তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ ধরায় আটক ৬ জেলে

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ছয় জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর সৈয়দজাফর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলমান মা ইলিশ রক্ষা অভিযানকে কেন্দ্র করে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হয়। ওই সময় নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মৎস্য সংরক্ষণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সতর্ক করে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে ১২ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও একটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, গ্রেপ্তার তিন জেলে হলেন—দশমিনা সদর ইউনিয়নের সৈয়দজাফর এলাকার মো. ইউনিসের ছেলে মো. আল-আমিন (২৫), শাহজাহান খানের ছেলে মো. রাসেল খান (৩২) ও মো. মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (২৪)।
অন্য তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলের নাম-পরিচয় নাবালক হওয়ায় প্রকাশ করা হয়নি।

নৌ-পুলিশ জানায়, মাছ ধরার এই নিষেধাজ্ঞা মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে বরিশাল নগরী

বরিশাল শহরে অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে এগুলো মানুষের যাতায়াত সহজ করলেও বর্তমানে শহরের শৃঙ্খলা ও বিদ্যুতের উপর চাপ বাড়িয়েছে।

নগরের ব্যস্ত সড়কে অবৈধ তিন চাকার বাহনগুলো দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। শুধুমাত্র অলিগলি নয়, মহাসড়ক এবং ভিআইপি সড়কও এদের দখলে। দ্রুতগ্রামী এই যানগুলো হুটহাট মোড় নেওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সতর্কতা নিলেও চালকরা প্রায়ই চড়াও হয়।

বরিশালে বৈধ প্যাডেল রিকশার সংখ্যা ১২ হাজার থেকে দেড়শ’ এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশার সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই যানগুলো থেকে সিটি করপোরেশন বা সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০ চাঁদাবাজ প্রতিদিন এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে

নগরীর ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটো বাবদও কোনো রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। গ্যারেজ প্রতি চাঁদা দিয়ে এগুলো প্রকাশ্যে চলছে। প্যাডেল রিকশাচালকরা ইঞ্জিন রিকশা বন্ধের দাবিতে কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার সময় এসব তথ্য সামনে আসে।

পুলিশ ও বিআরটিএ জানিয়েছে, এসব অবৈধ যান হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে সদররোড ও আমতলা থেকে জিলা স্কুল পর্যন্ত কিছু সীমিত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম কর্নকাঠি এলাকায় অবৈধ হলুদ অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক যুবক, যিনি পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাড়ি তৈরি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে নগরীকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশামুক্ত করতে বিসিসি, পুলিশ, প্রশাসন ও বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান অপরিহার্য। এতে চাঁদাবাজদের দমন এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, নগরীতে প্রতি রিকশা বাবদ ৫০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা আদায় হয়, যা মাসে ৩০ লাখ টাকা এবং বছরে তিন কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজরা পুলিশকেও ম্যানেজ করে চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




অপমান থেকে বাঁচতে হিন্দি শিখেছিলেন এ আর রহমান

ভারতের অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হিন্দি ভাষা শেখার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্মানহানি থেকে নিজেকে রক্ষা করা

তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পীর সুর ও কণ্ঠ বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। তার সুপারহিট চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘রোজা’, ‘রঙ্গিলা’ এবং ‘তাল’।

এ আর রহমান বলেন, “প্রতিটি ভাষার প্রতি আমার একটা আকর্ষণ রয়েছে। যখন ‘দিল সে’ এবং ‘রোজা’ সিনেমা ব্যবসায় সফল হয়, তখন অনেকেই তামিল গানের হিন্দিতে অনুবাদ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু করে। এ ধরনের সমালোচনা আমার কাছে অপমানজনক ছিল।”

তিনি আরও জানান, “অনেক সমালোচক তখন খারাপ মন্তব্য করতেন, কেউ বলতেন হিন্দি গানের কথাগুলো অর্থহীন, তামিল গান অনেক ভালো। কেউ বলেছিল, এই ধরণের কাজ আর কখনও করো না।”

এ প্রসঙ্গে এ আর রহমান বলেন, “সমস্যার কারণ ছিল, সেই সময়ে তিনটি ভাষায় তৈরি ছবিই বক্স অফিসে হিট হতো। দর্শক মূলত টাকাটাই দেখত। তখনই আমি ডাবিংয়ের পরিবর্তে সরাসরি হিন্দি ছবির দিকে মনোযোগ দিলাম। বলতে গেলে, অপমান থেকে বাঁচতেই আমি হিন্দি শিখেছিলাম।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে জামায়াতের মানববন্ধন: ভোটের সুরক্ষায় পি আর ছাড়া বিকল্প নেই

বরিশাল মহানগরের জামায়াতের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) নগরীর সদর রোডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পি আর (Proportional Representation) পদ্ধতির বিকল্প নেই বলে জোরালো দাবি জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মু. বাবর বলেন, “আমাদের দেশে ভোটের নিরাপত্তা নেই। দেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠিত না হয়ে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে অনেক শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পি আর পদ্ধতির বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোট জাতীয় নির্বাচনের টেস্ট ম্যাচ হতে পারে। যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি মেনে নিতে পারছে না, তারা বারবার যুক্তি দেখাচ্ছে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হলে ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা কমবে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট এবং ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হোক। যারা একই দিনে দুটো নির্বাচন করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।”

অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বাবর বলেন, “গণভোটে জুলাই সনদ পাস হয়ে গেলে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় ভোট চুরি বা কেন্দ্র দখল করা সম্ভব হবে না। একইসাথে ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা প্রতিহত হবে। তাই তারা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে।”

মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, তারিকুল ইসলাম, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, শামীম কবির, জাফর ইকবাল, মাহফুজুর রহমান আমিন, কাউনিয়া থানা আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




লড়েও জেতা হলো না, এশিয়ান কাপের স্বপ্ন প্রায় শেষ জামাল-হামজাদের

বাংলাদেশ ফুটবল দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের মাঠে হারের ব্যর্থতায় হতাশ। মঙ্গলবার কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছে। তবে এই সমতা বাংলাদেশ দলের জন্য তৃপ্তিদায়ক হয়নি।

ফিরতি লেগে ঢাকায় হংকংয়ের কাছে ৩-৪ গোলে হারের পর, এই ড্র বাংলাদেশকে বাছাইপর্বে টিকে থাকার সম্ভাবনা থেকে প্রায় দূরে ঠেলে দিয়েছে।

ম্যাচে শুরুতে রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। জায়ান আহমেদ, শমিত সোম ও তপু বর্মনকে নিয়ে সাজানো ডিফেন্স দৃঢ় ছিল। প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে হংকংয়ের ফের্নান্দো পেরেইরার পেনাল্টি গোলের ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হোস্টরা।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আক্রমণে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ৭৫তম মিনিটে হংকং ডিফেন্ডার অলিভার গারবিগ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়েন, সংখ্যা সংখ্যায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮৩তম মিনিটে ফয়সাল ফাহিমের ক্রসে ফাহামিদুল ইসলাম হেড পাস দেন রাকিব হোসেনের পায়ে, রাকিব নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফিরিয়ে আনেন — ১-১।

শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ কিছু সুযোগ পায়, কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হয়। এই ড্রয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে মাত্র ২। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং। হামজা চৌধুরা ও জামাল ভূঁইয়ারা আর্থিকভাবে বাছাইপর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই সীমিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় মানবেতর জীবনযাপন: বরাদ্দ আসেনি অনেকের হাতে

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য প্রতিজনকে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও অনেকের হাতে বরাদ্দ পৌঁছায়নি। ফলে পরিবারগুলো অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে দেখা যায়, চাচাতো দুই ভাই জয়নাল ও রাজ্জাক ঘরে বসে ছেঁড়া জাল ঠিক করছেন। তাদের অভিযোগ, “মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার ২২ দিন নদীতে নামায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু খাদ্য সহায়তা পাইনি। বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা আসেনি।”

স্থানীয় সূত্র বলছে, বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন মাছ শিকারে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কোনো উপার্জন না থাকা পরিবারগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এছাড়া ভারতীয় জেলেরা দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরছে, কিন্তু বাংলাদেশের জেলেরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডালসহ অন্যান্য সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পেও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মজুত কম থাকায় অন্তত ১ লাখ জেলে বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ ছাড়া অনিবন্ধিত আরও লাখো জেলে পুরোপুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ: বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের আশা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি সমস্যার সমাধানে এবার সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে যুক্ত হওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। এটি চালু হলে এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে, যা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোলা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ এবং অতিরিক্ত সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) কেএম আলী রেজার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দুটি প্রযুক্তিগত রুট বিবেচনা করা হয়। একটি হলো তজুমুদ্দিন উপজেলা থেকে চরকলাতলী হয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মনপুরায় সংযোগ স্থাপন, অপরটি চরফ্যাশন থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে সরাসরি সংযোগ।

অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ অন্ধকারে না থাকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মনপুরা উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। উপজেলা সদর হাজীরহাটসহ আশপাশের এলাকার ৯৬৬ গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন ৪ মেগাওয়াট। তবে স্থানীয় উৎপাদন মাত্র ৪২০ কিলোওয়াট, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। বর্তমানে তিনটি জেনারেটর রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিকল, বাকি দুটিও দীর্ঘদিনের পুরোনো ও সার্বক্ষণিক চলার অনুপযুক্ত।

মনপুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী কেএম ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা সদরে ৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম সোলার বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণাধীন। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে মনপুরাবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মনপুরাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মনপুরা সাগর মোহনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।




বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন, নতুন ঘর পাচ্ছেন করিম ফকির পরিবার

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে করিম ফকির দম্পতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবারটি নতুন ঘর পাবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ৫নং ওয়ার্ড নয়াকান্দা এলাকায় সরেজমিনে ওই ঝুপড়ি ঘরে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। তিনি পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।

করিম ফকির ও তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ শতক জমিতে খড় ও পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। তাদের সংসারে রয়েছে ছয় সন্তান। জেলাপেশায় কম আয়ের কারণে সংসার চলাচ্ছে খুব সীমিত অর্থে। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল ভিজে যায়, কাদা জমে যায়, আর শিশু ও অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি রাজিব আহসানকে অবগত করলে, তিনি তা তারেক রহমানের নজরে আনার ব্যবস্থা করেন। পরে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসানের সহযোগিতায় পরিবারটি এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন ঘর পাবে বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন আকন।

প্রতিবেশি রিয়াজ হোসেন জানান, অর্থের অভাবে পরিবারটি মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকে। চিকিৎসার সুযোগও কম। মানবেতর জীবন দেখে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসান ছুটে এসেছেন এবং নতুন ঘরের আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিল্পী বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

করিম ফকির বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। দিনে একবেলা খাই, কখনো না খেয়েও থাকতে হয়। নতুন ঘর পেয়ে আমরা আনন্দিত। তারেক রহমান ও রাজিব আহসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

রাজিব আহসান বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল অসহায় ও গরীব মানুষদের প্রতি নজর রাখছেন। মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। করিম ফকির পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়া সেই ধারাবাহিকতার অংশ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সংস্কারের অভাবে নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিরোজপুরের নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খেলাধুলার মাঠে চলছে গরু-ছাগলের চারণ, গ্যালারিতে ফাটল, ভবনে শেওলা আর ময়লার স্তূপ। ফলে নাজিরপুরের ক্রীড়াঙ্গন আজ ধুঁকছে অবহেলার ভারে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম একসময় নাজিরপুরের তরুণদের ক্রীড়াকেন্দ্র ছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে থাকা এ মিনি স্টেডিয়ামে ২০১২ সালের পর থেকে আর কোনো সংস্কার হয়নি। তখন একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবন, শৌচাগার ও কয়েকটি বসার বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর রোডের পাশে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি এখন চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। নেই কোনো নামফলক বা সাইনবোর্ড। মাঠজুড়ে উঁচু ঘাস, জায়গায় জায়গায় গর্ত আর জলাবদ্ধতা। ভবনের দেয়ালে ফাটল, ছাদে শেওলা, ভেতরে আবর্জনার স্তূপ। পথচারীরা ব্যবহার করছেন শৌচাগারটি।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী যুবক সাইদুর রহমান বলেন,
“এখানে আগে প্রতিদিন বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ নানা খেলা হতো। এখন মাঠে গরু ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। বৃষ্টিতে জল জমে খেলা বন্ধ থাকে মাসের পর মাস।”

খেলোয়াড়রা জানান, মাঠের ঘাস বড় হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, নেই নিরাপত্তাও।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়াম এলাকায় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। আনসার-ভিডিপি অফিসের পাশে ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়মিতই এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, নাজিরপুরে এটি একমাত্র স্টেডিয়াম। অথচ সংস্কারের অভাবে এর অস্তিত্ব আজ বিলীন হতে বসেছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি আবারও যুব সমাজের ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান,
“মিনি স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, শৌচাগার ও মাঠ সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণেরও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

নাজিরপুরবাসীর আশা— দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও খেলাধুলার হাসি ফিরবে এ স্টেডিয়ামে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মিরপুরে রূপনগরে ভয়াবহ আগুনে নিহত বেড়ে ১৬

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকার কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি কারখানায়—এর মধ্যে একটি হলো “কসমিক ফার্মা” নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউন। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১১টা ৫৬ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও সহায়তা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি বড় বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আশপাশের কয়েকটি ভবনও তাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, “এখনও ধ্বংসস্তূপে মরদেহ অনুসন্ধান চলছে। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছু সময় লাগবে।”

এদিকে, দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক কারখানায় আগুনের ঘটনা বাড়ছে, যা নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫