যে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যাচ্ছে ইলিশ, জানালেন উপদেষ্টা




শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা : সাক্ষ্য দিতে আদালতে পরীমনি




চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড ব্যবধানে হার




শ্রীলঙ্কায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এগিয়ে দিসানায়েকে




রাঙামাটিতে চলছে অবরোধ, মিলেমিশে থাকতে চায় পাহাড়ি-বাঙালি

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে অবরোধ ও ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছে শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল। রাঙামাটি থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো দূরপাল্লার বাস, বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা বাস চলাচলও। শহরের বাজার-শপিংমলগুলোও বন্ধ রয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, সড়কে যান চলাচল একেবারেই কম। খোলেনি কোনো দোকানপাট-শপিংমল। যারাই বের হয়েছেন ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা কাজের জন্য বের হয়েছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

শহরের সবচেয়ে বড় বনরুপা বাজার বন্ধ থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কেনাবেচা করতে পারছেন না মানুষ।

ট্রাভেল আদাম এলাকার বাসিন্দা ইমন বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার থেকে রাঙামাটির পরিস্থিতি থমথমে। দোকানপাট না খোলায় আমরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকা কষ্টের হয়ে যাবে।

শহরের রাজবাড়ি স’মিলের শ্রমিক আবদুল সোবাহান বলেন, আমরা কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে থাকতে চাই। এই থমথমে পরিস্থিতির কারণে আমরা কাজে যেতে পারছি না।

সিএনজিচালক কাউসার জানান, আমদের উপার্জনের একমাত্র পথ সিএনজি। কিন্তু আজ তিনদিন হয়ে গেল গাড়ি বন্ধ, কবে থেকে শুরু হবে তাও জানি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।

রাঙামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবু বলেন, উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমাদের দাবিগুলোর কথা জানিয়েছি। উপদেষ্টারা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত যানবাহন ও জানমালের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাব ততক্ষণ ধর্মঘট চলবে।

এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে আটকা পড়ে আছেন প্রায় ১৪০০ পর্যটক।

রাঙামাটি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে মামলা ও গ্রেপ্তার করা হবে।




ট্রাইব্যুনালে যে প্রক্রিয়ায় এগোবে জুলাই গণহত্যার বিচার




কলাপাড়ায় ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারী গ্রেফতার

পটুয়খালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫৪ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

২১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার মহিপুর রাজা ফিলিং স্টেশন ৩৯ এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-মো. জাহিদ(৩৫), সোহেল ওরফে চুল সোহেল (৩২) ও শুক্কুর আলী (৩০)। এরা সবাই মহিপুর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, তারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।




পটুয়াখালীতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে গণসমাবেশ করেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালী চৌরাস্তায় একটি খোলা মাঠে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামি সমাজভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা ও পৌর ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মুফতি মো. হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহা. নজরুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি মাওলানা মুহা. কাজী গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবির পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। তারা দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির জন্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।




পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে : ফয়জুল করীম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আমাদের সরকারের যে আইন চলে পার্বত্য অঞ্চলেও একই আইন চলবে। যারা পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এসব ষড়যন্ত্র রুখতে না পারলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও আমরা আন্দোলন করব।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ কুমিল্লার আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ফয়জুল করীম বলেন, ওলামা-মাশায়েখের প্রত্যাশা একটি সত্য, সুন্দর দেশ গড়ার পক্ষে। জনগণ অতীতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পাশাপাশি প্রত্যেকটা আন্দোলনেই আলেম-ওলামাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিগত দিনে আলেম সমাজকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার আলেমদের কণ্ঠরোধ করতে ব্যাপক শোষণ-নিপীড়ন চালিয়েছে।

তিনি বলেন, তারপরও আলেম সমাজ সর্বদা ন্যায় ও দেশের পক্ষে কথা বলেছে। তাই দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশে আলেম সমাজের ওপর আর যেন দমন-পীড়ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন তথা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

শায়খুল হাদিস মাওলানা মাহবুবুর রহমান আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান ছিলেন জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মুশতাক ফয়েজী, জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী প্রমুখ।




তোফাজ্জলের জন্য কাঁদছে সবাই

বরিশাল অফিস :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটাবাসী দ্রুত বিচার চেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার উপজেলার চরদুয়ানি বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। মা-বাবা, ভাই-বোনহীন একজন মানসিক রোগীকে চোর অপবাদ দিয়ে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন, কেঁদেছেন সবাই।

পরে জানাজা শেষে পাথরঘাটায় পারিবারিক কবরস্থানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তোফাজ্জলের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মা, বাবা ও ভাইয়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

মানববন্ধনে চরদুয়ানির ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা বিএনপির রাজনীতি করতাম। তোফাজ্জল কখনো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। সুন্দর একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

স্থানীয়রা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও সবার সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলতেন তোফাজ্জল। আমরা কোনোভাবেই মানতে পারছি না এই মৃত্যু। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, গত রাতে ঘুমাতে পারিনি শুধু চোখের সামনে ভাত খাবার দৃশ্য ভাসে। এ রকম একটা কাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে, ভাবা যায় না।

তোফাজ্জলের স্কুলশিক্ষক মিলন মিয়া জানান, আমরা এই হত্যাকারীদের বিচার চাই এবং তার সঙ্গে যারা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন করেছে, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। নিহতের মামাতো বোন তানিয়া জানান, আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। সুষ্ঠু তদন্ত করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

বুধবার সন্ধ্যায় চোর সন্দেহে তোফাজ্জলকে আটক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা। পরে কয়েক দফায় মারধর করার পর রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সারা দেশে নিন্দার ঝড় বইছে। তোফাজ্জলের জন্য কেঁদেছে দেশবাসী।