দশমিনায় নৌকা বাইচ, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতায় গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের কাটাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের দীঘিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় স্থানীয় গ্রামবাসী, যুব সমাজ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

আয়োজনে সকাল থেকেই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীঘির পানিতে শুরু হয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ও হাঁস ধরার মজার আয়োজন, আর দুপুর গড়িয়ে বিকেল নাগাদ শুরু হয় উত্তেজনাপূর্ণ নৌকা বাইচ। নদীজীবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই প্রতিযোগিতাকে গ্রামবাসী আনন্দ উৎসবে পরিণত করে।

একইদিন বিকালে অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় লাঠিখেলা, যা স্থানীয় দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা আজাহার সিকদার এবং সঞ্চালনা করেন সরকারি আব্দুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল বশার।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জিয়া তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল, দপ্তর সম্পাদক রাজিব মিয়া, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম খান ও মো. আমিনুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বলেন, “এমন আয়োজন আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজকের জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশের সূচনা: প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ”জুলাই জাতীয় সনদ ” স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিন আমাদের জন্য এক নবজন্ম। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।” তিনি একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান যারা সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন।

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও যোগ দেন এবং সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষর থেকে সরে আসে। তারা জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।




রাঙ্গাবালীতে গাছ থেকে পড়ে কাঠুরের মৃত্যু

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় গাছ থেকে পড়ে এক কাঠুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম জুলহাস ফরাজী (৩৭)। তিনি একই গ্রামের মৃত নুরু ফরাজীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে জুলহাস ফরাজী চুক্তিভিত্তিকভাবে স্থানীয় এক বাড়ি থেকে একটি বড় চাম্বুল গাছ কিনেছিলেন। সকালে গাছটির ডালপালা ছাঁটতে তিনি গাছে ওঠেন। কাজ করার একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুলহাস ফরাজীকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জুলহাস ফরাজী পরিশ্রমী একজন মানুষ ছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। হঠাৎ এ দুর্ঘটনায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতেন জুলহাস, কিন্তু এমন মৃত্যু কেউ ভাবেনি।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে শিক্ষক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চাঞ্চল্য!

পটুয়াখালীর বাউফলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন এবং দাবি আদায়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম. ফিরোজের সুপারিশে ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ‘অফিস সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ পান নিয়াজ মোর্শেদ। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, নিয়াজ মোর্শেদ তার দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলোতে হস্তক্ষেপ করে আসছেন। বর্তমান শিক্ষক আন্দোলনেও তিনি সুযোগ খুঁজে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

একজন আন্দোলনকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন আমাদের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি যার অতীত বিতর্কিত। এতে আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

আরেক শিক্ষক জানান, “নিয়াজ মোর্শেদ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে নেমেছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনকে তিনি নিজের প্রচারের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন।”

এ বিষয়ে বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজিরুল হক বলেন, “নিয়াজ মোর্শেদ যখন বক্তব্য দিয়েছেন, তখন আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। বিষয়টি জানার পর আমি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাউফলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শিক্ষক আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তির নেতৃত্ব আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে কলেজের ৪ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি, খণ্ডকালীন শিক্ষকেই চলছে পাঠদান

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিকের মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন চারজন। তাদের মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এ বছর গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.৯৫ শতাংশ কম।

ফলাফলের তালিকায় পটুয়াখালীর এই কলেজের নাম উঠে আসে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এস. এম. আবু তালেব বলেন, “আমরা নতুনভাবে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেছি। শিক্ষক সংকটের কারণে কেবল একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। তাই এমন ফল হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করা গেলে পরিস্থিতি বদলাবে। আমরা চেষ্টা করছি ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য।”

উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৫টি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় হোটেল রুমে পর্যটকদের গোপন ভিডিও ধারণ, এক যুবকের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক হোটেলের রুমে গোপনে পর্যটক দম্পতিদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মো. হালিম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হালিম বরগুনার ফুলবুনিয়া এলাকার মৃত কামাল মূর্ধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটায় ‘হোটেল কেয়ার’ নামে একটি টিনশেডের চার কক্ষবিশিষ্ট হোটেল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে। জানা যায়, রাত ৪টার দিকে অভিযুক্ত হালিম একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে দু’টি কাপল রুমকে টার্গেট করে কৌশলে রুমে ঢুকে নারী-পুরুষ পর্যটকদের ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করারও চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারী হোটেল মালিক মো. শাকিল বলেন, “রাতে দু’টি রুম ভাড়া দিয়ে আমি বিশ্রামে যাই। পরে জানতে পারি হালিম গভীর রাতে স্টাফদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পর্যটকদের রুমে ঢুকে ভিডিও ধারণ করেছে। সকালে বিষয়টি জেনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাই।”

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হালিমকে আটক করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “পর্যটকদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। অভিযুক্তের মোবাইলে ভিডিও পাওয়া যাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য এটি একটি কঠোর বার্তা—এমন দুঃসাহস আর কেউ দেখালে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয়রা বলছেন, কুয়াকাটায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জলবায়ু ঋণ বাতিলের দাবিতে বরগুনার সমুদ্র সৈকতে পদযাত্রা

জলবায়ু ঋণ বাতিল ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পদযাত্রা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন *‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’*সহ বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যম সংগঠন।

সকাল ১০টায় বরগুনা শহরের মিজান টাওয়ার চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর মার্কেট চত্বরে শেষ হয়। বিকেলে তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয় সৈকত পদযাত্রা।

এতে অংশ নেয় ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, পিপিলিকা পাঠশালা, নিদ্রা পর্যটন উদ্যোক্তা কমিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণ সমাজকর্মীরা।

পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ধরার সদস্য মোস্তাক আহমেদ ও মনোয়ার হোসেন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার স্বপন, বিএমএসএফ বরগুনা শাখার সহ-সভাপতি বেলাল মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান তাপস, ধরার জেলা শাখার সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম রাজনসহ আরও অনেকে।

আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো—জলবায়ু ঋণ বাতিল, ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি তোলা এবং টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ, অথচ বৈশ্বিকভাবে দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ না পেয়ে উল্টো ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ২১ জেলের কারাদণ্ড

সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ আহরণ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২১ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত ১৫ অক্টোবর রাত থেকে ১৬ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুঁলিয়া নদীতে পরিচালিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশের যৌথ দল।

অভিযান চলাকালে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ মাছ ধরার অভিযোগে নয়জন জেলেকে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত ২০২৫) অনুযায়ী ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ্জামান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মতলব মাঝি (২৮), রুহুল আমিন (৩৬), রাসেল (২০), আসাদুল হক (২৫), কামাল হাং (৪৫), বিল্লাল হাং (২৬), রফিক মিয়াজী (৩৮), আরিফ বিশ্বাস (২৫) ও সায়েম মৃধা (২৭)।

এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে আরও ১২ জন জেলেকে পৃথকভাবে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত ৩০ কেজি ইলিশ বিধি মোতাবেক বিতরণ করা হয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান উজ্জামান বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী ও প্রজনন মৌসুমে কোনোভাবেই অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না।”

অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌ কন্টিনজেন্ট বোরহানউদ্দিন এবং থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫