কলাপাড়ায় পানির বকেয়া বিল প্রায় কোটি টাকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার পানির বকেয়া বিল প্রায় কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

বকেয়া গ্রাহকদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল পরিশোধ করার জন্য মাইকিংসহ একাধিকবার নোটিস প্রদান করলেও প্রতিকার মেলেনি। বিল পরিশোধের বিষয়টিকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না গ্রাহকরা।

পৌরসভার পানি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. অলিউল্লাহ জানান, পৌরসভার ৬০০ গ্রাহকের কাছে পানি শাখার বকেয়া বিল পাওনা রয়েছে। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে মজিবুন নেছা লাভলি বেগমের নামে বকেয়া রয়েছে ৭৮ হাজার ৮১৬ টাকা। এ ছাড়া এমবি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল আলমের কাছে ৪৩ হাজার ১৮৮ টাকা, ব্যবসায়ী সবুজ মিয়ার কাছে ২০ হাজার ৩১ টাকা, শিক্ষক মাহমুদুল আলম পলাশের কাছে ৩৭ হাজার ৬৪০ টাকা, সিরাজুল হক মুন্সীর কাছে ৪৩ হাজার ১০৪ টাকা, মৃত রুহুল আমিনের কাছে ৫৫ হাজার ৬২ টাকা বিল পাওনা আছে। অলিউল্লাহ বলেন, পৌর প্রশাসকের নির্দেশে বকেয়া পাওনা আদায়ে আমরা শিগগিরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করব। এ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও যারা অবৈধভাবে পানি ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বকেয়া পানির বিল আদায়ের নোটিস প্রদান ও মাইকিং কার্যক্রম শেষ। এখন আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

পৌরসভার পানি শাখার বিল ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন জানান, প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার পানি শাখার গ্রাহক সংখ্যা ৪ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার জনপ্রতি ১০ ইউনিট পানির বিল মওকুফ। এ ছাড়া সংযোগ বন্ধ করা আছে ১৫২ জনের।




প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে পোস্ট, যা বললেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের বরখাস্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির মা নাসরিন জাহান বলেন, আমার মেয়ে চাকরির বিধি লঙ্ঘন করছে। এটা তার ঠিক হয়নি। এটা একটা বড় অপরাধ। সব জায়গাতেই চাকরি বিধি মানতে হবে।

গতকাল সোমবার রাতে মুঠোফোনে তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির মা নাসরিন জাহানকে নিজের মেয়ের বরখাস্তে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসরিন জাহান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করি নাই, যুদ্ধ দেখি নাই, যে যুদ্ধ হয়েছে, সেটা ইতিহাস। ইতিহাসকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা আমাদের মা-বাবাকে অস্বীকার করতে পারবো কি?’

তিনি আরও বলেন, ‘ঊর্মি ছাত্রজীবনে কোনো রাজনৈতিক সংঘঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সম্পৃক্ত ছিল। তখন তার ৪০তম বিসিএস পরীক্ষা ছিল। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছে। সেখান থেকে মাস্টার্স করেছে। আমার সন্তানরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। আমরা খুব সাধারণ জীবনযাপন করি।’

ঊর্মির মা নাসরিন জাহান বতর্মানে হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মুক্তাগাছায় গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

এরপর তার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব‍্যাপক সমালোচনায় মুখে পড়েন ঊর্মি। এ ঘটনায় গত রবিবার ঊর্মিকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর সোমবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।




আবুল হাসানাত ও তার পরিবারের ৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ তার পরিবারের ৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা পরিবারের সদস্যরা হলেন, হাসানাত আবদুল্লাহর প্রয়াত স্ত্রী সাহান আরা আবদুল্লাহ, হাসানাতের তিন ছে‌লে- এফবিসিসিআইয়ের সা‌বেক পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, সাদিক আব্দুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আব্দুল্লাহ ও তা‌দের পরিবারের আরেক সদস্য ফি‌রোজা সুলতানা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিএফআইইউয়ের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব জব্দ করা ব্যক্তি ও তার ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাব স্থগিত থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ তার পরিবারের ৭ সদস্যের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যে-সব হিসাব স্থগিত করা হয়েছে তাদের হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল- যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী যাবতীয় তথ্য চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ২ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হাসানাত আবদুল্লাহসহ তার পরিবারের সদস্যরা গাঁ ঢাকা দি‌য়ে‌ছেন।

 




দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়িয়ে আজই প্রজ্ঞাপন জারি : মাহফুজ আলম




ইসরায়েলে হামলার অন্তত ১০টি পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে ইরান




জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকা প্রসঙ্গে সারজিস-হাসনাতের ক্ষোভ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম সোমবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস লিখেছেন, জাতীয় পার্টির মতো মেরুদণ্ডহীন ফ্যাসিস্টের দালালদেরকে প্রধান উপদেষ্টা কিভাবে আলোচনায় ডাকে?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হলে, আমরা সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও কঠোর বিরোধিতা করব।




খুলছে জাতীয় নাট্যশালা : পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: স্বল্প পরিসরে খুলছে জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হল ও দুটি মহড়াকক্ষ। গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের এক সমন্বয় সভায় ১১ অক্টোবর থেকে জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হল এবং ১ ও ২ নম্বর কক্ষ নাটক ও মহড়ার জন্য সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, হল ও মহড়াকক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালার পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার বিভিন্ন কক্ষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। তখন থেকে মিলনায়তন ও বিভিন্ন কক্ষ বরাদ্দ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠনগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এখন সীমিত পরিসরে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন ও দুটি মহড়াকক্ষ নাটক মঞ্চায়ন ও মহড়ার জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নির্দেশনা অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। নাট্যদলকে এক শিফটে একটি প্রদর্শনী করার জন্য মূল হল বরাদ্দ দেওয়া হবে। নাট্যসংগঠনগুলো অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। বরাদ্দ চূড়ান্ত করার সময় দলকে অবশ্যই তাদের উপস্থিত সদস্যদের তালিকা সংগঠনের প্যাডে লিখিতভাবে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের দপ্তরকক্ষে জমা দিতে হবে। উক্ত তালিকা মিলনায়তন ব্যবহারের নির্ধারিত দিনে সব গেটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরবরাহ করা হবে। দর্শক প্রবেশের জন্য নাটক প্রদর্শনীর দুই ঘণ্টা আগে জাতীয় নাট্যশালার মূল ফটক খুলে দেওয়া হবে। হল বরাদ্দ ব্যতীত জাতীয় নাট্যশালার মূল ফটক খোলা হবে না।

মূল মিলনায়তনে যারা নাটক মঞ্চায়ন করবে, দুটি মহড়াকক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। তারা মহড়াকক্ষ ব্যবহার করতে না চাইলেই কেবল অন্যদলকে মহড়ার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বরাদ্দপ্রাপ্ত দলকে অবশ্যই সদস্যদের তালিকা সংগঠনের নিজস্ব প্যাডে লিখিতভাবে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের দপ্তরকক্ষে প্রদান করতে হবে।

মূল ফটক দিয়ে কেবল বরাদ্দপ্রাপ্ত সংগঠনের সদস্য, মহড়াকক্ষ ব্যবহারকারী সংগঠনের সদস্য, শিল্পকলা একাডেমির স্টাফ, সেনাসদস্য এবং টিকিট বা আমন্ত্রণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। সাংবাদিকেরা অফিস পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে প্রবেশ করতে পারবেন। জাতীয় নাট্যশালার মূল হল ও মহড়াকক্ষ ব্যবহারকারী নাট্যকর্মী, সাংবাদিক ও টিকিট বা আমন্ত্রণপত্রধারী দর্শনার্থীদের যানবাহন নির্ধারিত সময়ে নাট্যশালার নিচতলার পার্কিং ব্যতীত অন্য কোথাও পার্কিং করা যাবে না।

শেষ গত ১৯ জুলাই ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে একটি নাটকের মঞ্চায়ন হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেদিন আর নাটকটি হয়নি। মূলত এদিন থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশের কোনো শিল্পকলা একাডেমিতেই আর কোনো নাটকের মঞ্চায়ন হয়নি।




ইসরায়েলে একযোগে হামাস ও হিজবুল্লাহর হামলা, আয়রন ডোম ব্যর্থ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পর পাল্টে যায় মধ্যপ্রাচের চিত্র। গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তাদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।  বর্ষপূর্তির দিনে আবারও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে একযোগো হামলা চালালো ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বড় আকারের এই হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম।

সোমবার ভোরে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা অধিকৃত ভুখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে রকেট হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বন্দরনগরী হাইফাতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়।

হিজবুল্লাহর ছোঁড়া পাঁচটি রকেটকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, কী কারণে আয়রন ডোম ব্যর্থ হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া গ্যালিলি সাগরের নিকটবর্তী অন্যান্য শহর লক্ষ্য করেও বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে  সোমবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হামাসও। তারা বেশ কয়েকটি ইসরাইলি সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, তারা ১১৪ মিলিমিটার রাজুম রকেট দিয়ে স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। উত্তর-পশ্চিম নেগেভ মরুভূমিতে সুফার কাছে সামরিক ঘাঁটি, গাজার রাফাহ ক্রসিংয়ে সামরিক সমাবেশ, উপকূলীয় হোলিট অবৈধ বসতির আশেপাশে এবং কারেম শালোম সামরিক স্থাপনায় আঘাত আনতে সক্ষম হয়েছে তারা।

এদিন হামাসের পাশাপাশি গাজাভিত্তিক আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।




ভারতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে দুমকিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.)-কে নিয়ে পুরোহিতের কটূক্তির প্রতিবাদে পটুয়াখালীর দুমকিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিজবুল্লাহ, আইম্মা হিজবুল্লাহ, যুব হিজবুল্লাহ ও ছাত্র হিজবুল্লাহ’র সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ।

সোমবার (৭ অক্টোবর) জমইয়াতে হিজবুল্লাহর সভাপতি মাওলানা আঃ মজিদ’র সভাপতিত্বে সরকারি জনতা কলেজ সংলগ্ন মহাসড়কে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। সংগঠনটির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।

এসময় তারা বলেন, ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে একজন হিন্দু পুরোহিত কটূক্তি করেছেন। আবার ক্ষমতাসীন বিজেপির এক নেতা সেই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননাকর বক্তব্য ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং আপত্তিকর। তাই আমরা ভারত সরকারের কাছে এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ জমইয়াতে হিজবুল্লাহর দুমকি উপজেলার সভাপতি আব্দুল মজিদ খান বলেন, আমরা এই ধরনের কটূক্তি বন্ধের জন্য কড়া আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। এমন কাজের ফলে, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মহানবী (সা.)-কে নিয়ে এই ধরনের কটূক্তিকারী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাও চাইতে হবে।

এসময় পাঙ্গাশিয়া দরবার শরীফের পীরসাব মো: অলিউর রহমান, জমইয়াতে হিযবুল্লাহ’র উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর মো: মজিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল বিন নাসির বক্তব্য রাখেন।




আমরা যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই : শফিকুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারী ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি বৈষম্যহীন সমাজ পেয়েছি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই আমরা এই দেশের নাগরিক। প্রতিটি নাগরিকের স্ব স্ব ধর্ম পালনের শতভাগ অধিকার রয়েছে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটাই বৈষম্য।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গাপূজা নিয়ে বাউফলের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতরসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান পালনের আগে আমরা কোনো মতবিনিময় সভা করি না। তাহলে হিন্দুদের দুর্গাপূজায় কেন মতবিনিময় করতে হচ্ছে। এটাই বৈষম্য। আমরা এই বৈষম্য দূর করে যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে কেবল মন্দির নয়, আমাদের জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম মসজিদেও হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঠিকভাবে নামাজ পড়তে পারি নাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সাথেও বৈষম্য করা হয়েছে। আমরা এই বৈষম্য দূর করে একটি আদর্শ দেশ গড়তে চাই। এক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়েরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী মন্দিরে মন্দিরে পাহারা দিয়েছেন। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগামীতেও আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই। দুর্গাপূজা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে করুন। কেউ বাঁকা চোখে তাকাতে পারবে না।

বাউফল সার্বজনীন কালীবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অধীর রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদ বাউফল উপজেলা শাখার সহসভাপতি জিতেন্দ্র নাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র পাল ও বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলামসহ ও ৫৬টি পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।