা বলেন।

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের বলেন, যে ২২ দফা দাবি তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে আসছে সেগুলোর কিছু কিছু ইতোমধ্যে পূরণ করেছি। বাকিগুলো দ্রুত পূরণের চেষ্টা করব। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলমান বলে জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, অতিদ্রুত ছাত্রসংসদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আমরা প্রত্যেকটা ঘটনাবলির সঠিক বিচার করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আবদুল কাইউম বলেন, কোটা আন্দোলনের সময় আমাদের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমি সকল প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। তারপরও শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা আমার জানা ছিল না। সার্বিক বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।




ঝালকাঠিতে আ.লীগের ১৪ নেতা-কর্মীর নামে মামলা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান তাপু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরিফ, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মন্নান রসুল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধুসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বিকেলে জেলা শহরের আমতলা মোড় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সভা চলাকালীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান।

পরে পেট্রল দিয়ে কার্যালয়টি জ্বালিয়ে দেয়।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলায় অভিযুক্ত নেতা-কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।




চলমান এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: চলমান এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশাল: চলমান এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষাসমূহ বাতিলের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।

পরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তারা এখন আর কোনো পরীক্ষা দিতে চান না।

তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এখন তাদের পরীক্ষায় বসা সম্ভব না।

তাই তারা পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, দেশের ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা পরীক্ষায় বসতে চাই না।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিলে আমাদের মূল্যবান সময় ও ভবিষ্যতের ক্ষতি হবে। তাই এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল ও বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে খুব দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হোক।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বরিশাল কলেজ, অমৃত লাল দে কলেজ, মহিলা কলেজ, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলও করে পরীক্ষার্থীরা।




যেসব অভিযোগ উঠে আসছে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক।

বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিউমার্কেট এলাকায় হকার শাহজাহান হত্যার ঘটনায় নিউমার্কেট থানার মামলায়। পরে তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রায় ১৫ বছর ধরে আলোচিত-সমালোচিত জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও প্যারাট্রুপার ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) চাকরি করেছেন। ২০০৯ সালের ৫ মার্চ তিনি উপ-অধিনায়ক হিসেবে র‌্যাবে যোগ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অসংখ্য ব্যক্তিকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মূলত ব্যাপক পরিসরে গুমের ঘটনা শুরু হয় তার হাত ধরে। সেটি শুরু হয়েছিল ১/১১-এর পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী, বিরোধী ঘরানার রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সরকারবিরোধী সমালোচকসহ অসংখ্য ব্যক্তি গুমের শিকার হন। তখন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি গুম হয়েছেন বলে খবর ছাপা হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারগুলো থানা থেকে শুরু করে ডিবি, র‌্যাব কার্যালয়ে ধরনা দিয়ে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ পেত না। অভিযোগ রয়েছে এসবের নেপথ্যে ছিলেন জিয়াউল




পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা-সেলিম ও তাপস সরাসরি জড়িত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১৫ বছর আগে বিডিআর বিদ্রোহে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম শেখ ফজলে নূর তাপসসহ অনেকে সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন নিহত মেজর শাকিলের ছেলে রাকিন আহমেদ।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার ৫০ দিনের মধ্যেই ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা বিদ্রোহ সংগঠিত হয়।

বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তারা অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করেছিল, স্থাপনা ও সম্পদ ভাঙচুর করেছিল এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়েছিল। পরে সরকারের সঙ্গে একাধিক আলাপ-আলোচনার পরে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয়। অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে এই বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়; আরও ২৫ জন বিদ্রোহে জড়িত থাকার কারণে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যে কারাদণ্ড পেয়েছিল। আদালত অভিযুক্ত ২৭৭ জনকেও খালাস দিয়েছিল।

১৫ বছর আগের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ আরও অনেকে সরাসরি জড়িত ছিলে বলে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মেজর শাকিলের ছেলে রাকিন আহমেদ দাবি করেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফজলে নুর তাপস ও শেখ সেলিম সরাসরি জড়িত। এছাড়াও নেপথ্যে আরও রয়েছে। স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন হলে তাদের নামও আসবে।’

এ সময় নিহত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিবুর বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম সেই সময় কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিটিতে ছিলেন। রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন সেটি তিন দফা সংশোধন করার পর মিডিয়ায় দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই রিপোর্টের ‘র’ কপি প্রকাশের দাবি জানান।

এ সময় নিহতের পরিবাররা ২৫ ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহ না বলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড বলার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।

নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। এছাড়া হত্যকাণ্ডের ঘটনায় ডাল-ভাত নিয়ে দ্বন্দ্বের যে কথা প্রচার করা হয় তা সত্য নয়। এ হত্যাকাণ্ডটিকে ভিন্নখাতে নিতেই এমন কথা প্রচার করা




প্রয়োজনে শহীদ হব’ – মাকে বলে এসে আন্দোলনে প্রাণ হারান ইমরান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন মো. ইমরান হোসেন (১৮)। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মা নাজনীন বেগমকে বলেছিল, ‘মা দেশ কিন্তু স্বাধীন হবেই, প্রয়োজনে ছাত্রসমাজের জন্য শহীদ হব।’ এই কথা শোনার পর ইমরানের মা হাত ধরে বলেছিলেন, ‘আজকে বাসা থেকে বের হইস নাহ বাবা।’ মায়ের কোনো কথা না শুনেই বাসা থেকে বের হয়ে যায় ইমরান। তবে আর বাসায় ফেরা হয়নি তার। শহীদ হয়েছেন তিনি।

নিহত মো. ইমরান হোসেনের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর বড় ডালিমা গ্রামের। ওই গ্রামের মো. কবির হোসেন জোমাদ্দার ছেলে তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইমরান মেজো। দশম শ্রেণিতে লেখাপড়ার পর অভাবের কারণে আর লেখাপড়া সম্ভব হয়নি। ইমরান ঢাকার বায়তুল মোকারম মার্কেটে কার্পেটের একটি দোকানে চাকরি করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত হয় পুরো ঢাকা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ি এলাকায় বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি গুলি এসে ইমরানের গলায় লাগে। ইমরানের মা মোবাইল ফোনে কল করলে একজন রিসিভ করে জানায়, ইমরানের গুলি লেগেছে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন ইমরান মারা গেছে। এ খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমরানের মা। এখনও ছেলের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ইমরানের মা নাজনীন বেগম।

ঢাকার মীরহাজির বাগ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন ইমরান। ৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ইমরানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন ৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে জোমাদ্দার বাড়ি মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ৯ আগস্ট পরিবারের সবাই ঢাকায় ফিরে যান। ইমরানের বাবা কবির হোসেন বিভিন্ন দোকানে মালমাল সরবরাহের কাজ করেন। ইমরানের বড় ভাই তফিকুর রহমান লিমন (২৫) নবাবপুরে একটি ফ্যান কোম্পানিতে চাকরি করেন, ছোট ভাই মাহাদুর রহমান মাহিন (১১) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ইমরানের চাচা মো. মিরাজ হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ইমরান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। এর আগেও একটা রাবার বুলেট লাগছে তারপরও ইমরান বলছে প্রয়োজনে আমি ছাত্রদের জন্য শহীদ হব। ওর আম্মা অনেক নিষেধ করছে, বাসা থেকে যাইস নাহ। বাসা থেকে হওয়ার আগে ইমরান তার মাকে বলেছিল, মা দেশ কিন্তু স্বাধীন হবে প্রয়োজনে ছাত্রসমাজের জন্য শহীদ হয়ে যাব।

ইমরানের চাচাতো ভাই মো. জিদান বলেন, ইমরান তো চইল্লা গেছে। ভাইরে তো আর পামু নাহ। আমার ভাইরে যারা নির্মমভাবে মারছে, আমি তাদের বিচার চাই।

ইমরানের বাবা কবির হোসেন জোমাদ্দার বলেন, আমার এই ছেলেটা (ইমরান) দেশ প্রেমিক ছিল। দেশের জন্য পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছে। এই দুনিয়াতে আমার ছেলের হত্যার বিচার হবে কিনা আমি জানি নাহ। আমি আল্লাহ্ কাছে বিচার দিছি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাউফলের শিক্ষার্থী মুনতাসির তাসরিপ বলেন, ছাত্র আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছি, কথা বলেছি। আমরা সবাই চাই এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হোক।




সমুদ্রে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত – দুশ্চিন্তায় জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সমুদ্র বন্দরসমূহে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতে উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জেলেদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। তাদের আশা ছিল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। কিন্তু ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হলেও নদ-নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় মাছ শিকারে যেতে পারেননি তারা। মাঝে কিছু দিন আবহাওয়া ভালো থাকলেও ইলিশের দেখা মেলেনি তেমন। এরপর আবার আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না এখানকার জেলেদের।

এ দিকে শনিবার (১৭ আগস্ট) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতেও গতকালের তুলনায় পানি একটু বাড়তি রয়েছে। সকাল থেকে ভ্যাপসা গরম লক্ষ করা গেলেও দেখা মেলেনি বৃষ্টির।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যান্ড পিবিও আব্দুল জব্বার শরীফ জানান, সমুদ্র বন্দরসমূহে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। জেলেদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও তাদের ফিরতে হচ্ছিল খালি হাতে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ট্রলারের মালিক ও জেলেদের। মাঝে আবহাওয়া কয়েকদিন ভালো ছিল কিন্তু এখন আবার খারাপ হওয়ার পথে। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন এখানকার জেলেরা। আশা করি দ্রুতই আবহাওয়া ভালো হয়ে যাবে, তখন স্বাভাবিকভাবে মাছ শিকার করতে পারবে জেলেরা।




মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে শাহজালাল বিমানবন্দর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মাঙ্কিপক্স’ রোগের সংক্রমণ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের আগমনি চ্যানেলে সার্বক্ষণিক একটি চিকিৎসক দল নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মাঙ্কিপক্স বিষয়ে এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক থাকতে। মাঙ্কিপক্স লক্ষণযুক্ত কোনো যাত্রী থাকলে দ্রুত তা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশে আসার ২১ দিনের মধ্যে যাত্রীদের মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলো দেখা দিলে ১০৬৫৫ নম্বরে কল করতেও অনুরোধ করা হয়।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য সতর্কতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে লক্ষণযুক্ত যাত্রীদের মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। লিফলেট দিচ্ছে এবং আগমন স্বাস্থ্য ডেস্কগুলো ২৪/৭ ডাক্তারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা থার্মাল স্ক্যানার আর্চওয়ে দ্বারা স্ক্রিন করছে। প্রয়োজন হলে লক্ষণযুক্ত যাত্রীদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক রোগ হাসপাতাল এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

বৈঠকে এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো লক্ষণযুক্ত যাত্রী থাকলে দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। আগমনের ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে যাত্রীদের ১০৬৫৫ নম্বরে কল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত দেশ বা ব্যক্তির সংস্পর্শের কারণে বাংলাদেশে আসা দেশি বা বিদেশি ব্যক্তির মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।




সিঙ্গাপুরে ক্রেন দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় মোবাইল ক্রেনের ফিতা ছিড়ে দুর্ঘটনায় জয়দেব মালাকার (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৪টার দিকে সিঙ্গাপুরের এসএইচ ডিজাইন ও বিল্ড (কোম্পানি) বেনোই সেক্টর এলাকায় কাজ করার সময়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জয়দেব মালাকার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার জগদিস মালাকারের জ্যেষ্ঠ পুত্র বলে জানা গেছে। মৃত্যুর খবর শুনে বৃদ্ধ পিতা ও তার পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সিঙ্গাপুর থেকে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের প্রবাসী তারেক মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, শুক্রবার দুপুর ৪টার দিকে কোম্পানির মালামাল উঁচু বিল্ডিংয়ে লোড-আনলোড করার সময়ে মোবাইল ক্রেন ফিতা ছিড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তবে মরদেহ দেশে পাঠাতে সময় লাগবে।

মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবদুল রব বলেন, আমার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জগদিস মালাকারের বড় ছেলে এক দুর্ঘটনায় সিঙ্গাপুরে মারা গেছে। খবরটা শুনে খুব খারাপ লাগছে। পরিবারের উন্নতি ও জীবিকার তাগিদে কয়েকবার বিদেশে গিয়েছে সে। তার পিতাও একজন বৃদ্ধ মানুষ। এখন কফিনবন্দি হয়ে ফিরতে হচ্ছে দেশে। মরদেহ দেশে আনতে এখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা করা হবে।