কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সিক্সলেন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আহত সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই মজিবর রহমান।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে আমতলীর বান্দ্রা থেকে কলাপাড়া আসার পথে যাত্রীবাহী বাস ‘রুদ্র তূর্য’ অটোরিকশাটিকে সিক্সলেন সড়কে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার আট যাত্রী আহত হন, এবং রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কলাপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




গলাচিপায় মেহেদী হত্যার বিচার চায় এলাকাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মেহেদী হাসান হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রবিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গলাচিপা থানা কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনগণ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দত্ত এবং নিহত মেহেদীর বাবা ইউনূস দুয়ারী। বক্তারা মোমেন হাওলাদার, মনির দুয়ারী, শাহাবুদ্দিন দুয়ারীসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে কঠোর শাস্তি চান।

এর আগে, ১৭ অক্টোবর আটখালী বাজারে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেহেদী হাসান ১০ অক্টোবর প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন এবং এক সপ্তাহ পরে, ১৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।




সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জি-সেভেন প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলন শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জি-সেভেন সম্মেলনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের ওপর চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আলোচনা শুরু করেছেন।

গ্রুপ অফ সেভেন-এর সাতটি দেশের মধ্যে পালাবদলে এখন ইতালি সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসে প্রতিরক্ষার জন্য নিবেদিত সংস্থার প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে। নেপলসে ন্যাটোর একটি ঘাঁটিও রয়েছে।

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেলসহ উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেইতো।

ক্রসেইতো সম্মেলনটি উদ্বোধন করার সময় বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আজকের উপস্থিতি… যারা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে তাদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার নৃশংস আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তব সঙ্কটময় পরিস্থিতি, একইসাথে সাব-সাহারান আফ্রিকার মধ্যে গভীর অস্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা একটি নেতিবাচক অদূর ভবিষ্যতের জন্য পূর্বাভাসসহ একটি অবনতিশীল নিরাপত্তা কাঠামো তুলে ধরে।’

ক্রসেইতো এক দিন আগে ব্রাসেলসে বলেছিলেন, ‘এক দিনের শীর্ষ সম্মেলনের সময় ক্রমবর্ধমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য যথেষ্ট জায়গা দেয়া হবে।’

এছাড়াও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে ইউক্রেনের যুদ্ধ, আফ্রিকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার লেবাননে ছিলেন। ইসরাইল লেবাননেও হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত।

মেলোনি বৈরুতে বক্তৃতা করার সময় লেবাননে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা করেন। জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী তাদের অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে।

লেবাননে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে ইতালির প্রায় এক হাজার সৈন্য রয়েছে। এই বাহিনীতে ৫০টিরও বেশি দেশের সৈন্য রয়েছে।

ইউক্রেনের বিষয়ে মন্ত্রীরা কিয়েভের যুদ্ধ তৃতীয় শীতে প্রবেশ করা, পূর্বদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা হ্রাসের সম্ভাবনার প্রতি আলোকপাত করবেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিজয়ী কৌশল তৈরি করার জন্য পাশ্চাত্যে মিত্রদের থেকে চাপের মুখে রয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাপোর কাছে একটি বিজয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

এর প্রধান বিষয় হলো অবিলম্বে ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার আহ্বান। কিন্তু জোটটির সদস্যরা তা অসম্ভাব্য বলে মনে করেন।

এ পরিকল্পনায় দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের অঞ্চলে একটি অনির্ধারিত ‘অপারমাণবিক কৌশলগত প্রতিরোধ প্যাকেজ’ দাবি করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য বিপুল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করছে- এমন প্রতিবেদনও আলোচনার অধীনে থাকবে।




পটুয়াখালীর ডাকাত বাহিনীর প্রধান জুয়েল গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল মালিকের বাসায় ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি ও বরিশাল বিভাগের ডাকাত বাহিনীর প্রধান মো. জুয়েল মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুয়েল মৃধা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল বরিশাল বিভাগের ডাকাত বাহিনীর প্রধান এবং এ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে মোট ২০টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, গত ৪ আগস্ট কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল মালিক মো. রনি মিয়ার বাসায় ডাকাতি করে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মহিপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন রনি মিয়া। তদন্তে জুয়েল মৃধাকে শনাক্ত করার পর আজ তাকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




ইরানে ইসরায়েলের হামলা পরিকল্পনার মার্কিন নথি ফাঁস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানে ইসরায়েল কী ধরনের হামলা চালাতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি নথি ফাঁস হয়েছে। এতে অস্বস্তিতে পড়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল নথিটি ফাঁস করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, নথি ফাঁসের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।

গত শুক্রবার থেকে ‘মিডল ইস্ট স্টেকটেটর’ নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নথিগুলো প্রকাশ হতে শুরু করে। নথিগুলোতে টপ সিক্রেট চিহ্ন দেওয়া রয়েছে। চিহ্নগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার পাঁচ মিত্র দেশ— অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যই দেখে পারবে।

ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েল কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, সেই তথ্যও রয়েছে ওই নথিতে।

অপর এক নথিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলা পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করেছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি। সেখানে আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর মহড়ার কথা বলা হয়েছে। ইরানে কীভাবে বিমান হামলা চালানো হবে, তা নিয়েই মূলত মহড়া হয়।

কীভাবে নথিগুলো ফাঁস হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান একজন মার্কিন কর্মকর্তা।

ইসরায়েলি হামলা পরিকল্পনার নথিগুলো এমন এক সময়ে ফাঁস হলো যখন ইসরায়েল বলছে, তারা ১ অক্টোবরের ইরানের হামলার জবাব দেবে।




ষোড়শ সংশোধনী : রিভিউ আবেদনের শুনানি চলছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ১৫ আগস্ট বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতে বলেন, অনেকদিন ধরে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে। শুনানি হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে বেশ কয়েকবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন কার্যতালিকায় আসলেও শুনানি হয়নি।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ ৬ জন বিচারপতি শুনতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদনে ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে ৯৪টি যুক্তি দেখিয়ে আপিল বিভাগের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। ৮ মে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ১১ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন।

অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

২০১৬ সালের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।

রায়ে আরও বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সাংসদরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে আরও বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে; এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন।




নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রুত সার্চ কমিটি করা হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন গঠন করতে দ্রুত সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম।

তিনি বলেন, এই কমিটি ঠিক করবে কারা নির্বাচন কমিশনার হবেন। কমিশনাররা এসে নির্বাচনের পরবর্তী কাজ শুরু করবেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সবকিছু গঠিত হবে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

অংশীজনদের সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ সংলাপে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এ বিষয়ে মাহফুজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দলগুলোর নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের গণহত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণহত্যার উসকানিদাতা ও বর্তমান দ্রব্যমূল্য বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও শরিক দল নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, আওয়ামী লীগের তিনটি অবৈধ পার্লামেন্ট নিয়ে আজকের বৈঠকে কথা হয়েছে। এটা বাতিলের বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি নীরব সমর্থন দিয়েছে এবং ভোটে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গার্মেন্টসের সমস্যা স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে মাহফুজ বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।

ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে শনিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ করেন। এ দফায় গণফোরাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম মোর্চা, লেবার পার্টি ও জাতীয় পার্টি-বিজেপিকে (পার্থ) সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

গত ৫ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, হেফাজতে ইসলাম, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে গত ৫ আগস্ট। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সরকার এরই মধ্যে দুই দফা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে।




হামাসের পরবর্তী প্রধান সিনওয়ারের ভাই নাকি খালেদ মেশাল?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস সম্ভবত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থানে তাদের শীর্ষ নেতা হিসেবে গাজার বাইরে থেকে নতুন একজন রাজনৈতিক নেতাকে নির্বাচিত করবে। তবে সদ্য নিহত সিনওয়ারের ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় আরও বড় ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

নতুন নেতা নির্বাচনের আলোচনায় হামাসকে অবশ্য তার প্রধান সমর্থক ইরানের পছন্দগুলোর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র কাতারের স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে। গোষ্ঠীটির পলিটব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রধান প্রার্থীদের সবাই বর্তমানে কাতারে বসবাস করছেন।

হামাসের একটি সূত্র ও বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার বাইর থেকে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করতে পারে হামাস। তাছাড়া বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে সিনওয়ারের ডেপুটি খলিল আল-হাইয়াকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুক্রবার তিনি বলেন, ইসরায়েলি সৈন্যদের গাজা থেকে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না ও জিম্মিদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

এদিকে হামাসের প্রভাবশালী নেতাদের একজন খালেদ মেশাল। তিনি সংগঠনের রাজনৈতিক শাখার সাবেক প্রধান। সিনওয়ার হত্যাকাণ্ডের পর হামাসের হাল তিনিও ধরতে পারেন। আবার শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের স্বল্প পরিচিত নেতা মোহাম্মদ দারবিশও বিবেচনায় আছেন।




কালকেই যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারি যদি…!’ হামাস প্রধানের মৃত্যুর পর কী বার্তা দিলেন নেতানিয়াহু?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কালই তিনি যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু কয়েকটি শর্তও রাখলেন, সঙ্গে দিয়ে রাখলেন প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও। ইজ়রায়েলি হামলায় হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরই গাজ়াবাসীর উদ্দেশে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বার্তা দিলেন, গাজ়ায় যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। শেষের শুরু হয়েছে।

গাজ়াবাসীর উদ্দেশে নেতানিয়াহুর বার্তা, ‘‘ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের সেনার হামলায় রাফায় নিহত হয়েছেন সিনওয়ার। যদিও যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। শেষের শুরু হয়েছে সবে। গাজ়াবাসীদের বলতে চাই, এই যুদ্ধ কালই শেষ হতে পারে যদি হামাস অস্ত্র পরিহার করে এবং পণবন্দিদের আমাদের হাতে তুলে দেয়।’’




নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পটুয়াখালীতে অর্ধশত জেলে কারাগারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় অর্ধশত জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে লেবুখালী এলাকার নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার মিটার জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করে। অভিযানের পর জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জামান উর্মি, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত পটুয়াখালীতে সাড়ে তিন লাখ মিটার জাল ও এক হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে এবং ৫০ জন জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।