অসন্তোষের মধ্যেই খুলছে ৯৮ শতাংশ গার্মেন্টস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সপ্তাহব্যাপী শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যেই গতকাল শনিবার খুলেছে দেশের ৯৮ শতাংশ পোশাক কারখানা। পাশাপাশি জুলাই মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯.৩২ শতাংশ কারখানায়। গতকাল ২ হাজার ১০৮টি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি কারখানা থেকে শ্রমিক বের হয়ে গেছে। প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন পরিশোধের পরও কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আজ রবিবার থেকে আশুলিয়া অঞ্চলের সব পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। গতকাল আশুলিয়ার হা-মীম গ্রুপের ‘দ্যাটস ইট ফ্যাক্টরি’ অফিসে সেনাবাহিনী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, কারখানার মালিকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে, পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিক নেতারা দাবি করছেন, যেসব এলাকায় এখনো আন্দোলন হচ্ছে তাতে শ্রমিকরা নেতৃত্ব দিচ্ছে না। অন্য একটি পক্ষ শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। পরাজিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে চায় বলে অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের।

জানা গেছে, দেশে বিজিএমইএর সক্রিয় সদস্য পোশাক কারখানা রয়েছে ২ হাজার ১৫২টি। এর মধ্যে গতকাল খোলা ছিল ২ হাজার ১০৮টি। অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। এদিন কারখানা বন্ধ ছিল ৪৪টি অর্থাৎ ২ শতাংশ।

জানা গেছে, গতকাল গাজীপুর এলাকায় কারখানা খোলা ছিল ৮৮২টি। বন্ধ ছিল ১টি। অর্থাৎ ৯৯.৮৯ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। সাভার-আশুলিয়া এবং ধামরাই এলাকায় খোলা ছিল ৪০৮টি। বন্ধ ছিল ৪৩টি। সে হিসাবে খোলা ছিল ৮৯.৪৬ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় শতভাগ কারখানা (২০৯টি) কারখানা খোলা ছিল। ঢাকা মেট্্েরাপলিটন (ডিএমপি) এলাকায়ও সব কারখানা (৩০২টি) খোলা ছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম এলাকায়ও (৩৫০টি) শতভাগ কারখানা খোলা ছিল।

গতকাল নাসা গ্রুপের ৫টি এবং নিট এশিয়া লিমিটেড, ইয়াগি বাংলাদেশ লিমিটেডে, পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড, ইউফোরিয়া, জন রোন সোয়েটার ও নিওএজ গ্রুপের ৪টি কারখানা বন্ধ ছিল।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল আমাদের সময়কে বলেন, পোশাক কারখানা মালিকরা সব কারখানাই চালু রাখতে চান। কারণ কাজ বন্ধ থাকলে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য পাঠানো যাবে না। এতে ক্রেতা হারানোর শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের প্রায় শতভাগ বেতন (জুলাই মাস) দেওয়ার পরও কারা এই অসন্তোষ সৃষ্টি করছে তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নয়। বহিরাগতরা এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

শ্রমিক দলের সমম্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেয সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গতকাল বলেছেন, অনেক চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসী আবার সক্রিয় হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। পরে দেখা যায় এরা বিএনপির কেউ নয়। ধরা পড়ার পর তদন্তে দেখা যায় যুবলীগ অথবা ছাত্রলীগ। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ এবং দখলবাজের স্থান নেই। গতকাল বিকালে দখল-চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিল্পকারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে শ্রমিক-কর্মচারী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, পরাজিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে চায়। ওই মহল বিএনপির সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি অপকর্ম করেন, জানমালের জন্য হুমকি হন, তা হলে যত বড় নেতাই হোক; ছাড় পাবেন না।




বায়তুল মোকাররমের ‘আত্মগোপনে’ থাকা খতিবের অবস্থান জানা গেল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন গত ২৬ জুলাইয়ের পর আর মসজিদে আসেননি। অবশেষে ‘আত্মগোপনে’ থাকা মুফতি রুহুল আমীনের অবস্থান জানা গেল।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ বায়তুল মোকারররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ পান রুহুল আমীন। গোপালগঞ্জে বাড়ি হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নড়াইল-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ২৬ জুলাই থেকে বায়তুল মোকাররমে আসেননি রহুল আমীণ। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে গত ২৯ আগস্ট তাকে নোটিশ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয় নোটিশে। এর জবাব দিতে তাকে সাতদিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর এ শেষ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রহুল আমীন বর্তমানে গোপালগঞ্জে রয়েছেন। তিনি জেলাটির গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও রুহুল আমীনের ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমীন অসুস্থ। তিনি পরিপূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।




ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা নিয়ে নতুন ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো সীমা থাকছে না।আগামীকাল রবিবার থেকে ব্যাংকে যতো ইচ্ছা ততো টাকা উত্তোলন করা যাবে। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার থেকে ব্যাংক হিসাবের টাকা উত্তোলনে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। যে কেউ যেকোনো অ্যামাউন্টের টাকা নিজ নিজ হিসাব থেকে তুলতে পারবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছিল, একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে দৈনিক ৫ লাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা থেকে সরে এল বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। এসব অর্থ যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য নগদ টাকা উত্তোলন কিছুটা নিরুৎসাহিত কর‌তে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।



বরিশালে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল ইসলাম বাদল খন্দকারের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক বিএনপি নেতা। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিমন সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল ঝালকাঠির দপদপিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। তিনিসহ তার দলবল আওয়ামী লীগের আমলে আমার বিরুদ্ধে ৬ থেকে ৭টি রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আমার বাড়িতে গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আবারও আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল ও তার ভাই খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ মিন্টুসহ সন্ত্রাসীরা আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন। আমাকে হত্যার পরিকল্পনাও করেছিলেন তারা। আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। এ সময় অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর শিকদার, যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সরোয়ার হাওলাদার, সজিব খন্দকার প্রমুখ।

তবে বিএনপি নেতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল। তার দাবি, যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বানোয়াট কথা ছড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।




আওয়ামী লীগ লুটপাট করেছে, আমরা তা করবো না : ড. শফিকুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে দেশে লুটপাট করেছে। আমরা তা করবো না। আমরা রাজনৈতিক দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে উন্নয়ন করবো।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাউফলের স্থানীয় পাবলিক মাঠে উপজেলা জামায়েতে ইসলামী আয়োজিত শান্তি ও সম্প্রীতি তিনি এ কথা বলেন।

ড. শফিকুল বলেন, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় গত সরকার আমাকে একাধারে ৬৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছি। সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। আমি আপনাদেরকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাউফলে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা আমাদের আপনজন ছিলেন না। তাদেরকে আমি বিগত সরকারের দোসর বলবো।

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, জামায়েতের পটুয়াখালী জেলার আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম, বক্তব্য রাখেন জামায়াতের পৌর আমির রাসেল মাহমুদ, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য মাও. ছোবাহান, কর্ম পরিষদ সদস্য এটিএম নজরুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ দাইয়ান, কেন্দ্রীয় শিবিরের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুনতাসির মুজাহিদ, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মাহাদি হাসান, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান, বাউফল উপজেলা ছাত্র শিবিরের দক্ষিণ শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন, পূর্ব শাখার সভাপতি মো. লিমন হোসেনসহ অনেকে।




রাঙ্গাবালীতে ছাগলে ধান খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ – আহত ৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ধানক্ষেতে ছাগল যাওয়াকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছয়জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের মাতুব্বর ও কাজী বংশের দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে খলিল কাজী ও তার ভাই জালাল কাজীর ধান ক্ষেতে যায় আবুল মাতুব্বরের দুইটি ছাগল। এই ছাগল যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক এবং বাকবিতন্ড হয়। একপর্যায় দুই পরিবারের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়।

আহতরা হলেন, আবুল মাতুব্বর (৬৫), নোমান মাতুব্বর (২৪), আবু তালেব মাতুব্বর (২৩), ফারুক কাজী (৪২), সালমান কাজী (১৫) এবং ইসা কাজী (৪২)। আহতদের বাড়ি দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামে। তাদের মধ্যে গুরুত্বর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসান বলেন, ছাগলে ধান খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। তারা কেউ এখনও কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ কিংবা মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, আহত ১২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ১২ শ্রমিক।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস। দুপুর ২টার দিকেও সংস্থাটির কুমিরা স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বলে জানা গেছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি কামালউদ্দিন বলেন, ‘সোনাইছড়ি শিপইয়ার্ডে এসএন করপোরেশন নামের ওই কারখানায় একটি পুরনো জাহাজ কাটার সময় সেটির পাম্প রুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইউনিটে ১২ জন ভর্তি আছেন। তাদের ১০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আর সবারই শ্বাসতন্ত্র কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ডা. রফিক জানান, চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীরের শরীরের ৭০, আহমদ উল্লাহর ৯০, কাশেমের ৩৫, সাগরের ২৫, আল আমিনের ৮০, মইনুলের ৮০, হাবিবের ৪০, বরকতের ৫০, আনোয়ারের ২৫, রফিকের ১০ শতাশ পুড়ে গেছে। এছাড়া রফিকুল ও সাইফুল নামের দুই জনের কানে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি।




‘দেহব্যবসার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস’র খবরে হুমকি দিলেন সোহানা সাবা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিলেন শোবিজের একদল শিল্পী। তারা অবস্থান নিয়েছিলেন বিগত সরকারের পক্ষে। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজপথে ছিলেন বিপক্ষে। সেই শিল্পীদের একজন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সাবা। গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘আলো আসবেই’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন এই অভিনেত্রী।

দেশজুড়ে যখন শিল্পীদের গোপন গ্রুপের স্ক্রিনশট নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, ঠিক সেসময় নতুন এক খবরের শিরোনাম হলেন সোহানা সাবা। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে ‘সোহানা সাবার দেহব্যবসার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস’ শিরোনামে এক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। যা দেখে খেপেছেন এই অভিনেত্রী। দিয়েছেন হুমকিও।

সোহানা সাবার দাবি- নিউজটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘দেশের একটি গণমাধ্যমের অনলাইন আমার বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর একটি (ইউটিউব এবং অনলাইন নিউজ) নিউজ করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে, যাতে আমার সুনাম নষ্ট হয়। গত ২০ বছর ধরে আমি মিডিয়ায় কাজ করছি এবং সচেতনভাবে আমি আমার কাজের বাইরে কোনো বিতর্ক বা আলোচনায় থাকতে চাই না। এ বছরের শুরুতে একটি প্রতারণামূলক দল আমার নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিল।’

অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, ‘আমি তখনই একটি জিডি করি, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ কেউ আর করার সাহস না পায়। সেখান থেকে এক অপরিচিত সাংবাদিক এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে এবং আমাকে ফোন করে কথা বলে। এখন দেখছি, সে আমার বিনা অনুমতিতে সেই কথোপকথনটি রেকর্ড করেছে, যা সম্পূর্ণ আইনের বাইরে।’

অভিনেত্রীর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে আমি সে সময়ে আমার সম্মান বাঁচাতে যে কাজটি করেছি, সেটি এই অসময়ে এসে আমার বিরুদ্ধেই বানোয়াট নিউজ করে আমার রেপুটেশন নষ্ট করার চেষ্টা করেছে একটি বিকৃত হেডলাইনের মাধ্যমে। আমি তাদের শক্তভাবে বলতে চাই, আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে প্রত্যেকটি নিউজ ডিলিট করবেন। না হলে আমি এই প্রমাণ নিয়ে আইনানুগ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’

 




রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২ বছর দেয়া উচিৎ – নুরুল হক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত দুই বছর সময় দেয়া উচিৎ। বিভিন্ন অফিস আদালতসহ নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর জন্য এ সময় তাদের দিতে হবে নচেৎ একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন তিনি।

পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং গণ অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল হক বলেন, দুই বছর সরকারের ক্ষমতায় থাকার জন্য কাঠামো আরও বাড়ানো দরকার। ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থায় তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারবে না। এই সরকারের চেহারা জাতীয় সরকারের চেহারায় দেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ করে তাদের মনোনীত প্রার্থীদেরকে অন্তর্ভুক্তি করে জাতীয় সরকারের রূপ দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, সরকার যদি তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার করে তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন সন্দেহ থাকবে না। এই সরকার যদি রাষ্ট্রের সংস্কার করতে না পারে তাহলে কোন রাজনৈতিক সরকারও তা পারবেনা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় এক দলের উত্থান দেখা যাচ্ছে তারা ডিসি অফিস, এসপি অফিসসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। সমাজের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এদের প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।




ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে পটুয়াখালীর ২৩ শহীদের পরিবারকে ৪৬ লাখ টাকা দিলো জামায়াত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত পটুয়াখালীর শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় করেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামী। এ সময় দলের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবার গুলোকে ২ লাখ টাকা করে ২৩টি পরিবারকে মোট ৪৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ্আলম।

জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কেএম মকবুল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাড. মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শূরা সদস্য ও পটুয়াখালী জেলার সাবেক আমীর মাওলানা এ.কে.এম ফখরুদ্দীন খান রাযী।

এসময় প্রধান অতিথি এ্যাড. মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল বক্তব্যে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে জাতীয় ঐক্য গঠন করতে হবে এবং হত্যা, নির্যাতন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শহীদদের পরিবারের জন্য কাজ করে যাবে এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিবে। শহীদ পরিবারের সম্মান রক্ষায় ছবি না তোলার অনুরোধ জানান এ্যাড. মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল।

এসময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, জেলা নায়েবে আমির এড. নাজমুল আহসান, জেলা ইসলামী ছাত্রসিবিরের সভাপতি মাহাদী হাসান, জেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ টি এম মোজাম্মেল হোসেন তপন, আহবায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ পিনু, জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।