দফায় দফায় ফুঁসছে সাগর কাঁদছেন জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু সাগরে কাক্সিক্ষত মাছ ধরা পড়ছে না। অন্যদিকে মৌসুম জুড়ে এবার সাগরের বৈরী আচরণ ছিল। গত দুই মাসে ছয় দফায় কখনো লঘুচাপ, কখনো নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। তাই যাত্রা করে গিয়ে জাল ফেলতে না ফেলতেই সাগর উত্তাল হওয়ায় তড়িঘড়ি ফিরে আসতে হয়েছে জেলেদের। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

এদিকে সামনে আসছে আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলের জেলেদের দিন কাটছে হতাশায়।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে ভাগ্যক্রমে কিছু জেলে লাভবান হয়েছেন। বেশিরভাগ জেলে এবার ক্ষতিগ্রস্ত। মৌসুমের শেষ দিকে এসেও আশানুরূপ মাছ জালে উঠছে না। বড় ইলিশ পরিমাণে কম। ছোট ইলিশ আর জাটকা মিলছে, তাও অন্যান্য মাছের তুলনায় বেশি নয়। বেশিরভাগ ধরা পড়ছে পোমা, লইট্টা, রূপচাঁদাসহ সামুদ্রিক অন্যান্য মাছ। এতে লাভ তো দূরের কথা, যাওয়া-আসার খরচও উঠছে না কারও কারও।

সাগর থেকে মাছ শিকার করে কোড়ালিয়া ঘাটে আসা কাশেম হাওলাদার বলেন, ‘সাগরে ঠিকভাবে মাছ ধরতে পারছি না। কয়েক দিন পরপর আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। এমনিতেই সাগরে ইলিশের কোনো দেখা নেই। তিন দিন পর ঘাটে এসেছি। মাছ বিক্রি হবে ৫০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু ট্রলারের স্টাফদের বেতন আছে ৪০ হাজার টাকার মতো। খাওয়া-দাওয়া, আসা-যাওয়ার খরচ তো আছেই। তাই কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কীভাবে চলবে আমাদের জীবন!’

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, রাঙ্গাবালীতে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১৬ হাজার ৮০৯ জন। এ ছাড়া অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন প্রায় তিন হাজার।

রাঙ্গাবালী উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘এবার জেলেদের ভাগ্য সহায় হচ্ছে না। সাগরে বারবার বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা।’

তিনি আরও জানান, সামনে আসছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। ফলে এ বছর জেলেদের সংকটের মধ্যেই চলতে হবে।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। ইলিশই তাদের আয়ের অন্যতম উৎসব। দেখা যাচ্ছে, বিগত বছরগুলোয় আমাদের দেশে ইলিশ পরিমাণে কমে যাচ্ছে। উপকূলীয় মানুষের যে দুর্দশা তা কিন্তু কিছু মানুষের জন্য। কিছু অসাধু জেলে চরঘেরা, বেহুন্দিসহ নানা ধরনের অবৈধ জাল দিয়ে উপকূলকে ঘিরে রেখেছে। ফলে ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কমছে তাদের প্রজননও। ফলে ভরা মৌসুমেও ইলিশ সেভাবে ধরা পড়ছে না। এর ওপর রয়েছে বৈরী আবহাওয়া। জ্বালানি তেল, রসদসহ যাবতীয় খরচ মিটিয়ে জেলেদের সাগরে যাত্রা করেও দ্রুত ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে তারা আর্থিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে সামনে আসছে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। তাই এবার জেলেদের রক্ষায় সরকারকে আগে থেকেই ভালো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’




যেমন থাকবে আগামী দুই দিনের আবহাওয়া

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উড়িষ্যা ও তার পাশের পূর্বমধ্য প্রদেশে অবস্থান করছে। যার প্রভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে রোববার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্রগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়  ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে।

এছাড়া বর্ধিত পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।




গত ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ৮

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে চলতি বছরের রেকর্ড এক হাজার ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৬ জনে। এ সময় নতুন করে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ৯২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়ই ৪৩৪ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৬৭ জন, বরিশালে ৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৩ জন, খুলনায় ১৩৪ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন ও রাজশাহীতে ৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৭৮৬ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী।




কলাপাড়ায় ০৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গণ সমাবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জুলাই গণ অভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা, দেশ বিরোধী সকল সড়যন্ত্রসহ ০৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের আট জন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করেন।

রবিবার বিকাল চার টায় প্রেসক্লাব চত্বর মাঠে গণ সমাবেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ’র কলাপাড়া শাখার সভাপতি মুফতি মোঃ হাবিবুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ’এই দল সকল ধর্মের, সকল মানুষের জন্য নিরাপদ। সে জন্য আজ হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সহস্রাধিক মানুষ চরমোনাই পীরের দলে যোগ দিচ্ছেন।’

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা, দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সকল বৈষম্যের মোকাবেলা ও ভোটাধিকার রক্ষার্থে এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবি সহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধান অতিথি আরও বলেন, ’বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতার পালাবদলে এক দল অন্য দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেন।’

গনসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্য মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী, কলাপাড়ার নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

গনসমাবেশ শেষে ইসলামী শিল্পী গোষ্ঠী কলরব এর শিল্পীরা ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।




কবরস্থানে ঘর তুলে যুবলীগ নেতার মাদকের কারবার – গুঁড়িয়ে দিল জনতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে গড়ে তোলা স্থানীয় যুবলীগ নেতার মাদকের আখড়া গুঁড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্র-জানতা।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সরকারি কবরস্থান এলাকায় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ওই ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে টিনশেড দোতলা ঘর তোলেন কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মোল্লা। ওই আখড়ায় মাদক কেনা-বেচা, সেবন ও জুয়ার আসর বসত। ঘরটি যুবলীগ নেতা মিজান মোল্লার মাদকের আখড়া হিসেবেই পরিচিত।

মিজান মোল্লা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। মিজান মোল্লার প্রধান সহযোগী রেজাউল সরকার ওরফে রেজু মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশের একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হলেও রেজাউলকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে আজ রোববার দুপুরে বন্দরের বড় পুকুর পাড় এলাকা থেকে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয় ছাত্র- জনতা। মিছিল নিয়ে ওই মাদকের আখড়া ভেঙে ফেলেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, যুবলীগ নেতা মিজান মোল্লা কবরস্থানের মধ্যে অবৈধভাবে ঘর তুলে মাদক ব্যবসা, সেবন ও জুয়ার আসর বসাতেন। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও প্রতিবাদ করার পরিবেশ ছিল না। প্রতিবাদ করে অনেকে লাঞ্ছনার শিকারও হয়েছেন। মুসলমানের ধর্মীয় পবিত্র স্থানে এমন মাদকের আখড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হয় না। তাই এলাকার সচেতন ছাত্র-জনতা মাদকের আখড়াটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনের বলেন, এমন কোনো বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযান আরও জোরদার করা হবে।




মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে ছাত্র-জমিয়তের বিক্ষোভ মিছিল – কুশপুত্তলিকা দাহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতের মহারাস্ট্রের হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপির সাংসদ নিতেশ রানে কর্তৃক মহানবী (সা.)-কে অবমাননা ও কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সদস্যরা।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে জেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মুফতি আবুল বাশার কাসেমীর সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে ওলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান, জেলা জমিয়তে ওলামার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোতাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উবাইল্লাহ ফারুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুফতি শাব্বির আহমাদ, জেলা যুব জমিয়তের সভাপতি মুফতি আবু জাফর, জেলা ছাত্র জমিয়তের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মুহা. ত্বহা বাকিবিল্লাহ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা ভারতের পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও সাংসদ নিতেশ রানে কর্তৃক মহানবী হজরত মুহম্মদ ( সা.)-কে কটূক্তির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিশ্বনবীকে নিয়ে কটূক্তি মুসলমানরা কখনো সহ্য করবে না। বক্তারা কটূক্তিকারী ভণ্ড হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপি নেতা নিতিশের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি করেন। তারা অর্ন্তবর্তী সরকারের কাছে কূটনৈতিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দাবি করেন।

প্রতিবাদ সভা শেষে কটূক্তিকারী ভণ্ড হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপি নেতা নিতেশ রানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় শহরের অদূরে হেতালিয়া বাঁধঘাট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দীর্ঘ প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এসে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার ব্যানারে শত শত নেতাকর্মী প্রতিবাদ সভা করেন।




ইরানি গুপ্তচরের বিশ্বাসঘাতকায় প্রাণ গেছে হাসান নাসরুল্লাহর




অচিরেই সাইবার আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে : আসিফ নজরুল




পবিপ্রবির হল পরিদর্শনে নতুন উপাচার্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন আবাসিক হল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তার সঙ্গে হল প্রভোস্ট, সহকারী হল প্রভোস্টসহ একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপাচার্য একটি পরিদর্শন টিম নিয়ে আবাসিক হলগুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। এ সময় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনযোগ সহকারে শুনে পর্যায়ক্রমে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, এলাকাবাসীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।




বরিশালে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: বরিশালে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে শিশু সমাবেশ, উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে জিলাস্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং। দিবসটির এ বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রতিটি শিশুর অধিকার, রক্ষা আমাদের অঙ্গীকার।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মো. রিয়াদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিতা রানি হালদার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের দেওয়া তথ্যমতে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় নয় হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা য়ায়। শিশুদের আদর-স্নেহে আমরা বড় করি, কিন্তু তাদের সাঁতার শিখানো প্রয়োজন তা আমরা একবারও ভাবি না। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাঁতার শিখাতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, দেশ সংস্কারক ও উদ্যোক্তা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, শিশুর জন্মের পর জন্মনিবন্ধন ও নাম পাওয়া তার অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নের জন্য বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষকের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। শিশুদের আনন্দ দিতে হবে। আনন্দের মধ্য দিয়ে নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ, শিষ্টাচার ও পড়াশোনা শেখাতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল  কাজ শেখাতে হবে। এতে তার চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। শিশুদের কোন ভুলের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে না। মায়া-মমতা দিয়ে বুঝাতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। তবেই তারা সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠবে।