বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ণ ২৫৪ সেতু ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

বরিশাল অফিস :: দীর্ঘদিন ধরে মেরামত ও সংস্কারের অভাবে বরগুনা জেলায় ২৫৪টি সেতু চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ১৮টি সেতু। ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ ও যানবাহন।

চলতি বছরের জুন মাসে বরগুনার আমতলী উপজেলায় পার হওয়ার সময় সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নিহত হন ৯ জন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় হালকা যান চলাচল (কম খরচে) প্রকল্পের অধীনে এসব সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭০, বেতাগীতে ১৬, বামনায় ২৫, তালতলীতে ২৯, আমতলীতে ৯৮ ও পাথরঘাটায় ১৬টি সেতু পারাপারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বরিশাল জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোহার কাঠামোর এই সেতুগুলো নির্মাণের পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বন্যায় অধিকাংশ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো সেতুর সিমেন্টের স্লিপার, হাতল ও অবকাঠামো ভেঙে পড়ে আছে। কোনো কোনো স্থানে সেতুর বিভিন্ন লোহার অংশ চুরি হয়ে গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, আমতলী উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামে ২০০৬ সালে এলজিইডি ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে। নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ২০০৯ সালে এটি মাঝখানে দেবে যায়। ২০২১ সালের জুন মাসে সেতুটির ভেঙে পড়ে। ওই ভাঙা সেতু নিজেদের উদ্যোগে কোনোরকম মেরামত করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

একই অবস্থা চাওড়া ইউনিয়নের উত্তর টেপুরা সেতুর। সেতুটির লোহার বিম ভেঙে গেছে সাত বছর আগে। স্থানীয়রা সেতুর পাশে কাঠের সেতু নির্মাণ করে চলাচল করছেন। ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া সেতু তিন বছর আগে মাঝখানে ভেঙে যাওয়ায় আমতলী পৌর শহর ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সঙ্গে এলাকাবাসীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল, সজীব, সাগর, আফজালসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় যেমন যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরগাছা গ্রামে বাদুরগাছা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু প্রায় ১০ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। পারাপারের জন্য সেতুর পাশেই খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেচব্যবস্থা।

শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বারবার মেরামত ও সংস্কারের জন্য এলজিইডি অফিসে গিয়েছি। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাজরাভাঙ্গা এলাকার সেতুটির দুই পাশের হাতল ভেঙে গেছে। গৌরিচন্না ইউনিয়নরে বিবেক চত্বর ও খাজুর তলা এলাকার লোহার দুটি সেতু দেবে ও হাতল ভেঙে গিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বরগুনার ছয়টি উপজেলার ২৫৪টি লোহার সেতু এখন গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে। এসব সেতু পারাপারের সময় যেকোনো দিন ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

এলজিইডির আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমতলীতে ৯৮টি লোহার সেতু চলাচলের অনুপযোগী। এগুলোর একটি তালিকা করে আমরা জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। এসব ব্রিজ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

এলজিইডি বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান খান বলেন, বরাদ্দ না থাকায় আমরা মেরামত অথবা সংস্কার করতে পারিনি। তবে, ব্যবহারের অনুপযোগী ও ধসে পড়া সেতুর তালিকা তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলেই আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করব।’




ঝালকাঠিতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে সাঈদুর রহমান স্বপন (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।

সাঈদুর রহমান স্বপন উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সাঈদুর রহমান স্বপন সকাল ৯টায় শেখেরহাট লঞ্চঘাট মাজার মসজিদে একটি জানাজা শেষে শেখেরহাট বাজারে নাশতা করতে আসছিলেন। কিছুক্ষণ পরে রাস্তায় তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




জাতীয় সংগীত পরিবর্তন ইস্যুতে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিতর্ক সৃষ্টি হয় এমন কিছু করবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিদর্শন ও সুধী সমাবেশে যোগদান শেষে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি উঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবর্তন নিয়ে ভাবা হচ্ছে না জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বিতর্ক সৃষ্টি করে এমন কিছু অন্তর্বর্তী সরকার করবে না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। আমাদের ক্রিকেট দলের ওপর ভারতে হামলার খবর শুনছি। যেহেতু বিসিবি আছে, তারা এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করবে।

ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলাকারীরা মানবতার শত্রু বলে মন্তব্য করে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মসজিদ, মন্দির, মাজারে হামলা গর্হিত কাজ। ধর্মীয় উপাসনালয়ে যারা হামলা চালায় তারা মানবতার শত্রু। তারা অপরাধী। প্রচলিত আইনে তাদের বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, পটপরিবর্তনের পর কিছু সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে যেমন হামলা হয়েছে, তেমনি মুসলমানদের বাড়িতেও হয়েছে। এটাকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।




জাতীয় সরকারে সমর্থন দিল গণঅধিকার পরিষদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই প্রস্তাবে গণঅধিকার পরিষদ একমত পোষণ করে বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।

শুক্রবার বিকালে গাজীপুর মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের যে আহবান জানিয়েছেন তার এই আহবানের প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সমর্থন রয়েছে। আমরাও চাই আগামীতে জাতীয় ঐক্যের সংহতির সরকার গঠন করা হোক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সর্ব প্রথম গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৭১ সালের আগে তার ভূমিকা ভালো ছিল। তারপরে তার রাজনীতি ছিল ভুলে ভরা। নৃশংস স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা এ দেশে প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র করছে।

আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, অন্যথায় এর জন্য আন্দোলন করা হবে।

সেমিনারের যুব অধিকার পরিষদ, গাজীপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক মমিন আকন্দ তন্ময়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- রোকেয়া জাবেদ মায়া, মাহফুজুর রহমান খান, আব্দুর রহমান, জামাত নেতা মো. হোসেন আলী, নাগরিক ঐক্যের কামাল হোসেন প্রমুখ।

পরে গাজীপুর মহানগরীর হাবিবুল্লা সরণিতে গণঅধিকার পরিষদ, গাজীপুর শাখার অফিস উদ্বোধন করা হয়।




সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৩

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় তিন যাত্রী নিহত এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৩ নম্বর পিলারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক হতাহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর ১৩ নম্বর পিলারের কাছে এসে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিন যাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত তিনজনকে উদ্ধার করে। এ সময় আহত আটজনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সরিয়ে সেতুর ওপর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ট্রাকটি দুর্ঘটনার পরপরই চলে গেছে। নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে




জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী ৭ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে নিউইয়র্কে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২২-২৭ সেপ্টেম্বর এ সফর করবেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন- ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা আফরোজ ইউনূস, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব শাব্বীর আহমদ, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা তিথি।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার বড় বহর নিয়ে সফর করলেও এবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবচেয়ে ছোট দল নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ আলোচনা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক সুশাসনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ‘সামিট অব দ্য ফিউচার’-এ যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে শীর্ষ নেতাদের।




বাবা দিনমজুরি করে নিহত রাসেলকে পড়াশুনার খরচ দিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘জন্ম নেয়া ভাগ্যের ব্যাপার মৃত্যু হওয়া সময়ের ব্যাপার কিন্তু মৃত্যুর পরে মানুষের মনে বেঁচে থাকা কর্মের ব্যাপার’ এমন কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেইজবুকে লিখে গেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) অনার্সের ছাত্র রাসেল মাহমুদের (২১) মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হলো।

তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চরশিবা গ্রামে।

‘মরলে শহিদ বাঁচলে গাজি, মা তোমার তিন ছেলের মধ্যে আমি যদি দেশের জন্য চলে যাই তুমি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকবা, অনুমতি দাও মা। দাবি রাখবা না কথাগুলো বলল ৪ আগস্ট রাতে।’ এটাই তার শেষ কথা বলে জানান তার মা রাশেদা বেগম।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন রাসেল মাহমুদ আন্দোলনে নামলে পুলিশের এলোপাথারি গুলি তার মাথায় লাগে। যাত্রাবাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে। বিকেলের কোনো এক সময় মায়ের কাছে ফোন আসছে, রাসেল আপনার কি হয়? সাথে সাথে ফোনটি মা রাসেলের বড় ভাইর কাছে দেয়, মা বলে রাসেলের কোনো এক বন্ধু ফোন দিয়েছিল। রাসেলের বুকে ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ড ও মাথায় বাংলাদেশী পতাকা ছিল। রাসেলের বড় ভাই খবর পেয়ে সাথে সাথে খালাত ভাই আজিজুল ও মামা আলমগীর হোসেনকে খবর দেয়। রাসেলকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে, বিভিন্ন হাসপাতাল তথা কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পরের দিন ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে তার লাশ পড়ে আছে। রাসেলের মাথায় পেছন থেকে গুলি লেগে কপাল দিয়ে ভেদ করে বের হয়ে যায়। ততৎক্ষণে মার বুঝতে বাকি রইল না যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই।

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলা থেকে সম্পূর্ণ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরকাজলের চর শিবা আব্দুস ছালাম আকন আইডিয়াল স্কুল থেকে ২০২০ সালে মেধাবী রাসেল এসএসসি পাস করে। পরবর্তীতে ঢাকার শ্যামপুর বহুমূখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাস করে।

পাশের পরেই সে সোনার গাঁ ইউনির্ভাসিটিতে বাংলা বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়। রাসেল মাহমুদ ঢাকার যাত্রবাড়ীর শনির আখড়ায় থাকত। রাসেল মাহমুদের তিন ভাই ছিল। বড় ভাই মিরাজ হাং ছোট ভাই মো: শাওন। বাবা ও বড় ভাই মানুষের বাড়িতে কাজ করে রাসেল মাহমুদকে পড়াত। এমনকি মা-ও কাজে সহযোগিতা করে ছেলেকে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করত। নিজেদের সামান্যটুকু জমি থাকলেও অন্যের জায়গায় ঘর উঠিয়ে রাসেলের বাবা, মা ও ভাইসহ বসবাস করে।

মা বলেন, আমার ছেলেকে লেখা পড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে ছিলাম মানুষের মতো মানুষ হওয়ার হবার জন্য। শয়তানরা মানুষ হতে দিল না, বাড়িতে ফিরে এলো লাশ হয়ে। বাবাকে কত কষ্ট করে টাকা পাঠাইতাম মানুষ করার জন্য, মানুষ হয়ে অভাবী সংসারে হাল ধরবে, মৃত্যুর পর রাসেলকে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে বাবারে কৈ পামু, কত মানুষ দেখতে পাই কিন্তু আমার বাবার মতো কাউকেও তো দেখতে পাই না। আমার রাসেলের সাথে শেষ কথা হয় ৪ আগাস্ট । আন্দোলনে নামার জন্য বাবা আমার কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি, ওকে কেন মারা হলো, যারা আমার ছেলেকে মারছে তাদের যেন বিচার হয়। আমি যেন বিচার দেখে যেতে পারি। এমনকি আমার বাবা তো বিজয়ের হাসি দেখত পেলো না বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশেদা বেগম।

বাবা আবুল হোসেন জানান, আমার ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ছিল। আমরা ওর কথামত চলতাম। টাকা পাঠাতে না পারলে রাসেল একটি প্রাইভেট পড়াত, নিজে ফল বিক্রি করত, এমনকি কাঁচা বাজারের সবজিও বিক্রি করত। মাঝে মাঝে টাকা দিলে নিত, না পারলে বলতো আর লাগবে না। আমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করি। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করছে তার যেন বিচার হয়।

ভাই মিরাজ হাং জানান, ৬ আগস্ট রাতে গ্রামের বাড়ি চরশিবায় রাসেলের লাশ নিয়ে আসা হয়। এলাকায় লাশ আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৭ আগস্ট তাকে সকাল ১০টার সময় নামাজের জানাজা শেষে সোমবাড়িয়া বাজার ঈদ গা মাঠে সমাহিত করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিহত রাসেলের বাবার হাতে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গলাচিপায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলেই নিহতদের দেয়া হবে।




২৪ বছরেই পরিত্যক্ত পটুয়াখালীর ফরিদগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ফরিদগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র পাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয় ২০০০ সালে। এর মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণ করা এই ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পাশের জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে ১৯৬৮ সালে ফরিদগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। টিনশেড ঘরে এত শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, একতলা পাকা ভবনের প্রতিটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদ ও বারান্দার স্তম্ভগুলোর রড বেরিয়ে গেছে। দরজা-জানালাগুলো ভাঙা। একাধিক জায়গায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুইয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছে। স্কুলের গুদামঘর ও পুরাতন জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ক্লাস চালছে। শ্রেণিকক্ষে বাঁশের সঙ্গে ফ্যান ঝোলানো রয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটিতে এখনও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বসেন। ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মেহেদী হাসান বলেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মজিদপুর, সলিমপুর, বাইনতলা, এলেমপুর, কুমারমারা, ইসলামপুর, নেয়ামতপুর, গামরতলা, ফরিদগঞ্জ ও নীলগঞ্জ গ্রামের একমাত্র এই বিদ্যালয় এটি। কাছাকাছি আর স্কুল না থাকায় ওই স্কুলটাই ভরসা। কিন্তু শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় স্কুলটির অবকাঠামো খুবই অপ্রতুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, ২০০০ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর স্কুলের একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করে। কিন্তু নিম্ননের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবনটি অল্প দিনের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গেছেন। ঝুঁকি বিবেচনায় তারা ভবনটি ব্যবহার না করতে বলেছেন।

পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসাইন বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। শিগগির স্কুলটিতে গিয়ে খোঁজ নেবো। নতুন ভবন নির্মাণের চেষ্টা করব।




বাউফলে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল উপজেলায় ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর মোরশেদের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর এক স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

এ সময় প্রধান শিক্ষককে তার কার্যালয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে বাউফল থানার পুলিশ পৌঁছে তাকে নিরাপদে বাসায় ফেরত যেতে সহায়তা করেন।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অপর একটি বিদ্যালয়ের (আবদুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়) শারীরিক শিক্ষক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

ওই সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাওলানা আব্দুল ওহাব, আব্দুস ছত্তার, হাসান মৃধা, মো. শাহজাহান মৃধা, শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, আ. হালিম প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের জন্য মানববন্ধন করেন কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন বর্জন করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর মোরশেদ জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়ে লুটপাট চালানোর জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে এবং শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে মিছিলে অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য করেছেন।




নিজ জেলা পটুয়াখালীতে সংবর্ধিত হলেন ভিপি নূর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেছেন, গত ৫৩ বছরে এই দেশের মানুষ অনেক স্বৈরাচারী ভোট ডাকাত সরকার দেখেছে। এই দেশে তরুণরা কারো লাঠিয়াল হওয়ার জন্য আন্দোলনে রক্ত ও জীবন দিবে না। এই দেশের তরুণরা আগামীতে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ নতুন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নিজ জেলা পটুয়াখালীতে প্রথম দলীয় সফরে এসে সংবর্ধনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণ অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার আহবায়ক সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম লিটুর সভাপতিত্বে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তিনি আরো বলেন, বিএনপি যদি মনে করে যারা আন্দোলন করেছে তাদেরকে নিয়ে জাতীয় সরকার করবে তবে বিএনপির সাথে জোট হবে রাজনৈতিক সমঝোতা হবে। নইলে বিএনপি’র বয়কট হবে। বিকল্প শক্তি নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করা হবে।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সংবর্ধনা স্থলে জেলার বিভিন্ন স্থান সহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। নিজ জেলার সন্তানের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম কোন পুর্নাঙ্গ রাজনৈতিক দল গঠনে আত্মতৃপ্তিতে গণ অধিকার পরিষদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন জেলার নেতৃবৃন্দ।