একাদশের রেজিস্ট্রেশন শুরু রোববার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: একাদশ শ্রেণিতে ২০২৪-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনলাইনে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম (১৫ সেপ্টেম্বর) রোববার থেকে শুরু হবে। এই কার্যক্রম চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ না করতে পারলে বোর্ড দায়ী থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর আওতাধীন দেশের সব উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি ওয়েবসাইট (https://www.xiclassadmission.gov.bd) এর (College Login) প্যানেলে (কলেজের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড) দিয়ে লগইন করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পাঠানোর সব কাজ শেষ করার জন্য বলা হলো।

উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজ অনলাইনে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে উদ্ভূত জটিলতার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।




এবারও ভারতে ছাপা হবে ১ কোটি পাঠ্যবই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু করেছিলো। তার ধারাবাহিকতা থাকছেই। এবারও ভারতীয় দুই প্রকাশককে দেয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় থাকায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রায় এক কোটি পাঠ্যবই ছাপবে প্রিতম্বর বুকস প্রাইভেট লিমিটেড ও পাইওনিয়ার প্রিন্টার্স। আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান ও মূল্যায়ন শেষ করে ১৭টি লটে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপার কাজ পেয়েছে ভারতীয় এই দুই প্রকাশক। দুই তিন মাস আগে ডাকা এই অপকর্মের পেছনে ছিলেন দীপু মনির ভাই টিপু এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম ও এনসিটিবির তথ্যজ্ঞ বেসরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার সিন্ডিকেটের পছন্দের মোসা. নাজমা আখতার। যিনি এনসিটিবির সচিব। আরো আছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষার সচিব ফরিদ আহম্মদ।

গত জুলাই মাসে এই সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়েছেন গত ১২ বছর ধরে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থা ধবংসের কারিগর অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী। তিনি এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) হিসেবে আছেন জুলাই থেকে। রবিউলের স্ত্রী-সন্তানসহ অনেকেই বিদেশে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও দীপু মনির খুবই পছন্দের লোক রবিউল। প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের প্রধান ছিলেন এক যুগের বেশি।

পাঠ্যপুস্তক ছাপায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক অধ্যাপক দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, বিন্দুমাত্র যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও শুধু ছাত্রলীগ নেত্রী পরিচয়ে আর সিন্ডিকেটের ইশারায় চলার নিশ্চয়তায় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সচিব পদে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া দীপু মনি পছন্দের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা নাজমা আখতার এখনো বহাল আছেন, কলকাঠি নাড়ছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা  বলেন, প্রাথমিকের বই ছাপার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের পলাতক সাবেক মেয়র ফজলে নুর তাপসের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করা ফরিদ আহম্মদ। ভারতীয় কোম্পানিকে দেয়া কাজ যেনো বাতিল না হয় সেই বিষয়ে অনড় অবস্থানে প্রাথমিকের সচিব। তিনি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে আছেন। ফরিদের মতামত জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।




দেশে ফিরলেন আমিরাতে ক্ষমা পাওয়া আরও ২৬ প্রবাসী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::দেশে ফিরেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষমা পাওয়া আরও ২৬ বাংলাদেশি। আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন তারা।

বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে দণ্ডিত হয়েছিলেন ৫৭ বাংলাদেশি। শেখ হাসিনার পতনের পর সেসব প্রবাসীদের দেশে আনার কাজ শুরু করেন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে তাদের ক্ষমা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৪ বাংলাদেশি গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন। আজ দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৮ বাংলাদেশি আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে দুই দফায় আমিরাত থেকে ৪২ জন দেশে ফিরলেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডিত ৫৭ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

সেদিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আদালতে এর আগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৫৭ বাংলাদেশিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ক্ষমা করেছেন।




বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবহাওয়া অধিদফতরের এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানা গেছে।

আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কি. মি. দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬০ কি. মি. দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের সবোর্চ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি. মি.। যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।




ধর্মই এ দেশের প্রগতিশীলদের প্রধান শত্রু: শায়খ আহমাদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::ধর্ম বাংলাদেশের প্রগতিশীলদের প্রধান শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। আজ শুক্রবার নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘বিগত ৫০ বছর যাবৎ দেশের সকল সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করছে কথিত প্রগতিশীল শক্তি। এরা সব সময়ই ধর্মকে রাষ্ট্রের কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেছে— উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধর্ম।’

তিনি লেখেন, ‘অথচ ধর্মকে অগ্রাধিকার দিয়েও যে কোনো দেশ উন্নতির শিখরে উঠতে পারে, তার বড় উদাহরণের নাম মালয়েশিয়া। তাদের সংবিধানের ৩ (১) ধারায় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উল্লেখ করে অন্যান্য ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। সেখানকার মোট জনগোষ্ঠীর ৬০-৬৫% মুসলমান। তার ওপর ভিত্তি করে তারা যদি ইসলামকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রে রাখতে পারে, সকল কাজে ইসলামকে ধারণ করে তারা যদি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশে সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায়?’

এ ইসলামি বক্তা লেখেন, ‘শুধু মালয়েশিয়াই নয়, এমন আরও বহু দেশ রাষ্ট্রধর্মকে স্বীকার করে তার আলোকে দেশ পরিচালনা করে এগিয়ে গেছে। চোখের সামনে উন্নতির এমন জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ থাকার পরও ধর্মই এ দেশের প্রগতিশীলদের প্রধান শত্রু। অথচ যুগের পর যুগ রাষ্ট্র থেকে ধর্মের বিযুক্তি আমাদের দেশকে কী দিয়েছে, কতটুকু উন্নত করেছে, এটা সময়ের বড় প্রশ্ন।’

তিনি লেখেন, ‘এর চেয়ে যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হতো, যদি তাদের ভেতর এই অনুভব ছড়িয়ে দেওয়া যেত যে, তারা বাইরের কেউ নয়, তারা এই দেশের মালিক, তবে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য তারা সবকিছু উজাড় করে দিত। এতে দিনশেষে লাভবান হতো আমাদের এই দেশটাই।’

এ ছাড়া ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একাধিক মন্তব্য করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। একটি মন্তব্যে লেখেন, ‘মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। সেখান প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীগণ নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। আইকনিক কোনো ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দেশে আসলে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দেওয়া হয়। সেখানকার মন্ত্রী-এমপিসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ইসলাম পালনের চেষ্টা করেন। নারী পুলিশের ইউনিফরমে হিজাব আছে। এগুলোর কোনোকিছুই যদি মালয়েশিয়ার উন্নতির পথে অন্তরায় না হয়, তবে বাংলাদেশে বাধা কোথায়!’

অপর মন্তব্যে লেখেন, ‘গুটিকয় প্রগতিশীল এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পলিসি নির্ধারণ করে আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কিছু বললেই তাদেরকে বিভিন্ন রাষ্ট্রে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে দিনের পর দিন জনগণের গণআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হবে, এটাই কি কথিত প্রগতিশীলদের গণতান্ত্রিক আচরণের স্বরূপ?’

 




ঐক্য বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছে, সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আমাদের যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঐক্যকে যেন আমরা অটুট রাখতে পারি।আজকে সু পরিকল্পিতভাবে সেই ঐক্যকে বিনষ্ট করার একটি চক্রান্ত চলছে। সে বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী ছিলেন গণতন্ত্রের সত্যিকারের নায়ক। আমরা যখন কথা বলতে পারিনি, তখন মুশফিক আমেরিকা এবং ইউরোপে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন সন্তান বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নেওয়া দরকার। ’

তিনি বলেন, ‘মুশফিক গণতন্ত্রের সত্যিকারের হিরো (নায়ক) ছিলেন। মুশফিক আমাদের কাছে, এই দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তিনি হিরো হিসেবে থাকবেন। আমরা যখন দেশে অত্যাচার নির্যাতনের মুখে কথা বলতে পারছিলাম না, তখন মুশফিক গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের হয়ে বহির্বিশ্বে কণ্ঠ উচ্চকিত করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি মানুষের কাছে হিরো হয়ে থাকবেন।’

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ফুলেল সংবর্ধনা দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দেন সরকারি কর্মকর্তা সমিতির নেতা ড. নেয়ামত উল্যাহ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দচন্দ্র প্রমাণিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, কবি আব্দুল হাই সিকদার। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম প্রমুখ।




পবিপ্রবির আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ৪র্থ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের নোভাস-৫ কর্তৃক আয়োজিত নৈর্ঋত-৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহিম, সহযোগী অধ্যাপক আবুবকর সিদ্দিক, সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক সউদ বিন আলম। আরো উপস্থিত ছিলেন আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা এবং ৫ম ব্যাচ, ৬ষ্ঠ ব্যাচ ও ৭ম ব্যাচ ও ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত ও গীতাপাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানের পরবর্তী কার্যক্রমে বিদায়ী বক্তব্য দেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এরপর বিদায়ী ব্যাচের পক্ষ থেকে অনেকে তাদের আবেগঘন বক্তব্য দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অন্তিম মুহূর্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।




শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়া

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনা প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট– গণহত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের বিচারের স্বার্থে, সর্বোপরি একটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মুখপাত্র হিসেবে বিচারের প্রক্রিয়ায় তাঁকে থাকতে হবে। কারণ এখানে তাঁর দায়-দায়িত্বের একটা ব্যাপার আছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সেই প্রত্যাবর্তন কোন প্রক্রিয়ায় হবে; দুই দেশের মধ্যে কীভাবে কথা হবে, সেগুলো পরের ব্যাপার। যখন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে তখন এগুলো আমরা দেখব।

বৈঠকে ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন উপদেষ্টারা। এ ছাড়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দেশে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আগামী দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে আয়ের ওপর দ্বৈত কর আরোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) লিমিটেডের বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের স্থায়ী আমানত আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

সংস্কার প্রতিবেদনের পর সংলাপ, এর পর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
রিজওয়ানা হাসান বলেন, সংস্কারের জন্য সরকার যে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, সেগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারবে বলে আশা করছে সরকার। তারপর এক পর্যায়ে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে যাবে সরকার। ওই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার, সুনির্দিষ্ট কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনী এনে তারপর নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক এরশাদ সরকারের সময়েও এ রকম কিছু সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে তা বাস্তবায়ন করে যেতে না পারার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এবারের সংস্কার কাঠামো বাস্তবায়ন বিষয়েও জানতে চান।

জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এরশাদ সরকারের সঙ্গে এই সরকারের বড় পার্থক্য রয়েছে। এই সরকার একটি গণঅভ্যুত্থানের ফসল। এই গণঅভ্যুত্থানে দুটি শব্দ ছিল। একটি হলো বৈষম্যবিরোধী, আরেকটি হচ্ছে সংস্কার। এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে একটি প্রকৃত গণতন্ত্রের দিকে দেশটিকে নিয়ে যাওয়া। যেহেতু এরশাদ সরকারে সঙ্গে এই সরকারের মৌলিক পার্থক্য আছে, তাই সেই সরকারের কর্মপদ্ধতি, কর্মপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যকে কোনোভাবেই মেলানো যাবে না।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদন আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নির্ভর করবে এর সপক্ষে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে পারি কিনা। এ জন্য সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোরও মতামত চাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নিশ্চয় এতদিনে উপলব্ধি হয়েছে যে, এরশাদ সরকার করে যেতে পারেনি, তার ফল কী হয়েছে, এটি রাজনৈতিক দলগুলো দেখেছে। তারাও কোনো সংস্কার করেনি। এর ফল কী হয়েছে, এটাও ৫ আগস্ট গোটা জাতি দেখেছে। কোনো রাজনৈতিক দল নিশ্চয় অজনপ্রিয় হয়ে আবার একই রকম ফলাফল দেখতে চাইবে না। এ জন্য প্রথম থেকেই আমরা মতবিনিময়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এক পর্যায়ে আমরা সংলাপে যাব। ওই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার, সুনির্দিষ্ট কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনী এনে তারপর নির্বাচনের কথা ভাবছি। রাজনৈতিক দলগুলোই ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে– আগে সংস্কার, পরে তারা নির্বাচনে যেতে চায়। কাজেই আজকের দিনে বাস্তবতা ও প্রেক্ষিতও ভিন্ন।’

তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাব যেগুলো আসছে তার মধ্যে কিছু কিছু জিনিস কিন্তু পত্রপত্রিকায় জনগণের মতামত হিসেবেও আছে। কারও কারও গবেষণা হিসেবেও আছে। এগুলো নিয়ে হয়তো তারা কাজ শুরু করবেন। এর মধ্যে কংক্রিট যে প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান করেছি, এগুলো চলে আসবে। সুতরাং তাদের টার্মস অব রেফারেন্স বা কর্মপরিধি ঠিক করতে আমাদের হয়তো আরও দু’তিন সপ্তাহ লাগবে। সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও সংশোধনী আনার পরই সরকার নির্বাচনের কথা ভাবছে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র
দেশের তৈরি পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতার পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং শ্রমিকদের কিছু যৌক্তিক দাবি আছে বলে এ সময় জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শ্রমিক অসন্তোষে অর্ডার ক্যান্সেল হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এখানে ভেতরে ষড়যন্ত্র যেমন আছে, আবার শ্রমিকদের জেনুইন কিছু দাবিও আছে। দীর্ঘ ১৬ বছর শ্রমিকরা যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তারা তাদের কথাগুলো বলতে পারত না। যে দাবিগুলো আছে, সেগুলো একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের কাছে এলে আমরা সেগুলো সমাধান করব।

উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হবে জানিয়ে শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, যারা বহিরাগত এবং ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে সেখানে অস্থিতিশীলতা করছে বা সেখানে উস্কানি দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। খুব দ্রুততম সময়ে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার সমাধান করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, বেকার যুব সংঘের নামে যারা বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে হামলা করেছে; অনেক ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে প্রতিহত করেছে। আপনারা দেখেছেন বেকার যুব সংঘের একজনকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেখা গেল, তিনি ছাত্রলীগের পদধারী  l




পটুয়াখালীতে ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড – বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে গুড়ি গুড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে।

উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যেকোনও সময় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রাসহ দেশ সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সমুদ্রগামী মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে মহিপুর আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মাছ ধরা ট্রলারগুলো আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী জেলায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।




ডাব ডিমও ইজারা দিতেন কুয়াকাটার সাবেক মেয়র আনোয়ার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার অপসারিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মেয়র অপসারিত হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রাও।
তাঁদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর শহরে ঢোকার জন্য সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদা নেওয়া হতো। শুধু তা-ই নয়, পৌর এলাকায় ডিম-ডাব বিক্রিতেও ‘ইজারা পদ্ধতি’র প্রচলন করেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হাওলাদার একসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) আসনে জাপার মনোনয়ন পান তিনি। যদিও পরে নির্বাচনে অংশ নেননি। পরে ২০২০ সালে কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন আনোয়ার। এরপরই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সেরনিয়াবাত আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ডিম-ডাব ইজারা
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পৌরসভার ভেতরের হাট ও বাজার ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও আনোয়ার হাওলাদার নিজের মতো করে ডিম, ডাব, গোশত মহল বানিয়ে আলাদা ইজারা দিতেন। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বাৎসরিকভাবে ইজারা দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করেন। এতে কুয়াকাটা পৌর শহরে ডিম-ডাব বিক্রি করতে হলে ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যে খাজনা দিতে হতো সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে।

ডিম ইজারাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি গত বছর ইজারা নিয়েছিলাম। এ বছর টেন্ডারের মাধ্যমে মেয়রের কাছ থেকে মন্টু দফাদার নামের একজন ৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। আর দোকান থেকে ডিম পাইকারি বিক্রি করেন জাকির। তাঁরা ডিমপ্রতি ২৫ পয়সা খাজনা নেন।’

ডাবের ইজারাদার আব্দুর রব মাঝি বলেন, ‘এ বছর চৈত্র মাসে মেয়রে ২ লাখ টাহা দিয়া ইজারা নিছি আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত। কুয়াকাটায় ১৫ জনের মতো ডাব বিক্রি করেন। তাঁরা প্রতিদিন ডাব উঠাইলে ডাবপ্রতি ১ টাকা করে নেই।’

মহাসড়কে চাঁদাবাজি
আনোয়ার হাওলাদার বাসস্ট্যান্ড ইজারার নামে নিজস্ব লোকজন দিয়ে সড়কে চাঁদাবাজি করতেন। এখনো সে ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভা বাসস্ট্যান্ডের সামনে মহাসড়কে থামানো হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক, থ্রিহুইলার, লরি। চালক ও তাঁর সহকারীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা।

বরিশাল থেকে মালপত্র নিয়ে আসা একটি পিকআপের চালক পলাশ হোসেন বলেন, ‘কুয়াকাটায় ঢুকতে এবং বের হতে হলে টোল দিতে হয় ১০০ টাকা। সপ্তাহে দু-তিনবার আসি, প্রতিবারই দিতে হয়।’

সৈকত থেকে ময়লা নেওয়া বন্ধ, জ্বলে না সড়কবাতি
উপজেলা প্রশাসন সৈকতের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করা শুরু করলে সাবেক এই মেয়র উপজেলা প্রশাসনকে বাধা দেন। সৈকতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে না পারায় গত ১৪ এপ্রিল সমুদ্রসৈকত থেকে ময়লা নেওয়া বন্ধ ও রাতে সড়কবাতি না জ্বালানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের অনুসন্ধান
এদিকে আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে গত বছর দুদকে অভিযোগ দেন এক ব্যক্তি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই সতর্কতামূলক সুরক্ষা কাজ প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ২ কিলোমিটার সড়কের যাচাই-বাছাই ও মূল্য নিরূপণের অনুসন্ধান করেন দুদক।

পটুয়াখালী জেলা দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি বলেন, ‘সাবেক মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে অপসারিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আপনারা গিয়ে পৌরসভায় দেখেন রুল টানানো আছে, ডিম-ডাব থেকে কত টাকা নেবে। এ ছাড়া কুয়াকাটা পৌরসভার রাস্তা ব্যবহারের কারণে ট্রাক থেকে টাকা নেওয়া হতো। তবে মাইক্রো, মাহিন্দ্রা থেকে টাকা আদায় করা হতো না। এখনো পৌরসভা টাকা নিচ্ছে, আর এই টাকা পৌরসভার রাজস্বে জমা হয়।’

আনোয়ার হাওলাদার আরও বলেন, ‘আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। উল্টো রাজনীতি করে ৩-৪ কোটি টাকা দেনা হয়ে গেছি। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা।’