লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) দায়িত্ব দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তবে বিজিবি কৌশলে ছাত্র-জনতাকে সহায়তা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এসব কথা বলেন বিজিবি প্রধান।

মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে ইচ্ছে করেই ঝুঁকি কমাতে বিজিবি ভারী গোলা মোতায়েন করেনি। বিজিবিকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি করিনি আমরা। সরকারি আদেশ মান্য করার পাশাপাশি অভ্যুত্থানে বিজিবি ছাত্রদের সহায়তা করেছে।’

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘৫ আগস্ট ‘‘লংমার্চ টু ঢাকা’’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অনেক বড় বড় জায়গা থেকে রিকোয়েস্ট (অনুরোধ) করা হয়েছিল। অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে কৌশলগতভাবে কাজ করেছে বিজিবি।’

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। স্যাবটাজ হতে পারে।’

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সীমান্ত পথে অবৈধভাবে কীভাবে ভারতে গেলেন, বিজিবির কাছে সে তথ্য নেই জানিয়ে বাহিনীটির প্রধান বলেন, ‘এত নজরদারির মধ্যেও কীভাবে ভারতে পালিয়ে গেছেন মামলার আসামিরা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। সেটি দেখবে সরকার।’




রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  :: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।

পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতকরণ, নতুন সংবিধান গঠন, আওয়ামী দুর্নীতিবাজ আমলাদের পরিবর্তন, হাসিনার আমলে করা সকল অবৈধ চুক্তি বাতিল এবং চুপ্পুকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।




কলাপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন সেতু, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গত ৩ বছর ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন সেতু দিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়রন ব্রিজে প্রবেশের দুই মাথায় দেওয়া হয়েছে বেড়া। যাতে ভুলেও কোনো যানবাহন উঠতে না পারে ওই ব্রিজে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ করে নতুন একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিন পটুয়াখালীর মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাহেরপুর ও আজিমপুর গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত লক্ষ্মীরখালের ওপর ২০০১ সালে নির্মিত হয় একটি আয়রন ব্রিজ। দুই যুগের ব্যবধানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এটি। ব্রিজের মূল অংশের অবকাঠামো ধসে পড়েছে। মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে নিচের লোহার অ্যাঙ্গেলগুলো। কাঠের তত্ত্ব দ্বারা কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পারাপার করছেন। তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আজিমপুর একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দু পাড়ের ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়াও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এখানকার কৃষকেরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল নিতে পারছেন না বাজার-ঘাটে। দুর্ভোগ পোহাতে হয় জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের।

তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাশার হাওলাদার বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী। এলাকাবাসী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি অপসারণ কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আমিও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হয়ে বিদ্যালয় আসছি।’

আজিমপুর একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। এই ব্রিজে উঠলেই ভয় করে। কখন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।’

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এর দু পাশে বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে লোকজন হেঁটে পার হলেও গাড়ি চলাচল করতে না পারে। গাড়ি পারাপার বন্ধ না থাকলে এতদিনে ধসে যেত বলে মনে করছেন তারা। তবে এভাবে বেশিদিন থাকলে হয়তো আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি অপসারণ করে শিগগিরই একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন হোসেন নীরব বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনায় এড়াতে দু পাশে গাছের বেড়া দিয়ে রেখেছি। গাড়ি চলাচল করলে এতদিনে ধসে পড়ত। কাঠের তক্তা দিয়ে কয়েকবার জোড়াতালি দিয়েছি। এখন আর জোড়াতালি দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।’

কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ অচিরেই নতুন ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা এ সেতুটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সাথে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নাফিসা নাজ নীরা এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর মোঃ মুহীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মতবিনিময় সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা হয়।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তিনি মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান নিয়ে বলেন, ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।




ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট




সবই আছে কিন্তু নেই ঝালকাঠিতে শুধু শিক্ষার্থী

বরিশাল অফিস :: ‘কাজির গরু কেতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে নেই’ এটা হচ্ছে বাঙালি জীবনের বহুল শ্রুত একটি প্রবাদ। আর এ প্রবাদের যেন বাস্তব উদাহরণ ঝালকাঠির রাজাপুরের ১২১ নম্বর নিজ গালুয়া মরহুম ফজলুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ বিদ্যালয়ে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী, আছে অবকাঠামো, আলমারি, চেয়ার-টেবিল ও শিক্ষাসামগ্রী। শুধু নেই কোনো শিক্ষার্থী। তবে বিভিন্ন শ্রেণির হাজিরা খাতায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি। অভিযোগ আছে, অডিটের সময় মাদরাসা থেকে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে আসা হয় বিদ্যালয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে উপস্থিত নেই একজনও শিক্ষার্থী। অফিস কক্ষে গল্পে মশগুল পাঁচ শিক্ষক শিক্ষিকা।

স্থানীয়রা জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শুধু কাগজ-কলমেই আছে। বাস্তবে এটাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে মনে হয় না। কারণ এখানে শিক্ষক আছে তবে তেমন কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রতিদিন শিক্ষকরা সকালে স্কুলে এসে হাজির দেয়। এরপর ছুটির সময় শেষ হওয়ার আগেই বাড়িতে চলে যায়। স্কুলে অডিটের সময় পার্শ্ববর্তী সিরাতুন নবী (স.) মডেল মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের এনে এই স্কুলের শিক্ষার্থী দাবি করে দেখানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিস্ট্রার ও কাগজপত্রে ৫১ জন দাবি করলেও শ্রেণিকক্ষের হাজিরা খাতায় ৫৪ জনের নাম পাওয়া যায়। তবে নিয়মিত হাতে গোনা ৩ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে আসলেও প্রতিদিন হাজিরা খাতায় উপবৃত্তির জন্য শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. ফাতিমা বেগম জানান, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম, তবে নিয়মিত ৩ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী আসে। কিন্তু হাজিরা খাতায় উপবৃত্তির ক্ষেত্রে সবাইকে উপস্থিতি দেখানো হয়। তবে কেনো দেখানো হয় সেটা তিনি জানেন না। উপবৃত্তি দিলেও তারা কেন স্কুলে আসে না এবং ৩০ তারিখে হাজিরা খাতায় কেন হাজিরা নেয়া হলো না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের টিফিনের বিরতিতে অফিস কক্ষে বসে হাজিরা দিয়ে দেই। আজকে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হাজিরা নেয়া হয়নি। ওরা নূরানী মাদরাসায় যায়, আমরা তো ওদের জোর করতে পারি না।

সিরাতুন নবী (স.) মডেল মাদ্রাসা ও এতিম খানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ১২১ নম্বর নিজ গালুয়া মরহুম ফজলুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী আমার মাদরাসায় পড়ে না। বরং যখন ওই স্কুলে অডিট আসে, তখন আমার মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের স্কুলের বলে কর্তৃপক্ষকে দেখানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজম খান জানান, স্কুলে শিক্ষার্থী না থাকলে নাই, অসুবিধা কী? আমরা তো আর কোথাও নিয়ে রাখি নাই। স্কুলের শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী নূরানী মাদরাসায় পড়ে, যার জন্য স্কুলে আসে নাই।’ তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা কেন নূরানী মাদরাসায় পড়ে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আরবি পড়ার জন্য ওই মাদরাসায় যায়।’

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, এরকম উপজেলায় ৩ থেকে ৪টা স্কুল রয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য সুপারিশ করা হবে।

ঝালকাঠির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার বলেন, আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের এটিওকে স্কুলটি ভিজিট করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলে দিচ্ছি। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




একদিনের ব্যবধানে আবারো ধরা পড়লো বিশালাকৃতির দুই জোড়া পাখি মাছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: একদিনের ব্যবধানে জেলেদের জালে দুই জোড়া বিশালাকৃতির সেইল ফিস (যা জেলেদের ভাষায় পাখি মাছ) ধরা পরেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল পটুয়াখালীর আলীপুর বিএফডিসি মার্কেটে ৪টি মাছ বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়া আসা হয়। এ সময় মাছগুলি একনজর দেখতে আড়ৎ পট্টিতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

জানা গেছে, আমজেদ হোসেন মাঝির এফবি ফারজানা ট্রলারের ২টি মাছের ওজন ৭৫ কেজি। যা নিলামের মাধ্যমে সাড়ে সাত হাজার টাকায় আ: সালাম নামের এক ব্যবসায়ী ক্রয় করেন।

অপর দিকে এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মাঝি বাদল মিয়া ২টি পাখি মাছ বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। কারিমা ফিসে মালিক মজিবুর রহমান নিলামের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকায় ক্রয় করেন।

মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ জাতীয় মাছের পিঠে বিশাল আকারের পাখনা থাকায় এটিকে স্থানীয়ভাবে পাখি মাছ নামে পরিচিত। এটি সাগরের সবচেয়ে দ্রুতগতির জলজপ্রাণী।

মাছটি ঘণ্টায় ১১০-১৩০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। নৌকার পালের মতো এর পৃষ্ঠীয় পাখনাটি দেখতে হয় বলে একে সেইল (পাল) ফিশ বলা হয়। মাছটি শিকারের কাছে এসে রং পরিবর্তন করতে পারে। এ মাছটি জেলেদের কাছে গোলপাতা নামেও পরিচিত।

মেসার্স কারিমা ফিসের স্বত্বাধিকার মজিবুর রহমান জানান, উপকূলে এসব মাছের চাহিদা না থাকায় তেমন একটা দাম ওঠে না। তবে নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করে ঢাকা সহ বিভিন্ন যায়গায় চালান দেওয়া হয়। তবে এই মাছ সব সময় দেখা যায় না।

আরো বলেন, এ মাছগুলো বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোতে এ মাছের চাহিদা রয়েছে।

এফবি ফারজানা ট্রলারের মাঝি আমজেদ হোসেন বলেন, সাড়ে ৪ লাখ টাকার বাজার নিয়ে ফিশিং এ গিয়েছি। কিন্তুু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাত্র ৭৫ হাজার টাকার মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরে আসতে হয়েছে। তবে আমাদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এ পাখি মাছ ২ টি পেয়েছি। কিন্তুু চাহিদা কম থাকায় দামও একটু কম পেয়েছি।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘পাখি মাছ গভীর সমুদ্র থাকে। এটি গভীর সমুদ্রের মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম সেইল ফিস (Sail-Fish)।

তবে এ অঞ্চলে এই মাছ পাখি হিসেবে পরিচিত। খেতে খুব সুস্বাদু। বিদেশে পাখি মাছের চাহিদা রয়েছে। তাই রপ্তানি হয়ে থাকে। এছাড়াও এ মাছের পুষ্টিগুণ মানবদেহের জন্য উপকারী।




শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালনায় সেনা কর্মকর্তার দাবি সর্বত্র

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সচেতন মানুষ। বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দাবি সংবলিত পোস্টার এবং ব্যানার লাগানো দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত হাসপাতালকে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার হাত থেকে রক্ষা করতেই এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি হাসপাতাল পরিচালনার সাথে জড়িত প্রশাসনের কোন কর্মকর্তারা। সূত্রমতে, এর আগে গত রোববার  ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শেবামেকের পরিচালক ডাঃ এইচএম সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকেই সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি উঠেছে।

শেবামেকের এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান বলেন, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে টাকা ছাড়া নবজাতকের মুখ দেখতে পারেন না বাবা-মা। প্রতিটি পদে পদে দালালদের টাকা দিতে হয় এবং একটা সিন্ডিকেট পরিচালকদের থেকে শুরু করে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তাকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সর্বমহলে জোর দাবি উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা শেবামেকের চেয়েও খারাপ ছিল। সেখানে সেনবাহিনীর সদস্যকে দায়িত্ব দেবার পর সেবার মান আমূল পাল্টে গেছে। এমন উদাহরণ আরো আছে। তাই দক্ষিণাঞ্চলের সেবাপ্রত্যাশী কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে সেনাবাহিনীর একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে শেবাচিমের দেওয়া উচিত।

শেবামেকের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা বলেন, বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে যেসব চিকিৎসকেরা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সিন্ডিকেট নির্ভর হয়ে পরেছিলেন। সেসব সিন্ডিকেটের সঙ্গী হয়ে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের জন্ম দিলেও তারা হাসপাতালের কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটাতে পারেন নি। তাই আমরা এবার পরিচালক হিসেবে একজন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেবার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাঃ হেদায়েত উল্লাহ বলেন, বিগত দিনে হাসপাতালে যেমন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র দেখা গেছে এখন আর কেউ তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করে চোখে পরার মতো উন্নয়ন ও সংস্কার হয়েছে, তাই তাদেরও দাবি শেবাচিমের পরিচালক হিসেবে যেন একজন সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।




ববিতে প্রথমবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তির তারিখ ঘোষণা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে চূড়ান্ত ভর্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬,৭ ও ৮ অক্টোবরের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন বাতিল গণ্য হবে। এ ছাড়া প্রথমবর্ষের পাঠদান শুরু হবে আগামী ২১ অক্টোবর। ববি ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এতে বলা হয়, ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে তার জিএসটি ভর্তি পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষরসংবলিত মূল প্রবেশপত্র লাগবে। এরই মধ্যে (১ম ও ২য় প্রাথমিক তালিকায়) প্রাথমিকভাবে ভর্তিকৃতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দানের রশিদ দেখাতে হবে। যারা তৃতীয় ও চতুর্থ প্রাথমিক তালিকায় প্রাথমিকভাবে ভর্তি হয়েছে কিন্তু মূল ট্রান্সক্রিপ্ট কোন জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি তারা মূল ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদর্শন করে ডিন অফিস থেকে ভর্তি ফরম ও পে-স্লিপ সংগ্রহ করবে।

পরে ভর্তি ফরম ও পে-স্লিপ যথাযথভাবে পূরণ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ট্রান্সক্রিন্ট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদের ফটোকপি এবং চয়েস ফরমের প্রিন্ট আউটের মূল কপিসহ ফরমের যথাস্থানে এক কপি সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি লাগিয়ে নিতে হবে। আরেক কপি রঙিন ছবি স্ট্যাপলারের মাধ্যমে সংযুক্ত করে ভর্তি ফরম ও পে- স্লিপ সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে জমা দিতে হবে। ব্যাংকে ভর্তি ফি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ডিন অফিসে ভর্তি ফরম জমা দেওয়ার পরে শিক্ষার্থীকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদের মূলকপি ও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল ট্রান্সক্রিন্ট অথবা GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট জমাদানের মূল রশিদসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থিত হতে হবে।




বরিশালের জনপ্রিয় শরবত মলিদা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বরিশাল অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় পানীয় হলো মলিদা। বিভিন্ন উৎসব পার্বণে এই অঞ্চলে মলিদা খাওয়ার চল অনেক পুরোনো। তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এই মলিদার সঙ্গে পরিচিত নন। এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জনপ্রিয় পানীয় মলিদার নামটি সর্বাঙ্গে জড়িয়ে। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বড় কোনো উৎসব ছাড়া মলিদার আয়োজন এখন আর দেখা যায় না। তবে কেউ কেউ এখনও সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য ধরে রাখতে ছোট পরিসরে মলিদা খাওয়ানোর আয়োজন করেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক মলিদা তৈরির রেসিপি।

রেসিপি-
উপকরণ: নতুন পোলাওয়ের চাল, নারিকেল, আদা, লবণ, খাঁটি আঁখের গুড়, খই/মুড়ির প্রয়োজন হয়। পরিমাণের হিসাব কষলে বড় এক কাপ বাটা পোলাওয়ের চালের সঙ্গে, কিছুটা মুড়ি/খই বাটা, বড় টেবিল চামচ নারিকেল বাটা, চা চামচ আদা বাটার সাথে পরিমাণ মতো আঁখের গুড়, লবণ মিশিয়ে ৩-৪ কাপ পানির সাথে মিশ্রণ করতে হবে।

প্রণালি: একটি পাত্রে প্রথমে পরিমাণ মতো পোলাওয়ের চাল বাটা, মুড়ি বা খই বাটা, নারিকেল বাটা ও খাঁটি আঁখের গুড় মিশিয়ে হাত দিয়ে কচলে নিন যেন সবগুলো উপাদান একসঙ্গে মিশে যায়। আরেকটি পাত্রে পানি দিয়ে তাতে আগের মিশ্রণগুলো অল্প অল্প করে মিশিয়ে নাড়তে থাকুন, তবে এ মিশ্রণে পানির পাশাপাশি তরল দুধ বা ডাবের পানিও ব্যবহার করেন অনেকে। এবারে সবগুলো মিশ্রণ ঢালার পর পরিমাণ মতো লবণ ও আদা বাটা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। মিশ্রণ হয়ে গেলে পছন্দমতো গ্লাসে ঢেলে তার ওপর মুড়ি বা খই ছিটিয়ে অল্প নারিকেল বাটা ছিটিয়ে দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু মলিদা।

মলিদাকে আরও সুস্বাদু করতে অনেক জায়গাতে চিড়াও মিশানো হয়। আগে মিশ্রণ ও বাটার কাজ শীলপাটা ও ঘুঁটনি দিয়ে করা হতো, তবে এখন চাইলে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে তৈরি করে নিতে পারেন। যদিও চাল বাটার কাজটি শীলপাটায় করলে স্বাদটা অনেক ভালো হবে। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।