পটুয়াখালীতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুরে গলায় ফাঁস দেওয়া রবিউল ইসলাম (১৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মনসাতলী গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনার ঘটে। নিহত রবিউল ডালবুগঞ্জের বাসিন্দা জসিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে পরিবারের সাথে দাওয়াত শেষে ঘুমানোর জন্য রবিউল তার রুমে প্রবেশ করে। এসময়ে তার বাবা ও মা পাশের বাড়ি রোগী দেখতে যায়, সেই সময় সবার অগোচরে গলায় গামছা বেঁধে ঘরের ফ্যানের সাথে ফাস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়। পরে তার বাবা মা, বাড়িতে ফিরে রবিউলকে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে , ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে মাটিতে নামিয়ে রাখে।

তবে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় এই ঘটনা ঘটতে পারে মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




পটুয়াখালীতে নারীকে দুবার তালাক তিনবার বিয়ে! স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে এক তরুণীকে তিনবার বিয়ে করলেও স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়ায় পুলিশ কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের বাড়িতে তিনি অনশন করেছেন।

ওই নারী বরগুনার বেতাগী পৌরসভার বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান নেন।

আসাদ পটুয়াখালী সদর উপজেলার ঢেউখালী গ্রামের বাসিন্দা আজিজ মৃধার ছেলে। তিনি বর্তমানে বরগুনা আদালতে কর্মরত আছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে আসাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান। পরে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তরুণীকে হেনস্থা করেন। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেন তারা। এ সময় বসতঘরের মালামাল তছনছ করে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার দায় চাপাতে গেলে স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে ওই তরুণী আসাদের বাড়ির সামনে শুক্রবার সকাল থেকে অবস্থান করলে বিকালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নেছার উদ্দিন তালুকদার ও গ্রামপুলিশ দুলাল হাওলাদারের সহায়তায় ওই তরুণীকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই তরুণী জানান, ২০১৯ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় আসাদের সঙ্গে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করা ছাড়াও গত তিন বছরে তাকে দুবার তালাক এবং তিনবার বিয়ে করেন আসাদ। শেষবার ১৮ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটায় বসে বিয়ে করলেও তাকে সেখানে রেখে চলে যান আসাদ।

এ বিষয়ে কনস্টেবল আসাদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




পটুয়াখালীতে ভাইরাল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইনবোর্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ‌‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ২০২৪ এর অন্যতম সহযোদ্ধার বাসভবনে’র পোস্টর সম্বলিত একটি সাইনবোর্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আন্দোলনের নাম দিয়ে এমন সাইনবোর্ড টাঙানো নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ছবিটি। এরপর শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন।

জুনায়েদ ইসলাম নামে এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ফেসবুকে উপহাস করে ফেসবুকে লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কোনো সহযোদ্ধার বাসভবন এটা পটুয়াখালীবাসী জানতে চায়?’

মাকসুদুর রহমান নামে এক সংবাদকর্মী লেখেন, ‘আমাদের এলাকায় এ রকম একজন বিখ্যাত ব্যক্তির বাসভবন, তা না জানায় আমার অপরাধ কি জাতি মেনে নেবে?’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালীর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার বাসার সামনে গেটে সাইনবোর্ডটি লাগিয়েছেন। তার মেয়ে নুসরাত জাহান স্বপ্না পটুয়াখালী থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং গত ৩ ও ৪ ও ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। নুসরাত জাহান স্বপ্না পটুয়াখালী মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক (বিজ্ঞান বিভাগ) ২য় বর্ষের ছাত্রী। মেয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই প্রায় এক মাস আগে বাসার গেটের সামনে সাইনবোর্ডটি টাঙান তিনি।

সরেজমিনে শনিবার রাতে শহরের কাজীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পটুয়াখালী চক্ষু হাসপাতালের সামনে ইলিয়াস হোসেনের বাড়ি (হোল্ডিং নং-০৮০০৪-০০৯৭-০০)। বাসার সামনে গেটে লাগানো রয়েছে একটি সাইনবোর্ড, তাতে লেখা রয়েছে, ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের-২০২৪ এর অন্যতম সহযোদ্ধার বাসভবন।’ নিচে ঠিকানা লেখা রয়েছে কাজী পাড়া, পটুয়াখালী।

ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার স্বামী এবং মেয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিল। তিনি কোনো কিছু পাওয়ার জন্য এই সাইনবোর্ড টাঙাননি। আমি আগেই তাকে মানা করছিলাম যে এমন সাইনবোর্ড না টাঙাইতে, মানুষে হাসাহাসি করবে। কিন্তু তিনি তার ভালো লাগার জায়গা থেকেই এই কাজটা করেন।’

এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আন্দোলনের সফলতার পর ভালো লাগা থেকেই বাসার সামনে সাইনবোর্ডটি টাঙিয়েছিলাম। গত ৫ আগস্টের পর এটি টাঙাই। আজ দেখি ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেছে।’




ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মামলা ও গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হবে : হাসনাত




কুষ্টিয়ায় মাইক্রোবাসচাপায় ৩ শিক্ষার্থী নিহত, আহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::কুষ্টিয়ায় মাইক্রোবাসচাপায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুজন। আজ রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে খোকসার শিমুলিয়ায় কুঠিপাড়া এলাকার কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার এসআই হারুনর রশীদ দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনায় নিহতেরা হলো শিমুলিয়া কুঠিপাড়া গ্রামের মো. হানিফের মেয়ে মিম (১২), পালন শেখের মেয়ে তানজিলা (১১) ও হেলাল উদ্দিনের মেয়ে বিথি (১২)। আহতেরা হলো ফাতেমা ও সাদিয়া। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

হারুনর রশীদ বলেন, সকালে শিমুলিয়া কুঠিপাড়া জামে মসজিদে কোরআন পড়া শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস তাদের চাপা দিয়ে পাশের পুকুরে ডুবে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মিম মারা যায়। আহতদের উদ্ধার করে খোকসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে তানজিলা ও বিথি মারা যায়। ফাতেমা ও সাদিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বলেও জানান হারুনর রশীদ। তবে মাইক্রোবাসে কতজন যাত্রী ছিলেন বা এর চালক সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।




দেশে ফিরলেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে নিউ ইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে  প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফর সঙ্গীরা একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সফরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ ১২টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সাইড লাইনের ৪০টি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকার প্রধানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের সবচেয়ে সফলতম সফর ছিল এবার। সফরকালে প্রধান উপদেষ্টার ব্যাপক কর্মতৎপরতা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখবে বলে আশা  l




৪৬ দিনে কী ঘটেছিল জানতে চায় জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার আন্দোলন কেন্দ্র করে গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬ দিনে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল; কতসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছিল; কেমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল এবং এ জন্য কারাই বা দায়ী- এসবের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিনিধিরা এখন বাংলাদেশে, চলছে তাদের নানামুখী তদন্ত। ইতোমধ্যে তাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে একগুচ্ছ তথ্য জানতে চেয়েছে পুলিশের কাছে। জাতিসংঘের তদন্ত দলটি আন্দোলনকালে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি, ভুক্তভোগী, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সে সময়কালের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পর তা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।

জানা গেছে, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কতজন নিহত হয়েছেন, তাদের পেশাগত পরিচয় কী, কতজন আহত হয়েছেন, কতটি মামলা হয়েছে, কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশ মোট কত রাউন্ড গুলি করেছে, আন্দোলনকালে কোন কোন কর্মকর্তা মাঠ পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছে, পুলিশের গুলিতে কতজন মারা গেছে, কোন কোন এলাকায় সর্বাধিক সহিংসতা ঘটেছে, কী ধরনের সহিংসতা হয়েছে- এমন আরও নানা তথ্য জানতে চেয়েছে। এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে এবং ৫ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে তা জানতে চেয়েছে পুলিশের কাছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত দলের চাহিদানুযায়ী ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে তথ্য আনতে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সদরদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। সব ইউনিট থেকে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর তা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত দলের কাছে তা হস্তান্তর করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর আমাদের সময়কে বলেন, জাতিসংঘের তদন্ত দলের চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু হয়। মধ্য জুলাইয়ের পর এই আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগ শুরু করে। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বলপ্রয়োগে যুক্ত হয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতেও। এর পর ছাত্রদের এ আন্দোলন সরকার পতনের একদফায় রূপান্তরিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যুক্ত হন। তখন ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অপ্রতিরোধ্য স্রোতে ভেসে যায় শেখ হাসিনা সরকার। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১ হাজার ৫৮১ জন নিহতের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৩১ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন। অনেক আহতের তথ্য একাধিকবার এসেছে এবং অনেকের নাম এখনো এ তালিকায় যুক্ত হয়নি বলেও জানান তারা।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দলটি তথ্য প্রতিষ্ঠা, দায়িত্ব চিহ্নিত করা, মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে। ঘটনাস্থলের পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণের পর, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি বিশদ মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে যার মধ্যে মূল ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশ থাকবে। তাদের প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬ দিনে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল- এর একটি চিত্র উঠে আসবে।




অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের বাজারে অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে টানা চার দফা বাড়ানোর পর এবার স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৬০ টাকা ক‌মিয়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৮ টাকা করা হয়েছে।

শনিবার বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩১ হাজার ১৯৬ টাকা করা হয়েছে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯২ হাজার ২৮৬ টাকা করা হয়েছে।

স্বর্ণের দাম বাড়ানো হ‌লেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটে প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ১০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ২৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর ও ১৪ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়।




১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সড়ক হস্তান্তরের আগেই ফাটল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরের বিপিনপুর-নিজামপুর সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংস্কারের পর হস্তান্তরের আগেই সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। উঠে গেছে কার্পেটিং। কোথাও কোথাও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে পাথর ও বিটুমিনের স্তর।

সরকারি বরাদ্দে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় সড়কটি সংস্কারকাজ করা হয়েছে। অনিয়মের এমন চিত্র উঠে আসায় পরিদর্শন করে ফের সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংস্কারকাজের এক মাস পার হতেই রাস্তার এই অবস্থা। মহিপুর ইউনিয়নের বিপিনপুর নিজামপুরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কটি, পাশের তালতলীর সঙ্গে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। তবে সাড়ে তিন কিলোমিটারের এ সড়কে এখন মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মতো হালকা যানবাহন চললেও, দেবে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি অনিয়মের বিষয়ে কথা বললে, মামলা-হামলার ভয় দেখিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখানে মনগড়া কাজ করে গেছে। স্থানীয়রা যখন বাধা দিয়েছেন, তখন তারা বলেছে– ‘বেশি কথা বললে চাঁদাবাজি মামলা দেব। ২ লাখ টাকা অফিসারদের দিলে আর কোনো সমস্যা নাই। এভাবেই কাজ করে যাব।’

কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার এক মাস পর সব জায়গা থেকে বিটুমিন উঠতে শুরু করেছে। ফের সড়ক সংস্কার করা হোক, নাহলে তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না, বলছেন কলাপাড়ার নিজামপুর এলাকার বাসিন্দারা।

সাব-ঠিকাদারের গাফিলতিতে এ অবস্থা হয়েছে স্বীকার করে, ফের সংস্কার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজ।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জানান, এখনও এলজিইডিকে কাজটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে সাব-ঠিকাদারের গাফিলতি এবং বৃষ্টিতে কয়েকটি স্থানে নষ্ট হয়েছে। জায়গাগুলো ফের সংস্কার করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে সাব-ঠিকাদার মো. আল-আমিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে জানিয়ে, ফের সংস্কার করে না দিলে কাজের বিল পরিশোধ করা হবেনা বলে আশ্বস্ত করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

পরিদর্শন শেষে কার্পেটিং উঠা ও ভেঙে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে, ফের সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মহিপুর সাগর সিনেমা হল থেকে নিজামপুর পর্যন্ত এ সড়কটি সংস্কারে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।




৯ দফা দাবিতে পটুয়াখালী ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ আজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা, দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যসহ সকল বৈষম্য দূরীকরণ ও ভোটাধিকার রক্ষার্থে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশ হচ্ছে।

আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কলাপাড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন খেলার মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সহ-সভাপতি মাও. কাজী গোলাম সরোয়ার ও হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া, সেক্রেটারি মাও. মো. নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম আব্দুল হাকিম, সদস্য মাও. আব্দুর রহমান আব্বাসী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুহা. রফিকুল ইসলাম রশিদী। এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি কর্তৃক মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্য দূরীকরণসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা এ সমাবেশের আয়োজন করেছি। আশা করছি আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে দল-মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবে।’