বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গলাচিপায় নিহত ৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম রুবেল (৩৪), সিএনজিচালক জাহাঙ্গীর খান (৪০), ব্যবসায়ী মামুন হাওলাদার (৪০), শিক্ষার্থী মো: রাসেল (১৮) এবং সাগর গাজী (২০)। নিহতদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদেরকে হারিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা।

গত ১৯ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম রুবেল (৩৪)। ঢাকার বারিধারা এলাকায় জাস্টেক্স বায়িং হাউজে তিনি সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি করতেন। গলাচিপা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের রূপনগর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম মাস্টারের ছেলের রুবেলের উপার্জনেই সংসার চলত। আলিসবা ইসলাম ফারিস্তা নামে শহীদ রুবেলের ১৭ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্ত্রী তামান্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘আমার স্বামীকে কেন মারা হলো? এর দায় কে নেবে?’

সিএনজিচালক জাহাঙ্গীর খান গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাউরিয়া এলাকার মৃত রত্তশন আলী খানের ছেলে। গত ২০ জুলাই দুপুরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে তিনি এখন অথৈই সাগরে পড়েছেন তিনি।

উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পাগলা বউবাজার এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন। গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফতুল্লা থানা পুলিশ মামুনকে ধরে নিয়ে যায়। থানায় পরে খোঁজ নিলে জানানো হয় মামুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গেলে মামুনের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।
মামুনের মায়ের প্রশ্ন, আমার সুস্থ ছেলেটারে পুলিশ ধরে নিয়ে মেরে ফেলল। এখন কে এ সংসারের হাল ধরবে?

উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাসেল ঢাকায় এসেছিলেন। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করে দেন তার বাবা আবুল হোসেন। গত ৫ আগস্ট সকালে ঢাকার দনিয়ার কাজলা এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন রাসেল। পরের দিন গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নচর শিবা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
সাগরের স্বপ্ন নিভে গেল মাত্র ২০ বছর বয়সে। গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড় ডাকুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাগর। বড় প্রত্যাশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। গত ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরায় জসিম উদ্দিন ফ্লাইওভার এলাকায় মাথায় গুলি লাগে সাগরের। নিভে গেল পরিবারের স্বপ্ন।
বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রামে মাত্র ৬০ শতাংশ জমি আছে তাদের। এখন তিনি কীভাবে সংসার চালাবেন?’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, এখনো সরকারি কোনো অনুদান আসেনি। অনুদান পেলে সবাইকে দেয়া হবে।




বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। সাগরের পানিতে গোসলে নেমে আনন্দ-উল্লাসে সময় পার করছেন তারা। এক মাস পর সৈকতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে কুয়াকাট সমুদ্র সৈকতে। সাগরের বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকততীরে। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছেন পর্যটকরা। কেউ গোসলে, কেউবা স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে মুঠোফোনে ব্যস্ত।

একই সঙ্গে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠেছে সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত এক মাসের বেশি সময় চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে যেন প্রাণ ফিরেছে প্রতিটি স্পটে। ব্যস্ততা বেড়েছে ফটোগ্রাফার ও ট্যুর গাইডসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত সপ্তাহে কাজে যোগ দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। পর্যটন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অন্যদিকে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত এক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা ব্যবসায়ীদের।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘পর্যটকরা আগের মতোই কুয়াকাটায় আসবে বলে প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে আমরাও পর্যটন সেবা নিশ্চিত করবো।’

কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার মো. আনসার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

দর্শনার্থীদের জন্য সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে।




সরানো হলো রাজধানীর সকল থানার ওসিকে, পোস্টিং ঢাকার বাইরে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৩২ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শককে (নিরস্ত্র) একযোগে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়।

যেসব ইউনিটে বদলি হয়েছেন তারা

বিমানবন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খানকে বান্দরবান ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, দক্ষিণখান থানার ওসি মো. আশিকুর রহমানকে পিরোজপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মো. শাহ আলমকে কুষ্টিয়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, শাহীনুর রহমানকে লালমনিরহাট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, বনানী থানার ওসি কাজী শাহান হককে রংপুর পিটিসিতে, বাড্ডা থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছাঁলাম মিয়াকে খাগড়াছড়ি ৬ এপিবিএনে ও নিউমার্কেট থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলামকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে হাজারীবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মদকে ঠাকুরগাঁও ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, কলাবাগান থানার ওসি মো. মফিজুল আলমকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন এবং বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে, রমনা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়াকে কুষ্টিয়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এবং ধানমন্ডি থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলামকে নোয়াখালী পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে লালবাগ থানার ওসি খন্দকার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে মহালছড়ি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, চকবাজার থানার ওসি কাজী শাহীদুজ্জামানকে দিনাজপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মুহাম্মাদ মাসুদ আলমকে সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, কোতোয়ালি থানার ওসি মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়াকে নোয়াখালী পিটিসিতে, আদাবর থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়েরকে জামালপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, এস এম আবু ফরহাদকে কক্সবাজার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, শাহজাহানপুর থানার ওসি সুজিত কুমার সাহাকে নীলফামারী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, খিলগাঁও থানার ওসি মো. সালাহউদ্দীন মিয়াকে ১৮ এপিবিএনে, সবুজবাগ থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহাকে খুলনা পিটিসিতে এবং গেন্ডারিয়া থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল ব্যতীত ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্যামপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানকে গাইবান্ধা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ওয়ারী থানার ওসি জানে আলম মুনশীকে ১৪ এপিবিএনে, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. আবুল হাসানকে ১৬ এপিবিএনে, রূপনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদকে বরিশাল ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ভাসানটেক থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিনকে মহালছড়ি এপিবিএন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মুগদা থানার ওসি তারিকুজ্জামানকে সারদা বিপিএতে, মোহাম্মদ গোলাম মউলাকে নোয়াখালী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে ১০ এপিবিএনে, হাতিরঝিল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেনকে হবিগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মো. আহাদ আলীকে এপিবিএনে এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে লালমনিরহাট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের ১৮ থানার ওসিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়।




শরীরে দুই শতাধিক বুলেটের যন্ত্রণা, নিভে যাচ্ছে হাবিবের দৃষ্টি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানী ঢাকার খেটে খাওয়া মানুষ মো. হাবিব খান। পেশায় স্যানিটারি মিস্ত্রী হাবিব কাজের পারিশ্রমিক আনতে গিয়েছিলেন। তখনই পড়ে যান সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন দমাতে হামলে পড়া পুলিশের সামনে। দুই হাত ওপরে তুলে আকুতি করে যাচ্ছিলেন, তিনি আন্দোলনকারী নন। কিন্তু সেকথায় কান দেয়নি পুলিশ। সরাসরি ছররাগুলি ছুড়ে দেয় তাকে লক্ষ্য করে। তাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় হাবিবের শরীর।

হাসপাতালের এক্সরে রিপোর্টে দেখা গেছে, হাবিবের শরীরে দু্ই শতাধিক ছররা গুলি রয়েছে। একটি গুলি বাম চোখে বিদ্ধ হওয়ায় দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন হাবিব। আন্দোলন না করেও পুলিশের গুলি খাওয়া হাবিব পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পাননি চিকিৎসা সেবা।

হাবিব দেশের দক্ষিণের জেলা বরগুনা সদর থানার ৭ নং ডালভাঙ্গা ইউনিয়নের মরাখালী এলাকার মান্নান খানের ছেলে। একটা সময়ে পায়েচালিত রিকশা চালালেও গত চার বছর ধরে স্যানিটারি মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। বাস করছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। সেখানেই এই চরম বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড এলাকার ২ নম্বর সড়কে হাবিবের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ একটি টিনের ঘরে শুয়ে আছেন হাবিব। চার পাশে সুউচ্চ ভবনের মাঝে একটি খালি প্লটের ছাউনি ঘরে হাবিব তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন। স্যানিটারি মিস্ত্রী হিসেবে যা আয় করতেন তাতে ভালোই চলত সংসার। কিন্তু পুলিশের হামলা আর ছররাগুলির দুই শতাধিক বুলেট তার শরীরসহ সংসারটিকেও ঝাঁঝর করে দিয়েছে। গুলি ঢুকে পড়েছিলেন তার চোখেও। যার যন্ত্রণায় তার নির্ঘুম জীবন। আর চোখের দৃষ্টিশক্তিও নিভতে বসেছে অসহায় হাবিবের। কর্মক্ষম ব্যক্তিটি বিছানায় পড়ে থাকায় বন্ধ হয়েছে আয়ের পথ। ফলে দুই শিশু সন্তানের মুখে দু-বেলা দু-মুঠো খাবার তুলে দেওয়াই এখন অনিশ্চিত। আর চিকিৎসা? ব্যয়বহুল সে চিকিৎসা পাওয়ার ভাবনা ছেড়েই দিয়েছেন হাবিব!

গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় হাবিব এই পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি বলেন, আমি আন্দোলনে যাই নি। ঘটনার আগের দিন (১৮ জুলাই) চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকার একটা বাড়িতে কাজ করি। পরের দিন কাজ ছিলো না তাই বাসায় শুয়ে ছিলাম। বিকেলের দিকে কন্ট্রাক্টর রাকিব আমাকে ফোন করে চাঁদ উদ্যান গেটে টাকা আনতে যেতে বলে। ফোন পেয়ে আমি ও আরও দুই মিস্ত্রী চাঁদ উদ্যান গেটে যাই। যাওয়ার পরে পরিস্থিতি থমথমে দেখে রাকিবকে ফোন দেই। রাকিব জানায়, চাঁদ উদ্যান গেট থেকে সে আল্লাহ করিম মসজিদের গেটে গেছে। ওখানে আমাকেও যেতে বলে। মেইন রাস্তায় আন্দোলন চলে দেখে আমরা তিনজন চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের ভেতর দিয়ে মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি যাই। এই সময়ে ওই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলছিলো। তাই আমরা চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের গেটে দাঁড়িয়ে থাকি। তখন রাকিবকে ফোন দিলে সে জানায়, তার শরীরে গুলি লেগেছে। সে টাউনহলের দিকে চলে গেছে। আমার পাওনা টাকা সে পরে দিবে। এই ফোন পেয়ে আমরা যখন চলে আসবো তখন হঠাৎ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে পড়ে যাই। আমি পুলিশ দেখে দুই হাত উচু করে দাঁড়াই। কিন্তু কোনো কথা না শুনেই পুলিশ আমাকে গুলি করে দেয়। তারা যে কতগুলো গুলি করেছে তার হিসাব নেই। একটা গুলিও বাইরে যায় নাই। সব আমার শরীরে লাগে।

এক চিকিৎসকের মানবিকতার কারণে বেঁচে ফিরেছেন উল্লেখ করে হাবিব বলেন, যেখানে আমাকে গুলি করা হয় তার পাশের বাসায় একজন চিকিৎসক থাকেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কাছে আসেন। আমাকে তিনি চিনতে পারেন। বিভিন্ন সময়ে আমি তার বাসায় কাজ করেছি। তিনি আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে যাওয়ার পরে তার চেষ্টায় আমাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপতালে ভর্তি থাকার প্রথম দুই দিন কোনো চিকিৎসা পাইনি। নাপা ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় নাই, স্যালাইনসহ সব ওষুধ কিনে আনতে হয়েছে। দুই দিন পরে চিকিৎসা শুরু হয়। ছয়দিন চিকিৎসা নেই হাসপাতালে। এই সময়ের মধ্যে বাম চোখে গুলি লাগায় অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো। পরবর্তীতে আমাকে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা তো পেলামই না বরং অপারেশনের নামে আমার চোখটাই নষ্ট করে দিয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ছাড়াও বেশ কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছি কিন্তু সুরাহা হয়নি। চোখের অপারেশন করাতে হবে। যার জন্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমার সেই সামর্থ না থাকায় অপারেশন করাতে পারছি না। আর অপারেশন করালেও চোখ ঠিক হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

গত এক মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছেন হাবিব। শরীরে দুই শতাধিক গুলি নিয়ে বেঁচে থাকলেও যন্ত্রণায় কাটছে প্রতিটি রাত। হাবিব বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না। শরীরে যন্ত্রণায় উঠে বসে থাকতে হয়। সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকটা হাসপাতাল ঘুরে মাত্র চার থেকে পাঁচটা গুলি বের করা গেছে। আরও অন্তত ২০০ গুলি শরীরে ভেতরে রয়েছে। এই গুলির যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। বাম চোখে দেখতে পাচ্ছি না। এখনই ভালো চিকিৎসা না করালে ডান পাশের চোখে সমস্যা হতে পারে বলে ডাক্তাররা বলেছে। কি করবো, কার কাছে যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

হাবিবের স্ত্রী সুখী বেগম বলেন, একটা নিরাপরাধ মানুষকে রাস্তায় পেয়ে গুলি করে দিলো। স্বামী কাজ করতে পারছে না। দুই সন্তান নিয়ে কি ভাবে চলবো? কি ভাবে চিকিৎসা চালাবো সেটাই বুঝতে পারছি না। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার টাকা ঋণ করা। অনেকেই সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও কেউ আর খোঁজ রাখে নি। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। না হলে আমার স্বামী অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ তার ভালো চোখটিতেও সমস্যা হতে পারে।




যেসব জেলার ডিসি প্রত্যাহার হচ্ছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যেসব  জেলার  ডিসিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাদের চলতি সপ্তাহে প্রত্যাহার করা হবে।

জনপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগে চলতি সপ্তাহে ৩০ থেকে ৩৫ জেলার ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) প্রত্যাহার করা হবে।

তবে বৈষম্যে শিকার কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দাবি সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলার ডিসি, পুলিশ সুপারসহ (এসপি) জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে।

ফোরামের সম্বয়ক অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার  অফিসার্স ক্লাবে মতবিনিময় সভায় বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে সতায়তাকারী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

বৈষম্যে শিকার কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দাবি, তারা দায়িত্বে থাকার সব যোগ্যতা হারিয়েছে। তারা রোববার থেকে সচিবালয়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করলে সরকারের তরফ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তারা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

জানা গেছে, ডিসি হিসাবে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকের মেয়াদ ৩ বছর ছুঁই ছুঁই। তাদের দ্রুত প্রত্যাহারের একটা আলোচনা আন্দোলনের আগে থেকেই চলছিল। আন্দোলনের ফলে এখন নতুন করে ডিসিদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। যারা বিগত আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন, তারা আগে প্রত্যাহার হবে।

প্রত্যাহারের তালিকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, নরসিংদী ও বরিশালসহ ৩৫ জেলার ডিসি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রত্যাহার হচ্ছে। পরবর্তীতে অন্য জেলার ডিসিরাও প্রত্যাহার হবে।

 




ছোটপর্দায় আজকের খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: ফুটবল

লা লিগারে য়াল ভাইয়াদলিদ-এস্পানিওল, রাত ১১টা
ভিয়ারেয়াল-আতলেতিকো মাদ্রিদ, রাত ১:৩০

র‍্যাবিটহোল, স্পোর্টস ১৮

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

লেস্টার সিটি-টটেনহ্যাম হটস্পার, রাত ১টা

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১




মেয়েকে নয়, ছেলেকে বলুন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে: মিমি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আরজি কর-কাণ্ডের পর কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তায় জোর দিতে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় রাতের কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে ১৭টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।

ভারতের গণমাধ্যমকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যত দূর সম্ভব নারীদের রাতের শিফ্‌ট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তার এমন বক্তব্যের কারণে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী বেশ নাখোশ হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সাংসদ অভিনেত্রী মিমি ইংরেজি ভাষায় লিখেছেন, তা বাংলা অনুবাদ করলে যে অর্থ দাঁড়ায়- মেয়েটিকে ধর্ষিতা বলার আগে ছেলেটি যে ধর্ষণ করেছে সেটা বলা হোক। মেয়েকে সামলে রাখুন বলার বদলে ছেলেকে সঠিক শিক্ষা দিন।

মেয়েকে নয়, বরং ছেলেকে বলুন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে. তা হলেই নিরাপত্তা বজায় থাকবে।’ কারণ, দোষী তো পুরুষ, নারী নয়। তাই বারবার মেয়েদেরই কেন সমঝোতা করতে হবে? সেই প্রশ্নই তুলেছেন মিমি চক্রবর্তী।

এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি আরও লেখেন, আরজি কর হাসপাতালে একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হল। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে কেউ এই ধরনের জঘন্য অপরাধের কথা ভাবলেই ভয়ে মেরুদণ্ড কেঁপে ওঠে।

এই নারকীয় ঘটনার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলেও দাবি জানান মিমি চক্রবর্তী।




জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল্লাহর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ৩৪(ক) ধারার আওতায় সরকার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিরূপ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং এর ফলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে। এ অবস্থায় ওই ধারার অধীনে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা আপাতত স্থগিত থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, বাধ্য না হলে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়াবে না সরকার।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম যদি আর না বাড়ে বুঝতে হবে আমরা ভালো কাজ করছি। কিন্তু দাম যদি আবার বাড়তে থাকে, তাহলে ভালো কাজটা কীভাবে করলাম? পরিসংখ্যান দিয়ে আপনাকে আর মূল্যায়ন করা হবে না।’



ঢাকাসহ ১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৫টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়- ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন যেসব বিদেশি নেতা