বিডিআর বিদ্রোহের দিন কী ঘটেছিল জানালেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিডিআর বিদ্রোহের দিন কী কী হয়েছিল-এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ। বৃহস্পতিবার মইন ইউ আহমেদ তার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সব কিছু তুলে ধরেন।

ভিডিওর শুরুতেই জুলাই-আগস্ট মাসের নিহতদের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থ কামনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করে বলেন সরকার-ছাত্রজনতা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় l

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ড নিয়ে মইন ইউ আহমেদ বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার আমি যখন তদন্তের আদেশ দেই, তখন আমাকে বলা হয় যখন সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করছে, তখন আমাদের এর প্রয়োজনটা কী? এই তদন্ত করতে সরকারের কাছ থেকে যে সাহায্য প্রয়োজন তা আমরা পাইনি।

সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লেফটনেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলাম চৌধুরী (বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা)। তিনি তার কাজ সঠিভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি, কারণ অনেকে জেলে ছিল, অনেককে প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। আমার কাছে এসে বেশ কয়েকবার তার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আমি আশা করি, তিনি এখন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হয়েছেন। তিনি এই তদন্ত কমিটি পুনর্গঠিত করে জড়িতদের বের করতে সক্ষম হবেন। আমি সরকার গঠনের পর তাকে এই বিষয়ে অনুরোধ করেছি।

মইন ইউ বলেন, সেদিন (২০০৯ সালের) ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সাড়ে ৭টায় সেনাসদরের প্রতিদিনের মত কাজ শুরু হয়। সকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল যেখানে সেনাবাহিনীর পরবর্তী বছরের কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকালে আমি সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সিজিএস লেফটনেন্ট জেলারেল সিনহা আমার কাছে এসে বলেন, আমাদের কাছে কিছু মর্টার আছে, যা সেনাবাহিনী ব্যবহার করে না। এর গুদামজাত এবং রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের জন্য কঠিন। বিডিআর এগুলো ব্যবহার করে। এগুলো তারা নিয়ে গেলে আমাদের উপকার হবে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমি বিডিআরের ডিজির জেনারেল শাকিলের সঙ্গে কথা বললে তিনি এগুলো নিতে রাজি হন। আমার বিশ্বাস তিনি তখন পর্যন্ত এই বিদ্রোহ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এরপর আমি আর সিজিএস মিটিংয়ের জন্য যাই। ৯টায় সেই মিটিং শুরু হয়। আমারা সবাই তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ি সেখানে। সাড়ে ৯টায় তার দিকে আমার প্রিন্সিপল সেক্রেটারি কর্নেল ফিরোজ রুমে প্রবেশ করেন এবং আমাকে বলেন, পিলখানায় গণ্ডগোল হচ্ছে। আপনার দিক-নির্দেশনা প্রয়োজন। কিছুক্ষণ পর আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের ফোন ব্যস্ত পাই।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, সামরিক গোয়েন্দারা তখন আমাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আমি তখন সময় বাঁচাতে কারও নির্দেশ ছাড়া আরেকটি ব্রিগেডকে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেই। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে যার নামকরণ করা হয় অপারেশন রেস্টোর অর্ডার। এ সম্পর্কে পিএসও এফডি জেনারেল মবিনকে অবহিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ৯টা ৪৭ মিনিটে ডিজি বিডিআরকে ফোনে পাওয়া যায়। তিনি আমাকে জানান, দরবার চলাকালীন দুইজন সশস্ত্র সৈনিক প্রবেশ করে একজন আমার পিছনে দাঁড়ায়। এরপরই বাইরে থেকে গুলির শব্দ আসে। সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা সৈনিকরা দরবার হল থেকে বের হয়ে যায়। এগুলো সবই মনে হয় প্ল্যান করা এবং প্ল্যান অনুযায়ী সব চলছে। তিনি বলেন, আমি সেক্টর কমান্ডার এবং ব্যাটিলিয়ান কমান্ডারদেরকে পাঠিয়েছি তাদের ফেরত আনার জন্য। তখন আমি তাকে অপারেশনের কথা জানাই।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, ৯টা ৫৪ মিনিটে আমাই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই। এর মধ্যেই তিনি বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়ে গেছিলেন। এসময় আমি তাকে অপারেশনের কথা জানালে তিনি জানতে চান, কতক্ষণ সময় লাগবে এই ব্রিগেডকে তৈরি করতে? আমি সময় জানিয়ে ব্রিগেডকে পিলাখানায় যাওয়ার জন্য তার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় লাগলেও ৪৬ ব্রিগেড ১ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে। ব্রিগেড কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ জন অফিসার এবং ৬৫৫ জন অফিসার যাত্রা শুরু করেন।

তিনি বলেন, এদিকে বিদ্রোহীরা বিডিআর গেটগুলোর সামনে আক্রমণ প্রতিহত করতে রকেট লাঞ্চার, মর্টারসহ অন্যান্য অস্ত্র মোতায়েন করে। বেলা ১১টায় ৪৬ ব্রিগেডের প্রথম গাড়িটি মেইন গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে বিদ্রোহীরা একটি পিকআপ লক্ষ করে রকেট হামলা চালায়। এতে চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসের ধারণা অনুযায়ী সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই ডিজি, ডিডিজি, কর্নেল আনিস, কর্নেল কায়সারসহ অনেক অফিসারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমাদের টিম পৌঁছায় ১১টার পরে।

ঘটনার সময়ে গণমাধ্যমে চলা লাইভ কাভারেজ বিডিআর বিদ্রোহ ছড়িয়ে দিতে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে বলে সমালোচনা করেন তিনি।

সাবেক সেনাপ্রধান জানান, ক্যাপ্টেন শফিক তার নেতৃত্বে ৩৫৫ জন র‍্যাব সদস্য নিয়ে পিলখানায় পৌঁছান ১০টার আগেই। এসময় তিনি তার ঊর্ধতন কর্মকর্তার কাছে পিলখানায় প্রবেশের অনুমতি চাইলেও তিনি তা পাননি। তিনি অনুমতি পেলে হয়ত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সুবিধা হত এবং এত ক্ষয়ক্ষতি হত না।

তিনি জানান, ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পিএসও এএফডি জানায়, সরকার রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, কোন আলোচনার আগে সেনাবাহিনীকে এই এলাকা থেকে চলে যেতে হবে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তখন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। বেলা ১২টায় তিনি আমাকে ফোন করে জরুরিভিত্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যমুনায় দেখা করতে বলেন। বেলা ১টার দিকে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম আলোচনার জন্য পিলখানায় যান।

তিনি আরও বলেন, আমি যমুনায় যাবারও ঘণ্টাখানেক পর বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান সেখানে আসেন। অর্থ্যাৎ তাদেরকে আমার পরে ফোন করে আসতে বলা হয়েছে। অনেকক্ষণ পর তারা সেখানে আসলে আমাদের জানানো হয়, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম বিদ্রোহীদের একটি দল নিয়ে যমুনাতে আসছে এবং তারা সাধারণ ক্ষমা চায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহীদের কিছু বলার থাকলে আমরা যেন তাদের বলি। তখন আমি তাকে বলি, অনেকে নিহত হয়েছেন। তাদের কোনো দাবি মানা যাবে না। আপনি তাদের বলবেন প্রথমত, অফিসার হত্যা এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সবাইকে এখনই মুক্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত, অস্ত্রসহ বিদ্রোহীদের আত্মসমপর্ণ করতে হবে এবং চতুর্থত, সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রশ্নই নেই।

১৪ জন বিদ্রোহী ৩টা ৪৮ মিনিটে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে যমুনাতে আসেন। তাদের একটি বড় রুমে রাখা হয়। আমি তখন আমার এডিসি জুনায়েদকে বিদ্রোহীদের নেতাকে নিয়ে আসতে বলি। ডিএডি তৌহিদ যখন আসেন তখন আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সকাল ৯টায় বিদ্রোহীরা আমাকে একটি রুমে তালা মেরে রাখে। মাত্রই তালা খুলে আমাকে নিয়ে আসা হয়। আমি কিছুই জানি না।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তখন আমি তাকে বলি, আপনি জানানে না, এখানে বাকি যারা আছেন তারা তো জানেন। তাদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং আমার জানান।

ভিডিওতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন মইন ইউ আহমেদ। এসময় বিডিয়ার বিদ্রোহ নিয়ে তার লেখা বই খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।




অনুমতি ছাড়া সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে না পর্যটকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটক সীমিত করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বা অনুমতি ছাড়া কোনো পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে না।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কনসালটেশন সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। ইউনিডোর সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর এই সেমিনারের আয়োজন করে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের বিষয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এটার জন্য জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। দেশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ  করছি l




জাতীয় সংগীত বদলাবে না!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’ তুমুল হৃদয়স্পর্শী এ গানের প্রথম দশ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। ১৯৭২ সালের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে আমার সোনার বাংলাকে জাতীয় সংগীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে হুট করে ‘আমার সোনার বাংলা’-কে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করা হয়নি। এর চর্চা ছিল দীর্ঘদিন, ছিল সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ছিল এর স্বীকৃতি। একাত্তরের পাকিস্তানিদের পরাস্ত করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা যে মরণপণ লড়াইয়ের প্রস্তুতি-প্রশিক্ষণ নিতেন সেখানে গাওয়া হতো এই গান, দেশবাসীকে উজ্জীবিত করতে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো এই গান। স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভায় গাওয়া হতো এই সংগীত। জনসভায় গাওয়া হতো এই গান। এটা কেবল একাত্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর আগে থেকেও এই গানের চর্চা ছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতার মন্ত্রে বাঙালিদের উজ্জীবিত করতে।

‘আমার সোনার বাংলা’-কে জাতীয় সংগীত রূপে নির্ধারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক সিদ্ধান্তের বিষয় যে ছিল না, সেটা উল্লিখিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে। একটা গানকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের এমন এক মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার উদাহরণ এবং স্বদেশপ্রেমের চর্চার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংগীত রূপে এর স্বীকৃতি তাই ছিল তৎকালীন সরকারের সহজ সিদ্ধান্ত।

তবে পঁচাত্তরের পনের আগস্ট ধানমন্ডির বত্রিশের বিয়োগান্তক ঘটনায় যখন দৃশ্যপটে চলে আসেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, তখন তিনি অন্য কিছু বদলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীতকেও বদলে ফেলার উদ্যোগ নেন। করে ফেলেন উচ্চ পর্যায়ের এক কমিটি, যেখানে প্রধান করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিতর্কিত ভূমিকায় থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দ্বীন মুহাম্মদকে। জানা যাচ্ছে, এই কমিটি নাকি তিনটি বৈঠক করে কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ এবং ফররুখ আহমেদের ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাকে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করে। এরপর ক্ষমতা দখলের উত্তুঙ্গু পরিস্থিতিতে মোশতাকই ক্ষমতাচ্যুত হন, বদলায়নি দেশের জাতীয় সংগীত।

খন্দকার মোশতাকের যেখানে শেষ, সেখান থেকে শুরু করেন জিয়াউর রহমান। তার আমলে ফের জাতীয় সংগীত বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় ‘আমার সোনার বাংলা’র পরিবর্তে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান। এনিয়ে নিয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন। চিঠির পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রেডিও, টেলিভিশন এবং সব সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথম বাংলাদেশ গানটি প্রচারের নির্দেশনাও জারি করে। এরপর জিয়াউর রহমানের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি এই গান গাওয়া শুরু হয়। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পরের উদ্যোগ ফের জিয়াউর রহমানের দল পরের পর্বের বিএনপির শাসনামলে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০২ সালের মার্চে যুদ্ধাপরাধের দায়ে পরবর্তীতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা, তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের জন্যে যৌথ সুপারিশপত্র তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেন। খালেদা জিয়াও জামায়াতের দুই মন্ত্রীর সুপারিশকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিষয়টি তাদের মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে এটা পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। এরপর অবশ্য এটা চাপা পড়ে যায়, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের শেষের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধীদলগুলো আন্দোলনে উত্তুঙ্গু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে।

এবার ফের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবি ওঠেছে। এবার এখন পর্যন্ত অবশ্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই দাবি ওঠেনি। দাবি করেছেন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের পুত্র সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। গত ৩ সেপ্টেম্বর আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহিদের প্রকৃত সংখ্যা ও জাতীয় সংগীতের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত যেন নতুন করে লেখা হয়। তার দাবি, বর্তমানে যে জাতীয় সংগীত চলছে, তা করেছিল ভারত। দুই বাংলাকে একত্র করার জন্য করা হয়েছিল এই জাতীয় সংগীত। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নতুনভাবে হওয়া উচিত। আমান আযমীর ভাষ্যমতে, জাতীয় সংগীত করার জন্য অনেক গান রয়েছে। এই সরকারের উচিত, নতুন কমিশন গঠন করে একটি নতুন জাতীয় সংগীত তৈরি করা।




হাছান মাহমুদ এখন কোথায়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের পর গ্রেপ্তার হয়েছেন বিগত সরকারের এমপি-মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। গতমাসের শেষের দিকে গণমাধ্যমে খবর আসে, দেশ ছেড়ে পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে হাছান মাহমুদ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে হাছান মাহমুদ এখন কোথায় আছে।

দেশের একটি গণমাধ্যম বলছে, সপরিবারে বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। দেশটির লিমবুর্গ প্রদেশের হ্যাসেল্ট সিটিতে তাঁর নিজের বাড়িতে আছেন একমাত্র ছেলে আর স্ত্রী নুরান ফাতেমাকে নিয়ে।

জার্মানি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী ভূঁইয়া বকুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (হাছান মাহমুদ) এখানে আছেন এবং সেফ আছেন, এইটুকু আরকি। উনি এখানে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না, কারো সঙ্গেই তার যোগাযোগ নাই।’

এদিকে বেলজিয়াম থেকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার আইপিটিভি সি প্লাসের প্রধান সম্পাদক আলমগীর অপুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। স্ত্রী পরিবারের সঙ্গে বেলজিয়ামের নিজ বাড়িতে আছেন বলেও অপুকে জানান হাছান মাহমুদ।




মাদকের আসরে গ্রামবাসীর হানা – দুই যুবককে কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে দুই মাদকসেবীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই সাজা প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড প্রতীক কুমার কুন্ডু। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাজা জব্দ করা হয়।

সাজাপ্রাপ্ত মো. হৃদয় (২২) ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং ওলিউল্লাহ (১৯) একই গ্রামের মাহবুল মৃধার ছেলে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড প্রতীক কুমার কুন্ডু জানান, কর্পূরকাঠি গ্রামে একটি নির্জন জায়গায় চারজন গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় গ্রামবাসী ধাওয়া দিলে দুইজন পালিয়ে যায়। অন্য দুজন অপরাধীকে গ্রামবাসী আটক করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন আইনে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের জিম্মা থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু মাদক তারা পুকুরে ফেলে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনীত কুমার গায়েন বলেন, কয়েকদিন ধরেই ওখানে মাদক সেবন করছিল কয়েক মাদকসেবী। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের মধ্যে দুজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মাদকসেবীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।




কুমিল্লায় মাইক্রোবাসের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্টারলাইন প‌রিবহ‌নের যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবা‌সের ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই জন।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সা‌ড়ে ৬ টার দিকে মহাসড়কের বাতিসা নানকরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা‌ ঘ‌টে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রইছ উদ্দিন।

তিনি জানান, নিহতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আমরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস এবং মাইক্রোবাস থানায় নিয়ে এসেছি।




সরকার ৫ বিলিয়ন ডলার খুঁজছে

বিচন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশি ঋণ পরিশোধ ও রিজার্ভ বাড়াতে দাতা সংস্থাগুলোর কাছে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার (৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ঋণ চেয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে আইএমএফের কাছে। আর বিশ্বব্যাংক এবং জাইকার কাছে এক বিলিয়ন করে ২ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়। এছাড়া দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় মাসখানেকের মাথায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চেয়ে অনুরোধ করেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ ঋণ মিললে বাজেট সহায়তা আর্থিক খাত সংস্কারসহ যে কোনো খাতে ব্যয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ঘাড়ে ১৫৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ রেখে যায়। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮৮ বিলিয়ন ডলার ও বাকি ৬৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ। এর বাইরে এখন ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ খুঁজছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আলাপকালে সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বাড়তি ৩০০ কোটি বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারবাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ। এ বিষয়ে অনুমোদনের ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইএমএফ। এ সহায়তা পেতে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, তার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার l




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না।

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন যেমন ছিল তেমন রেখে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। আরও অন্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষ কাটাতে রিভিউ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হেয়েছে। এই কমিটি গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বপ্লমেয়াদি দাবি পর্যালোচনা করবে।

এজন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিও থাকবে।




পূর্বাচলে হাসিনা পরিবারের প্লট বরাদ্দ লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল রেকর্ড




মির্জাগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অকৃষ্ট করছে শিক্ষার্থীদের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত এলাকার ১১৮ নম্বর মধ্য দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রানিপুর-দেউলী-কলাগাছিয়া-কাউনিয়া সড়কের মধ্যে ভাগে অবস্থান এ বিদ্যালটি।

বিদ্যালয়টিতে নানা রঙে সেজেছে। দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে দেশ-প্রকৃতিসহ নানা চিত্র। শুধু এ বিদ্যালয়টি নয় উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ই নতুন সাজে সেজেছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ছোটবেলা থেকেই শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে ও জানবে দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে, তেমনি শিশুমনে শ্রেণিপাঠ সহজবোধ্য হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন শিক্ষানুরাগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোর প্রবেশ মুখ থেকে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বাংলা-ইংরেজি বর্ণ ও বিভিন্ন দিবসের তারিখ। শ্রেণিকক্ষ ও ভবনের চারপাশে ফলমূল, দেশ-প্রকৃতি, কার্টুনসহ নানা মনীষীদের ছবি ও বাণী। লেখা আছে শিক্ষামূলক নানা নীতিবাক্য। দৃষ্টিনন্দন শ্রেণিকক্ষগুলো কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সরকারি অর্থায়নে স্কুল সুসজ্জিত করা ও শিশুবান্ধব শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও সব শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ উপজেলার সব বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিত করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে রঙিন চিত্রে। বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে শিশুদের ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র। বয়সের সঙ্গে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও ওজন ঠিক আছে কী না তা পরীক্ষা করে দেখেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায় এবং ঝরে পড়ার হার কমে যায়। দৃষ্টিনন্দন করে নিজেই সাজিয়ে অন্যদের উৎসাহী করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হচ্ছে ও প্রতিনিয়ত তারা স্কুলে আসছে। এ প্রেক্ষিতে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সুসজ্জিত হচ্ছে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে আসে। তারা বিদ্যালয়ে এসে আনন্দের সঙ্গে পাঠ নিতে পারছে। অতীতের চেয়ে এখন শিক্ষার মান অনেক ভালো।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর হক বলেন, উপজেলার প্রাক-প্রাথমিকের ২০-২৫টি স্কুল সুসজ্জিত করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুবান্ধব হয়েছে। রঙিন ছবি, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করায় শিশুদের জানার পরিধি বাড়ছে। সরকারিভাবে প্রাপ্ত বরাদ্দ দ্বারা বিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতে দেওয়ালে নানা রঙের ছবি ও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হয়। স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য আনন্দমুখর।