কুয়াকাটায় ১১ পিস সুন্দরী গাছ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ১১ পিস সুন্দরী গাছ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টার দিকে আলিপুর মৎস্য বন্দরে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন কাজীর বরফ মিলের জেটির নিচ থেকে এ গাছগুলো উদ্ধার করে বনবিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চোর চক্র বিভিন্ন সময় সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বন থেকে সুন্দরী গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে। এ গাছগুলো মাছের আড়ত ও বরফ কলের জেটিতে ব্যবহার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন কাজীর বরফ মিলের জেটির নিচে পরিত্যাক্ত অবস্থায় সুন্দরী গাছগুলো দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে খবর দিলে তিনি এসে গাছগুলো জব্দ করেন। ধারণা করা হচ্ছে চোর চক্রের নিকট থেকে আবুল হোসেন কাজী তার বরফ মিলের জেটিতে ব্যবহার করতে গাছগুলো ক্রয় করেছেন।

গাছ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন কাজী অস্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় রিপনসহ কয়েকজন লোক গাছগুলো এখানে রেখে গেছে। আমি তাদের সাথে দরকষাকষি করলেও গাছ ক্রয় করিনি, তবে কেন রেখে গেছে তা আমি জানি না।

এ বিষয়ে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ পিস সুন্দরী গাছ জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




বাংলাদেশ নিয়ে যে সুসংবাদ জানাল ইকোনমিস্ট

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: বহুল প্রচারিত সপ্তাহিক ইকোনমিস্ট সাময়িকীর চলতি সংখ্যায় ‘পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, নানা কঠিন সমস্যা সত্ত্বেও বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে বাংলাদেশের। দেশটি এখন নৈতিকতার বলে বলীয়ান ড. ইউনূসের মতো একজন নেতা পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ও বহুল পঠিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনটি ‘বাংলাদেশ গুরুত্ব বহন করে, এ দেশটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না’ উল্লেখ করে বলেছে, সুসংবাদ হচ্ছে যে, দেশটির অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম এবং দেশটির সুশীল সমাজ দৃঢ়চেতা।

নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাজপথে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করার পর নোবেল শান্তি বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃতে সেনাবাহিনী সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহন করেছে। তার মতো অনেক বাংলাদেশী এটিকে স্বাধীনতা লাভের অর্ধ শতাব্দী পর ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলছেন।

ম্যাগাজিনটি লিখেছে, এই মুহূর্তের অঙ্গীকার পূরণ করতে বাংলাদেশকে এখন পুরনো স্বৈরাচারীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আরো অনেক কিছু করতে হবে: অবশ্যই নষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করতে হবে। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরায় শিরায় ছড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক গোষ্ঠীতন্ত্র ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেগুলোর কারণে দেশটি দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে, নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আড়ষ্টতা রাজনীতিকে বিষিয়ে তুলেছে।

ড. ইউনূসের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু প্রথমে তাকে শেখ হাসিনার দখলকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ও আদালতগুলোকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

দেশটিকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে আসার জন্য ড. ইউনূসের কাছে সময় খুবই কম উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, তার সাফল্য বা ব্যর্থতা ১৭৩ মিলিয়ন বাংলাদেশীর জীবনযাত্রার সফলতা নির্ধারণ করবে এবং চীন, ভারত, রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব বিস্তার করবে।

এতে বলা হয়, ড. ইউনূস একটি অত্যন্ত কঠিন কাজের সম্মুখীন। তার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঢেউ প্রতিরোধ করা, যা অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে। এর মানে হচ্ছে যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে টেকনোক্র্যাট দ্বারা পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, “যখন অর্থনীতির কথা আসে, তখন সরকারের উচিত ব্যালেন্স-অফ-পেমেন্ট ঝুঁকির উৎকণ্ঠা কমাতে বাইরে থেকে আরও তহবিল জোগাড় করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাণিজ্য চুক্তির জন্য চেষ্টা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইউনুস সাহেবকে অবশ্যই দেশের তরুণ সমাজ, ক্রমবিকাশমান এবং ক্রমবর্ধমান শহুরে জনসংখ্যার আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নেতাদের কাছে নতুন ধারণার ব্যাপারে নিজেকে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাতে হবে।

ম্যাগাজিনটি অবশ্য বাংলাদেশে কর্তত্ববাদী শাসনকে সহায়তা করার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে যে, যদি দেশটি একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশী চায় তবে কিছু কাজ করার দরকার হবে: দেশটির উচিত হবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আহ্বান জানানো এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

 




১৫ বছরে সরকারি প্লট-ফ্ল্যাট প্রাপ্তদের তালিকা হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গত ১৫ বছরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) থেকে যেসব ব্যক্তি প্লট-ফ্ল্যাট নিয়েছেন, তাদের তালিকা হালনাগাদ করছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে এরই মধ্যে রাজউক থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এ চিঠির আলোকে গত ১৫ বছরের মধ্যে কে, কখন, কোথায়, কীভাবে, কোন ক্যাটাগরিতে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট নিয়েছেন তার তালিকা করে সরকারের কাছে দিতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে প্লট থাকবে নাকি বাতিল হবে। জানা গেছে, তালিকায় খোদ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক স্পিকার, মন্ত্রী, এমপি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নাম।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্লট দিতে গিয়ে পূর্বাচলে ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাজউক নিজেও বিপাকে পড়েছে। পাশাপাশি রাজউকের কেউ কেউ বাগিয়ে নিয়েছেন প্লট ও ফ্ল্যাট।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে নিয়েছেন ৬০ কাঠার সরকারি প্লট। রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ১৩/এ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের প্লট দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তারা প্লট বুঝে পান। পরে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ কাঠা আয়তনের প্লট নিয়েছেন।

পূর্বাচলে প্রস্তাবিত কূটনৈতিক জোন ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডে তার প্লট নম্বর ০০৯। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করে রাজউক। শেখ হাসিনার বাসভবন ধানমন্ডির ৫৪ সুধা সদনের ঠিকানায় বরাদ্দপত্র পাঠানো হয়। শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দের ফাইলের ওপর বড় ইংরেজি হরফে লেখা রয়েছে ভি-৩, পাতা ১৪১। ফাইলে শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনপত্রের কপি, বরাদ্দপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। হাসিনা ছাড়াও ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়) ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)। তাদের প্লট নম্বর যথাক্রমে ০১৫ ও ০১৭। জয়ের নামে প্লটের বরাদ্দপত্র জারি করা হয় ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর। পরে ১০ নভেম্বর প্লটের মালিকানাসংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২ নভেম্বর পুতুলের নামেও ১০ কাঠা প্লটের বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়। এতে এস্টেট ও ভূমি-৩ শাখার তৎকালীন উপপরিচালকের স্বাক্ষর রয়েছে।

শুধু হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েই নন, পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার ছেলেমেয়ে। তাদের নামেও যথারীতি প্লট বরাদ্দ করা হয় ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডের একই জায়গায়। সেখানে শেখ রেহানার প্লট নম্বর ০১৩, তার ছেলে রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১১ ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১৯।

একই বিবেচনায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ১০ কাঠার প্লট নিয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ফারজানা ইসলাম। তাদের বরাদ্দের চিঠিতে বলা হয়েছেÑ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্লট দুটি বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।’ ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিয়েছেন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৬নং সেক্টরের ২০১নং রাস্তার ২৮নং প্লট। তাকে ২০২২ সালের ৭ জুন চূড়ান্ত বরাদ্দ দেয় রাজউক।

সরকারি প্লট নেওয়া তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, শেখ হেলাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার বড় ভাই যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তাপস ও পরশের নামে গুলশানে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ও তার স্ত্রীর নামে প্লট থাকায় তিনি তার মেয়ের নামে একটি প্লট নিয়েছেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোটায় প্লট নিয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নূরী, জাগৃকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নবীরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হামিদুর রহমান খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর একান্ত সচিব এএসএম হুমায়ুন কবীর ও রকিবুর রহমান খান। তারা পূর্বাচলে প্লট নিয়েছেন।

সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই ১৩/এ ধারায় প্লট নিয়েছেন। একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রূপা ঝিলমিলে একটি ৫ কাঠার প্লট নিয়েছেন।

‘মুজিব’ সিনেমায় অভিনয় করে অভিনেতা আরিফিন শুভ পুরস্কার হিসেবে বাগিয়ে নেন ১০ কাঠার প্লট। এ ছাড়া অভিনেত্রী জয়া আহসান ছাড়াও সংস্কৃতি কর্মীদের অনেকেই প্লট নিয়েছেন। তবে আরিফিন শুভর প্লটটি আপাতত স্থগিত করেছে রাজউক। তার প্লটটি বাতিল হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাজউকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে বিগত ১৫ বছরে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাটপ্রাপ্তদের তালিকা তৈরি করছে রাজউক ও জাগৃক। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্যাটাগরি ভিত্তিতে হালনাগাদ তালিকা সম্পূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ সাবেক মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক, সাংষ্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, ব্যবসায়ী কে কোন কোটায় কীভাবে প্লট নিয়েছেন তার পৃথক তালিকা হবে। একইভাবে জাগৃকও সরকারি প্লট, ফ্ল্যাট কে কীভাবে নিয়েছেন সেই তালিকা করছে। তালিকাটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করবে সংস্থা দুটি। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি। তবে কী পরিমাণ প্লট বাতিল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মূলত যেগুলো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, এমন শতাধিক প্লটের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি বোর্ডসভায় উপস্থাপন করে বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সম্পত্তি শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়কে বলেন, গত ১৫ বছরে এ রকম তালিকা করা হয়নি। অনেক পুরনো তথ্য। তাই সব ফাইল যাচাই-বাছাই করে তালিকা করতে সময় লাগছে। সরকারের উচ্চমহলের চাপ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।




প্রেমিকের দেওয়া আগুনে পুড়ে নারী অলিম্পিয়ানের মৃত্যু




খুলনায় গণপিটুনিতে আহত হিন্দু যুবক মারা যাননি: আইএসপিআর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: খুলনায় ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার উৎসব (২২) নামের হিন্দু যুবক মারা যাননি। তিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এর আগে গতকাল বুধবার খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি দিল আইএসপিআর।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর জনৈক শ্রী উৎসব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করায় স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে কেএমপি উপকমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়। পরবর্তী সময়ে উক্ত স্থানে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার স্থানীয় জনগণ উপস্থিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং উক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি প্রদান করার জন্য আন্দোলন করতে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা কেএমপি উপকমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে প্রবেশ করে উক্ত ব্যক্তির ওপর আক্রমণ চালায়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

আইএসপিআর আরও জানায়, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত প্রদানের কারণে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তার সুস্থতা সাপেক্ষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সর্বদা সচেষ্ট। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।




প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বাউফলে বিএনপির দুপক্ষের মারামারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সূর্যমনি ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু আত্মগোপনে গেলে উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। প্যানেল চেয়ারম্যান পদে ইউপি সদস্য (৯নং ওয়ার্ড) বশার মালকে সমর্থন দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব জোমাদ্দার এবং ইউপি সদস্য (১নং ওয়ার্ড) মো. ফারুক হোসেনকে সমর্থন দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মিন্টু। এ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও কার্যালয়ে প্যানেল গঠনে ইউপি সদস্যদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে এতে ৯জন ইউপি সদস্য ভোট প্রদান করেন। যার মধ্যে উভয়ই সমান ভোট করে পান। একটি ভোট বাতিল হয়। সমান ভোট পাওয়ায় লটারির মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বশার মাল তা মানতে রাজি না হলে উপজেলা পরিষদ ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠে, সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জোমাদ্দার তার লোকজন নিয়ে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকে মারধর করেন।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জোমাদ্দারের বহিষ্কার চেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের জাহাঙ্গীর টাওয়ারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ফারুক হোসেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম মস্তফা, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও মো. শাহবুদ্দিন। তারাও মাহবুব জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তির দাবি তুলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব জোমাদ্দার বলেন,‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি বা আমার লোকজন কাউকে মারিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী বলেন,‘দুই পক্ষের মতানৈক্যের কারণে নতুন প্যানেল গঠন করা সম্ভব হয়নি। আগের প্যানেলই বহাল থাকবে।’




গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাইয়ে গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।




বরিশালে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: ‘বৃক্ষ দিয়ে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ’ এ স্লোগান নিয়ে বরিশালে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ বেলস পার্ক থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

সেখানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী ফিতা কেটে, ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন শেষে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

মেলায় ৫০টি স্টল রয়েছে।

পরে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ সভাকক্ষে বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল হোসেন, বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।




আশুলিয়ায় ৪৬ লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: স্বৈরাচার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় ৪৬ জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, ২১ পুলিশ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মোট ৩৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শহিদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর বোন সাইয়েদা আক্তারের পক্ষে আজ বৃহস্পতিবার আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় নিহত হন আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহ। তিনি মানারাত ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিহত ছিলেন।

আবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী আরাফাত, ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তের তালিকায় আরও আছেন ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, ওসি এএফএম সায়েদ আহমেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই মো. রাকিবুল এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কনস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য, আশুলিয়া থানার আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন ওরফে তুহিন কুলু, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাদিম হোসেন, যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরদার, ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. শামীম হোসেন, যুবলীগের আলমগীর হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি টিটু, সাভার ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সাভার আওয়ামী লীগের আলী হায়দারসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্যদের।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৪৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্য ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 




ড. ইউনূসের সরকারের প্রতি ১৯৮ বিশ্বনেতার দৃঢ় সমর্থন