মহিপুরে ইটালী পরিবহন রাস্তার বাইরে আহত -১৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঢাকা-কুয়াকাটা-গামী ইটালী পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১২-৩৩৮৩) মহিপুরে রাস্তার বাইরে ধান ক্ষেতে পড়ে গেছে।

সোমবার সকাল ৬ টার দিকে কলাপাড়া -কুয়াকাটা মহাসড়কে মহিপুর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রাম অতিক্রমকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্ততঃ ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ইটালী পরিবহনটি বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারনে নিয়ন্রন হারিয়ে রাস্তার বাইরে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক গাড়ীর চালক সহ সুপারভাইজার, হেলপার পালিয়ে যায়।

তবে কাওসার নামে এক যাত্রী বলেন, ঘটনার সময় চালক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। অপরদিকে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ীটি চালানোর কারনে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

মহিপুর থানার ওসি, মো.আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি বলেন।




দণ্ডিত আসামির সন্ধান দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জুলফিকারকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকে উল্লেখিত চল্লিশ লাখ টাকার সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গত রোববার পটুয়াখালী দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন। এদিকে অভিযুক্ত জুলফিকারকে ধরিয়ে বা সন্ধ্যান দিলে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. সোহরাব গাজী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিনের ছেলে জুলফিকার আলী পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি লেবুখালী পাগলার মোড় এলাকায় একটি ওষুধের ফার্মেসি দোকানের সঙ্গে বিকাশের ব্যবসাও করতেন। ব্যবসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের চেক বন্ধক রেখে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নেন। পাওনাদাররা তাদের টাকা চাইতে গেলে আজ দেবো-কাল দেবো বলে নানা অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে কাউকে কিছু না বলে দোকান ও বসতঘরে তালা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান।

লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সোহরাব গাজী বলেন, ব্যবসার কথা বলে সোনালী ও ইসলামী ব্যাংকের চেক জমা রেখে জুলফিকার আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে টাকা চাইতে গেলে নানান টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে শুনি তিনি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

আবুল বাশার গাজী নামের এক পাওনাদার জানান, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। একপর্যায়ে আমার টাকা না দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যান।

মাসুদ গাজী নামের অপর এক পাওনাদার বলেন, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা নেন জুলফিকার। হঠাৎ মানুষের কাছে শুনি তিনি পালিয়ে গেছেন। আরও অনেকের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন জুলফিকার। যদি কেউ তার সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। তাকে দেখা মাত্রই দুমকি থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।




এক দফা দাবিতে মির্জাগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এক দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ব্যানারে উপজেলা পরিষদের সামনের মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি দেন শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বর্তমানে তারা ১৩তম গ্রেডে শিক্ষকতা করছেন। ইউনিয়ন ভূমি সচিব, পুলিশের সাব ইনসপেক্টর, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এবং সিনিয়র নার্স ১০ম গ্রেডে বেতন পান। আমরা বৈষম্যের শিকার, একই যোগ্যতাসম্পন্ন হয়েও ১৩তম গ্রেডে থাকায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন তারা।

বর্তমান সরকার বৈষম্য নিরসনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু, এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে ১০তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানান শিক্ষকরা। তাই ১০ গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সোচ্চার আছি।

১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীন মল্লিক, দশম গ্রেড বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ন-আহবায়ক মো. গাজী মশিউর রহমান, মো. শামিম আহমেদ নাসির মোল্লা, মো. নজরুল ইসলাম মিঠু, কমল চন্দ্র হাওলাদার, সামসুল আরেফিন ও আসাদ কামাল, মাহমুদা আক্তার, ইসরাত জাহান রুমি, রোজিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।




নিউ ইয়র্কের পথে ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিরাপত্তা, গণমাধ্যমসহ সব মিলিয়ে মোট ৫৭ জন সফরসঙ্গী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর করা রয়েছে তাঁর। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূসের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন। সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ প্রায় ২০ জনের প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্ক আসবেন বলে জানা গেছে। প্রধান উপদেষ্টা সফর শেষে নিউ ইয়র্ক থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকায় রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।




আগামীকাল থেকে বাড়বে বৃষ্টি কমবে গরম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৃষ্টি বেড়ে মঙ্গলবার থেকে গরম কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার বিকালে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।

তিনি জানান, ‘এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে- এমন সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে বৃষ্টি বাড়বে, দক্ষিণ এলাকায় আজকে শুরু হইছে; এরপর আস্তে আস্তে সারাদেশেই বিস্তার লাভ করবে।”

রোববার সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রংপুরে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

এদিন ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ফেনী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছিল।

বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

সোমবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গরম কমবে আর আগামীকাল থেকে সারাদেশের গরমই কমে আসবে বলে জানান ওমর ফারুক।

“বৃষ্টি নাই, সূর্যের কিরণ খাঁড়া ভাবে পড়তেছে-এসব কারণেই গরম বেশি; বৃষ্টি বাড়লেই কমে আসবে।”




পটুয়াখালীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না। ছোট আকারের হাতেগোনা যে ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভিড়ছেন, তারও দাম আকাশছোঁয়া। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে যেতে পারছেন না বলে জানালেন জেলেরা।

মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জুলাই থেকে অক্টোবর ইলিশের ভরা মৌসুম। প্রতি বছর এই সময়ে নদী ও সাগরে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কিন্তু এ বছরের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৩ জুলাই জেলেরা সাগরে নামলেও জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত বড় ইলিশ। এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। ফলে চলতি মৌসুমে তেমন ইলিশ ধরতে পারেনি জেলেরা‌। এতে লোকসানে পড়তে হবে বলে জানালেন তারা।

সর্বশেষ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে আলীপুর মৎস্যবন্দর ঘাটে ট্রলার নোঙর করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় আছেন জেলেরা। যারা সমুদ্রে যাচ্ছেন তাদের অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। কেউ বড় ইলিশের পরিবর্তে অল্প পরিমাণ জাটকা নিয়ে ফিরছেন। বড় ইলিশ কম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলের জেলেরা ঘাটে বসে অলস সময় পার করেছেন। গত সোমবার শেষ বিকাল থেকে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে হাজার হাজার মাছধরা ট্রলার গভীর সমুদ্রে ইলিশের সন্ধানে যায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। তখন মাঝিরা ঘাটের উদ্দেশে ট্রলার নিয়ে রওনা হন। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাতাস কমে গেলেও মাছ কম থাকায় তারা ঘাটে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে শনিবার ও রবিবার অনেকে সমুদ্রে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবারও সমুদ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।

তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন উপকূলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য গভীর সমুদ্রে যেতে জেলেদের নিষেধ করা হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন জেলেরা।

জেলেরা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এবার মৌসুমের শুরুতেই সামুদ্রিক মাছ আহরণের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরপর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ ইলিশের দেখা পাননি এখানকার জেলেরা। সব মিলিয়ে হতাশ হাজার হাজার জেলে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। আবার অনেকে দাদন নিয়ে বাধ্য হয়ে এই পেশাই পড়ে আছেন।

মাছ না পাওয়ার কথা জানিয়ে আলীপুরের জেলে জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার যখনই সমুদ্রে নামি তখনই আবহাওয়া খারাপ। মাঝে দুদিন ছিলাম সমুদ্রে। মাছ তেমন পাই নাই। বড় ইলিশের দেখা নেই, ছোট কয়টা জাটকা পেয়েছি। বিক্রি করলে তাতে বাজার খরচ হয় না। মালিকের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছি। যদি সমুদ্রে মাছ পেতাম, তাহলে ধারদেনা শোধ করে সংসার চালাতে পারতাম। কিন্তু এবার মাছই পাচ্ছি না।’

বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের
মাছ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কাজী বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে শুরু হয়েছে দফায় দফায় নিম্নচাপ। যার ফলে ট্রলার নিয়ে বারবার সমুদ্রে গিয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরে আসছেন জেলেরা। ফিরে আসা ট্রলারগুলোর প্রত্যেকটিকে কয়েক লাখ টাকার বাজার করে সমুদ্রে পাঠাতে হয়। কিন্তু কখনও নিম্নচাপ কখনও লঘুচাপ; সব মিলিয়ে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরলে বড় রকমের ক্ষতির মধ্যে হচ্ছে আমাদের। এতে ট্রলার মালিকদের পাশাপাশি জেলেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবার তেমন মাছ পাওয়া যায়নি।’

আলীপুরের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইউসুফ আলী বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞার পর এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি‌। বাজার সদাই করে যখনই সমুদ্রে নামি, এক-দুদিন মাছ ধরার পরই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। কোনও উপায় না পেয়ে ঘাটে ফিরে আসি। এভাবে চলতে থাকলে এই পেশা ছাড়তে হবে।’

মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার শুরু হয়েছিল সাগরে মাছ ধরা। মাঝে ২০-২২ দিন মাছ ধরার সুযোগ পেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাননি জেলেরা। মাছঘাটগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। যা কিছু ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভিড়ছেন, তার দাম আকাশছোঁয়া। এবার মূলত ইলিশ কম থাকায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছি আমরা।’

একই হতাশার কথা জানালেন আলীপুর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী।
তিনি বলেন, ‘গত চার বছরে আমরা লাভের মুখ দেখিনি। তবু লাভের আশায় লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে জেলেদের সমুদ্রে পাঠাচ্ছি। কিন্তু ঘুরেফিরে হতাশ। এভাবে চলতে থাকলে পেশা টিকিয়ে রাখা যাবে না।’

সমুদ্রে ইলিশ না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র বার বার খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ছে। ফলে গত কয়েক বছর আমরা দেখেছি, গভীর সমুদ্রে লম্বা জালে কিছু মাছের দেখা মিললেও ভাসান জাল, কালো কট বা লাল জালের অধিকাংশ জেলেরা তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না। সমুদ্রের মোহনা খনন এবং সমুদ্রের ভেতরে ১২-১৪ কিলোমিটারে যে পলি বা চর পড়ে গেছে, তা খনন করতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষের যে দূষণ, উপকূলবর্তী দূষণ, পলি ও রাসায়নিক দূষণরোধ করতে হবে। তবেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। চেষ্টা করতেছি ইলিশের এই সংকট অবস্থা দূর করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেবে বলেছে সরকার। আশা করছি, পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে গভীর সমুদ্রের সবখানে ইলিশ পাওয়া যাবে।




ইরাক থেকে ইসরাইলে ড্রোন হামলা চালাল ইরানপন্থি যোদ্ধারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। এবার লেবাননে উত্তেজনার মধ্যে ইরাক থেকে ইসরাইলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি সশস্ত্রযোদ্ধা। রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইম অব ইসরাইল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ইরাকি জোট ইসরাইলে ড্রোন হামলার দাবি করেছে।

এর আগে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা রাতজুড়ে ইরাক থেকে আসা একাধিক সন্দেহজনক হামলা আটকে দিয়েছে। এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলি দাবি করেছে ইসরইল।

এক টেলিগ্রাম বার্তায় ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘গাজায় আমাদের জনগণের সমর্থনে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের যোদ্ধারা রোববার সকালে ইসরাইলের কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে’।

গত শীতে, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের বিরুদ্ধে ১৭৫টিরও বেশি রকেট এবং ড্রোন হামলার দাবি করেছে। মার্কিন বাহিনী উভয় দেশে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।  অবশ্য গত কয়েক মাসে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা অনেকাংশে কমে গেছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইরান সমর্থিত এবং হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের উত্তেজনা বাড়ছে। এছাড়া ইয়েমেন ইরাক থেকেও বিভিন্ন সংগঠন ইসরাইলের লক্ষ্যে হামলা এবং পাল্টা আক্রমণের ঘটনা




বরিশালে আওয়ামী লীগের ১০৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

বরিশাল অফিস ::বরিশালের মুলাদীতে বিএনপির সমাবেশে হামলা-ভাঙচুরের দুই বছর পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ওই মামলা করেন মুলাদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম সিকদার।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমাইয়া রিজভী মৌরি নালিশি অভিযোগ এজাহার হিসেবে রুজু করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুলাদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস জানিয়েছেন।

মামলায় মুলাদী পৌরসভার ছাত্রলীগের সভাপতি তিলক খান, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. রাসেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহম্মেদ জুয়েল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেনসহ ৫৯ জন নামধারী ও ৪০ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।

বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস নালিশির বরাতে জানান, ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট বিকেলে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা বাজারে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে উপজেলা বিএনপি সভার আয়োজন করে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর ও মঞ্চে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে অভিযোগের কপি ছিনিয়ে নিয়ে যায় নেতাকর্মীরা। পরে আদালতে মামলা করেছেন বাদী।




চট্টগ্রামে ‘গান গেয়ে উল্লাস করে’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা : ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে তোলপাড়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামে দলবদ্ধভাবে ‘গান গেয়ে গেয়ে, উল্লাস করে’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন দুই নম্বর গেট আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ‘মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা, কোন কারণে ভালোবাসার দাম ন দিলা’ গানটি গেয়ে যুবককে পেটানো হয়।

গত ১৩ আগস্ট রাতে এই ঘটনা ঘটলেও গতকাল (শনিবার) ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওটি ভাইরাল হলে চট্টগ্রামজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। হতভাগ্য ওই যুবকের নাম শাহাদাত হোসেন। ঘটনার পর দিন ১৪ আগস্ট ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরে প্রবর্তক মোড় থেকে লাশ উদ্ধারের পর তাকে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় শাহাদাতের চাচা মোহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ২০ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি দেখে স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, এটি তার স্বামীকে মারারই দৃশ্য।

জানা গেছে, শাহাদাত হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নে। তার বাবার নাম নুর মোহাম্মদ। নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন তিনি। চাকরি করতেন স্টেশন রোডে অবস্থিত ফলমন্ডির একটি দোকানে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৩ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে যান শাহাদাত। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার স্ত্রীর শারমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় শাহাদাতের। তখন কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরে আসবেন বলে স্ত্রীকে জানান। কিন্তু মধ্যরাত পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি। এতে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তখন তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে নিহতের চাচা হারুন জানতে পারেন প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মিয়া (রহ.) মাজারের বিপরীতে সড়কের পাশে তার ভাতিজা শাহাদাত হোসেনের লাশ পড়ে আছে। ওই রাতেই পুলিশের সাহায্যে তিনি লাশটি উদ্ধার করেন। পরে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়।ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়।

 




শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফায় গড়ানো ভোট গণনায় বিজয়ী হয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি) জোটের নেতা ও মার্ক্সবাদী রাজনীতিক অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহেকে হারিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

রোববার স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রোববার দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে মার্কসবাদী নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন। দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হারিয়েছেন অনুরা।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, শনিবারের নির্বাচনে ৫৫ বছর বয়সী দিশানায়েকে ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হয়েছেন। ভোট গণনায় বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা দ্বিতীয় ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। দিশানায়েকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং রণিল বিক্রমাসিংহে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী সোমবার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে দিশানায়েকের। শ্রীলঙ্কার মসনদে বসা কে এই অনুরা কুমারা দিশানায়েকে?

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?

126Shares
facebook sharing button
অ+
অ-
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?