তাহসানের দ্বিতীয় সংসারে ইতি!

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানের ব্যক্তিগত জীবন আবারও আলোচনায়। মাত্র এক বছর না যেতেই তার দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন ভাঙনের পথে—এ তথ্য এখন বিনোদন অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুতে মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তাহসান। সম্পর্কের শুরুতে দুজনকে ঘিরে ছিল আনন্দ, প্রত্যাশা আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই তারা আলাদা থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাহসান নিজেই।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তাহসান বলেন, বিষয়টি সত্য এবং তারা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের শেষ দিক থেকেই আলাদা বসবাস করছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তিনি আগ্রহী নন। কিন্তু বিবাহবার্ষিকী ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

তাহসানের ভাষায়, নির্দিষ্ট সময় এলে তিনি বিস্তারিত কথা বলবেন। আপাতত এটুকুই জানাতে চান যে তারা আর একসঙ্গে নেই। এই বক্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা, ভক্তদের মাঝেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র কয়েক মাসের পরিচয়ের পর রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাইডাল মেকআপ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। নিউইয়র্কে তার নিজস্ব একটি মেকআপ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এর আগে তাহসানের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০০৬ সালে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে। সেই সংসার দীর্ঘ ১১ বছর স্থায়ী হয়। ২০১৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে, যদিও বিচ্ছেদের আগেই তারা আলাদা ছিলেন। সেই সংসারে তাহসানের একমাত্র কন্যা আইরা তাহরিম খান রয়েছে, যাকে ঘিরে এখনো আবেগী সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি।

একজন সফল শিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ারে নিয়মিত আলোচনায় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের এই ভাঙন তাহসানের ভক্তদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে এ নিয়ে আরও কী বলেন তাহসান, সেদিকেই এখন নজর বিনোদনপ্রেমীদের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামবেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে ২২ জানুয়ারি থেকে মাঠে নামবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান। এতে দেশের জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক, শীর্ষ নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। সামনে নির্বাচন। ২২ জানুয়ারি থেকে আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।

সিলেটের হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

বিএনপির পুরনো রীতি অনুযায়ী সিলেট থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।

এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।




তাসনিম জারার পছন্দের মার্কা ফুটবল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: প্রার্থিতা ফিরে পাবার পর নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরেছেন তাসনিম জারা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনেই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রতীকের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

মনোনয়ন বাতিলের পরের এক সপ্তাহকে ‘ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন জারা বলেন, ‘দেশে-বিদেশে অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ দোয়া করেছেন, কেউ আবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞা।’

তাসনিম জারা বলেন, ‘জনসমর্থন নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নামতে চাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবার প্রতীকের জন্য আবেদন করব। আমার পছন্দের প্রতীক ফুটবল।’

এ সময় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত শুনানিতে তার করা আপিল মঞ্জুর করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশন তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

এর আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।




প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১ জন,

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের  ‍শুনানির আজ প্রথম দিন ।

আজ মোট ৭০টি আপিলের শুনানি শেষে ৫১ জন প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এ শুনানি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ শুনানি হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শুনানি শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম দিনের ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫২টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর এবং ৩টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। আপিল গ্রহণের শেষ দিনে (শুক্রবার) ১৭৬টি আপিল জমা হয়।

আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিনে ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৮০ জনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।




ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবস্থান সর্বোচ্চ ১০ মিনিট: বরিশালের এসপি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বরিশালের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) ফারজানা ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন এবং গোপন কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গ্র্যাটিটিউট হলরুমে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন নবাগত এই পুলিশ সুপার। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার হলেও ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সাংবাদিকদের জন্য যেসব বিধিনিষেধ

বরিশালের এসপি জানান—

  • ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
  • ভোটকেন্দ্রে ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করা যাবে না
  • কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচনী এজেন্টদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না
  • ভোটকেন্দ্রের ছবি তোলা যাবে, তবে লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হালনাগাদ

পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম জানান, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল জেলায় মোট ৬১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভোট হবে ভোটের দিনেই

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “ভোট হবে দিনের ভোট দিনেই। যাঁর ভোট, তিনিই দেবেন। ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।” তিনি আরও বলেন, ভোটার, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, বিভাগজুড়ে ‘ডেভিল হান্ট অপারেশন’ চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, মহানগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত থাকবে। এতে ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার বাজারে আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম, এক কেজি বিক্রি ২৮০০ টাকায়

ভোলার বাজারগুলোতে শীত মৌসুমে মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ নদীর মাছের দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইলিশ কেনা থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের জোগান থাকলেও দাম কমার বদলে আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। স্থানীয় নদী থেকেই আহরণ করা হলেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশসহ নদীর মাছের চড়া মূল্য

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে—

  • ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা
  • ৭০০–৯০০ গ্রাম ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,৪০০ টাকা
  • ৪৫০–৬০০ গ্রাম ইলিশ ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা

অন্যান্য নদীর মাছের মধ্যেও দাম বেশ চড়া। কোড়াল প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১,০০০ টাকা, আইড় ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা এবং নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

চাষের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে, শীত মৌসুমে পুকুর ও চাষের মাছের সরবরাহ বাড়ায় এসব মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

  • রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা
  • চাষের পাঙ্গাস ১৬০ টাকা
  • চাষের কই মাছ কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে

ক্ষোভ ও হতাশা ক্রেতাদের

বাজারে আসা ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ ইলিশ ভোলায় পাওয়া যায়, অথচ আমাদেরই এত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”

আরেক ক্রেতা সুমাইয়া ইসলাম জানান, আত্মীয় আপ্যায়নের জন্য ইলিশ কিনতে এসে বাজেটের বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুই মাছ কিনে ফিরেছেন।

সাধারণ ক্রেতা মো. মিলন মিঝিমো. হাসনাইন বলেন, “নদীর মাছ কিনতে এলেও দাম শুনে ইলিশ ছোঁয়াই যায় না। কোড়াল বা আইড়ও কিনতে সাধ্যের বাইরে।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

ইলিশ বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ঘাট থেকেই আমাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে কেজিতে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

পুকুরের মাছ বিক্রেতা মো. জসিম জানান, “শীতের কারণে চাষের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তাই এসব মাছের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতার আগ্রহ নদীর মাছের দিকেই বেশি।”

প্রশাসনের নজরদারি

ভোলার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত দাম নিলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের প্রায় ৮৭ হাজার প্রবাসীর ভোট পোস্টাল ব্যালটে

প্রবাসে অবস্থান করেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বিপুলসংখ্যক নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে মোট ৮৬ হাজার ৭১৬ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এই সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬৭ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৮০১ জন। এছাড়া নিবন্ধন করেও যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৩৭৫ জন প্রবাসী

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—

  • বরিশাল জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৮২৮ জন এবং নারী ৭ হাজার ৬৪৯ জন
  • ভোলা জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৪ হাজার ৮২৩ জন, পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী ১ হাজার ৯৬৯ জন
  • পিরোজপুর থেকে নিবন্ধন ১১ হাজার ৮৩৪ জন,
  • পটুয়াখালী থেকে ১১ হাজার ৭৫৪ জন,
  • বরগুনা থেকে ১১ হাজার ৩২৭ জন,
  • ঝালকাঠি থেকে ৭ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

সংসদীয় আসনভিত্তিক হিসাব

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৪,৫১৬ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৫,১০৯ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৪,৬৭২ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,৪৭৮ জন
  • বরিশাল-৫ (সদর): ৬,৭৩৭ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য পোস্টাল ভোটার

এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের আওতায় রয়েছেন ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ৭৫৪ জন এবং কারাবন্দি ৩৪৬ জন

নির্বাচন কমিশন জানায়, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হবে। ভোট প্রদান শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনা মোতায়েন, ফিরেছে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি

বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর পুরো এলাকায় যান চলাচল ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সেনা সদস্যরা দিনভর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল।

সেনা মোতায়েনের কারণে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দিনভর কোনো উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি। যাত্রী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামা করতে পেরেছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রম করেছেন।

বাসযাত্রী ও পথচারীরা জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর এই এলাকায় ভোগান্তিহীন চলাচল করতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও তাদের উদাসীনতা এবং কিছু চালকের আইন অমান্যের কারণে এলাকাটি প্রায়ই যানজট ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো। এতে নগরবাসী ও যাত্রীদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত থাকলে বরিশালের অন্যতম ব্যস্ত এই টার্মিনাল এলাকায় স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ফিরল প্রাথমিক সদস্যপদ

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত বরিশাল মহানগর বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা দলীয় ফোরামে আবেদন জানালে তা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আপাতত কেবল প্রাথমিক সদস্যপদই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন—
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ,
২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক,
২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির,
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম,
২৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী সেলিনা বেগম,
৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা পারভীন,
মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি মোসা. জেসমিন সামাদ শিল্পী,
১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান,
মো. কামরুল আহসান রুপন এবং
১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জাবের আব্দুল্লাহ সাদী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটক

পটুয়াখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্টের অভিযোগে এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সিম কার্ড ও প্রবেশপত্র জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভাধীন পিটিআই ভবনের ১ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক আচরণ চোখে পড়লে ওই পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস (VIP Pro Max No-20260918), একটি সিম কার্ড এবং পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

আটক পরীক্ষার্থীর নাম মোসা. সুমাইয়া বেগম (২৫)। তিনি কলাপাড়া উপজেলার লোন্দা এলাকার বাসিন্দা মো. নূরুল ইসলামের মেয়ে। সুমাইয়া বেগম ওই কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রে উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব রায়হান। তিনি ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম