কলাপাড়ায় চেয়ারম্যানের আধিপত্যে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া আধিপত্যে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ ওঠে কলাপাড়া ১নং চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর হাওলাদার এর বিরুদ্ধে। সে ও তার ভুমিদস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা মুল্যের ২০০ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চাকামাইয়া ৯নং ওয়ার্ডের কাঠাল পাড়ার মোঃ এনামুল হক তালুকদার (নাসির) ১০ জুন চেয়ারম্যন মজিবুর এর বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া কলাপাড়া নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট দ্প্তরে অভিযোগের অনুলিপি পেশ করেন।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান মজিবুর হাওলাদার সরকার পতনের দিন ৫ আগষ্ট রাতে পূর্বের দখলকৃত জমির পরও নতুন করে আরও ব্যপক জমি দখল করেন এবং এলাকা বাসির ২২ টি গরু লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী আরো বলেন, ঘোষণা দিয়ে লোকজন নিয়ে তিনটি ট্রাক্টর চালিয়ে জমিগুলোর আইল ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছেন। ঔ রাতেই তার এলাকার মাছের ঘের থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় ।

এর আগেও ২০২২ সালের ২৮ জুলাই চেয়ারম্যান মজিবুর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা মাছ লুটপাটের অভিযোগে ভুক্তভোগী স্থানীয় সরকারী আবাসনের নারী-পুরুষরা সংবাদ সম্মেলন করেন যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এনামুল হক নাসিরের লিখিত অভিযোগে জাানা যায়, চাকামাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর হাওলাদার ও তার নিয়ন্ত্রাধীন একটি শক্তিশারী ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট রয়েছে। জুলফিকার আলী তালুকদার ওয়াকফাহ এস্টেট সম্পত্তি (ওয়াক্ ফ ইসি নাম্বার,৪২৯৭) । যাহার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তালুকদার নাসির। ৩৫০ নং৷ খতিয়ানভুক্ত যাহার দাগ নং ৩০২২, ২৯৪৪, ২৯৪৫, ৩০২০, ২১৩ ও ২১৪ যেখানে ৩৩০৭ একর জমি রয়েছে। জমিগুলোর বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। বৈধ কাগজপত্র যাচাই শেষে জমিগুলোর মুল মালিকদের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি করে যথারীতি খারিজ সম্পন্ন করে খাজনা পরিশোধ করেছেন নাসির। চাষাবাদের সুবিধার্থে সম্প্রতি তিনি জমিগুলোর আইল সংস্কার করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করেন। যেগুলো বর্তমানে মজিবর দখল করে রেখেছে। ওই দাগের মধ্যে ৫০-৬০ বছরের পুরানো একটি সুইচগেট রয়েছে। যেখানে মজিবুর এর মদদে কতিপয় ভূমিদস্যু ও জলদস্যু সুইজগেট এর আশেপাশে ঘরবাড়ি তৈরি করে নিয়মিত গেটের মুখে জাল ফেলে মাছ ধরে। কেন ওয়াকফাহ স্টেটের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুইচ গেটে জাল ফেলে আটকে মাছ ধরে জানতে চাইলে নাসিরকে প্রাণ নাসের হুমকি দেয় ।

জমির মালিক নাসির তালুকদার অভিযোগে বলেন, জমি দখলে আমি বাধা দিতে গেলে মজিবুর চেয়ারম্যান আমাকে বলেন, আমি যা বলব সেটাই হবে। এই জমি আমি পুরোটাই দখলে নিয়ে যাবো পারলে ঠেকাও, আমাকে অস্ত্র নিয়ে তাড়া করলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে পটুয়াখালীর ফায়ার সার্ভিস রোডের বাসায় আশ্রয় নেই।

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান মজিবুর এলাকার বাহিরের কেহ জমি কিনলে সেখানে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে টাকা পয়সা আদায়ের চেষ্টা করেন। নিজের জমির কাছে কাউকে ভিরতে দেয় না। জমি দখলের জন্য মজিবুরের একটি ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট আছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর হাওলাদার বলেন, কাঠালপাড়া আমার কোন জমি নাই। নাসিরের জায়গা কারা দখল করেছে জানি না। নাসির তালুকদার ওখানে কিসের জায়গা পাবে? তারও এখানে কোন জায়গা নেই।

অভিযোগ পেয়ে কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।




ভারত কি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য?




রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট : বাংলাদেশের লিড, ডাবল সেঞ্চুরির ঘ্রাণ নিয়ে চা বিরতিতে মুশফিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের ইচ্ছেমত ইনিংস সাজাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দেড়শ রানের ঘর পেরিয়ে মুশফিক পা বাড়িয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির পথে। এ পথে তাকে সাহায্য করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ব্যাটারও এরইমধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। এক ইনিংসে যা বাংলাদেশের পঞ্চম ফিফটি।

চতুর্থ দিনের চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৯৫ রান। ১৭৩ রানে উইকেটে আছেন মুশফিক। অন্যদিকে ৫০ রানে ব্যাট করছেন মিরাজ। দু’জনেই দলকে বড় লিডের পথে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। কোথায় গিয়ে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে সেটায় এখন দেখার বিষয়।

এর আগে, ১৩২ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৪ রান যোগ করে ৫৬ রানে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন দাস। ফিরতে পারতেন মুশফিকও। তবে আম্পায়ারের লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।

এরপর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরি আদায় করে বাংলাদেশকে পথ দেখান মুশফিক। সেঞ্চুরি আদায় করে মুশফিক টপকে যান তামিম ইকবালকে। তামিমের ১০ টেস্ট সেঞ্চুরির বিপরীতে মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১১টি। এছাড়াও বিদেশের মাটিতে তামিমের ৪ সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ৫টি।

এদিন মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মিরাজ। মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ে তুলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে টানছেন তিনি। তার সঙ্গ পেয়ে তৃতীয় চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির পথে রয়েছেন মুশফিক।




বন্যায় ৪৯ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মারা গেছেন ১৮ জন




পটুয়াখালী, দুমকি উপজেলা উন্নয়নের একজন রুপকার শ্রদ্ধেয় এম কেরামত আলী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জনাব এম কেরামত আলী একজন কিংবদন্তি একজন মহানায়ক একজন আদর্শ ও সাদামনের মানুষ ছিলেন।

তার সম্পর্কে অজানা কিছু মূল্যবান তথ্য :

জনাব এম. কেরামত আলী পটুয়াখালী জেলাধীন দুমকি উপজেলার দুমকি গ্রামে ০১ জানুয়ারী ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম আইজ উদ্দিন মৃধা, মাতার নাম মরহুমা আপতুন নেছা খাতুন।

শিক্ষাজীবন :

অত্যন্ত মেধাবী ও সৃজনর্ধমী মননশীলতার অধিকারী মোহাম্মদ কেরামত আলী ছাত্রজীবনে ক্লাশে প্রথম স্থান লাভ করতেন। বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যায়নকালে তিনি শিষ্টাচারের জন্য “রানীগুপ্ত র্স্বনপদক” এবং ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় বাংলায় পথম স্থান অধিকারের জন্য “যোগেশচন্দ্র” পদক লাভ করেন। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমগ্র বাংলা ও আসামের মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ৫টি লেটারসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। চাকুরী জীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও লাহরে উচ্চতর প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি ওয়াশিংটন, মস্কো, টোকিও ও টগোতে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ আয়োজিত সেমিনার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোর্সে অংশ গ্রহন করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে ফেলোশীপ লাভ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষন কোর্সে তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।

চাকুরী জীবন :

১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্থানের প্রথম ব্যাচের সি এস পি অফিসার হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন।
চাকুরী জীবনে তিনি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রনালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির মূখ্য সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ
প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সিভিল সার্ভিসের সবোর্চ্চপদ মন্ত্রীপরিষদ সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন। চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর তিনি বার্মা ও
ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্টদূত হিসাবে
দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন :

ছাত্র জীবনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। কলকাতায় অধ্যায়নকালে
তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাস “জিন্নাহ হল” এর নির্বাচিত জি এস ছিলেন।
১৯৯১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি যথাক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড:

তিনি ১৯৬৯ সালে ১ জানুয়ারী পটুয়াখালী মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করেন, বরিশাল শের- ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, বরিশাল বিমান বন্দর, ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক, খেপুপাড়া রাডার স্টেশন, পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ টেলিভিশন রিলে স্টেশন, পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল, লঞ্চঘাট, পুলিশ লাইন ,পটুয়াখালী সার্কিট হাউজ,সোনালী ব্যাংক ভবন ও পটুয়াখালী কালেক্টরেট ভবন স্থাপন করেন। দুমকীতে কৃষি কলেজ (বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) , জনতা কলেজ, দুমকি নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুমকী আপতুননেছা খাতুন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,দুমকী আপতুননেছা খাতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, টি এন্ড টি, সাব-পোস্ট অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, মডেল পাঠাগার এবং দুমকি থানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় তার অবদান রয়েছে । তিনি শিক্ষানূরাগী, প্রশাসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে সকলের প্রিয়পাত্র ছিলেন।

মোহাম্মদ কেরামত আলী স্যার ৪ জুন ২০০৪ খ্রীস্টাব্দে পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীতে ইলিশের দাম চড়া

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি হবে – এমন খবরে স্বস্তি মেলেছে কম আয়ের মানুষের। তাদের আশা ছিল সাধ্যের মধ্যে আসবে দাম, পাতে উঠবে সুস্বাদু এই মাছ। কিন্তু সেই আশা নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখা যায় উল্টো চিত্র। একদিকে সরবরাহ কম, অন্যদিকে দামও নাগালের বাইরে। ফলে দাম শুনেই কপালে ভাঁজ পড়ছে ক্রেতাদের।

মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর নদী ও সাগর তীরবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলার সদরের প্রাণকেন্দ্র বাহেরচর বাজারে ইলিশ নিয়ে এসেছেন তিনজন বিক্রেতা। হাতে গোনা তাদের কাছে এক কেজি বা তার চেয়ে কম ওজনের ৫-৬টি ইলিশ দেখা গেছে। বাকি সব জাটকা। চাহিদার তুলনায় তাও কম। তাই দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। জাটকা (২০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে। এক কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশের দাম ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত হাকছেন বিক্রেতা।

ইলিশ কিনতে বাজারে এসে চড়া দাম দেখে অনেকেই অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদেরই একজন সিদ্দিক হোসেন। পেশায় কৃষক।

সিদ্দিক বলেন, ‘ইলিশ মাছ কিনতে আসছিলাম। যে দাম, কেনার অবস্থা নাই। তাই অন্য মাছ দেখছি।’

মিরাজ নামের আরেকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময় জাটকার কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বড় ইলিশ কেজি ছিল হাজারের মধ্যে। আর এখন যে দাম, এতে গরিবের পাতে ইলিশ উঠবে না।’

বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ও বঙ্গোপসাগরঘেঁষা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজারে কোনো ইলিশ ওঠেনি। মাছ কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন ফরিদ উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা।
তিনি বলেন, ‘সাগরপাড়ের এলাকায় থেকেও ইলিশ খাইতে পারি না। বাজারে পাঙ্গাশ, চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ওঠে। কিন্তু ইলিশ পাই না। ঘাটে গিয়ে দুই-একজনে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনে; তাও দাম বেশি।’

অথচ ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তবুও নদ-নদীতে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমুদ্রে যাওয়া জেলেদের জালে গত কয়েকদিন ধরে মোটামুটি ভালোই ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু বড় ইলিশ তুলনামূলক কম হলেও ছোট ইলিশ এবং জাটকা পরিমাণে বেশি। জালে উঠছে অন্যান্য মাছও। তবুও স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম।

এর কারণ খুঁজতে গেলে জানা যায়, সমুদ্রগামী বেশিরভাগ জেলে-ট্রলার মালিকরা পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরের মহাজনদের কাছ থেকে দাদন এনে ব্যবসা করেন। এ কারণে মহাজনদের মালিকানাধীন কিংবা তাদের
নির্ধারিত মৎস্য আড়তেই মাছ বিক্রি করতে হয় তাদের। তাই সাগর থেকে মাছ ধরে সরাসরি মৎস্য বন্দরে নিয়ে যান জেলেরা। এ কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে সাগরের ইলিশ সরবরাহ নেই বললেই চলে।

খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, নদ-নদীতে ক্ষুদ্র জেলেদের ধরা ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে হাত বদলে বাজারে ওঠে। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম নাগালের বাইরে- বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বাহেরচর বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মিরন আকন বলেন, আমরা যে দামে কিনি, সীমিত লাভেই বিক্রি করি। কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা লাভ হয়। জেলেরা মাছ বেশি পেলে দাম কমবে যাবে। তখন আমরাও কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারব।

তবে জেলে পর্যায় থেকে ইলিশের দাম কেন কমছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেদের বরাত দিয়ে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, ‘ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন। সেক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। মাহজনের দাদন, ঋণের কিস্তি এবং পরিবারের খরচ মেটাতে হয় জেলেদের। সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে এলে জেলেরাও কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারবে। আর অন্য কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে না এনে মাছের দাম কমালে জেলেরা তো না খেয়ে মরতে হবে।’

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ইলিশ যে ধরা পড়ছে, বিষয়টা এমন নয়। নদ-নদীতে ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। এর পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরেও ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি-বৈরী আবহাওয়া শেষে জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে। জেলেরা লাভবান হবেন। তখন দামও কমবে। কিন্তু নিত্যপণ্য এবং জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে মাছের দাম কমালে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি’র আহবায়ক কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকার পতনের পর নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে ’ বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। কার্যক্রম পরিচালনাও স্থবিরতা দেখা দেয়। সমিতির কার্যকরী পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনুপস্থিত থাকায় যাত্রী সেবা ও সমিতির কর্মকান্ড পরিচালনায়ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ-মুহুর্তে সমিতির সদস্যদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত হয় ৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটি।

আর নব-গঠিত এ কমিটির নেতৃবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বাভার গ্রহণ করেন। একই সাথে যাত্রী সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে সমিতি পরিচালনায়ও ঐক্যমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধ হন তারা।

নব-গঠিত আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক পদে মনোনীত হন বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার। ইতিপুর্বে তিনি এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সমিতি’র একজন প্রবীণ সদস্যও তিনি।

৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন-এইচ. এম.এ মান্নান, নাসির মৃধা, মোঃ মোশারেফ হোসেন সান্টু, মোঃ আল আমিন হোসেন, মোঃ নুরুজ্জামান দোলন, মোঃ তাজুল ইসলাম নান্না। গত বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের উপস্থিতিতে সমিতি’র প্রধান কার্যালয় রুপাতলিস্থ পটুয়াখালী সড়কে আল-নসিব ম্যানশনের তয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নব-গঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্যরা। শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার প্রারম্ভ হয়।

এরপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ। এসময় বাস-মালিকরা নব-গঠিত কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একইসাথে সমিতি’র কার্যক্রম যথার্থ পরিচালনায় মতামত পেশ করেন তারা। শপথ গ্রহণ করে মনোনীত আহবায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার তার ওপর আরোপিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন ও সমিতি’র উন্নয়নে তার ঐকান্তিক প্রচেস্টা অব্যাহত -পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

এদিকে এর আগে গত ৮ আগস্ট সমিতি’র সাম্প্রতিক সংকট বিবেচনায় তা থেকে উত্তোরণে সদস্যদের উপস্থিতিতে জরুরী বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৯০ সদস্যের মধ্যে ৮০ জন সদস্য অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এইচ.এম.এ মান্নান। সভাটি সামগ্রিকভাবে পরিচালনা করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়া উদ্দিন সিকদার।

সভায় সভাপতি সমিতির মালিকবৃন্দের ব্যবসায়িক দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে সমিতি পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মালিকবৃন্দের জোড়ালো দাবীর প্রেক্ষিতে জরুরী বর্ধিত সভার আয়োজনের বিষয়টি সকলকে অবহিত করেন। একই সাথে করণীয় শীর্ষক সদস্যদের পক্ষ থেকে মতামত তুলে ধরার আহবান জানান। সভায় সমিতি’র কার্যক্রম স্থবিরতায় কথা বিবেচনায় বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১জন আয়বায়ক মনোনীত করে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখেন নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

এরই ধারবাহিকতায় ৭ সাত সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের মতামত প্রদান করেন তারা। এছাড়া আহবায়ক পদে জিয়াউদ্দিন সিকদারের পক্ষে সমর্থন জানানো হয়। দাবির প্রেক্ষিতে সকলের মতামত অনুযায়ী সভায় সমর্থন গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত হয়। সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাত সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়।




বাংলাদেশ সফর বাতিল করল নিউজিল্যান্ড দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্ষমতার পালাবদলের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এবার বাংলাদেশে নিজেদের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড এ দল।

আগামী সেপ্টেম্বরে দুটি চারদিনের ম্যাচ ও তিন ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল কিউই এ দলের। ম্যাচগুলো হবার কথা ছিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তবে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। তাই সফরটি বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড এ দল।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস সিরিজে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভ্রমণে সতর্কতা থাকায় বোর্ডের কিছু করার থাকে না। এটি রাষ্ট্রীয় বিষয়। ওদের সঙ্গে আলাপ করছি। আশা করছি, অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে সিরিজ আয়োজন করতে পারব।




অবশেষে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেলেন লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশও তাকে খেলানোর ব্যাপারে সদিচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হামজা চৌধুরী পাসপোর্টের আবেদন করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছিলো।

অবশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আর বাধা থাকছে না হামজা চৌধুরীর। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলারের বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়েছেন। শুক্রবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হামজা চৌধুরীর বাবা মোরশেদ দেওয়ান।

এর আগে হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন গত জুন মাসে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁর পাসপোর্ট এসে গিয়েছিল মাসখানেক আগেই। কিন্তু লেস্টার সিটির হয়ে প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টটা গ্রহণ করতে পারছিলেন না হামজা। অবশেষে শুক্রবার হামজার পক্ষে পাসপোর্টটি গ্রহণ করেছেন তাঁর মা রাফিয়া চৌধুরী।

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন—এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) হামজাকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হামজার বাংলাদেশি পাসপোর্ট করানো। এখন ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর লাগবে তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটির অনুমতি।




বন্যার্তদের সহায়তায় রাজনৈতিক-ধর্মীয় পরিচয় না দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে মানুষে হিংসা-বিভেদ তৈরি করেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, এক ভিডিও বার্তায় ‘আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা চাইলে সাধ্যমতো সহায়তা করবেন।’

দেশবাসীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে আল্লাহর রহমতে অবশ্যই এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে।’

বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনো কারণে নয়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূল কারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা।