পটুয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাষাবাদ করে উদপাদন বৃদ্ধির জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলা চত্বরে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় ৩ দিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪ উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় র‍্যালি শেষে সদর উপজেলা চত্বরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত আরা জামান উর্মি এর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসার অফিসার মো. এখলাছুর রহমান সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় ফিতা কেটে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪ উদ্বোধন করেন
জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোর্শেদা আক্তার মিম, কৃষক মাসুদ রানা।

পরে প্রধান অতিথি মেলায় নতুন নতুন প্রযুক্তির স্থাপিত ১৫ টি পরিদর্শন করেন এবং ১০০ জন কৃষক, কৃষানি ও শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ৫ টি করে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরন করেন। এ মেলা চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান।




প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সীর দুর্নীতির প্রতিবাদে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সীর দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। তাই অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে গত ১৬ বছরের তার সকল অনিয়মের তদন্ত দাবি করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক নুরুল ইসলাম মুকুল, রেজাউল করিম সিকদার ও মোস্তফা জামান সুজন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রা সহকারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না করে যদি তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা।




মহিপুরে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফ্রি ক্যাম্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুরে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আশা মহিপুর সমন্বিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়োজনে দিনব্যাপী ফ্রী ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

সেবা নিতে আশা কয়েক জন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কোমরে ব্যথা, মাজায় ব্যথা, হাঁটু ব্যথা নিয়ে মহিপুরে ফ্রি ক্যাম্প উপলক্ষে সেবা নিতে এসেছেন। আজকে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফ্রি সেবা পেয়ে স্বস্তিতে এই গ্রামীণ রোগী ও তার স্বজনরা।

আশা মহিপুর সমন্বিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাফিস্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনব্যাপী বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা, ফিজিওথেরাপি সচেতনতা সভা ও ফিজিওথেরাপি ইকুপমেন্ট প্রদান করা হয়েছে।

আজকের এই ফ্রি ক্যাম্প উপলক্ষে দূর দূরান্ত থেকে অনেক বয়স্ক মা বাবারা এসেছেন, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোগীকে ইকুইপমেন্ট সহ পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সরকারি কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালে এই ফিজিওথেরাপি সেবা চালু না থাকায় অত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা এই সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।




তুমি ভুল পেশায় রয়েছ’, মেয়ে এষাকে কেন বলেছিলেন হেমা মালিনী?




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম




সব শ্রেণির পাঠ্যবই পরিমার্জিত হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ—সবার মতামত উপেক্ষা করেই নতুন কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে ইচ্ছেমতো বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা ও নৈতিকতা বাদ দিয়ে ‘রাজনৈতিক’ বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছিল পাঠ্যবই।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বইয়ের নানা অসংগতি বাদ দিয়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতগতিতেই চলছে এই কাজ। শিক্ষাবিদরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃত করে ছাপিয়েছে। সেগুলো সংশোধন ছাড়া কোনোভাবেই প্রকাশযোগ্য নয়। তাই বই পরিমার্জন ­করা জরুরি। বিকৃত ও ভুল তথ্য সংযোজিত বই আগে দেওয়ার চেয়ে পরিমার্জিত বই দেরিতে দেওয়াও ভালো।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশের ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এখনো ছাপা হয়নি উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবই। মেলেনি সিলেবাসও। এ স্তরের পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জনের কাজ চলমান থাকায় বই পেতে আরও বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শেষ করে পাণ্ডুলিপি প্রেসে পাঠানো যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলো বাদে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি—এ তিনটি বিষয়ের চারটি পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৪ সাল থেকে বাংলা সাহিত্য পাঠ ও সহজপাঠ, ২০১৫ সাল থেকে ইংলিশ ফর টুডে এবং ২০২১-এ প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই এখনো শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর উদ্যোগ নেয় পরিমার্জনের। বাংলা বইয়ের কাজ শেষ হলেও বাকি এখনো ইংরেজি ও আইসিটি।




পটুয়াখালী জেলার ৭৫ ইউপির কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি পটুয়াখালীর ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম।

হামলা-মামলা, হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। কেউ কেউ হামলার শিকার হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে। কোনো কোনো চেয়ারম্যানের লাগামহীন দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্ফোরণে জন রোষানল থেকে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে রয়েছেন আত্মগোপনে। এসব জনপ্রতিনিধিদের মাসাধিকাল অনুপস্থিতিতে মানুষ শুধু সেবা বঞ্চিতই হচ্ছে না, পদে পদে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ছাত্র-জনতার কঠোর আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন। ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাজপথ দখলে চলে যায় বিএনপি-জামায়াত শিবিরসহ আওয়ামীবিরোধী শিবিরের। ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতাবলে ভোটারবিহীন নির্বাচনে পটুয়াখালীর প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান, সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ক্ষমতাকালে প্রত্যেকেই পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় পুরো রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। দলীয় এসব চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে।

পটুয়াখালী জেলার ৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ২/৪টি ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ মনোনীত। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের একমাত্র কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয়। বাকি ১২টি ইউপির চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ মনোনীত ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। ছোটবিঘাই ও বড়বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও মরিচবুনিয়া ইউপির চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণের প্রস্তাব সবে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝামেলা নেই বলে জানান পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান ঊর্মি।

ছোটবিঘাই ইউপি সদস্য সুলতান প্যাদা বলেন, চেয়ারম্যানের কাম (কাজ) অন্য কাউকে দিয়া হয় না। এখন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ জনগণ। অপসারিত এই ৩ ইউপির চেয়ারম্যানই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাই এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কতদিন পারব জানি না। দু’একটি ইউনিয়নের সদস্যরা তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ দিচ্ছে। তাদেরকে বলছি লিখিত দেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউপির ২৭ আগস্ট বহরমপুর ও ৪ সেপ্টেম্বর দশমিনা সদর ইউনিয়নের এই দুই চেয়ারম্যানকে অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে অপসারণ করে দশমিনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজনিরা।

দুমকি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন। এসব ইউপিতে প্যানেল চেয়ারম্যানরা মোটামুটি দায়িত্ব পালন করলেও জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিশ্চিত করতে আইডি ও পাসওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩ জন সরকারী কর্মকর্তাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুমকির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. চাহীন মাহমুদ।

কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউপির ২-৩ জন ছাড়া বাকি সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান। হামলা-মামলার ভয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সবাই গা-ঢাকা দিলেও বিএনপির সঙ্গে রফাদফা করে ২-৪ জন এলাকায় এলেও অফিস করছেন আড়ালে। কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলির চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তার স্ত্রী। এখানে একজন সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান থাকলেও ছোটবাইসদিয়া ও মৌডুবির চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। রাঙ্গাবালী সদরের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান মামুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলে শূন্য আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। বাকি দুজন চেয়ারম্যান বিএনপির সঙ্গে তালমিলিয়ে সময় সুযোগমতো অফিস করছেন বলে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা জানান।

বাউফলের ১৫টি ইউনিয়নের ১৫ জন চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এরা সবাই সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলয়ের নেতা ও আত্মীয়স্বজন। সবাই এখন লাপাত্তা। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে ৫ জন চেয়ারম্যান এলাকায় উঠলেও তারা চলাফেরা করছেন সাবধানে। আসম ফিরোজের আপন দুই ভাইয়ের ছেলে কালাইয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মনির মোল্লা ও চন্দ্রদ্বীপের আলকাস মোল্লা, কনকদিয়ার শাহীন চেয়ারম্যানসহ ৯টি ইউপির চেয়ারম্যানরা হামলা-মামলার ভয়ে এখনো এলাকায় ফিরতে পারেননি। সূর্য মনি ও ধুলিয়া ইউনিয়নে প্রশাসক হিসাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বগা ও কালিশুরি ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নাজিরপুর, কালাইয়া ও কনকদিয়া ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দুটি ইউনিয়ন প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের একজন চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয় হলেও বাকি ৫ জন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। ইতোমধ্যে মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাবলু কাজীকে অপসারণ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এসব ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে অনেক ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিছু ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও যারা অনুপস্থিত রয়েছেন বা থাকবেন তাদের ব্যাপারেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বাউফলে গণমাধ্যম কর্মীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে গণমাধ্যম কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী সৈয়দ নাঈমকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷

শুক্রবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিম গফুর হাসপাতালের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। নাহিদ অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের গ্রাফিক্স ডিজিইনার পদে চাকুরি করতেন।

জানা গেছে, দুইদিন আগে গণমাধ্যমকর্মী নাঈম তার অসুস্থ মাকে দেখতে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে মায়ের জন্য খাবার নিয়ে সন্ধ্যায় ইব্রাহীম গফুর হাসপাতালে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলে সবুজ চৌকিদার নামে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা দলবল নিয়ে নাঈমকে মারধর করে আহত করেন।

ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী সৈয়দ মো. নাঈম বলেন, আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ১৫ বছর আগের স্কুল স্পোর্টসের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে এবং সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গলাচিপায় ইসলামী আন্দোলন গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টায় গলাচিপা পৌর মঞ্চ প্রাঙ্গনে ৭ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা জাকির হোসেন এর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ কাজী গোলাম সারোয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রধান করেন সহ- সভাপতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান বোখারী, উপদেষ্টা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন মাতুব্বর, এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর সভাপতি মাওলানা মোঃ রিপন।

এ সময় বক্তারা বলেন ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা করা দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা দুর্নীতি সন্ত্রাস বৈষম্য ভোটাধিকার রক্ষার্থে ( পি,আর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ৭ দফা দাবী তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি বলেন, জনগণকে এমন সেবা-ই দিতে চাই, যেমনটা সাধারণ জনগণ চায়। এই দেশটা হলো জনগণের, জনগণের টাকায় দেশ চলে। মানুষ সেবা চাওয়ার পরেও পাবে না তা কখনোই হবে না, বরং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দেওয়া হবে। চুরি, ডাকাতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা‌ পরিষদ বাংলাদেশ, গলাচিপা উপজেলা শাখা, পটুয়াখালী, মাওলানা মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা‌ পরিষদ বাংলাদেশ, গলাচিপা উপজেলা শাখা, পটুয়াখালী, হাফেজ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান, নায়েবে মুহতামিম, কাসেমুল‌ উলুম মাদ্রাসা গলাচিপা সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।




কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সদস্য আকরাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার কিশোরগঞ্জের পারাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী জোনের সহকারী কমিশনার সুবীর কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই কনস্টেবলের নাম মো. আকরাম হোসেন (২২)। তিনি গাজীপুর শিল্প পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট কোনাবাড়ি থানার পাশে গুলি করে কলেজছাত্র মো. হৃদয়কে (২০) হত্যাকরা হয়। নিহত হৃদয় টাঙ্গাইলের গোপালপুরের আলমনগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি হেমনগর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখার পাশাপাশি কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী সড়কের কোনাবাড়ী এলাকায় গত ৫ আগস্ট মো. হৃদয় (২০) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে হৃদয় রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। ওই সময় শিল্প পুলিশে কর্মরত কিছু পুলিশ সদস্য কোনাবাড়ী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তারা হৃদয়কে রাস্তার পাশ থেকে ধরে নিয়ে চড়থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে পুলিশ কনস্টেবল আকরাম অতি উৎসাহী হয়ে তার পেছন দিক থেকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নিহতের ফুফাতো ভাই মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে কোনোবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জের পারাইল এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী জোনের সহকারী কমিশনার সুবীর কুমার সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে যে তদন্ত করা হয়েছে সেখানে কন্সটেবল আকরামের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে তাকে কিশোরগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। আজ শনিবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালতে তোলা হয় তাকে। আদালত সোমবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।