এনআইডি সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাতে এক বৈঠক থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আইডিইএ-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা জানান,এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে ইসিতে রাখা এবং আইডিইএ-২ প্রকল্পের নবম গ্রেড থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এনআইডি সেবা কার্যক্রম।

দাবি না মানা পর্যন্ত সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস কর্মরতদের ঢাকায় এসে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।




বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় রদবদল




বাংলাদেশ থেকে সরে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ




কোন ‘স্ট্যাটাসে’ ভারতে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনাকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিমান শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে নিয়ে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেদিন সন্ধ্যায় ওই বিমানঘাঁটিতে তাদের স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

তার পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশের পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’এ দেশে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন এবং তা মঞ্জুর হওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন।

সেই থেকে শেখ হাসিনা এখনও পর্যন্ত ভারতেই আছেন। যতদূর জানা যাচ্ছে দিল্লির উপকণ্ঠে একটি আধাসামরিক বাহিনীর অতিথিনিবাস বা ‘সেফ হাউসে’ই দুই বোনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের ঠিকানা কী, সেটা সরকারিভাবে কখনওই প্রকাশ করা হয়নি।

শেখ হাসিনা ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে ব্যাপারেও এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।

অর্থাৎ তিনি কোনও বিশেষ ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, না কি তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) দেওয়া হয়েছে – এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।

এই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতে এই মুহূর্তে তার অবস্থানের ইমিগ্রেশন (অভিবাসন)-গত বৈধতাটা ঠিক কী এবং সেই স্ট্যাটাস কতদিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে?

দিল্লিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলা এই প্রশ্নের যে জবাব পেয়েছে তা এরকম- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার যে ‘ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল’ পাসপোর্ট ছিল তা এখনও বৈধ এবং সেই পাসপোর্টের সুবাদে তিনি অন্তত দেড় মাস কোনও ভিসা ছাড়াই অনায়াসে ভারতে অবস্থান করতে পারেন।

ফলে যদি-না এর মধ্যে সেই পাসপোর্ট ‘রিভোকড’ বা প্রত্যাহৃত হয়, তাহলে এই সময়সীমার মধ্যে অন্তত ভারতে তার বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ আইনসম্মত, ভারতের এ ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রয়োজনও নেই।”

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শেখ রেহানার ক্ষেত্রে অবশ্য এই জটিলতাটুকুও নেই, কারণ তিনি ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারী – ফলে সাধারণ ‘ভিসা অন অ্যারাইভালে’ই (ভারতের মাটিতে পা রাখার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের যে ভিসা মঞ্জুর করা হয়) তিনি কার্যত যতদিন খুশি ভারতে থাকতে পারেন।

শেখ হাসিনার ভারতে বর্তমানের অবস্থানের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়টিকেই এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ভারত সরকার যা বলছে

গত ১৬ অগাস্ট (শুক্রবার) বিকেলে দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে নির্দিষ্ট প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল।

সে দিন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, “প্রায় দু’সপ্তাহ হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবতরণ করেছেন। আপনি কি আমাদের বলতে পারেন তার এই অবস্থানের (ইমিগ্রেশন-গত) স্ট্যাটাসটা কী … অর্থাৎ তিনি কি নিয়মিত ভিসায় এ দেশে আছেন? না কি তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন? না কি তাকে কোনও ধরনের গৃহবন্দি বা অন্তরীণ অবস্থায় (ডিটেনশনে) রাখা হয়েছে?”

“প্রশ্নটা এই কারণেই করা, যে আমরা নানা ধরনের পরস্পরবিরোধী সংকেত পাচ্ছি। তার কন্যা (সাইমা ওয়াজেদ পুতুল) টুইট করেছেন যে তিনি মা-র সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। আবার এর পাশাপাশি, আমেরিকায় অবস্থানরত তার ছেলের (সজীব ওয়াজেদ জয়) মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিবৃতিও জারি করেছেন। ফলে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রকৃত স্ট্যাটাস নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ হচ্ছে, তার বদলে ভাল হয় যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের জানায় ঠিক কোন শর্তের অধীনে তিনি এ দেশে রয়েছেন।”

যে সাংবাদিক এই প্রশ্নটি করেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। মুখপাত্র কিন্তু তার জবাব দেওয়ার সময় প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন, তিনি ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’কে নিয়ে কথা বলছেন!

রণধীর জয়সওয়াল তখন বলেন, “আমরা গত সপ্তাহেও এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলাম যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আসার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছিল খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে।”

“এই পরিস্থিতি এখনও ক্রমাগত পাল্টাচ্ছে (‘ইভলভিং’)। এই মুহূর্তে অন্তত তার (শেখ হাসিনার) পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের নতুন করে কিছু জানানোর নেই”, বলেন তিনি।

১৬ অগাস্ট মুখপাত্রের এই বক্তব্য ছিল ঠিক তার দশদিন আগে (৬ অগাস্ট) পার্লামেন্টে করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের হুবুহু প্রতিধ্বনি।

সে দিন মি জয়শঙ্কর সভায় জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ৫ই অগাস্ট পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর “খুব অল্প সময়ের নোটিশে তখনকার মতো (‘ফর দ্য মোমেন্ট’) ভারতে আসার জন্য অনুমোদন (‘অ্যাপ্রুভাল’) চান। একই সঙ্গে (শেখ হাসিনার বিমানের জন্য) ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের অনুমতিও চাওয়া হয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তরফে।”

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করার জন্য মি জয়শঙ্কর সে দিনও এই ‘ইভলভিং’ বা পরিবর্তনশীল শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

ভারতের সরকারি অবস্থানে যে মাঝের এই কয়েকদিনে এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি, তা এই ধরনের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।

জবাব ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্টে’?’

এরপরও মূল প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, তাহলে শেখ হাসিনা ভারতে এই মুহুর্তে ঠিক কীসের ভিত্তিতে আছেন?

দিল্লিতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার এই মুহুর্তে অবস্থানের ভিত্তিটা হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট’।

দুই দেশের শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে ঢাকাতে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই।

ভারতের পক্ষে ওই সমঝোতাপত্রে সই করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন বিশেষ সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) ব্রজরাজ শর্মা। আর বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের তখনকার সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদী এই সমঝোতাটি তারপর নিয়মিত ব্যবধানে নবায়ন করার কথা, যা এ বছরের গোড়ার দিকে করাও হয়েছে।

ওই সমঝোতাপত্রের ১(এ) ধারাতেই পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে, উভয় দেশের ডিপ্লোম্যাটিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ৪৫ দিনের মেয়াদে ভিসা ছাড়াই বসবাসের জন্য (‘ভিসা ফ্রি রেজিম’) থাকতে দিতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে রাজি হয়েছে।

অর্থাৎ কি না, এই সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশের ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা ভারতে ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন থাকতে পারবেন- আবার অন্যদিকে ভারতের ওই বিশেষ ধরনের পাসপোর্টধারীরা বাংলাদেশেও ঠিক একই সুবিধা পাবেন।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র বা সরকারের যে পদাধিকারীদের কূটনৈতিক বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে বিদেশে সফর করতে হয়, তাদেরই এই ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ বা ‘অফিশিয়াল’ বা ‘সার্ভিস’ পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়ে থাকে। –




সাগর উত্তাল – খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন রাঙ্গাবালীর জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ইলিশের ভরা মৌসুমে ট্রলারশূন্য হয়ে গেছে বঙ্গোপসাগর। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়েছিলেন হাজার হাজার জেলে। কিন্তু তাদের মাছ না ধরেই ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা।

প্রবল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে উপকূলের চরমোন্তাজ, সোনার এলাকায় সব মাছ ধরা ট্রলার ঘাটে ফিরে এসেছে বলে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সাগর থেকে ফেরার সময় সোনার চর সংলগ্ন সাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ১৫ মাঝিমাল্লা নিয়ে জেলে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সব জেলেকে উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ট্রলারটি উদ্ধার করা যায়নি।

চরমোন্তাজ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো.কামাল ব্যাপারি জানান, ক্রমশই ফুঁসছে সাগর। সাগর উত্তল থাকায় ট্রলার নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে ফিরে আসছে। বর্তমানে সাগরে কোনো ট্রলার নেই। সাগর একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে।




পিরোজপুরে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে ভূমি অফিসে ছাত্ররা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর নেছারাবাদ ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে ভূমি অফিসে গিয়ে হাজির হলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা সদরের ভূমি অফিসে আকস্মিকভাবে হাজির হন তারা।

এ সময় ছাত্ররা ভূমি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি রোধে সচেতন করেন। এছাড়া জনগণের সঠিক সেবা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত জাতি উপহার দিতে ভূমি অফিসের কর্মকতা কর্মচারীদের প্রতি দাবি জানান।

সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও দালালে ভরে গেছে সমগ্র দেশ। ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্টার অফিস, বিআরটিএ অফিস, ভিসা অফিস, এলজিইডি অফিসসহ একাধিক দপ্তরে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা প্রদান করা হয় না। জনগণ অভ্যস্ত হয়ে গেছে ঘুষ দিতে কারণ তারা জানে ঘুষ ছাড়া কাজ আদায় করে নেয়া সম্ভব নয়। এই রেওয়াজকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়াই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। ভূমি অফিসে জনগণের সেবা সমূহের মধ্যে ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি খতিয়ান, ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড, আর এস খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ ও রেন্ট সার্টিফিকেট মামলার ক্ষেত্রে অনেক ঘুষ দিয়ে কাজ আদায় করে নিতে হয় এ বিষয়ে আমরা ভূমি অফিসের কর্মকতা কর্মচারীদের সতর্ক করেছি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেছারাবাদ উপজেলার সমন্বয়ক নওশাদ মাহমুদ বলেন, ভূমি অফিস একটা সময়ে ছিল ঘুষ-দুর্নীতির রসের হাড়ি। কিন্তু যেহেতু বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন পাশাপাশি সরকারি সকল দপ্তরের সংস্কারের কাজ চলছে তাই আমরা আজকে এই বার্তা দিতে এসেছি যে, কোন ধরনের অনৈতিকতা ছাত্রসমাজ মেনে নিবে না। প্রশাসনিক পর্যায়ে যারা আছে তাদের অবশ্যই অন্যায়ের বিরূদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কোনোভাবেই যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়।

আরেক সমন্বয়ক ও ছাত্র প্রতিনিধি নিয়াজ মাহমুদ বলেন, প্রত্যেক মানুষকেই ভুমি অফিসে তাদের প্রয়োজনে যেতে হয়। ইতঃপূর্বে নানা অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ জনগনের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিলো সকল সরকারি সেবায়। জনগণের এ হাহাকার সুশিক্ষিত শ্রেণির নাগরিকদেরও করতো বাকরুদ্ধ। আমরা চাই ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয় প্রভাবমুক্ত সরকারি সেবা। আরও চাই জনগণ যাতে নিজে সচেতন হয়েই এসব চাটুকারদের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সদরের ভূমি অফিসের তহসিলদার (ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) বরুণ কুমার কর বলেন, প্রতিটি দপ্তরে কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছাত্রছাত্রীদের মনিটরিংকে সাধুবাদ জানাই। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছে প্রয়োজনে তারা অফিসে এসে আমাদেরকে সহযোগিতা করবে এবং সরকারি পরিপত্রে উল্লেখিত টাকার অতিরিক্ত ফি না নিতে। আমরাও তাদেরকে জানিয়েছি অতিরিক্ত ফি কখনো গ্রহণ করব না।ছাত্র-ছাত্রীদের এই মহৎ উদ্যোগকে আমার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাগত জানিয়েছি।




সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা কমিটি ভেঙে দেয়া হলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকদের বেসরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০২৪ এর ৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হলো যে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি, মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার বা তার মনোনীত প্রতিনিধি ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।




ঝালকাঠিতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, বীজ সংকটের শঙ্কা

বরিশাল অফিস :: প্রযুক্তির উন্নয়নে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ হচ্ছে এখন। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষ করতে দেরি হয়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে বেশ কিছু আমনের বীজতলা। এতে বীজ সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বৃষ্টির পানি অনেকটাই আশীর্বাদ কৃষকের জন্য। কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে সেই আশীর্বাদ অভিশাপে রূপ নিয়েছে। অনেক বীজতলা বৃষ্টির কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যা রোপণের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষে আমন বীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছেন ঝালকাঠির কৃষকেরা। অনেকে আবার জমি থেকে বীজ তোলার পর রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রাকৃতিক পানির কারণে সেচে উৎপাদন করতে হচ্ছে না। ফলে খরচ কমেছে। কিন্তু সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। এ অবস্থায় সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলার দাবি তাদের।

ভালো লাভের আশায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও যেন ক্লান্তি নেই কৃষকের। এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে কৃষকের ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

কৃষক কামরুল হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে ধানের চারা রোপণের পর রাসায়নিক সারের প্রয়োজন। তখন ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সারের দাম বাড়িয়ে দেন। তখন দোকানে দোকানে ধরনা দিয়েও সার পাওয়া যায় না।

অপর চাষি আবদুল হাই জানান, কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে সারের দাম বাড়িয়ে দেন। এমন ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ বলে, সারের কোনো সংকট নেই। যা কৃষকের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে এ সংকট দূর করতে প্রশাসনকে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হচ্ছে। কৃষকের ধান উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগ পরামর্শ দেওয়াসহ বাজার মনিটরিংয়ে জোরদার ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে প্রশাসন। কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থাকবে। জেলার সব বীজতলা নষ্ট হয়নি। কয়েক জায়গার বীজ নষ্ট হয়েছে। তাতে বীজ সংকট হবে না।

 




বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে হিরন (৩০) নামে এক বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওমালা ও দাশপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হিরনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাশকর্মী মামুন ও হিরন ঘটনার দিন পটুয়াখালী থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাউফল আসার পথে নওমালা ও দাশপাড়া সীমান্ত এলাকায় ৫ জন অস্ত্রধারী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে হিরনকে কুপিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে বাউফল, দশমিনা থানার ওসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় দশমিনা উপজেলার ঠাকুরের হাট এলাকা থেকে প্রিন্স (২৩) ও সোহাগ (১৮) নামে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে। তাদের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়ননের সোমবাড়িয়রা বাজার এলাকায় ।

পটুয়াখালী বিকাশের ম্যানেজার গোবিন্দ চন্দ্রপাল জানান, দুপুরে পটুয়াখালীর একটি ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলযোগে বিকাশকর্মী হিরন ও মামুন এজেন্টদের মধ্যে টাকা বিতারণের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা হামলা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গেলে বিকাশকর্মী হিরনকে কুপিয়ে আহত করে।

বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।




বোর্ড সভায়ই পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন পাপন

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কেউ কেউ কিছু মুখরোচক গুজব রটানোর চেষ্টায় রত, কোনো প্রক্রিয়ায়ই যাদের বা যার বিসিবি সভাপতি হওয়ার সুযোগ নেই; যিনি বা যারা কোনোরকম হিসাব-নিকেশ আর আলোচনা-পর্যালোচনায় নেই, তাদের কারো কারো নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ একটি খবর ক্রিকেট পাড়ায় চাউর হয়েছে। তা হলো, আগামীকাল (২১ আগস্ট) বোর্ড সভা। প্রতিটি পরিচালককে সে সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ খবর এখন ‘টক অব ক্রিকেট এরিনা l

হঠাৎ কেন কী কারণে বোর্ড সভা? কে ডাকলো এই সভা? বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন লোকচক্ষুর অন্তরালে। শোনা যাচ্ছে, তিনি দেশের বাইরে। তাহলে বুধবারের বোর্ড পরিচালক সভা ডাকলেন কে? সভাপতির অনুপস্থিতিতে কোনো সহ-সভাপতিও নেই যে তিনি সভা ডাকবেন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কাল বুধবারের বোর্ড সভা কি নতুন কোনো জটিলতার উদ্ভব ঘটাবে? এতদিন যে ফারুক আহমেদের সভাপতি হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছিল, সেটা কি ঠিক থাকবে? নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডপ্রধান পদ থেকে পদত্যাগের যে খবর চাউর হয়েছে, সেটার সর্বশেষ অবস্থা কী? এসব কৌতূহলি প্রশ্ন এখন প্রতিটি ক্রিকেট অনুরাগীর।

বিসিবির ঊর্ধ্বতন মহলের নির্ভরযোগ্য সূত্রের সর্বশেষ খবর, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদই বিসিবির নতুন সভাপতি হচ্ছেন। তাকে সভাপতি করার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। বন্দোবস্তও সম্পন্ন। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারি বাকি।

ওদিকে নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডপ্রধান পদ থেকে পদত্যাগের খবরও মিথ্যা নয়। জানা গেছে, বুধবারের সভায়ই সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন পাপন।