পবিপ্রবিতে দিনব্যাপী ক্রয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউঅ্যাসি) উদ্যোগে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ক্রয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের ৪তলায় আইকিউঅ্যাসি কনফারেন্স কক্ষে এ কর্মশালা শুরু হয়।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় আইকিউঅ্যাসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে জরুরি প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ডিন কাউন্সিল কনভেনর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহানসহ অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩০ জন শিক্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এমন কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা কিছু না কিছু ক্রয় করে থাকি তাই আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সুষ্ঠু নীতিমালা জানা সবার জন্যই অপরিহার্য।

তিনি আরো বলেন, সবার স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার ফলেই তৈরি হতে পারে সুন্দর সমাজ, দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়।

আইকিউঅ্যাসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় সম্পর্কিত জ্ঞান প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন এবং রেকর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি, নৈতিক প্রয়োজনীয়তা এবং মানগুলো মেনে চলতে সাহায্য করে। যেমন- ট্যাক্স, অডিট বা প্রবিধান। প্রকিউরমেন্টের জ্ঞান ছাড়া কোনো সংগঠন, প্রকল্প, প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। কারণ এর সঙ্গে সেন্স অব পারপাস বা গোল জড়িত। প্রকিউরমেন্টের সঙ্গে সরকারি আইন এবং রুলস জড়িত।




ইরানে হিজাব পরা নিয়ে নারীদের আর ‘বিরক্ত’ করবে না পুলিশ




ভারতে ডোনাল্ড লুর বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা হলো




ওমরাহ যাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম কমাল বিমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওমরাহ যাত্রীদের জন্য টিকিটের মূল্য কমিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ছাড়া যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তি সহজলভ্য করতে সকল বুকিং ক্লাস বা রিজার্ভেশন বুকিং ডেজিগনেটর (আরবিডি) উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা ও মদিনা রুটে টিকিটের মূল্য কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে টিকিটপ্রাপ্তি সহজলভ্য করতে সকল বুকিং ক্লাস বা আরবিডি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ওমরাহ’র জন্য দুটি নির্দিষ্ট ফেয়ার ক্লাস বা আরবিডি ব্যবহার করা হতো। সকল বুকিং ক্লাস উন্মুক্ত হওয়ায় ওমরাহ যাত্রীগণ সাধারণ যাত্রীদের ন্যায় যেকোনো আরবিডিতে ওমরাহ টিকিট কিনতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যে সকল ওমরাহ যাত্রী আগে টিকিট ক্রয় করবেন তাঁরা সর্বনিম্ন ভাড়ার সুবিধা পাবেন। আর যে সকল যাত্রী ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে মদিনায় গমন করবেন তাদের জন্য আকর্ষণীয় মূল্য ছাড় দেওয়া হবে।




সাবেক বিচারপতি মানিকের জামিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাশ এক টাকা জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে তাকে জামিন দেন।

 সিলেটের কানাইঘাট থানায় পুলিশের একটি মামলায় তাকে এই জামিন দেয়া হয়। পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যতীত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টার দায়ে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়।

২৩ আগস্ট কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতারের আগে বা পরে মারধরের শিকার হন মানিক। অসুস্থ হয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচারের পর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে অনেকটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। জামিনের পর তাকে সিলেট কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে। 

এই সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।

২৩ আগস্ট রাতে অবৈধভাবে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক বিচারপতি মানিককে আটক করে বিজিবি। পরে ২৪ আগস্ট ভোরের দিকে সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত বিজিবি ক‍্যাম্পের সদস্যরা তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। এরপর মানিককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 
 
সে সময় শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আদালতে নেয়ার সময় জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করে সাধারণ মানুষ। আদালতে নেয়ার সময় কয়েকজনকে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালাতেও দেখা যায়। এ সময়ই তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন নাকি আটকের আগে আহত হয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
 
পরে সাবেক বিচারপতি মানিক নিজেকে অসুস্থ দাবি করলে আদালত জেলকোড অনুসারে তাকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সেদিন রাতে সিলেট কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তার গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অণ্ডকোষে জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) একটি কেবিনে রাখা হয় তাকে। এরপর তার উন্নত চিকিৎসায় আট সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।



লোডশেডিং ‘ভুতুড়ে’ বিলে বিপাকে পটুয়াখালীর গ্রাহকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাসাবাড়িতে, কলকারখানায় ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। ত্রুটিপূর্ণ ওই বিল সংশোধনের জন্য এখন তাদের স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ধরনা দিতে হচ্ছে। একদিকে ঘনঘন লোডশেডিং অন্যদিকে ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া থানায় গ্রাহকের সংখ্যা ৪৫-৫০ হাজার। গ্রাহকদের অভিযোগ, উপজেলাজুড়ে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং থাকায় তুলনামূলক বিদ্যুৎ কম ব্যবহার হয়েছে। তবুও দুই মাস ধরে দ্বিগুণ-তিনগুণ হারে বিদ্যুৎ বিল আসছে। লাগামহীন বিদ্যুৎ বিলে ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক বিল সংশোধনের অভিযোগ নিয়ে অফিসে যাচ্ছন। ভুতুড়ে বিল প্রসঙ্গে কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব জোনাল অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। উল্টো অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মতো করে গ্রাহককে বোঝাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন গ্রাহকের সঙ্গে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ করে পৌরসভার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান খান বলেন, মে মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ১ হাজার ১৮৬ টাকা, জুলাই মাসে ১ হাজার ৯৩৫ টাকা। আগস্টে আমাদের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং ছিল, অথচ এ মাসে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক ৩ হাজার ২৭৮ টাকা। বিদ্যুৎ যেখানে ঠিকমতো পাওয়া যায়নি, সেখানে এমন অস্বাভাবিক বিল কীভাবে হয়।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল এ জি এম মো. ইমরান শেখ বলেন, গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, সেভাবেই বিলও তৈরি হয়। অতিরিক্ত বিল নেওয়া কোনো সুযোগ নেই। মৌখিকভাবে বেশি কিছু অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।




৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হাসিনার পতনের প্লট তৈরি করা হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে দেশে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের পর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা বারবারই দাবি করেছেন, তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তাদের মতে, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলেই হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এরই মধ্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ান একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

দ্য সানডে গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পরিকল্পনা ২০১৯ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘Documents show U.S. set in motion plan to oust Hasina’। তারা উল্লেখ করেছে, কিছু নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের প্রথম দিক থেকেই হাসিনাকে অপসারণের পরিকল্পনা করে আসছে। এই নথিগুলোর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। মঙ্গোলিয়া (১৯৯৬), হাইতি (২০০১) এবং উগান্ডা (২০২১) এর মতোই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই) যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) এবং ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মূলত আইআরআই-কে দায়িত্ব দেয়। নথিগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারতের প্রভাব প্রতিহত করতে এই প্রকল্প প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) মূল উদ্দেশ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে গণতন্ত্রের প্রচার করা। এছাড়া ইউএসএআইডি অর্থায়িত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অংশীদার হওয়া। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট (এনডিআই), সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ (সিআইপিই), এবং সলিডারিটি সেন্টারের পাশাপাশি আইআরআই এনইডির চারটি মূল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি।

ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রক্রিয়াগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আইআরআইকে অনুদান প্রদান করে। এনইডি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি একটি বেসরকারি, অলাভজনক সংস্থা যা মূলত মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা অর্থায়ন করা হয়। এটি স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে বার্ষিক অর্থ বরাদ্দ পায়। অন্যদিকে, ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) একটি সরকারি সংস্থা যা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং বিদেশী সহায়তার জন্য কাজ করে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে ইউএসএআইডি এবং এনইডি থেকে অনুদান পাওয়ার পর আইআরআই ঢাকায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে একটি প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘প্রমোটিং অ্যাকাউন্টেবিলিটি, ইনক্লুসিভিটি, এবং রেজিলিয়েন্সি সাপোর্ট প্রোগ্রাম (PAIRS)’। এটি ২২ মাস ধরে চলে এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্তৃত্ববাদ বিরোধী কণ্ঠস্বরকে জোরদার করা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইআরআই বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য একটি সামাজিক ক্ষমতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। এর মাধ্যমে আইআরআই স্থানীয় এবং অপ্রথাগত ফোরামগুলোকে লালন করেছে, যেখানে নাগরিক-কেন্দ্রিক আলোচনা হতো। এই প্রকল্পে আইআরআই বিভিন্ন শিল্পী এবং সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং ১১টি অ্যাডভোকেসি অনুদান প্রদান করেছে। এর ফলে তৈরি করা শিল্পকর্মগুলো প্রায় চার লাখবার প্রদর্শিত হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সঙ্গীত, অভিনয়, শিল্প প্রদর্শনী এবং থিয়েটার পারফরম্যান্স। আইআরআই এলজিবিটিআই, বিহারি এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছে। এছাড়া, ৭৭ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ৩২৬ জন নাগরিককে ৪৩টি সুনির্দিষ্ট নীতিগত দাবি তৈরিতে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এই দাবিগুলো ৬৫ জন সরকারি কর্মকর্তার সামনে উপস্থাপন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি প্রকল্পের অধীনে আইআরআই ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির (এনইডি) থেকে ৯ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছিল। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রান্তিক কণ্ঠস্বর, বিশেষ করে যুবক ও নারীদের ক্ষমতায়ন করা। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নারীদের উৎসাহিত করা এবং ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে অহিংস রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এই নথিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঁচজন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তিনজন কর্মকর্তা, ইউএসএআইডির দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন রাজনৈতিক কর্মকর্তাকে প্রাথমিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্য সানডে গার্ডিয়ান তাদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি। তবে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা এই পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেছেন তাদের মধ্যে ক্রিস মার্ফি (ডি-সিটি), এসএফআরসি (দক্ষিণ এশিয়া উপকমিটি), সুমনা গুহ (দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল), ডোনাল্ড লু (স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইনকামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি), সারাহ মার্গন (ডিআরএল, স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইনকামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি) এবং ফ্রান্সিসকো বেনকোসমে (স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অ্যাডভাইজার) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পুরো প্রকল্পটি ঢাকায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এবং প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে সরাসরি l

 




বাউফলে ১০ বছরের শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে নিলয় ব্যাপারী (১০) নামের এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওলিপুরা গ্রামে নিজ ঘরের দোতলার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওলিপুরা গ্রামের তাপস ব্যাপারির একমাত্র সন্তান। তাপস ব্যাপারি স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় থাকেন। নিহত শিশু দাদা-দাদীর সঙ্গে গ্রামে বসবাস করতো।

পুলিশ জানায়, দুপুরে বাড়ির অন্য শিশুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে কাদামাটি মাখামাখি করে ঘরে ফেরে শিশু নিলয়। এ কারণে তার দাদী তাকে বকাঝকা করেন। এরপর শিশুটিকে দোচালা টিনের ঘরের দোতলার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনীত কুমার গায়েন বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন শেষে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।




যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি টেকনাফে গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে কলেজছাত্র ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। হত্যা মামলাটিতে যাত্রাবাড়ী থানার আরেক পরিদর্শক জাকির হোসেনকেও খুঁজছে পুলিশ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের নির্দেশনায় টেকনাফ এপিবিএনে কর্মরত আবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

গত ২০ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে কলেজছাত্র ইমাম হাসান তাইম। তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি আদমজী নগর এম. ডব্লিউ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় তার মা মোছা. পারভীন আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, এসি তানজিল আহমেদ, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হোসেন ও পরিদর্শক জাকির হোসেন।

হত্যা মামলাটিতে আজ শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাৎ আলীর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।




পিরোজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুপক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরে কেন্দ্রীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দুপক্ষের সংর্ঘষের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর টেলিভিশন জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আসমা আরা মিতু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ হাসিল করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা হলেন উপেদেষ্টা পরিচয়ে মুসাব্বির মাহমুদ সানি, সমন্বয়ক পরিচয়ে শাহরিয়ার আমিন সাগর, রেজওয়ানুল ইসলাম। বিভিন্নভাবে নামে বেনামে চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের নামে। তারা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। আমরা বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী আজ থেকে তাদের বয়কট করলাম। তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পিরোজপুর জেলা শাখার কোনো সম্পর্ক নেই। আজ ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীরা যদি আমাদের এখানে না থাকত তাহলে আমাদের ৫ শিক্ষার্থী আহত হতো না।’

এই সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিল–অভি, জাবিদ হাসান, রাকিব, নয়ন, ইমন, নয়ন প্রমুখ। এসময় পিরোজপুর প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিল।

এ ব্যাপারে শাহরিয়ার আমিন সাগর বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। একটি কুচক্রী মহল অনুপ্রবেশ করে তাদের জন্যই আজকে এসব ঘটনা ঘটতেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আগামীতে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করব।’

আহত শিক্ষার্থী রেদওয়ান ইসলাম মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে মাহিম, কাজী সানি ও আসমা আক্তার মিতু। আমি এর বিচার চাই।’

উল্লেখ্য, আজ দুপুর আড়াইটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু হলে জেলার দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতরা হলো– বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী রেদওয়ান ইসলাম (২২), শিক্ষার্থী স্বাধীন (২০), শিক্ষার্থী মাশরাফিসহ (১৯) মোট ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা পিরোজপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ, সানজানা আফিফা অদিতি, এস এ সাঈদ প্রমুখ।