আরও ৩৪ জেলায় নতুন ডিসি




পটুয়াখালী সহ ৩৪ জেলার জেলা প্রশাসক পদে রদবদল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশে পটুয়াখালী সহো আরও ৩৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর নিরীক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গতকাল সোমবার ২৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুই দিনে ৫৯টি জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হলো।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনপ্রশাসনে বড় পরিবর্তনে হাত দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পদে বড় রদবদল অব্যাহত আছে।

৩৪ জেলার নতুন ডিসির তালিকা—




গাজায় তাঁবু ক্যাম্পে বর্বর হামলা, নিহত অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি




বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ তিন নম্বর সঙ্কেত বহাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

নিম্নচাপটি গতকাল সকাল ৬টায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এ কারণে পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত বহাল রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের চার নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে না। বরং গতকাল সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। পড়ছে ভ্যাপসা গরম। নদ-নদী স্বাভাবিক থাকলেও সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




রাঙ্গাবালীতে আ.লীগের ১৬৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৬৯ জন নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে ১৫০-১৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় পঙ্গু হওয়া উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বশির ফকির বাদী হয়ে রোববার রাঙ্গাবালী থানায় এ মামলা করেন।

আওয়ামী লীগের আমলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে এ মামলা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য অপসারিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানকে প্রধান আসামি করা হয়।

এছাড়া এ মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি একে সামসুদ্দিন আবু মিয়া, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির তালুকদার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মাহাথির মোহাম্মদ রেশাদ মল্লিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন শোভন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এস আলম, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শিবলী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদ খান রাজ, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদুল কবির প্রিতম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক জামিল প্যাদা, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শিমুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওয়ালিদ তালুকদারের নাম রয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিএনপির সভা-সমাবেশে বাধা এবং নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় আসামিরা ক্ষমতার দাপটে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ধানের শীষের সমর্থনে উপজেলার নিজ হাওলা গ্রামে (খালগোড়া বাজার) জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে পূর্বঘোষিত পথসভা শুরু হলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সাইদুজ্জামান মামুন খানের (উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) নেতৃত্বে ককটেল বিস্ফোরণ করে সভামঞ্চ এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। সেদিন বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম করে আসামিরা।

এজাহারে বাদীর অভিযোগ, এ হামলার সময় প্রধান আসামি মামুন খানের নির্দেশে দুই নম্বর আসামি মাহাথির রেশাদের (উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক) হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসে মামলার বাদী বশির ফকির। তখন কোপটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বশিরের ডান পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বশির থানায় এসে মামলা করতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে তখন মামলা নেওয়া হয়নি।

সোমবার বিকালে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




পিরোজপুরে পানিতে ডুবে ২ ভাই-বোনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুরের নাজিরপুরে পানিতে ডুবে হাফসা খানম (৫) ও আমিনুল ইসলাম (৩) নামের দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা ওই গ্রামের মোস্তাকিন শেখের সন্তান। নিহত হাফসা খানম স্থানীয় আমতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে ওই দুই ভাই-বোন বাড়ির পেছনের পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় অসাবধানতা বশত: প্রথমে ছোট ভাই পুকুরের মাঝে চলে যায়। তাই দেখে বড় বোন তাকে আনতে যায়। এ ঘটনার ১০-১২ হাত দূরেই নিহতদের বাবা ও বড় ভাই গাছ কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় তারা ওই দৃশ্য দেখে এগিয়ে এসে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জিনাত তাসনিম বলেন, তাদের মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।




পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারদের কাজে ফেরার নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে তাদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করছিলেন।

দেশটির প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্য সরকারকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখবেন। আদালত নিযুক্ত কমিটি বিষয়টি নিয়ে কী সুপারিশ করবে, তার জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই।

তারা নির্দেশ দেন, পুলিশ ও প্রশাসন যেন সব সরকারি হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাবার ব্যবস্থা করে। পুরুষ ও নারী ডাক্তারদের রেস্ট রুম ও আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা যেন থাকে। তারা কোনো হুমকির মুখে পড়লে পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, ‘চিকিৎসকদের একাংশ এখনো আন্দোলন করছেন, কাজে যোগ দেননি। এর ফলে ২৩ জন মারা গেছেন। ছয় লাখ মানুষ চিকিৎসা পাননি।’

তার যুক্তি, ‘গরিবদের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধের পরেও যদি চিকিৎসকরা কাজে যোগ না দেন, তাহলে কী হবে?’

কপিল সিবাল দাবি করেন, ‘রাজ্যজুড়ে আন্দোলন হচ্ছে, কিন্তু পুলিশকে কিছু না জানিয়েই সেসব হচ্ছে।’

বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, আন্দোলন করার জন্য কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। কিন্তু কাজে যোগ না দিলে ব্যবস্থা না নেয়ার কথা তারা আর বলতে পারবেন না।

তারা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চিকিৎসকদের আস্থা ফেরাতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার পরিস্থিতি দেখবেন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। সব চিকিৎসককে নিরাপত্তা দিতে হবে। যেসব ব্যবস্থা নিতে হবে, তার খরচ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টির উপর নজর রাখবে বলেও তারা জানিয়েছেন।




বরিশালে মৎস্য আড়ত দখল করে নাম বদলাল বিএনপি নেতারা

বরিশালে মৎস্য আড়ত দখল করে নাম বদলাল বিএনপি নেতারা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরের পোর্ট রোডে জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্রের সাইনবোর্ডের নিচে নতুন নামের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল নগরের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র পোর্ট রোডের মৎস্য আড়ত। ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত এ পাইকারি মাছের বাজারের দখল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। গত দেড় যুগ ধরে এর দখল ছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতারা আড়ত দখলে নিয়ে নাম বদলে দিয়েছেন।

‘বরিশাল জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্র’ নাম থাকা এই আড়তের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্র’। পুরোনো সাইনবোর্ডের সামনে দুদিন আগে নতুন নামের একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। নামকরণের উদ্যোক্তাদের দাবি, চারদলীয় জোট সরকারের সময় মোকামটির নাম জিয়ার নামেই ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করেছিল।

এখন আগের নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এ নামকরণের বিষয়ে কিছু জানে না বাজারটির ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এমনকি নগর বিএনপির শীর্ষনেতারাও এ বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।

পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১০ সালের দিকে এর নিয়ন্ত্রণ নেন মৎস্যজীবী লীগের নেতা খান হাবিব। তিনি ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী। তিনি তাঁর বাহিনী দিয়ে মোকামের পাশাপাশি রাস্তার ওপর বাজার বসিয়ে চাঁদা তুলতেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোকাম নিয়ন্ত্রণ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ‘প্রধান খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে সাদিক নগরে একক আধিপত্য হারালে মোকাম আবারও খান হাবিবের নিয়ন্ত্রণে যায়। তিনি চলতি অর্থবছরে তাঁর স্ত্রীর নামে এটি ইজারা নেন।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর খান হাবিব আত্মগোপন করেন। নগরে দখল শুরু হলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বিএনপির নেতা মৎস্য আড়তটিতে হানা দেন। ওই ওয়ার্ডেই ব্যবসাকেন্দ্রটি অবস্থিত। ফলে ৭ ও ৮ আগস্ট সেখানে খাজনা আদায় বন্ধ ছিল। এ খবর জানাজানি হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা গিয়ে প্রকৃত ইজারাদারের প্রতিনিধির খাজনা আদায় নিশ্চিত করেন। তবে খান হাবিবসহ তাঁর অনুসারীরা আত্মগোপনে থাকায় মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেন বিএনপিপন্থীরা। এখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে মোকাম।

নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে রয়েছেন মৎস্যজীবী দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব আনিচুর রহমান মিলন ও ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. কামাল। খান কামাল আবার খান হাবিবের আপন ভাই। এ ছাড়া সদর উপজেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন ব্যবসায়ী জহির সিকদার।

খান কামাল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি দখলের মধ্যে নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, নাম বদল করেছেন; কিন্তু তা অফিশিয়ালি হয়নি।

এ নিয়ে কথা হলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের নাম শহীদ জিয়ার নামে রাখার বিষয়টি তাঁরা জানেন না। তাঁদের কাছ থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়নি। আর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন, পোর্ট রোড মৎস্য মোকামের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। সরকারিভাবে এ ধরনের কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।




পুরানো নামে ফিরেছে বরিশাল পাইকারী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পুরানো নামে ফিরেছে। এ অবতরণ কেন্দ্রের বর্তমান নাম দেওয়া হয়েছে জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র। যা আওয়ামী লীগের শাসনামলে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিলো বরিশাল জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র। 

বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েক দিন আগে নাম পরিবর্তন করে বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা জানান, এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির নাম আগে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জিয়াউর রহমানের নামে ছিল।

সবশেষ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নামটি পরিবর্তন করে ‘বরিশাল জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র’ রাখা হয়। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতারা পুনরায় আগের নাম ফিরিয়ে আনেন।

এই নামকরণের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এছাড়া নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছে।




বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল