পটুয়াখালীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল – দুশ্চিন্তায় জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই। সমুদ্রগামী জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত এই মাছ। এ বছর ঘন ঘন বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মৌসুমের অধিকাংশ সময়ই ঘাটে বসে কর্মহীন সময় কেটেছে জেলেদের।

আবহাওয়া অনুকূলে আসার পর পরই সমুদ্রে গিয়ে জাল ফেলেও ইলিশ মিলছে না। ফিরতে হচ্ছে অন্যান্য মাছ নিয়ে। তাতে সমুদ্র যাত্রার খরচও উঠাতে পারছেন না অধিকাংশ জেলে। অভাব- অনটন আর দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে তাদের। মাঝেমধ্যে কিছু ট্রলারে ইলিশের সরবারহ বাড়লেও দাম চড়া হওয়ায় মধ্যবিত্তদের তা আর ক্রয় ক্ষমতার নাগালে থাকছে না।

পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর ও উপকূলের বিভিন্ন আড়ত ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের জেলেরা মাছ শিকারে যাওয়া-আসা করছেন। সমুদ্র থেকে আসা ট্রলারে যে পরিমাণ মাছ নিয়ে আসছেন, তা দিয়ে খরচ টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকে আবার খরচের টাকাই তুলতে পারছেন না। কিছু জেলে মাঝেমধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাছ পেলেও তা অতি নগণ্য।

দেশের সর্বদক্ষিণের উপকূল অঞ্চল হওয়ার সুবাধে অধিকাংশ বাসিন্দা জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত। কলাপাড়া উপজেলায় ১৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে। হিসাব অনুযায়ী, জেলায় মোট ৭৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর বাইরেও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন এখানকার লক্ষাধিক জেলে।

তবে গত কয়েক বছরের দিকে লক্ষ্য করলে জানা যায়, অভাব অনটন আর ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে অনেকেই জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন। কেউ আবার ইলিশের বিকল্প হিসেবে জীবিকার তাগিদে অন্যান্য মাছ ধরতে বৈধ-অবৈধভাবে উপকরণ এবং পদ্ধতি পরিবর্তন করেছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, বৃষ্টিপাত হলে সমুদ্রে মাছ বাড়ে। কিন্তু সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাত হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। উপকূলের নদ-নদীতেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। এ সময় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ার কথা।

একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে তারা দিনরাত নিয়মিত জাল ফেলছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ইলিশ না পেয়ে তাদের অনেককেই খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে।

জেলে আলমগীর হোসেন জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন, এখন ভাদ্র পেরিয়ে ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু সমুদ্রে হন্যে হয়ে ঘুরেও মাছের দেখা পাচ্ছেন না। যে মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে খরচের টাকাই উঠছে না।

হানিফ নামে আরেকজন জেলে বলেন, উপকূলের ডুবোচর ও নাব্য সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উপকূলবর্তী খুটা জেলে মো. জালাল হাওলাদার জানান, ২০ বছর ধরে আমরা ইলিশ মাছ ধরে আসছি। কিন্তু এখন আর ইলিশ পাচ্ছি না। আমাদের এখন গভীর সমুদ্রে গিয়ে জাল ফেলতে হয়। তবে তা দিয়ে আমাদের পোষাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা অন্যান্য মাছ ধরার জন্য উপকরণ পরিবর্তন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ইলিশের আশা ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের এই জেলে পেশা ছাড়া আর বিকল্প নেই। মহাজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ এনেছি। সেই ঋণ শোধ করার আগে চাইলেও অন্য পেশায় যেতে পারছি না।’

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী হালিম জানান, এখানকার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। ছোট ইলিশ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি।

আলীপুর মৎস্য বন্দর ট্রলার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স মনি ফিশের ব্যবস্থাপক মো. জলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর দেখতে পাচ্ছি ইলিশের সরবরাহ কমে আসছে। আমাদের এতে তেমন ক্ষতি না হলেও জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

সমুদ্রে ইলিশ কম পাওয়ার কারণ জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘মা ইলিশের সুষ্ঠু প্রজনন সময়কালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা আমাদের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। ফলে আমাদের দেশীয় জেলেরা মাছ পাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর হতে হবে। না হলে একসময় ইলিশের উৎপাদন একদম কমে যাবে।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান লোকমান আলী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরে ডুবোচর জেগেছে। নদ-নদীর পানি কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে চলে আসে ইলিশ। কিন্তু ডুবোচরের পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থের কারণে দিন দিন নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। প্রজননের সময় মা ইলিশ উপকূলসহ নদ-নদীতে আসতে না পারায় দিন দিন ইলিশের সংখ্যা কমছে।’

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা হচ্ছিল জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। কিন্তু অধিকাংশ জেলেকে ফিরতে হচ্ছে অন্যান্য মাছ নিয়ে। ইলিশের আকাল যেন কাটছেই না৷ আবার যে পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসছে তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দরে। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে।




বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করা নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর- উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

আজ সোমবার আবহাওয়ার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (০৩) এই তথ্য জানিয়েছে অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পুরীর কাছ দিয়ে ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলেও জানিয়েছেন মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন রেজাউল হক বাচ্চু নামের এক ব্যবসায়ী।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন– জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ফারুক ভুইয়া, ছাত্রলীগ নেতা সাকিব, মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গোলাম মোস্তফা, সমীর চন্দ্র সাহা, সোহেল, কামাল হোসেন, জুয়েল, সজীব সানি, মেহেদী হাসান, পলাশ, শামীম আহমেদ মৃধা, এনামুল হক বাবু, নাজমুল হাসান মুন্না, কিরণ শীল, আরিফুর রহমান, তুহিন মুন্সী, শহিদুল ইসলাম, মিঠুন ও জলিল তালুকদার। তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

মামলা বাদী রেজাউল হক বাচ্চু বলেন, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে রশ্নি ইলেকট্রনিক্সে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দোকানের ম্যানেজার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা হামলা-ভাঙচুর করে। এসময় তারা দোকানে থাকা টিভি-ফ্রিজ ভাঙচুর করে এবং ম্যানেজারের কাছ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সর্বসাকুল্যে আসামিরা আমার প্রতিষ্ঠানের মোট ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় এবং ক্ষতিসাধন করে।

এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ হোসেন বলেন, আমার মক্কেল রেজাউল হক বাচ্চুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রশ্নি ইলেকট্রনিক্সে ২০১৮ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জন এবং অজ্ঞাত ১৫-২০ জন চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাট করেন। ঘটনার পর সদর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশে আমার মক্কেল এ ঘটনার বিচারের দাবিতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।




সপ্তাহে তিনদিন ছুটির যুগে প্রবেশ করল সৌদি




জীবন পাল্টে দিতে পারে এ পি জে আব্দুল কালামের এই ১০ বাণী




বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনার ফোনের সংযোগ, সুযোগ নেই বাইরে যাওয়ার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন তিনি। কথা ছিল দিল্লি হয়ে বোন শেখ রেহানার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যাবেন। তবে সেই সুযোগ পাননি তিনি।

৫ আগস্ট দিল্লির হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে হাসিনাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করে। এরপর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় ভারতীয় বাহিনী।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেলিম সামাদ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজে’ লেখা এক প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা দিল্লির কাছাকাছি একটি বিমান ঘাঁটির নিরাপদ বাড়িতে আছেন। সেখান থেকে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

সেলিম সামাদ তার প্রতিবেদনে এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে লিখেছেন, সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যখন হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে যান তখন তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল কি না।

তবে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শপথ গ্রহণের পর মোদির সঙ্গে যখন প্রথমবারের মতো টেলিফোনে কথা বলেন— এরপর হাসিনাকে একটি নিরাপদ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মোদি-ইউনূসের কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টা পর হাসিনার যোগাযোগের সব ডিভাইসে বিঘ্ন ঘটে। এরপর থেকে তিনি আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, হাসিনার ওই বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। এমনকি ঘাঁটির ভেতর সেনাদের জন্য থাকা একটি সুপার শপেও যাওয়ার সুযোগ পান না তিনি। অথচ তার বাড়ি থেকে সুপার শপটিতে হেঁটে যাওয়া যায়।

তিনি আরও লিখেছেন, শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত তার মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। যদিও শেখ হাসিনা এক মাস ধরে দিল্লিতেই আছেন।

শেখ হাসিনা যখন ভারতে পালিয়ে যান তখন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, তিনি দিল্লিতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু জয়কে দিল্লিতে আসতে বারণ করা হয়। কারণ তিনি এসে দেখা করতে পারবেন না।

এছাড়া হাসিনার ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না তিনি। হাসিনাকে যে নির্জন বাড়িতে রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে তার ছেলে-মেয়ের নিরবতা স্পষ্ট।

এই সাংবাদিক আরও লিখেছেন, হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে আছেন তার বোন শেখ রেহানাও। যদিও রেহানা ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে সেখানে আটকে গেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের আইনসভার সদস্য এবং জুনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারকে তার খালা হাসিনা এবং মা রেহানাকে সাহায্য করার জন্য কোনো অনুরোধ করেননি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে টিউলিপ নয়াদিল্লির ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে কোনো সহায়তা চেয়েছেন কি না, বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর যদি বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত চায় তাহলে এটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

তিনি লিখেছেন, যদি বাংলাদেশের অনুরোধের পরও ভারত হাসিনাকে ফেরত না দেয় তাহলে তাদের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে সেটি তারা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, এখনই বলা যাচ্ছে না। সূত্র: নর্থইস্ট নিউজ




বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ – পায়রা বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আজ রবিবার সকাল ছয়টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিনপশ্চিমে অবস্থান করছিলো।

এ নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। উপকূলের অনেক স্থানে থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বাতাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। তাই উপকূলীয় এলাকায় দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শংকায় পায়রা বন্দরসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস আড়ৎ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বলেন, বেশির ভাগ ট্রলারই সাগরে রয়েছে। তবে কিছু ট্রলার মহিপুর শিব্বারিয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। বাকি সবাইকে মোবাইল করে বলা হচ্ছে।




বাউফলে জামায়েতে ইসলামীর শান্তি ও সম্প্রীতির বিশাল সমাবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়েতে ইসলামীর শান্তি ও সম্প্রীতির বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাউফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

প্রধান অতিথি ভাষনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে দেশে লুটপাট করেছে। আমরা তা করবো না। আমরা রাজনৈতিক দল ও মতের উর্ধ্বে থেকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাউফলের উন্নয়ন করবো। আর সেই উন্নয়ন সকল দলের অনুসারীদের মধ্য থেকে সৎ, দক্ষ ও দেশ প্রেমিক মানুষদের সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করবো। তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত বাউফলের স্থানীয় পাবলিক মাঠে বাউফল উপজেলা জামায়েতে ইসলামীর আয়োজিত শান্তি ও সম্প্রীতির এক বিশাল সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকার আমাকে একাধারে ৬৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছি। সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। আমি আপনাদেরকে অসম্ভব রকম ভালোবসি। বাউফল উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে বাউফলের অসহায় মানুষকে সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করেছি। অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। একটা বিষয় আমি আপনাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই ৫ আগস্ট ফেসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাউফলে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সাথে জড়িত ছিলেন তারা আমাদের আপনজন ছিলেন না। তাদেরকে আমি বিগত সরকারের দোষর বলবো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়েতের পটুয়াখালী জেলার আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম, জামায়াতের পৌর আমির রাসেল মাহমুদ, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য মাওঃ ছোবাহান, কর্ম পরিষদ সদস্য এটিএম নজরুল ইসলাম, কর্মকরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ দাইয়ান, কেন্দ্রীয় শিবিরের আইন বিষয়ক সম্পদক মুনতাসির মুজাহিদ, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মাহাদি হাসান, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান, বাউফল উপজেলা ছাত্র শিবিরের দক্ষিন শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন, পূর্ব শাখার সভাপতি মো. লিমন হোসেন, সমাজ সেবক আবুল কাসেম। সমাবেশ পরিচালনা করেন অধ্যাপক খালিদ হোসেন।




কমালা হ্যারিস নির্বাচনে জিতলে ইসরায়েল ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে : ট্রাম্প




ক্ষমতাচ্যুতরা চুপচাপ বসে থাকবে না : ড. ইউনূস