গলাচিপায় নবাগত জেলা প্রশাসকের আগমন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় নবাগত জেলা প্রশাসকের আগমন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্ব ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব হাসান শিবলীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর মেহেদী হাসান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. ছত্তার হাওলাদার, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আবুবকর, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক মো. হাফিজুর রহমান, গলাচিপা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির, গলাচিপা প্রেস ক্লাব সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, এনজেড আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই, গলাচিপা বণিক সমিতির সভাপতি তাপস দত্ত প্রমুখ।

এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। এ সময় জেলা প্রশাসক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত গলাচিপা উপজেলার ৬ শহীদ পরিবারের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। সভা শেষে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ডাকুয়া ইউনিয়নে শহীদ সাগর গাজীর কবর জিয়ারত ও ছাত্র আন্দোলনে নিহত উপজেলার সকল শহীদের জন্য দোয়া-মোনাজাত করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।




‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে শিগগিরই’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের ভ্রমণে বিরত থাকার যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা শিগগিরই তুলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টারে সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে তিনি দীঘিনালায় ১৯ সেপ্টেম্বর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সম্প্রতি দীঘিনালার লারমা স্কয়ারের সহিংসতার ঘটনায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা, ভাঙচুরে শিকার হওয়াদের ২০ হাজার এবং নিহত এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা দেয়ার পাশাপাশি খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়া হয়।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব কংকন চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. আরিফিন জুয়েল ও দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ পাহাড়ি বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দরা সঙ্গে ছিলেন।




পদত্যাগ করলেন পিএসসির চেয়ারম্যান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে পিএসসির সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

পিএসসির একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আজ পিএসসির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এমনকি দুজন সদস্য ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বেশিরভাগ সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।

গত শনিবার (৫ অক্টোবর) পিএসসি সংস্কার করার কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম।

এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে পিএসসি সংস্কার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের চাকরির পরীক্ষাগুলো শুরু করতে হবে। যে তরুণ প্রজন্ম এই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক, তাদের প্রায়োরিটির কথা ভুলে গেলে চলবে না।




বরিশালে সমন্বয়ক পরিচয়ে হয়রানি, বসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আল্টিমেটাম

বরিশাল অফিস :: ছাত্র ও সমন্বয়ক পরিচয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বসিকের প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী বরাবর সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সকল বিভাগের ৩৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষর দিয়ে ওই দাবি জানান। এর অনুলিপি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সেনা ক্যাম্প কমান্ডারকেও দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন। হয়রানি বন্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে। সহস্রাধিক ছাত্র জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরিতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সন্তান-স্বজনরা সহযাত্রী ছিল। কিন্তু গুটি কয়েক বিপথগামী ছাত্র পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ওই ছাত্ররা নগর ভবনের বিভিন্ন শাখার প্রধানদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও আইন বর্হিভূত কাজের জন্য চাপ দিচ্ছে।

তারা হাট বাজারশাখার সুপারিটেনডেন্টকে রুপাতলী ও সাগরদী বাজারের খাজনা উত্তোলন করার জন্য সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া এক ছাত্রের আত্মীয়কে দেওয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করেন। সুপারিনটেনডেন্ট তাতে অস্বীকৃতি জানালে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সুপারিনটেনডেন্টকে হয়রানি করে। অবৈধ উচ্ছেদ শাখার শাখা প্রধানকে জলাশয়, পুকুর, ডোবা, বালু দিয়ে ভরাটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। আইনে জলাশয় পুকুর, ডোবা ভরাটের আইনগত বিধান নাই বলে জানালে সেই সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ছাত্র টাকার বিনিময়ে হলেও ভরাট করার প্রস্তাব দেন।

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ওই চক্রটি বিভিন্ন শাখায় গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাজিরা খাতা এবং গোপনীয় নথিপত্র দেখতে চান। বর্তমান প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা ও প্রশাসককে জড়িয়ে বিভিন্ন দরণের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন। মূলত ছাত্র নামধারী সমন্বয়কদের অযৌক্তিক দাবি না মেনে নেওয়ায় প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবি তোলা হচ্ছে।

এসব সুযোগসন্ধানী নামধারী সমন্বয়কদের হয়রানির বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিসহ বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার সকালে ছাত্র পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তরুণ সিটি কর্পোরেশনের গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহীর অপসারন চেয়ে ওই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।




শেবাচিম হাসপাতালে নার্সদের কর্মবিরতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্টার পদ থেকে সকল প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপসারণপূর্বক পদগুলোতে নার্সিং কর্মকর্তাদের পদায়নের এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালেও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সর্বস্তরের নার্স কর্মকর্তা ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়।

শেবাচিম হাসপাতালের নার্সিংয়ের উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক জাকিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল মহানগর নার্সিং সংস্কার পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আলি আজগর, সিনিয়র স্টাফ নার্স কামরুল হাসান, সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহ আলমসহ অন্যানরা।

তাদের দাবি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্টার পদ হতে প্রশাসন ক্যাডারদের অপসারণ করে এ পদগুলোতে নার্সদের পদায়ন করতে হবে।




নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ইসলাম :: পৃথিবীতে ইসলাম একটাই। অঞ্চল ভেদে ইসলামে কখনো পরিবর্তন হয় না। নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়, সেটা নির্ণয় করার মূলনীতি কুরআন ও সুন্নাহ বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘পৃথিবীতে ইসলাম একটাই। অঞ্চল ভেদে ইসলামে কখনো পরিবর্তন হয় না। নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়, সেটা নির্ণয় করার মূলনীতি কুরআন ও সুন্নাহ। এটা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে স্বীকৃত বিষয়।

ইসলামের বেলায় আজ যারা প্রকৃত ইসলামের কথা না বলে নদীয়ার ইসলামের কথা বলেন, সব ক্ষেত্রে কি তারা সেটা করেন? গণতন্ত্রের বেলায় তারা প্রকৃত গণতন্ত্র খোঁজেন, নাকি মামলা-হামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন ও রাতের ভোটের প্রচলিত দেশীয় গণতন্ত্রের কথা বলেন?

গণতন্ত্রের জন্ম আমেরিকায়। কিন্তু আমাদের দেশের প্রচলিত গণতন্ত্র আর আমেরিকার গণতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। যারা ইসলামকে আঞ্চলিকতায় বিভাজিত করেন, তারা কি আমেরিকার প্রচলিত গণতন্ত্রের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রচলিত আঞ্চলিক গণতন্ত্রের কালচারকে ধারণ করার কথা বলেন?

তাছাড়া, এদেশে নদীয়ার তথাকথিত ইসলামকে ধারণ করা মানুষের সংখ্যা ১শতাংশও হবে না। এর বিপরীতে প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলমান আরবের ইসলাম তথা কুরআন-হাদিস বর্ণিত ইসলামে বিশ্বাস করেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর তারা কোন ইসলাম চাপিয়ে দিতে চান?

কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে নদীয়ার কথিত ও বিকৃত ইসলামকে ধারণ করেন, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু সেই ইসলামকে যদি সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সেটাকেই বাংলাদেশের ইসলাম বলা হয়, তবে তা বিনোদনের আইটেম হতে পারে, কিন্তু ইসলাম নয়।’




প্রশাসনে স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ থাকলে দেশকে বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে: রিজভী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পতিত স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ প্রশাসনের মধ্যে থাকলে দেশকে তারা বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা মহানুভতা, মানবতা অবশ্যই রাখবেন। কিন্তু যারা নিজেরা মানবতা দেখায়নি, যারা মহানবতা দেখায়নি, যারা শেখ হাসিনাকে উদ্বুদ্ধ করেছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুলি করতে সেই স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ যদি প্রশাসনের মধ্যে থাকে, তারা আপনাদেরকে প্রতি পদে পদে বাধা দিবে। তাদেরকে অতি দ্রুত চিহ্নিত করে গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে যারা ছিল অথবা যারা নিরপেক্ষ ছিল, তারা যে দলেরই সমর্থক হোক না কেন এ সমস্ত মেধাবী লোকদেরকে আপনারা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বসান। সেটা না হলে দেশকে তারা বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। কারণ তাদের পিছে একটি বিশেষ পরাশক্তির প্রভু আছে যাদের আশ্রয়ে তারা আছে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘পতিতো স্বৈরাচারের পুনরুত্থান যাতে না ঘটে। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়, আর যেন কোনো মায়ের সন্তানকে হত্যা না করা হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, শেখ হাসিনার পুনরুত্থান মানে দেশ হবে এক ভয়ঙ্কর বধ্যভূমি। এই বধ্যভূমি যাতে তৈরি না হয়, তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেও অন্তরে সততার আলো নিয়ে খুব দ্রুতগতিতে কাজ করতে হবে। সেই পথ, সেই মত তৈরি করতে হবে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে মাঠ দরকার সেটি তাদেরকে তৈরি করতে হবে। তবে সেটি যেন প্রলম্বিত না হয় দীর্ঘায়িত না হয়।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম উর্মি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লালমনিরহাটের উর্মি, তিনি আবু সাঈদের মত একজন মহিমান্বিত আত্মদানকারী, সাহসী বীর তরুণ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, যে ব্যক্তি অকাতরে নিজের জীবন দিয়েছে, বুক চিতিয়ে হাসিনার পুলিশের গুলি বরণ করেছে, তাকে বলছে সন্ত্রাসী। তাকে বলছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। এদের মত লোকজনই তো প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তো প্রশাসনের একটি অংশ, তাহলে আজকে সচিবালয় থেকে শুরু করে আজকে বিচারালয় থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিভাবে এই স্বৈরাচারের দোসররা একটি বিপ্লবের সরকারকে একটি গণআন্দোলনের সরকারকে ব্যর্থ ব্যর্থ করতে চাইবে। সেটা তো আমরা প্রত্যেকেই জানি।’

প্রশাসনে যাদের নতুন প্রমোশন হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রশাসনে যাদের নতুন প্রমোশন হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন এবং যাদের পদায়ন হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আওয়ামী প্রশাসন লুট করেছে জনগনের টাকা। অনেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আপনারা বঞ্চিত ছিলেন। আপনাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল বিরোধী দলের লোক হিসেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে কায়দায় করেছে তাদের একেকজন সচিব আমরা খবরের কাগজে দেখছি তাদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কাহিনী। একজন ডিসি বা অ্যাডিশনাল কমিশনার কিংবা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলে যে কাজ করেছে, আপনারাও যদি সেই পথ অনুসরণ করেন, তাহলে আপনাদেরকেও ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আপনারা যদি মনে করেন আমরা এতদিন বঞ্চিত ছিলাম। এখন ভাগ বাটোয়ারা করে সেটি পূরণ করবো। তাহলে কিন্তু এই জাতি চিরদিনের জন্য অন্ধকারে চলে যাবে এবং ওই যে পতিত স্বৈরাচার এরা নানাভাবে আসার চেষ্টা করবে। ’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে মাফিয়া অর্থনীতিতৈরি করেছিল, যার মধ্য দিয়ে মাফিয়া ব্যবসায়ীরা একের পর এক ব্যাংক তারা একত্রীকরণ করেছে। তারা এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের অর্থনীতির মধ্যে দেশকে ঠেলে দিয়েছে। এক এস আলম ৮ থেকে ৯টি ব্যাংক আত্মসাৎ করেছে। এখানে জনগণের টাকা সে আত্মসাৎ করে নিজের বিভিন্ন কাজে লাগিয়েছে এবং বিদেশে পাচার করেছে। এক এস আলম স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন টাকা লোপাট করেছে। এটা তো আজকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। সুতরাং এই সমস্ত বড় বড় রুই কাতলা যারা জনগণের সঞ্চিত টাকা আত্মসাৎ করে মাফিয়া অর্থনীতি তৈরি করেছে এবং শেখ হাসিনার যে লুণ্ঠনের নীতি, হরি লুটের যে নীতি, এটাকে তারা বাস্তবায়ন করেছে, তারা কিন্তু বসে নেই। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে তারা পাচার করেছে। সেই টাকা দিয়ে তারা নানা ভাবে নানা কায়দায় দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় সিঙ্গাপুরে একটি লবিস্ট ফান্ড ভাড়া করেছে তাদের পক্ষে ওকালতি করার জন্য। এগুলো কিন্তু খুব সাধারন কথা নয়। এগুলো অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহি। কারণ ওদের অনেক টাকা আছে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা: জাহিদুল কবির, যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার, ছাত্রদলের নেতা ডা: আব্দুল আউয়াল মাসুদুর রহমান মাসুদ, রাজু আহমেদ প্রমুখ।




সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্মির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদসহ অন্য নিহতদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত সহকারী কমিশনার তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মানহানির মামলার আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন আদালতে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বাদী হয়ে এ আবেদন করেন।

বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে এ বিষয়ে আদেশ পরে হবে বলে জানান আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর আসামি ঊর্মি শুধু শহীদ আবু সাঈদ নয়, সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও ছাত্র-গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার ও সরকার প্রধান নোবেলবিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও অবমাননাকর বক্তব্য ফেসবুক লিখেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, মন্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেফারেন্সের ভিত্তিতে সংবিধান সম্মতভাবে গঠিত একটি সরকার প্রধান সম্পর্কে বিষোদগার করা হয়েছে এবং সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।




বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, সাবেক সভাপতিকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

বরিশাল অফিস ::বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম প্রতিপক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাত পৌনে ১২টায় নগরের আমানতগঞ্জ এলাকায় সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেনের বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, হট্টগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শেখ রহিমকে উদ্ধার করি।

শেখ আব্দুর রহিম বলেন, আমি সভাপতি নির্বাচন করব। আমাকে ঠেকাতে ভুয়া ভোটার করা হচ্ছে। সব কাগজপত্র বাসায় নিয়ে ঘষামাজা ও পেছনের তারিখ দেখিয়ে এসব করা হচ্ছে। রোববার রাতে ইলিয়াসের বাসায় এ কার্যক্রম চলাকালে খবর পেয়ে ওই বাসায় যাই। তখন চাঁন ও ইলিয়াস তাদের বাহিনী নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করেছে।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে ইলিয়াস আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম রাতে আমার বাসায় ঢুকে সংগঠনের নিবন্ধন খাতাসহ আরও কাগজপত্র ছিনিয়ে ইজিবাইকে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে মারধর করেছে।

ইলিয়াস আরও বলেন, শেখ আব্দুর রহিম সংগঠনের পদ দখলে নিতে চান। তার বিভিন্ন হুমকির কারণে নিবন্ধিতসহ যাবতীয় কাগজপত্র বাসায় এনে সাংগঠনিক কাজ করতে হয়।

চেম্বারের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, রোববার রাতে সদস্যসচিবের বাসায় সাবেক সভাপতি রহিম যাওয়ার পর সেখানে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

প্রসঙ্গত, আগামী ৬ জানুয়ারি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। শেখ আব্দুর রহিম ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে সভাপতি ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর জাতীয় পার্টি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন মানিককে আহ্বায়ক ও ইলিয়াস হোসেনকে সদস্যসচিব করে বরিশাল চেম্বারের নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়।




পটুয়াখালী জেলায় সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় মুঠোফোন নম্বর সংশোধিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী এলাকার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় মোবাইল নাম্বারসমূহ (৮ আগস্ট ২০২৪ এ সংশোধিত) হয়েছে। একটি অফিসিয়াল সুত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দর উপজেলা

১। কন্ট্রোল: 01769073127
২। মেজর সাব্বির: 01769073120
৩। মেজর ফয়সাল: 01769072358
৪। ক্যাপ্টেন রিমান: 01769073122

বাউফল ও দুমকী উপজেলা

১। ক্যাপ্টেন শাইয়েন: 01769072360

২। লেঃ শাহরিয়ার : 01769078263

কলাপাড়া ক্যাম্প

১। ক্যাম্প কমান্ডার : 01769072388

২। ক্যাম্প টুআইসি: 01769072397

৩। কন্ট্রোল :01769072396

কুয়াকাটা ক্যাম্প

১। ক্যাম্প কমান্ডার:01769072399
২। কন্ট্রোল : 01769078038

গলাচিপা ও দশমিনা

১। ক্যাম্প কমান্ডার : 01769008970
২। কন্ট্রোল :01769078034

রাঙাবালি

১। লে: ফিরোজ (BD Navy): 01769763862

প্রসঙ্গত: উপরোক্ত তথ্য এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা বৃন্দগনের মুঠোফোন নম্বর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত সুত্রে সংবাদে প্রকাশ করা হয়েছে।