ভোলায় জালে উঠলো তিন শিশুর নিথর দেহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধনু হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুরা হলো- বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের হাকিম উদ্দিন বাজার এলাকার প্রবাসী মো. হোসেনের দুই মেয়ে মিম আক্তার (১২) ও মারজিয়া বেগম (৯) এবং তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধনু হাওলাদার বাড়ির প্রবাসী মো. মোরশেদের মেয়ে রাফিয়া আক্তার ১০। তারা সম্পর্কে খালা-ভাগ্নি।

স্বজনরা জানান, কয়েকদিন আগে বোরহানউদ্দিন থেকে মিম ও মারজিয়া মায়ের সঙ্গে সোনাপুরে তাদের নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার দুপুরে একসঙ্গে মিম, মারজিয়া এবং রাফিয়া পুকুরে গোসল করতে যায়। তবে দীর্ঘক্ষণ হলেও ঘরে না ফেরায় তাদের খুঁজতে শুরু করেন স্বজনরা। এরপর স্বজনরা পুকুরের ঘাটলায় ওই তিন শিশুর জামা-কাপড় দেখতে পান। তখন সন্দেহের বশে স্বজনরা পুকুরে জাল ফেলেন। ওই জালেই একে একে তিন শিশুরই মরদেহ ওঠে আসে।

একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ স্বজনসহ এলাকাবাসী। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া বইছে।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার ওসি (তদন্ত) শংকর তালুকদার বলেন, পানিতে ডুবে একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক। খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় ওই শিশুদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।




নাটকীয়তা শেষে রদ্রিই জিতলেন ব্যালন ডি’অর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের উন্মাদনায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়লো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যালন না পাওয়ার গুঞ্জন এবং পুরো রিয়াল মাদ্রিদ দলের প্যারিসের এই অনুষ্ঠান বয়কট নিয়ে নাটকীয়তা চলছিল সন্ধ্যা থেকে। স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজের হাতেই ব্যালন ডি’অর ওঠার মাধ্যমে যার ইতি ঘটেছে। তাকে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই গোল্ডেন বল তুলে দিয়েছেন ১৯৯৫ ব্যালনজয়ী ফরোয়ার্ড জর্জ উইয়াহ।




দুই দি‌নের সফ‌রে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোমবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রা‌তে ঢাকায় পৌঁছা‌লে টুর্ককে বিমানবন্দ‌রে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের জা‌তিসংঘ অনু‌বিভা‌গের মহাপ‌রিচালক ও মুখপাত্র তৌ‌ফিক হাসান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জা‌নি‌য়ে‌ছেন, ফলকার টুর্কের দুই দি‌নের ঢাকা সফ‌রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬ থেকে ৭ জন উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, সেনাবাহিনী প্রধান, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে নির্বাচন, মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা ইস্যু অগ্রাধিকার পা‌বে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পট পরিবর্তনের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের এই সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন ইস্যু গুরুত্ব পাবে। মানবাধিকার ইস্যুর মধ্যে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত রয়েছে। নিরাপত্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারে জাতিসংঘের কাছে সহযোগিতা চায় অন্তর্বর্তী সরকার। জাতিসংঘও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু কোন ফরমেটে কীভাবে সহযোগিতা হতে পারে, তা টুর্কের ঢাকা সফরের আলোচনার টেবিলে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

কূট‌নৈ‌তিক সূত্র আরও জানায়, মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন ইস্যুতে ঢাকা জাতিসংঘের কাছে নগদ সহায়তা চায়। সেক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা চায় যে এই নগদ সহায়তা কোন কোন খাতে এবং কীভাবে খরচ করা হবে, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা। শুধু তাই নয়, সেই সুপারিশমালা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের ঐকমত্য থাকতে হবে।

ঢাকার এক কূটনীতিক ব‌লেন, টুর্কের এই সফরে অনেক বিষয়ে আলাপ হবে, তবে সফর শেষে আলো‌চিত বিষ‌য়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলা নিয়েও তুর্কের সফরে আলোচনা হতে পা‌রে।

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলার বিষয়‌টি জ‌টিল প্রক্রিয়া জা‌নি‌য়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব‌লেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলার বিষ‌য়ে প্রস্তাব রয়েছে। টুর্কের সফরে তারা এটি আলোচনায় তুলবেন। কিন্তু বাস্তবতা এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি আদৌ ঢাকায় স্থাপন করা সম্ভব হ‌বে কিনা— ‌সেটাই বড় প্রশ্ন। দ‌ক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দে‌শে অফিস খোলার চেষ্টা ক‌রে‌ছে, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়‌নি।

‌সোমবার ঢাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার টুর্ক ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই সফরে তিনি অন্যদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন।

সফরকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, সেনাপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রধানদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।

টুর্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বাংলাদেশে কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ‌্য বল‌ছে, আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে দেওয়া হবে। টুর্কের সফ‌রে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি নি‌য়ে সংশ্লিষ্টদের স‌ঙ্গে আলাপ-আলোচনা হ‌বে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সা‌বেক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট ২০২২ সা‌লে বাংলা‌দেশ সফর ক‌রে‌ছি‌লেন।




শিল্প কারখানার গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করার কথা ভাবছে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাকা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিল্প কারখানায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু করবে বলে ভাবছে সরকার।

তবে নতুন করে গৃহস্থালির গ্যাস সংযোগের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কাছে প্রায় ৪৬ হাজার গৃহস্থালির গ্যাস সংযোগের আবেদন ঝুলে রয়েছে।

শিল্পভিত্তিক গ্রাহক ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সংযোগের আবেদনের সংখ্যা ৩৬৮টি।

২০১০ সালে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য নতুন গ্যাস সংযোগের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল সরকার। এরপর এটি ২০১৩ সালে অল্প সময়ের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং ২০১৪ সালের প্রথম দিকে আবার স্থগিত করা হয়।

এরপর থেকে গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্রাহকদের নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প পার্কের বাইরের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ করতে ২০২০ সালে একটি পরিপত্র জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

নতুন সংযোগের বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, তার প্রতিষ্ঠান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা ভাবছে।

সম্প্রতি জ্বালানি বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে আমাদের ইতিবাচক মতামত জানিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

জনেন্দ্রনাথ বলেন, অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সব সময় অগ্রাধিকার পায়।




রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে সম্পর্কের ফাটল ধরলো বিএনপির?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত আড়াই মাসে নতুন সরকার গঠন কিংবা বিভিন্ন ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে বিএনপির ঐকমত্য থাকলেও এই প্রথম রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে বিভেদ দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির সাথে এ নিয়ে বৈঠক করেও এখনও পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

তাহলে কি সরকার পতনের আড়াই মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ বিরোধীদের মধ্যে ঐক্যে ফাটল ধরলো সেই প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

জবাবে বিএনপি বলছেন, সাংবিধানিক সংকট তৈরির হতে পারে এমন আশঙ্কার জায়গা থেকেই এই পথে হাঁটতে চাচ্ছে না তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটাকে দূরত্ব বা ফাটল বলা যাবে না। তারা রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে আমাদের সাথে আলোচনা করেছে। আমরা তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে এভাবে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।”

এই প্রশ্নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করছে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যুতে বিএনপি যে সংকটের কথা ভাবছে সেটি রাজনৈতিক। যেটি আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বিবিসি বাংলাকে বলেন, “হয়তো বিএনপি ভাবছে এখন রাষ্ট্রপতি অপসারণ হলে আগামী নির্বাচন আয়োজন বিলম্বিত হতে পারে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করবো যেনো প্রয়োজনের তুলনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একদিনও বেশি না থাকে।”

গত কয়েকদিনে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে এই ইস্যুতে আলোচনা করছে ছাত্রদের পৃথক দুটি প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির এই মুহূর্তে কোনো ক্ষমতা নেই। তাই তাকে অপসারণ বা তিনি পদে থাকলে খুব বেশি সংকটও তৈরি হবারও কথা না।




দুমকিতে ভোক্তা অধিকার অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পীরতলা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ সোয়াইব মিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মুদি, সবজি ও ঔষধের দোকান সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতাদের মনিটরিং করা হয়। এ সময় দেখা যায়, সবজি বিক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফায় সবজি বিক্রি করছিলেন এবং মূল্য তালিকা থেকে অধিক মূল্যে সবজি বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগেও ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ অভিযান চলাকালীন স্থানীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ীদেরকে ভোক্তা অধিকারের বিভিন্ন আইনসহ অন্যান্য বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবসায়ীদেরকে সীমিত লাভে পণ্য বিক্রয় করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ সোয়াইব মিয়া বলেন, “বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




১৬ বছর পর পটুয়াখালীতে জামাতের প্রকাশ্যে বিশাল মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ‘লগি-বৈঠা’ দ্বারা মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত সেই নৃশংস ঘটনার স্মরণে আজ (২৮ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পটুয়াখালী পৌর শাখার জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আবুল বাসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. শাহ আলম। সমাবেশে জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “লগি-বৈঠার ঘটনা ছিল জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই ঘটনা শুধুমাত্র হত্যাকাণ্ড নয়, বরং একটি পুরো জাতির উপর নৃশংস অত্যাচার।” তারা আরও বলেন, “আমরা আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এই নির্মম ঘটনার বিচার করতে হবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

সমাবেশের পর বিকাল ৪:৩০ টায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটুয়াখালী নিউ মার্কেটে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা “নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি”, “মানুষ হত্যার বিচার চাই” স্লোগান তুলেন।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলা শাখা একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে। বক্তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের কর্মসূচি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং ন্যায়বিচারের পথে আরও অগ্রগতি সাধন করবে। জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, “আমরা যেন সকলের অধিকার রক্ষায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকি।”




আওয়ামী লীগ মূলত একটি সন্ত্রাসী দল : মাসুদ সাঈদী

বরিশাল অফিস :: দেশ ও গণতন্ত্রকে বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।

তিনি বলেন, হত্যা, গুম, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাস কায়েম করে এ দেশের মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল হাসিনা। জামায়াতে ইসলামী বিগত ১৫টি বছর ধরে সব জুলুম-নির্যাতন সয়ে এ দেশের মানুষকে সচেতন করেছে। দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

মাসুদ সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ মূলত একটি সন্ত্রাসী দল। দলটির জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাস ছাড়া কোনো দিন টিকে থাকতে পারেনি। আন্দোলনের নামে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে তারা গান পাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছিল। এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা দিয়ে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। হত্যার পর মৃত মানুষের উপর এই পাপিষ্ঠরা নৃত্য করেছে। ২০১০ সালে তারা পিলখানায় দেশের ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত ট্রাইব্যুনালে কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দেওয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনতা ফুঁসে উঠলে বিক্ষোভরত জনতার বুকে গুলি চালিয়ে তিন শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে গভীর রাতে সহস্রাধিক নিরীহ আলেমকে গুলি করে হত্যা করেছে। ২০১৮ সালেও তারা কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে গুলি করে ছাত্র হত্যা করেছে। সবশেষ আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে দুই হাজারের অধিক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে।




বরগুনায় ১৮ বছর পর পাথরঘাটায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

বরিশাল অফিস :: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে ১৮ বছর পর বরগুনার পাথরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াত।

সোমবার বিকালে পাথরঘাটার শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, এ বাংলায় হবে না’ ‘আল কুরআনের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো’ ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ এ ধরনের স্লোগানে মুখরিত করে উপজেলার কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে একটি মিছিল বের হয় এবং শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে এসে শেষ হয়।

উপজেলা আমীর মো. শামীম আহসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বরগুনা জেলা নায়েবে আমির মাও. আবু জাফর মোহাম্মাদ সালেহ, পাথরঘাটা উপজেলা আমীর মো. শামীম আহসান, পৌর আমীর হাফেজ মাও. মাসুদুল আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাথরঘাটা পৌর সভাপতি হাফেজ রাকিব হাসান ও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মাহবুবুর রহমান খান প্রমুখ।




মেঘনায় অভিযান চলাকালে ট্রলার থেকে পড়ে জেলের মৃত্যু

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশ নিধনকালে অভিযান চালাতে গিয়ে নয়ন ব্যাপারী (৬০) নামে এক জেলে মৃত্যুবরণ করেছেন।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হিজলা থানার ওসি আবুল কালাম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নয়ন ব্যাপারী ও তার ছেলে ফরিদ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ ধরছিলেন। হঠাৎ স্পিডবোটের শব্দ শুনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসছে ভেবে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন তারা। পালানোর সময় নয়ন ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে যান এবং ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তার ছেলে ফরিদ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নয়নকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নয়নের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মা ইলিশ রক্ষার্থে ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে জেলেদের সহায়তার জন্য ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করেছে মৎস্য বিভাগ।