বাংলাদেশিদের কাছে ইলিশ চেয়েও পাচ্ছেন না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আসন্ন দূর্গাপুজায় এবার ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে না। এতে করে পশ্চিমবঙ্গে জনপ্রিয় পদ্মার ইলিশের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। তারা বলছে, বাংলাদেশের জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ইলিশ পাওয়ার ব্যাপারে কোনো আশা দেখছেন না সেদেশের মৎসজীবীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সঙ্গে পশ্চিমঙ্গের একাধিক মৎস্যজীবী ইলিশ মাছের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু কেউ কথা দিতে পারেননি পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ পাঠাতে পারবেন।বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ না পাওয়া গেলেও গঙ্গার ইলিশ মাছ মিলবে সেখানে।

আগামী মাসের শুরুতে দুর্গাপুজে। বিগত বছরগুলোতে পুজার আগে বাংলাদেশ থেকে পদ্মার ইলিশ রপ্তানি করা হতো ভারতে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়ে দিয়েছেন, এবার দুর্গাপুজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হবে না। তিনি বলেছেন, ‘‌বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পর পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। বাংলাদেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর সেটা রপ্তানি হবে এটা হতে পারে না। তাই এবার দুর্গাপুজোয় ভারতে যাতে ইলিশ মাছ না যায় তার জন্য আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছি। অবৈধ পথেও যাতে ইলিশ মাছ যেতে না পারে তাই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কঠোর থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছি।’‌

এই খবরে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মন খারাপ বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুজায় পদ্মার ইলিশ মাছ খাবে এমন একটা সৌখিনতা বরাবরই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির। তাই দুর্গাপুজার সময় বাজারে গিয়ে পদ্মার ইলিশ মাছের খোঁজ করেন তারা। তবে এবার আর খোঁজ করে লাভ হবে না। কারণ বাংলাদেশ এবার আর ইলিশ ভারতে পাঠাচ্ছে না।

আর কোনোভাবে যদি অবৈধ পথে ইলিশসেখানে যায়ও, তার দাম আকাশছোঁয়া হবে। সুতরাং কোনওভাবেই পদ্মার ইলিশ মাছ খেতে পারবেন না বাঙালিরা।




৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান শেষে অবসরে গেলেন বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন

বরিশাল অফিস :: ১৯৯১ সনে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপরে ২০১১-২০১৬ বরিশাল জিলা স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সনে শুরু হওয়া নতুন স্কুল রুপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (যাহা পরবর্তীতে শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামকরণ হয়) এর প্রধান শিক্ষক হন।

২০১৬-২০২৩ রব সেরনিয়াবাত স্কুলে সফলতার সাথে দাযিত্ব পালন শেষে ২০২৩ এর ১ অক্টোবর বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান, সেখানে ১১ মাস ৪ দিন চাকুরী শেষে অবসরজনিত ছুটিতে গেলেন।

কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্থানেই পাপিয়া জেসমিন তার কর্ম নিষ্ঠা আর সততার স্বাক্ষর রেখেছেন , যে কারনে নগরীতে একজন আদর্শ ও ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও মহিলা পরিষদ নেত্রী।




কলাপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল মিয়ার পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বেলা ১১ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় চেয়ারম্যানের আধিপত্যে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

এসময় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক শাহজালাল নিয়োগ বানিজ্যসহ নানান অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করে দিচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জানান, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগের চেষ্টা করছে একটি মহল।




‘বিএনপি ভোট দেওয়ার অধিকার দিলেও আ.লীগ কেড়ে নিয়েছে’ : এবিএম মোশাররফ হোসেন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

বুধবার বিকেলে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবার অধিকার ফেরত দেব। ২০০৪ সালে ২ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কলাপাড়ায় এসেছিলেন। উপজেলায় ২টি সরকারি হাসপাতাল বেগম খালেদা জিয়া করেছেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি, তিনি অনেক জুলুমের শিকার হয়েছেন তবুও এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে পালিয়ে যাননি।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি

তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের নেত্রী কোথায়? এমন নেত্রীর রাজনীতি না করাই ভালো, যে নেত্রী দেশ ছেড়ে পালায়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউরের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক মো. সাইদুর রহমান সোহেল, মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান পারভেজ, ও সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক গাজী ও সাধারণ সম্পাদক মুছা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার প্রমুখ।




বাপিডিপ্রকৌস’র বরিশাল জেলা নির্বাহী কমিটি গঠন

সভাপতি- সেলিম তালুকদার

সম্পাদক- মাহবুব হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (বাপিডিপ্রকৌস) বরিশাল জেলা নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টম্বর) নগরীর বান্দ রোড পূর্ত ভবন চত্বর সংগঠন কার্যালয়ে জেলা কমিটির এক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়।

নব গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি হলেন- মোঃ সেলিম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন হাং, যুগ্ম-সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, অর্থ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আসলামুল কবির, প্রচার সম্পাদক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতি ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক উজ্জ্বল চন্দ্র ব্যাপারী সহ কাউন্সিলর-১ আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও কাউন্সিলর- মোঃ মামুন রাড়ী।

বরিশাল জেনিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।




সচিবদের যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে সকল পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে সচিবদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সকল পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ প্রদান করতে হবে। সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করতে হবে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন মানবিক দেশ গড়ার যে প্রত্যয়, যে ভয়হীন চিত্ত আমাদের উপহার দিয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে বিবেক ও ন্যায়বোধে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন,‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য গৎবাঁধা চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে, চিন্তার সংস্কার করে, সৃজনশীল উপায়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে, সেবা সহজিকরণের মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ক্রয়ে যথার্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দুর করতে হবে।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,‘সৃষ্টিশীল, নাগরিকবান্ধব মানসিকতা নিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দাখিল করবে, যা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্ট নতুন বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আগ্রহ ও ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, দেশের স্বার্থে তা সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগাতে হবে।’

গত ৮ অগাস্ট নোবেল জয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই যাত্রায় ইউনূসের সঙ্গী হয়েছেন ২০ জন উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা মোট ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজের হাতে রেখেছেন।




পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হোন্ডা মহড়ায় আগ বাড়িয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চার নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে একই (বিএনপি) দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় নোমরহাট মুন্সিরস্ট্যান্ড এলাকার এ ঘটনা ঘটনা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতরা হলেন- কোন্দলে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি গাজী মাইনুল ইসলাম মিরন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী মেহেদী হাসান, ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান জয় ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী বাহারুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ধানখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলমগীর হাওলাদারকে দায়ী করেছেন আহতরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ১৪৫০ ফুট কাঁচা সড়ক, শতাধিক পরিবারের ভোগান্তি

আহত গাজী মাইনুল ইসলাম মিরন বলেন, নোমরহাট হয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। এমন সময় পথিমধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হাওলাদারের নেতৃত্বে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা, পিন্টু গাজী, ইলিয়াস মৃধা, জহিরুল মৃধা, মাসুম বিল্লাহ, সজিব মুন্সী, কালাম প্যাদা, তুষার মৃধাসহ ২০-২৫ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি মৃত ভেবে তাকে কচুরিপানা ভর্তি ডোবায় ফেলে চলে যায় অস্ত্রধারীরা।

তবে বিএনপি দলীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা হোন্ডা মহড়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে অভিযুক্ত আলমগীর হাওলাদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, স্থানীয় কোন্দলের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা আহতদের খোঁজ নিয়েছি। তদন্ত করে দলীয়ভাবে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আন্দোলনের মুখে সাভারের ৬০ পোশাক কারখানা বন্ধ




যেসব কারণে গোলাম মাওলা রনিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নিয়োগের বিরোধিতা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছিলেন পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি। তার ওই স্ট্যাটাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। তারা রনির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

ওই ঘটনার পর সম্প্রতি রনির সমালোচনা করে একটি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইউটিউবার ও বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। সেখানে রনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধর, রাজনৈতিক দল পরিবর্তন, আওয়ামী লীগের এমপি হওয়ার পর দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগ আনেন প্রবাসী এই সাংবাদিক।

ইলিয়াসের ওই ভিডিওটি নজরে আসলে পরদিন ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন গোলাম মাওলা রনি। সেখানে ইলিয়াসের কোনো অভিযোগের জবাব দেননি রনি। তবে নাম বিকৃত করায় ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপি।

রনির ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর নেটিজেনরা তার সমালোচনা শুরু করেন। তারা রনিকে ইলিয়াসের অভিযোগগুলোর যুক্তি খণ্ডনের আহ্বান জানান।

গোলাম মাওলা রনির উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজন লেখেন, ‘সাংবাদিক ইলিয়াসের ওই রিপোর্টের অভিযোগগুলোর যুক্তি খণ্ডন করুন, নইলে পণ্ডিতগিরি বাদ দিন’।

আরো পড়ুন – পটুয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই

আল মামুন নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘নামের ভুলটাই চোখে পড়ল। আপনার ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ করল, পারলে সেগুলো খণ্ডন করুন’।

ফিরোজ আকন্দ বলেছেন, ‘খালি বিচার দিলে হবে। উনি (ইলিয়াস) যে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন, সে সব বিষয়গুলোতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে হবে। তারপর অভিশাপ দিতে হবে’।

সুমাইয়া সিদ্দিকা বলেছেন, ‘বাহ, শুধু নাম বিকৃত ছাড়া তার আর কোনো অভিযোগ নেই। মানে বুঝতে পারছেন সবাই। ওগুলো সবই সত্য, তাই উনার আর কী করার আছে। (শকুনের অভিশাপে গরু মরে না)’।

মমিনুর রশিদ লিখেছেন, যতকিছুই হোক, রনি ভাই কিন্তু আওয়ামী লীগকে মিস করেন। কারণ তিনি কট্টর আওয়ামীপন্থি।

নুরুদ্দিন রিয়াজ বলেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন ছাত্র-জনতা, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে ভিসি পদে থাকবে আর কে নিয়োগ পাবে। আপনি মানার কে? আর না মানারই বা কে? আপনি আওয়ামী লীগই রয়ে গেলেন। মানুষ আর হতে পারলেন না।

উল্লেখ্য, রনি এক সময় আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত করে দল ছাড়েন। পরে বিএনপির হয়ে জাতীয় নির্বাচন করেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন টকশোতে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সমালোচনাও করেন তিনি। এছাড়া পত্র-পত্রিকায় এ সম্পর্কিত তার অনেক কলাম ছাপা হতো। যে কারণে সাধারণ মানুষের কাছে রনি অনেক জনপ্রিয় পেয়ে ছিলেন।




নাব্য সংকটে রাঙ্গাবালীর ‘গহীনখালী’ খাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরে অবস্থিত ছোটবাইশদিয়া ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ গহীনখালী খালটি এক সময়ে তীব্র খরস্রোতা ছিল। সুপ্রশস্ত এ খালটির গভীরতাও ছিল অনেক। তখন এ খালের মধ্যে দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করত যাত্রীবাহী বড় লঞ্চ। আজকাল বড় লঞ্চ তো দূরের কথা, ছোট ট্রলারই যেতে পারে না। ভাটার সময় জেগে ওঠে খালের তলদেশ। হেঁটে পার হওয়া যায় এপার-ওপার। দিনদিন পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খালটি নিজস্ব রূপরেখা হারাতে বসেছে।

এলাকাবাসীর দাবি অচিরেই খালটি খনন করা হোক। ফিরিয়ে আনা হোক আগের সেই বড় লঞ্চ চলার মতো অবস্থা। ‘গহীনখালী’ খালের নাব্য সংকটের প্রভাব নানাভাবে পড়ছে উপজেলায় জীবনধারায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে। ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্য সংকটের ফলে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। রাঙ্গাবালী উপজেলা খাদ্যগুদামের খাদ্যশস্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমে দারছিড়া নদী আর পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়েছে খালটি। দেড় যুগ আগেও ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌরুটে এমভি সালাউদ্দিন, এমভি বেলায়েত ও গ্লোরী অব শ্রীনগর নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করত। খালের দুই পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়নের সৃষ্টি হয়ে খালের প্রস্থ কমে যাওয়ার ফলে পলি জমে খালের নাব্য সৃষ্টি হয়। এরপরে কয়েক বছর ছোট লঞ্চ চলাচল করলেও সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। এখানকার ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার পাশাপাশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল পরিবহনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভরা জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয় বড় নদীতে।

বাহেরচর বাজার ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ‘আমাদের উপজেলাটি চারদিকে নদী আর সাগর বেষ্টিত হওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। উপজেলার মানুষের চলাচল নৌপথ-নির্ভরশীল। রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাহেরচর বাজার। মালামাল পরিবহনের জন্য জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।

রাঙ্গাবালী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি অর্থবছরে রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক ট্রন খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। খালটির নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় শুকনো মৌসুমে পণ্যবাহী জাহাজ আসা ও যাওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিনি আরো বলেন, দ্রুত খালটি পুনঃখনন করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘খালটি যদি জনগুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে অবশ্যই খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে খালটি খনন করার জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব।’

পাটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, ‘৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদীখাল এবং জলাশয় পুনখনন প্রকেল্পর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে গহীনখালী খালটি পুনখননের প্রস্তাব রয়েছে।