বন্যায় বিপর্যস্ত ত্রিপুরা, ২০ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ত্রিপুরা। এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

২১ আগস্ট থেকে ত্রিপুরায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ফলেত্রিপুরার বিভিন্ন জেলা বন্যায় আক্রান্ত। সরকারি হিসেব অনুযায়ী আক্রান্ত প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে তাদের রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত তিনদিন অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এধরনের বৃষ্টিপাত আগে কখনো দেখিনি। বিশেষ করে গোমতী জেলা এবং তার আশপাশের এলাকায় গত তিনদিনে ৩৭৫ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। হঠাৎ এত বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং আমরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছি।’




আনন্দ মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ মনিরুল – অভাব-অনটনে দিন কাটছে পরিবারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন পটুয়াখালী ইসাহাক মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (১৯)। আনন্দ মিছিলে পুলিশের গুলিতে পিঠে গুলি লাগে মনিরুলের। এরপর থেকে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। বাবার অসুস্থতায় পড়াশোনার পাশাপাশি সীমিত বেতনে সেলসম্যানের চাকরি করতেন মনিরুল। তার বেতনের টাকাতেই চলত পরিবার। বর্তমানে মনিরুল চিকিৎসাধীন থাকায় অভাব-অনটনে দিন কাটছে তার পরিবারের।

আজ সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, মনিরুল পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ৪৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

মনিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের ঠ্যাংগাই গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী এসহাক মডেল ডিগ্রি কলেজের ২০২৫ ব্যাচের দ্বাদশ শেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভাব অনটনে বড় হওয়া একমাত্র ছেলে সন্তান মনিরুল পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে গত মে মাসে ঢাকা মিরপুর-১ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের আজাত এন্টারপ্রাইজে সেলসম্যান হিসেবে যোগদান করেন। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে পরিবারের খরচ বহন করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দিয়ে নেমেছিলেন রাজপথে।

টানা কয়েকদিন আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে মিরপুর-১ থেকে মিরপুর-২ নম্বর পর্যন্ত আনন্দ মিছিল বের হয়। এতে যোগ দেন মনিরুল। মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। আশপাশের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হলে মনিরুল পেছনে ফিরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই তার বাম পাঁজরে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ মনিরুলকে উদ্ধার করে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তী সময়ে মনিরুল গত ৭ আগস্ট বিকেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর, গুলিবিদ্ধ মনিরুলের চিকিৎসার সব খরচ বহন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গুলিবিদ্ধ মনিরুল বলেন, টানা কয়েকদিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা খুশিতে বিজয় মিছিল নিয়ে মিরপুর-২ এর কাছাকাছি গেলে পুলিশ আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। পিঠে গুলি লাগার পর আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে কয়েকজন ছাত্র ভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি বিজয় মিছিলে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি, সেটির বিচার চাই।

মনিরুলের বাবা মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। শারীরিক অসুস্থতার জন্য এহন ইনকাম করতে পারি না। এই ছেলের টাকায়ই সংসার চলে। গুলি খাইয়া পোলাডায় প্রায় ১৬/১৭ দিন যাবত হাসপাতালে। এ মাসে বাজারও হয় নাই। বিয়ার লাক দুইডা মাইয়া ঘরে, কী করমু বুঝতে পারতেছি না। সরকার যদি আমার পোলাডারে একটা কাম কাইজের ব্যবস্থা কইরা দেতে, তাহলে কয়ডা ডাইল ভাত খাইয়া বাঁচতে পারতাম।

মনিরুলের চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, তিনি গত ৭ আগস্ট থেকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। আমরা যখন জানতে পারি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আমরা তখন তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ ফ্রি করে দিয়েছি। হাসপাতালে থাকা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে ওনার ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




জাপা নেতা হাওলাদারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির বাড়িতে বৃহস্পতিবার হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। সরকার পতনের ১৭ দিন পর পরিবেশ যখন শান্ত হয়ে আসছে, তখন এ ধরনের হামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে রুহুল আমিন দম্পতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদ্য সাবেক পৌর মেয়র লোকমান ডাকুয়ার বিচার দাবিতে বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যৌথ সমাবেশ করে বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন। এতে নেতৃত্ব দেন চারদলীয় জোট আমলে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল হোসেন খান। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ জমাদ্দার, সদস্য সচিব নাসির হাওলাদার, জামায়াত আমির অধ্যাপক ফিরোজ আলম, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া প্রমুখ সমাবেশে বক্তৃতা করেন। এতে তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও যাননি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মোল্লার অনুসারীরা।

সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে ফেরার পথে একদল বিক্ষুব্ধ রুহুল আমিন হাওলাদারের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. লিটন জানান, বাসার ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেল, একটি পাজেরো গাড়ি, আসবাব ভাঙচুর ও মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীর দাবি, ১৫ আগস্ট পৌর মেয়র লোকমান ডাকুয়ার বাড়িতে নির্বিঘ্নে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি হয়। মূলত দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানকে ‘টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ’ করে আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আবুল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গুঞ্জন রয়েছে, বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতেই বৃহস্পতিবার আবুল হোসেন যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করেন। আর জাপা নেতা হাওলাদারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪ নিশ্চিত হতে পারেনি।

হামলার পর আবুল হোসেন খান ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাছির জমাদ্দার বাড়িটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের আবুল হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে হামলার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।’ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সভার পর স্থানীয় প্রশাসন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বৈঠক করে। এর পর তাদের ঘরোয়াভাবে কর্মসূচি পালনের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। এখানে ভিন্ন কিছু খোঁজার চেষ্টা অযৌক্তিক।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে মেয়র পদে থাকা লোকমান ডাকুয়া ছিলেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী। অর্থবিত্তে তিনি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। ১৬ বছর হাওলাদার পরিবার এমপি থাকলেও উপজেলায় সব দখল বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন লোকমান। মহাজোটের সমর্থনে হাওলাদার ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তাঁর স্ত্রী রত্না আমিন বরিশাল-৬ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মুখে পড়ে হাওলাদার পরিবার। পরে রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকী-মীর্জাগঞ্জ) আসনে মহাজোটের সমর্থনে এমপি হন।




আত্মগোপনে দুমকির তিন ইউপি চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানই আত্মগোপনে চলে গেছেন।

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজাহার আলি মৃধা ও পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অফিস করলেও বৃহস্পতিবার (২২আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় বাকি তিন জনকে পাওয়া যায়নি।

তারা হলেন – মুরাদিয়ার চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান শিকদার, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর, লেবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম তুহিন।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো শাহীন মাহমুদ বলেন, সবার সাথেই আমার যোগাযোগ(ফোনে) রয়েছে।
যেহেতু তিন জন (মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ) অফিস করছে না তাই তাদের আইডি নিয়ে নিয়েছি। বাকি দুইজন (শ্রীরামপুর, পাঙ্গাশিয়া) অফিস করছেন।




পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াছ এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও তার অপসরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।

বৃহস্পতিবার(২২আগস্ট) বেলা ১১ টায় লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। লাউকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় তার নিজ বাড়িতে বসে সরকারি চাল নিয়ে টালবাহানা, টিউবওয়েল স্থাপনের নামে অর্থ গ্রহন, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ, ইউপি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষদের মারধোর ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন দূর্নীতি ও অপরাধের একাধিক তথ্য মানববন্ধনে তুলে ধরে স্থানীয়রা।

এ সময় লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইলিয়াছ যে কত দুর্নীতি করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তার নামে গত বছরের মে মাসে এই ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যরা মিলে অনাস্থা প্রদান করে। তার পরে ডিসি সাহেবের মধ্যস্থতায় সবকিছু ঠিক করা হয়। সে সময় আমরা সবাই মনে করেছিলাম যে ইলিয়াস পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল ছিল।

তার মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে এই বছরের গত জুলাই মাসে আবারো অনাস্থা দেওয়া হয়েছে। তার মতো দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান এই ইউনিয়ন পরিষদে থাকতে পারে না।

মানববন্ধন শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকেই একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ইউনিয়নের প্রধান সড়কে প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।




রাশেদ খান মেনন গুলশান থেকে আটক




ভারতের ডম্বুর বাঁধে ঠিক কী হয়েছে?




হাসিনার পতনে দায়ী ‘গ্যাং অব ফোর’




কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল, ভারতে থাকতে পারবেন না হাসিনা!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার সব সদস্য এবং জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকা সমঝোতা অনুযায়ী হাসিনা এবং দেশত্যাগী অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনবিক্ষোভের জেরে গত ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বোন রেহানাকে সাথে নিয়ে বিমানে ঢাকা থেকে উত্তরপ্রদেশের হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে গেছেনন হাসিনা। সেই থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ তিনি ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি সরকার কিছু জানায়নি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। ভারত-বাংলাদেশ সমঝোতা অনুযায়ী কূটনৈতিক (ডিপ্লোম্যাটিক) বা সরকারি (অফিশিয়াল) পাসপোর্ট থাকলে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অন্তত ৪৫ দিন কোনো ভিসা ছাড়াই ভারতে অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করায় তার ভারতে অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

হাসিনার বোন রেহানার ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো কূটনৈতিক জটিলতা নেই। কারণ, তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। এর ফলে তিনি সাধারণ ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (ভারতের মাটিতে পা রাখার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের যে ভিসা মঞ্জুর করা হয়) অনুযায়ী কার্যত যত দিন খুশি, ভারতে থাকতে পারেন।

উল্লেখ্য, একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ইতিমধ্যেই ভারতকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্র ও আইন- এই দুই মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, তাকে এখন দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপ হাসিনাকে ‘প্রত্যর্পণের উদ্যোগ’ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত-বাংলাদেশের ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ অনুযায়ী হাসিনা ভারতে থাকতে পারবেন বলেই কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন। হাসিনার জমানাতেই ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে এই সমঝোতা সই হয়েছিল। সেখানে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে দেশত্যাগীদের ক্ষেত্রে দেড় মাসের বিনা ভিসায় অবস্থানের সুযোগ পুনর্বিবেচনার প্রসঙ্গ রয়েছে বলে ওই অংশের দাবি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 




মুস্তফা কামাল ও টিপু মুনশির ব্যাংক হিসাব জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত (জব্দ) করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্ত্রী কাশমিরী কামাল, দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামাল ও তাদের ব্যক্তি মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সকল ব্যাংক হিসাবের লেনদেন আগামী ৩০ দিনের জন্য জব্দ রাখতে হবে। অর্থাৎ আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন জব্দ করার এ সময় বাড়ানো হবে। সেইসঙ্গে এসব হিসাব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে কোনো লকার সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকলে তার ব্যবহারও ৩০ দিনের জন্য জব্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।

অপর চিঠিতে বলা, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্ত্রী আইরিন মালবিকা মুনশি, দুই মেয়ে তানিয়া অনন্যা মুনশি ও তৃসা মুনশি এবং তাদের ব্যক্তি মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সকল ব্যাংক হিসাবের লেনদেন আগামী ৩০ দিনের জন্য জব্দ রাখতে হবে। অর্থাৎ আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন জব্দ করার এ সময় বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে এসব হিসাব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।