“লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্পেই ব্যস্ত সরকার-প্রশাসন”:ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশালের মুলাদীতে চরকালেখান ইউনিয়নের জয়ন্তী নদী ভাঙন রোধে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রেখে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্প নিয়েই রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসন ব্যস্ত থাকে। যেসব প্রকল্পে রাজনৈতিক দলগুলো লাভবান হয়, সেগুলোতে তদবির করা হয়। অথচ টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরকারের অনীহা স্পষ্ট।”

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চরকালেখান ইউনিয়নের ঢালীবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে নোমরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে স্থানীয়রা অংশ নেন।

ফুয়াদ বলেন, “নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। জিওব্যাগ ফেলার মতো অস্থায়ী উদ্যোগে জনগণকে আতঙ্কে রেখে লাভ নেই। নদী ভাঙন ঠেকাতে ব্লক ফেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও মানুষ রক্ষা পায়।”

মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, জয়ন্তী নদীর চরকালেখান ইউনিয়নের অলীল মেম্বারের বাড়ি থেকে খেজুরতলা তেরচর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। নব্বই শতাংশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে।

এছাড়া ভাঙনের কারণে মুলাদী উপজেলা থেকে সফিপুর, সেলিমপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি পরিবার অতিকষ্টে দিন পার করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভূমি কার্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ বসতবাড়ি দ্রুত নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। তাই সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার, ইউপি সদস্য মো. রাশেদ খান, মুলাদী সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সিকদার, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মালেক সরদার, শিক্ষক অসীম মণ্ডল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জোয়ার-ভাটার নিয়মে চলে উপকূলের মহিষ বাথান

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, চরমন্তাজ, টুঙচর ও চরফারুকিসহ বিভিন্ন চরে প্রতিদিন হাজারো গরু-মহিষ চরে বেড়ায়। সাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনার বিশাল তৃণভূমি নির্ভর করে জোয়ার-ভাটার ওপর। এখানকার মানুষ ও পশুর জীবন চলে প্রকৃতির এই ওঠানামার নিয়ম মেনে।

স্থানীয় রাখালরা জানান, দিন-রাতের কোনো হিসাব নেই তাদের। জোয়ারের সময় গরু-মহিষ কিল্লায় (অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র) ওঠে, আর ভাটার সময় নেমে বিশাল তৃণভূমিতে ঘাস খায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার কিংবা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ প্লাবন—সবকিছুই মোকাবিলা করতে হয় তাদের। অনেক সময় পানির স্রোতে মহিষ ভেসে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চরাঞ্চলে বাঁশ, কাঠ, টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ‘কিল্লা’ই গরু-মহিষের নিরাপদ আশ্রয়। দিনভর তৃণভূমিতে থাকে পশুরা, আর রাখালরা বেদুইনের মতো যাযাবর জীবন কাটায়। মহিষের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানো, বাঁশি বাজানো ও গান গাওয়া তাদের জীবনের অংশ।

রাখালরা জানান, একজন রাখালের দায়িত্বে থাকে প্রায় ৫০টি গরু-মহিষ। ঝড়-বৃষ্টি বা রোদ যাই হোক না কেন, তারা খোলা আকাশের নিচেই কাটান। রাতের বেলা ছোট ছোট ছাউনিতে আশ্রয় নেন। শিয়ালের উপদ্রব দেখা দিলে সারা রাত জেগে পাহারা দিতে হয়।

যদিও চরে হাজার হাজার গরু-মহিষ থাকে, রাখালরা সহজেই নিজেদের পশু চিনে নিতে পারেন। তবে চোরের ভয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। তারা দাবি করেছেন—চরাঞ্চলে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা, রাখালদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা জরুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, তীরে ফিরেছেন ভোলার জেলেরা

মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। শনিবার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।

সরকারি নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যেই জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন ভোলার হাজারো জেলে। শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি, শিবপুরের ভোলার খাল এলাকা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে ব্যস্ততার চিত্র। কোথাও জেলেরা ট্রলার নোঙর করছেন, কেউ ইঞ্জিন খুলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ জাল গোছানো ও মেরামতে ব্যস্ত।

তুলাতুলি এলাকার জেলে ফিরোজ মাঝি ও আকবর মাঝি বলেন, মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মেলেনি। সম্প্রতি মাছ ধরা শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞা আসায় আবারও নদী থেকে ফিরতে হলো। তারা অভিযোগ করেন, বাজারে মাছ বিক্রি করলেও দাম বেশি মেলেনি।

এদিকে জেলে আলমগীর মাঝি ও ছগির মাঝি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে দাবি করেন—নিষেধাজ্ঞার সময় যেন অসাধু জেলেরা নদীতে না নামে এবং জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জন জেলেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ শেষ করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মা ইলিশ রক্ষায় বরিশালে শুরু ২২ দিনের বিশেষ অভিযান

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর ডিসি ঘাট থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য নৌর‍্যালির মাধ্যমে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

কীর্তনখোলা নদীতে আয়োজিত নৌর‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, নৌ পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি দে, র‌্যাব-৮, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা।

অভিযানে এবার প্রথমবারের মতো আকাশ থেকে নজরদারিতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক ড্রোন। পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও র‌্যাব। শুধু নদী নয়, হাট-বাজার, মাছের আড়ত, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালেও পরিচালিত হবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

বরিশাল জেলায় প্রায় ৮০ হাজার জেলের মধ্যে কার্ডধারী ৬৬ হাজার জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মোট বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন চাল। শুধু বরিশাল বিভাগেই রয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ জেলে, যাদের মধ্যে সাড়ে তিন লাখ পরিবার পাচ্ছে এ সহায়তা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে ৫৪টি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। অভিযানের সার্বিক তদারকিতে নিয়োজিত রয়েছেন ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মূল লক্ষ্য হলো— মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়ানো যায়।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক ও মৎস্য কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, কঠোর নজরদারি থাকায় এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সফল হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় রশিদ মোহরী (৫৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত রশিদ মোহরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় ঢাকাগামী ‘সেভেন স্টার পরিবহন’ বাসটি পথচারীকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে এবং চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা এবং গাড়ির অতিরিক্ত গতি বারবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে। শুক্রবার রাতের এ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল বলে জানা গেছে।

আটককৃতরা হলো— তালহা মৃধা (২০), মো. আল কাইয়ুম রিফাত (২১), মো. নাজমুল হাসান (১৯) এবং মো. সিয়াম সিকদার ওরফে আকাশ (১৯)। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, এ গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ বলেন, “কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আমরা শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করেছি। শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এমন অভিযান নিয়মিত চালানো হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।”

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৭ লাখ টাকার সেতু, অথচ উঠতে হয় মই দিয়ে

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল এলাকায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ব্যবহার করতে এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বাঁশের মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ রাস্তা না থাকায় তারা সেতুর পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। বর্ষা মৌসুমে সেতুর নিচের অংশ পানির তলায় তলিয়ে যায়, আর শুকনো মৌসুমে দুইপাশের মই বেয়ে সেতু পারাপার করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের। প্রায়ই মানুষ মই বেয়ে সেতু পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বাশাইল কলেজের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার জানান, “মই বেয়ে সেতু পারাপার করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল বাশাইল এলাকার ওয়াপদা খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। মুলাদী উপজেলার বান্দ রোডের মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে। চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ করা হলেও সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, সেতু নির্মাণের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও দুইপাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বাঁশের মই বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বাদল হোসেন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ হলেও প্রকৃত কাজ করেছে অন্য কেউ। যারা কাজ করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা জানিয়েছেন, “সেতুর টেন্ডার আমার আগমনের পূর্বে হয়েছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে যত দ্রুত সম্ভব সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করব।”

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিয়ের আগের রাতে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহে স্তব্ধ দশমিনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়ের আগের রাতে মো. শুভ দ্বীন ইসলাম (২৬) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মীর মদন গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শুভ ওই গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার বাদ আসর তাঁর বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে শুভ ছিলেন ভীষণ ব্যস্ত। বাড়ির সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়নের নানা আয়োজন তিনিই তত্ত্বাবধান করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবের আমেজ। নাচ-গান আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বাড়ির আঙিনা, সেখানে শুভও অংশ নিয়েছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর হঠাৎই তিনি নিজের চায়ের দোকানের দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময়েও ফেরত না আসায় পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে গিয়ে দোকানের আড়ার সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।

চিৎকার শুনে আত্মীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শুভর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গলায় দড়ির স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

শুভর দাদা আবদুর রব হাওলাদার জানান, “বিয়ের ব্যাপারে শুভর কোনো আপত্তি ছিল না। বরং সে-ই সব আয়োজন করছিল। হঠাৎ করে কেন এমন করল, আমরা কেউই বুঝতে পারছি না।” শুভর মামাতো ভাই মো. রাবিনও একই কথা বলেন, তিনি জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত শুভ হাসি-আনন্দে সবার সঙ্গে মেতে ছিলেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

ঘটনার পর পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দঘন বিয়ের আয়োজন এক মুহূর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার প্রস্তুতি, নদীতে নামতে জেলেদের সরব আয়োজন

দেশব্যাপী মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বিভিন্ন নদীতে চলছে শিকারের প্রস্তুতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সরকারি নির্দেশনায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদীতে ইলিশ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দুমকির পায়রা, লোহালিয়া, পান্ডব ও পাতাবুনিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নৌকা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোহালিয়ার বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, পাংসিঘাট, পায়রার লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলে পল্লীতে বিকল্প জাল ও নৌকার ব্যবস্থাও করে রেখেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, ভিজিএফ চালের বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। ফলে পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামার পরিকল্পনা করছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থান বা সহায়তা না থাকায় জীবিকার টানেই তারা এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, মা-ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জাল ও নৌকা জব্দসহ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, জেলেদের জন্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে একদিকে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


মো:আল-আমিন



পটুয়াখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রতীক্ষিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দীঘিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে বিজয়া দশমীর দিনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য আনন্দ-উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ।

এবারের নৌকা বাইচে ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো দর্শক। নৌকা বাইচ শেষে হাসেম ফকিরের দল প্রথম স্থান অর্জন করে। শাহ আলমের দল দ্বিতীয় এবং লাল মিয়ার দল তৃতীয় স্থান লাভ করে।

পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী দলকে একটি ডিপ ফ্রিজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে দেওয়া হয় দুটি এলইডি টেলিভিশন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন নিবারণ কবিরাজ বাড়ি পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী শুভময় কৃষ্ণ দাস।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল রানা, দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান মামুন, দশমিনা থানার ওসি আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলীম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতনসহ অনেকে।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা আবুল বশার। স্থানীয়রা জানান, এই আয়োজন শুধু বিনোদনেরই নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বছর এ আয়োজনে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম