বন্যাদুর্গত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিয়েছেন মসজিদে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত একটি গ্রাম চান্দেরবাগ। এটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী একটি গ্রাম। ওই গ্রামে ২৩০-২৫০ লোকের বসবাস, যার মধ্যে শুধু দু’টি পরিবার মুসলিম। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামটি ডুবে যায়। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এখানকার হিন্দুরা পার্শ্ববর্তী পিপড্ডা গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা থেকে আলাদা হওয়ায় গ্রামের লোকজন একটু অবহেলিত। তাদের পেশা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। টানা বৃষ্টি ও ডাকাতিয়া নদীর  পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামটি ডুবে যায়। গ্রামের লোকজন আশেপাশে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র না পেয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসজিদে অবস্থান করছে। আর কিছু লোক বিভিন্ন বাড়ির ছাদে রয়েছেন। সরকারি কোনো সহায়তা এখনো পাননি তারা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা গিতা রানী বলেন, সংসার জীবনে ডাকাতিয়া নদীতে পানি বাড়ে আবার চলে যায়। ওই গ্রামে রাস্তা সমান পানি হয়। কিন্তু কখনো ঘরে পানি ঢুকেনি। এবার পুরো গ্রাম ডুবে গেছে। কোনোরকম জীবন নিয়ে এই মসজিদে অবস্থান করছি। আশেপাশের কয়েকজন মানুষ শুকনো কিছু খাবার দিয়েছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি।

তিনি বলেন, আগ থেকে আমাদের গ্রামটি অবহেলিত। কিছুই বের করতে পারিনি। সব  পানিতে ডুবে গেছে। বাকিরা অন্যান্য স্থানে ছাদে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক পিপড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মজুমদার বলেন, বন্যা হলেই সবার আগে আমাদের এই গ্রাম ও চান্দেরবাগ পানিতে ডুবে যায়। এবারের বন্যা আমার বয়সে দেখিনি। পুরো তালাঘর সমান সমান পানি হয়ে গেছে। আমি ঘর নির্মাণ করার জন্য ইট, সিমেন্ট, বালু এনে রেখেছি। সব তলিয়ে গেছে। কিছুই রইল না। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে চান্দেরবাগ গ্রামের কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে মসজিদে থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি।




বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে গণবিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিল টি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিনিধি আল ইমরান, নজরুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, মাশরাফি কামাল, নাজমুল সাকিব প্রমুখ।

বক্তারা বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে খুলে দেয়া বাঁধের সামনে বাঁধ নির্মাণসহ সকল ভারতীয় পণ্য বর্জনের দাবি জানান। একইসাথে ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।




সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও টানা ৮ বারের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ওবায়দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাবেক চিফ হুইপ ও টানা আটবারের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ আওয়ামী লীগ নেতা আটবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে জয়ী হন তিনি।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩ তম অধিবেশনে এক নম্বর প্যানেল স্পিকার হিসেবে স্পিকারের আসনে বসে সংসদ পরিচালনাও করেছিলেন আ স ম ফিরোজ।




বন্যায় স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় কী?

চন্দ্রদ্বীপ স্বাস্থ্য ডেক্স :: ভারি বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি উঠায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে অতি দ্রুত। আর বন্যায় স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে উত্তেজিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিছু বিষয় অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থরক্ষার বিষয়টিও অনুসরণ করতে হবে।

১. বন্যার সময় পানির উৎস দূষিত হয়ে যায়। তাই পানি ভালোমতো ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করাসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর এই পানি ঢেলে আধা ঘণ্টা রেখে এরপর একটানা আধা ঘণ্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিলে সেই পানি খাওয়ার উপযোগী হতে পারে। ব্লিচিং পাউডার না থাকলে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে।

২. বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়রিয়া। এ জন্য খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। পায়খানা করার পর হাত একইভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা শুরু হলে পরিমাণমতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে।

৩. দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস না থাকলে বিকল্প হিসেবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

৪. বন্যায় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য আন্ত্রিক রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী। খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালাবাসন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালাবাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে পরিষ্কার পানিতে ধুলেও দূর হতে চায় না। তাই খাবার গ্রহণের আগে থালাবাসন পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

৫. বন্যার সময় মলত্যাগে সতর্কতা অবলম্বন খুব জরুরি। যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মলত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

৬. এ সময় সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকামাকড়ের কামড়ের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এ বছরের বন্যায় সাপের কামড়ে মারা গেছে অনেক মানুষ। এ ছাড়া পানির নিচে বহু বৈদ্যুতিক টাওয়ার, খুঁটি, ট্রান্সফরমার লাইনের তার ডুবে থাকে। এসব বৈদ্যুতিক লাইনের নিচ দিয়ে নৌকা বা ভেলা চালানোর ক্ষেত্রে বা চলাচলের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে।




পানিবন্দী ফেনীর লাখো মানুষ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে আসা পানিতে ডুবে গেছে ফেনীর সব উপজেলা। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার ফেনীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অথৈ পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, চাষের জমি, সবকিছুই। অনেক গ্রামে বাড়ির পর বাড়ি পড়ে আছে খালি। আবার কিছু এলাকায় আটকে আছেন বাসিন্দারা। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই তীব্র হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বুকসমান পানি। এ কারণে যান চলাচল করতে পারছে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। সোনাগাজী উপজেলার সব ইউনিয়নেও বন্যার পানি ঢুকেছে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ দুর্ভোগে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

আরও জানা যায়, বন্যাকবলিত প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বেশির ভাগ মোবাইল টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের টিম কাজ করছে। ফেনীতে অন্তত এক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি।’

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মঙ্গলবার থেকে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বেশির ভাগ এলাকার ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়। গত বুধবার থেকে ফেনী শহরের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরের নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। বৃহস্পতিবার শহরের বেশির ভাগ বাড়ির নিচতলা ডুবে যায়। ফেনীর সোনাগাজী, দাগনভূঞা এলাকার নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সকালে শহরে ঢুকতে চাইলেও পারা যায়নি। শহরের প্রধান সড়ক শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ট্যাংক রোডসহ প্রধান প্রধান সড়কের কোথাও কোমর পানি, কোথাও গলা পরিমাণ পানি। শুক্রবার সকালে অনেকে পরিবার নিয়ে ফেনী শহর ছাড়তে দেখা গেছে।

এদিকে ফেনীর লালপোল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পানি ওঠায় গতকাল থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ছাড়া সারা দেশের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে ফেনীর লেমুয়া পর্যন্ত এ সড়কে চট্টগ্রাম অভিমুখে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামমুখী অনেক যাত্রী বিশেষ করে নারী, শিশুরা অসহনীয় কষ্টে আছে।

গতকাল থেকে অনেকেই ফেনীর মহিপাল এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ রুম না পেয়ে হোটেলের বারান্দা, সিঁড়িতেও আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গতকাল থেকে এসব হোটেলের পানির সংকট শুরু হয়েছে। এদিকে ফেনীতে সুপেয় পানির সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার মহিপালের বেশির ভাগ দোকানেই পানির সংকট দেখা গেছে। অন্যদিকে পানির কারণে শহরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।




দেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি




রিজার্ভ পরিস্থিতি ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি বা রিজার্ভ পরিস্থিতি ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চিত রিজার্ভের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের মানদণ্ড বিপিএম-৬ মডেল অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া সরকারের যাবতীয় চলতি দায় ছাড়া ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ উন্নীত হয়েছে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে।

এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণেও সক্ষম হলো বাংলাদেশ। সংস্থাটির শর্ত ছিল আগামী সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ ১৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে ধরে রাখতে হবে। তার এক মাস আগেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাল দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ডলার-সংকট নিরসনে পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে পাচার ঠেকাতে পণ্যের মূল্য যাচাই, ঋণপত্র খোলায় মার্জিন বৃদ্ধিসহ কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং রপ্তানি পণ্যের সঠিক হিসাব নির্ণয়ের মতো সমন্বিত পদক্ষেপে ডলার সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এতে রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক ডলারের দামও চড়তে থাকে। অন্যদিকে চাহিদা মেটাতে আমদানি বৃদ্ধি এবং পরিস্থিতি সামলাতে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমানোর ফলে দেশে ডলারের সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে থাকে। দামও বাড়তে থাকে লাগামহীন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধাপ পার করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডলারকে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসে। এতে স্থানীয় বাজারে ডলার নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা দূর হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের হালে হাওয়া দিয়েছে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন। অনেক দিন থেকেই দেশে রেমিট্যান্স আসার প্রবাহ কম ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা মুখ ফিরিয়ে থাকা বাংলাদেশে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। ড. ইউনূস সরকারের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ, অনুদান ও এফডিআই আসার পথ তৈরি হয়েছে। এসবের ইতিবাচক একটা প্রভাব বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে পড়ছে।

এর ফলে যেখানে জুলাই মাসের হিসাবে চলতি দেনা বাদ দিয়ে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ছিল ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন  ডলার




পাঁচদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরেছে দুই হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ভল্টের একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা এলেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের চেষ্ট শাখায় জমা করতে হয়। সরকার পতনের পর কয়েকদিন নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছিল ব্যাংকগুলো। তবে গেল সপ্তাহের পাঁচ দিনে যত টাকা নিয়েছে, জমা করেছে তার চেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা হয় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত ১৮ আগস্ট তা ছিল ১০ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নোটস ইন সার্কুলেশন বা প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ কমে গতকাল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৯ কোটিতে নেমেছে। গত ১৫ আগস্ট তা ছিল তিন লাখ ২২ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

এর আগে সরকার পতনের পরদিন গত ৬ আগস্ট কারেন্সি ইন সার্কুলেশন ছিল তিন লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। আর সরকার পরিবর্তনের পর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৯ দিনে মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বেড়ে যায় ৬ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ।




বরিশালে জাপার রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবির মানববন্ধন-স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন শেষে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক এমপি দম্পত্তির বাসভবনে হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে তার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রত্মা আমিন।

তিনি জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মিছিল নিয়ে বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় পল্লি ভবনে ব্যাপক হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা ভবনের সামনে রাখা গাড়ি ভাঙচুর করে।

এরপর ভেতরে প্রবেশ করে সবকিছু তছনছ করে। ভবনের কেয়ারটেকারসহ নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৬ আনসার সদস্যকে মারধর করে আহত করে হামলাকারীরা।

তিনি আরও জানান, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করা কথাও জানিয়ে বলেন, হামলাকারীরা সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে। তাই হামলায় কারা জড়িত ছিল এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্মা আমিনের বাসভবনের হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান বলেন, আমরা একটা বিশাল প্রোগ্রাম করে ইউএনও অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। ইউএনও অফিসে থাকার সময় খবর পেয়েছি সাবেক এমপি দম্পত্তির বাসভবনে হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে। খবর পেয়ে সাথে সাথে ইউএনও এবং ওসিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। নিরাপত্তা প্রহরীসহ কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে শতাধিক অল্প বয়সীসহ বেশ কয়েকজন বয়স্ক লোক হামলা-ভাঙচুর করেছে। আমরা ইতোমধ্যে একজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

এদিকে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে উপজেলা বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনের সমন্বয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাহামুদুন্নবীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান।

বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ জোমাদ্দার, সদস্য সচিব নাসির হাওলাদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামির আমির অধ্যাপক ফিরোজ আলম, সেক্রেটারি সম্পাদক মাওলানা আবুল হোসেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহামুদুর হাসান জাহাঙ্গির প্রমুখ।

পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহিন তালুকদারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়।




সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে উল্টে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে মো ফানু (৪৫) এবং একই গ্রামের হেরাস আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক খুদু (৪৭)।

এলাকাবাসী জানায়, শাহাবাজাপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর থেকে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি বারিকবাজার যাওয়ার পথে সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি অপর আরেকটি নসিমন গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে ওই ট্রাকে থাকা দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তাতে ওই ট্রাকে থাকা ৬ শ্রমিকের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তার আগেই স্থানীয়রা নিহতদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে ওই ট্রাকের চালক ও হেলপার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর হবে।