সাবেক তিন সিইসির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অবৈধভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৬ কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নাম রয়েছে।

আদালত সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদকে। ওই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দায়িত্বে থাকা চার কমিশনারকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে একাদশ ও ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সিইসি কে এম নুরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আইয়ালসহ কমিশনের সচিব ও অন্য কমিশারদের আসামি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে গত তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলসহ অনেক জনপ্রিয় নেতার অংশগ্রহণ ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। যারা কমিশনে ছিলেন তাদের ব্যর্থতার কারণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বাচনী মাঠে একপেশে আচরণ করেছে। বিপুল টাকা ব্যয়ে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে তাতে সংবিধানের খেলাপ করেছেন কমিশনারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসব কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও প্রতারণা মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে এসব নির্বাচনে সংসদ সদস্য যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারাও অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করায় তাদেরও এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।




‘আমরা যদি আওয়ামী লীগের মতো শুরু করি, আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি আওয়ামী লীগের মতো শুরু করে তাহলে তাদেরও আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে বলে মন্তব্য করেছন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের দাবিতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিজা ফখরুল বলেন, ‘মনে রাখবেন এই মুক্ত সেই পর্যন্ত মুক্ত থাকবে, স্বাধীন থাকবে, যতদিন আমরা এটাকে স্বাধীন রাখতে পারব। আমরা যদি এখন আওয়ামী লীগের মত শুরু করি, তাহলে কি আমরা টিকতে পারব? আমাদেরও আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে। এ জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আমরা আকুণ্ঠ অনুরোধ থাকবে আপনারা নিজেদেরকে মানুষের কাছে প্রিয় বানান। কারও ওপর অন্যায়-নির্যাতন করবেন না।’

সনাতনী ধর্মের মানুষদের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশাল একটা অংশ রয়েছে যারা সনাতনী ধর্মের মানুষ। তারাতো আমাদের আমানত, আমরা হচ্ছি বৃহত্তর সংখ্যাগোষ্ঠী। তাই এই আমানত রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। সামনে দূর্গাপুজা আসছে, সেই পুজায় যেন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয়, সেগুলো আমাদের দেখতে হবে।’

ভারতের সঙ্গে আমরা ভালোভাবে থাকতে চাই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘পাশেই আমাদের ভারত আছে না, অনেক খারাপ কাজ করে তারা, তাই না। আমাদের লোকজনকে গুলি করে মেরে দেয় সীমান্তে। আমরা ভালো ভাবে থাকতে চাই তাদের সঙ্গে, প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর যদি কোনো অন্যায়-অত্যাচার হয় তাহলে আমরা প্রতিবাদ জানাব।’

ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ কিছু কিছু জিনিসকে এতবেশি খারাপ করে দিয়ে গিয়েছে, যেমন ভোটের ব্যবস্থা, মানুষ ভোট দিতেই পারে না, অতীতে যেগুলো ভোট হয়েছে সেগুলো ভোট হয়নি। এই ভোট ব্যবস্থাকে ঠিক করা দরকার। সবাই যেন ভোট দিতে পারে, যার ভোট সে দিবে, যাকে খুশি তাকে দিবে। সেই ভোটের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করব। এই ভোট ব্যবস্থাকে ঠিক করার সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে। অন্তবর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, এরা সবাই নিরপেক্ষ মানুষ, কোনো রাজনীতি করে, এরা দেশটাকে ভালোবাসে এবং দেশের জন্য কিছু করতে চায়। আমাদের দায়িত্ব হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনা সবচেয়ে প্রতাপশালী নেতা হয়ে গিয়েছিল, বলা যায় রাজরানী হয়ে গিয়েছিলেন। তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের তরুণ ছাত্র-যুব ও জনতার আন্দোলনের মাঝখান দিয়ে শেখ হাসিনা চলে যেতে হয়েছে। আজকে সেই প্রতাপশালী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে একবারে করুণ অবস্থার মধ্যে পরে গেছে। আর যারা আমাদের এখানে দাপটের সঙ্গে শাসন করত, আমাদেরকে জেলে দিত, জুলুম করত, জমি নিয়ে নিতো, ব্যবসা নিয়ে নিতো, আমাদের কাউকে কিছু করতে দিতো না তারা এখন জেলের ভেতরে ঢুকে গেছে।’

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি বলতেন পালাব না, কিন্তু উনি এখন কোথায়? আবার মাঝখানে আমাকে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, পালাবে না, যতি পালাতেও হয় দেশের বাইরে যাবেন না। আর আমরা নাম ধরে বলেছিলেন, ‘‘ফখরুল আপনি কি আপনার বাসায় আমাকে জায়গা দেবেন না।” এখন আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই- আসেন, আমার বাসায় আসেন। আপনি কোথায় চলে গেছেন দেশবাসী জানে না। আবার অনেকে বলে ভারতে নাকি চলে গেছে, কেন ভাই ভারতে কেন, দেশ তো আপনার, আপনি এখানে নির্বাচন করেন, এখানকার নেতা। আপনাকে ভারতে পালাতে হয়েছে কেন? কারণ আপনি এই দেশের মানে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন চুরি করেন তখন মনে থাকে না, যখন অত্যাচার করেন তখন মনে থাকে না। তখন মনে করেন এই ক্ষমতাটা আপনার চীরস্থায়ী। আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, ‘‘সীমা লঙ্ঘনকারীকে আমি পছন্দ করি না। তোমরা টেরও পাবে না- আমি কোনদিন থেকে, কোন সময় সীমা লঙ্ঘনকারীদের ধ্বংস করে দিব”।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভয়াবহ এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার এই আন্দোলনের সময় কতগুলো খুন করেছে জানেন? এই আন্দোলনের সময় ২ হাজার মানুষ খুন করেছে। কারও হাত নেই, পা নেই, কারও মাথার খুলি উড়ে গেছে।’

প্রশাসনকে উদ্দেশ্যে করে ফখরুল বলেন, ‘এখানে ইউএনও, ওসি সাহেব আছেন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তরা আছেন। তখন উনারাও অনেক ঝামেলা করেছেন তাই না। এখন ঐ পথ থেকে সরে দাঁড়ান, কোনো খারাপ কাজ করবেন না। আপনারা মানুষজনের পাশে দাঁড়ান। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা সবাই তাদেরকে সহযোগিতা করবেন। সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দর করতে চাই।’

হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীনসহ জেলা, উপজেলা ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ও রুহিয়া থানার আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন।




রকিব, হুদা ও আউয়াল কমিশনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন




রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের আয়োজন বেক্সিমকো গ্রুপের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের এই আয়োজন সম্পন্ন করেছে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর আর গ্লোবাল।

বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি করেছেন পিতা। এই পণ্যের কাঁচামাল কিনতে রিজার্ভ থেকে ডলার ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই পণ্য দুবাইয়ে বসে কিনেছে পুত্রের প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দেশে আসেনি। এভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ তিনটি দেশে আটকে গেছে প্রায় ৮ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৯৫৭ কোটি টাকা।

বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে গত ১২ বছরে তিনটি দেশে পোশাক রপ্তানি দেখিয়ে এ টাকা পাচার করেছে বলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় গ্রুপটির মালিক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করেছে বেক্সিমকো গ্রুপ।




পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বসতভিটা হারানো ১৩০ পরিবারের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার কর্তৃৃৃক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় ও প্রজেক্টে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বসতভিটা হারানো ১৩০ পরিবারের সদস্যরা।

আজ বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় স্বপ্নের ঠিকানা বাংলাদেশ চায়না টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আলম গাজী, নাঈম হাওলাদার, জামাল মৃধা, বাইজিদ মৃধা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা, কোটায় নয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যোগ্যতা অনুযায়ী ১৩০ পরিবার থেকে ন্যূনতম একজনকে বিসিপিসিএল কোম্পানিতে সরাসরি স্থায়ী চাকরির দাবি জানান।

এছাড়া তারা দাবি করেন, উক্ত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট বিক্রির শতকরা ০.০৩ পয়সা ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারকে দেওয়ার কথা ছিল সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে। পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে অধিগ্রহণে মূল্যের চেয়ে তিনগুণ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ দেড়গুণ টাকা দেয় বাকি দেড়গুণ টাকা সব ভূমি দাতাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। স্বপ্নের ঠিকানা আবাসন প্রকল্পের সবাইকে স্থায়ী দলিল আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে দিতে হবে।

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রজেক্ট এমডি এএম খোরশেদুল আলম ওপিডি শাহ আব্দুল মাওলা হেলালকে পদত্যাগ করতে হবে ও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজস্ব আত্মীয় ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত সব কর্মকর্তাকে বাতিল ও অপসারণ করতে হবে।

১৩০ পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানীয় সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। সব দাবি মেনে লিখিত স্টেটমেন্ট দেওয়ার ৭ দফা দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও জানান তারা।




নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে সরকারিভাবে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন চূড়ান্ত করেছিল।

এদিকে সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন দল ও সংগঠনগুলোর মাঝে কর্তৃত্ব বাগিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় আভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়ে যায়। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠন প্রধান উপদেষ্টার নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও কাউকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রায় প্রতিদিনই চলছিল পাল্টাপাল্টি সভা ও সংবাদ সম্মেলন। এ সকল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটাই বাতিল করে দেওয়া হয়।

তবে, নাগরিক সংবর্ধনা বাতিলের কথা স্বীকার করলেও কী কারণে সংবর্ধনা বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ দূতাবাস কিছু জানাননি।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সরকারিভাবেই তাকে নাগরিক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ দূতাবাস। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেও প্রকাশ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল হওয়ায় হোটেল বুকিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে সরকারকে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হোটেল বুকিংয়ের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে। তবে সমুদয় অর্থ ফেরত পাওয়া না গেলেও কিছুটা ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা।

তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের নতুন কোনও দিন নির্ধারনের আর সুযোগ নেই। খুব স্বল্প সময়। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পরই তিনি দেশে ফিরবেন।




হঠাৎ যে কারণে বন্ধ আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল চলাচল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানীর ফার্মগেট ও বিজয় সরণির মাঝামাঝি এলাকায় মেট্রোরেলের ভায়াডাক্ট দেবে গেছে। এর ফলে আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বুধবার সকালে আগারগাঁও-মতিঝিল-আগারগাঁও রুটে মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এ পথে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওই পথে বড় একটা সমস্যা হয়েছে। এটা ঠিক করতে সময় লাগবে। মেট্রোরেল আপাতত আগারগাঁও (উত্তরা থেকে) পর্যন্ত চলাচল করছে।’

ডিএমটিসিএল এক বার্তায় জানিয়েছে, অনিবার্য কারণবশত সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে। তবে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশে ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে।

 




‘এদিকের গাড়ি ওদিকে চিনায় না, ওদিকের গাড়ি এদিকে চিনায় না’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ব্যানারের কারণে রাস্তায় চলাচল করতে সমস্যার কোনো শেষ নাই, কয়েকদিন ভ্যাবাচ্যাকা খাইছি। কারণ রাস্তার এদিকের গাড়ি ওদিকে চিনায় না, ওদিকের গাড়ি এদিকে চিনায় না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ এভাবেই সড়কে থাকা অবৈধ ব্যানার নিয়ে ভোগান্তির কথা বলছিলেন রিমন পরিবহনের সুপারভাইজার মো. সাইফুল।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালী শহর ঘুরে দেখা যায়, চৌরাস্তা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছেয়ে গেছে অবৈধভাবে টানানো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। এটি শহরের সৌন্দর্যকে নষ্ট করার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন শহরবাসী।

এছাড়া যানবাহনের চালকরা অভিযোগ করছেন, এসব পোস্টার-ব্যানার রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের চৌরাস্তা মোড়টি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু পোস্টার ও ব্যানার দিয়ে গোলচত্বরটি প্রায় পুরোপুরি ঢাকা পড়ায় চালকরা সঠিকভাবে রাস্তা ও ট্র্যাফিক সিগন্যাল দেখতে পাচ্ছেন না। এর ফলে নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

রিমন পরিবহনের বাস চালক ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, সমস্যা হলো, চৌরাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশ চিনা যায় না। পৌরসভার উচিত পোস্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা।

রিকশাচালক আবুল কালাম জানান, রাস্তার দুই পাশ ব্যানার আর পোস্টার দিয়ে ঢেকে ফেলেছে। অনেক সময় রাস্তা পরিষ্কার দেখা যায় না। হঠাৎ সামনে কোনো গাড়ি আসলে বিপদের মুখে পড়তে হয়।

চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলিম খান বলেন, ব্যানার ফেস্টুনের কারণে দুর্ঘটনা ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত অতিদ্রুত এই পোস্টারগুলো অপসারণ করা। এতে শহরের সৌন্দর্য পুনরায় দৃশ্যমান হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, বিষয়টি আমার চোখে এসেছে। বিশেষ করে আমাদের চৌরাস্তায় বিভিন্ন পোস্টার-ব্যানারের কারণে সত্যিকার অর্থেই ড্রাইভারদের অসুবিধা হচ্ছে। আর কোনো কালক্ষেপণ না করে খুবই দ্রুত পৌর বিধিমালা অনুযায়ী এসব অবৈধ ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করা হবে। এছাড়া পটুয়াখালী পৌরসভা এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্টকে বরখাস্ত করছেন নেতানিয়াহু!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করে তার স্থানে ন্যাশনাল রাইট পার্টির নেতা গাইডিয়ন সারকে বসাতে চাচ্ছেন। সোমবার ইসরাইলি মিডিয়া এ খবর প্রকাশ করে।

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়া নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের মধ্যে মতানৈক্যের প্রেক্ষাপটে এ খবর প্রকাশিত হলো। গ্যালান্ট উত্তেজনা কমানোর জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক চেষ্টা চালানোর পক্ষে অভিমত প্রকাশ করছেন। আর নেতানিয়াহু ব্যাপক মাত্রায় সামরিক অভিযান চালাতে চান।

সাবেক লিকুদ সদস্য সার ২০২০ সালে নেতানিয়াহুর সাথে বিবাদের প্রেক্ষাপটে আলাদা দল গঠন করেন। তিনি আবারো ইসরাইলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী মিত্রদের কাছে অপছন্দের লোক হলেন গ্যালান্ট। এমনকি উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও অপছন্দ করেন গ্যালান্টকে।
সামাজিক মাধ্যমে বেন-গভির বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই গ্যালান্টকে বরখাস্ত করার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি। এখন তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার সময় চলে এসেছে।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের ব্যাপারে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এই কাজে নেতৃত্ব দিতে পারার মতো সঠিক লোক নন গ্যালান্ট।

সার যদি ইসরাইলি সরকারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তবে লেবানন ও গাজা সঙ্ঘাত নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর




পৃথিবীর আকাশে দুই চাঁদ!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মহাকাশে ঘটতে চলেছে এক বিরল ঘটনা। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণশক্তির টানে অনেক দূর থেকে ছুটে আসছে চাঁদের মতোই আরও এক উপগ্রহ। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনি মুন’। ‘মিনি মুন’ যদিও আকাশে দৃশ্যমান চাঁদের মতো এত সুন্দর হবে না। এটি মূলত একটি গ্রহাণু, তাই আকার হবে অত্যন্ত ছোট। গ্রহাণুটির আসল নাম হলো ২০২৪ পিটি৫। কোনো কোনো বিজ্ঞানী এটাকে কোয়াসি মুন বা অর্ধেক চাঁদ বলেও উল্লেখ করেছেন।

সৌরজগতে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ। প্রত্যেকেই একাধিক চাঁদ নিয়ে ঘুরপাক খায়। কিন্তু পৃথিবীর কাছে রয়েছে মাত্র একটিই চাঁদ। এই একের সঙ্গে এবার আরও এক যুক্ত হতে চলেছে। এমনই দারুণ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা যে, পৃথিবী শীঘ্রই আরও একটি চাঁদ পেতে পারে। অত্যন্ত বিরল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনা ঘটতে চলেছে শিগগিরই।

কবে থেকে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে ‘মিনি মুন’

এই গ্রহাণুটির ব্যাস প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এটি পৃথিবীর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। কক্ষপথে ঢুকে প্রদক্ষিণও করবে দুই মাস ধরে; অর্থাৎ পৃথিবীর দুই নম্বর উপগ্রহ সাময়িকভাবে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে। ২৫ নভেম্বরের পর, এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তারপর আবার নিজেই কক্ষপথে চলে যাবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে, দুই মাসের জন্য এই গ্রহাণু যে শুধু পৃথিবীর উপগ্রহ হয়েই ঘুরবে, তা কিন্তু নয়, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বিশেষ সাহায্য করবে এটি। এর দ্বারা তৈরি চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে অনেক নতুন নতুন তথ্যও জানতে পারা যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।