বরিশালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৩৭

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বরগুনা জেলায়, যেখানে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিভাগজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১৬ হাজার ৩৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৮৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫৯ জন রোগী।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে আরও ১০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরগুনায়—৮ হাজার ৩৪৬ জন। বরিশাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ২২৪ জন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৭৭৭ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ২০৭ জন, পটুয়াখালী জেলায় ১ হাজার ৭৩২ জন, ভোলায় ৫০৩ জন, পিরোজপুরে ১ হাজার ৮৪ জন এবং ঝালকাঠিতে ৪৭৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভাগের মোট ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন, বরগুনায় ১৪ জন এবং পটুয়াখালীতে ১ জন মারা গেছেন।

নতুন আক্রান্ত ১০৭ জনের মধ্যে সর্বাধিক ৩৮ জন রোগী বরগুনায় শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন, শেবাচিম হাসপাতালে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ১৮ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ১১ জন, ভোলায় ৫ জন, পিরোজপুরে ১৬ জন এবং ঝালকাঠিতে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি জেলায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




একজনের পরিচয় মেলেনি ১৫ মাসেও; বরিশালের দুই হত্যা রহস্য অবঘটিত

শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া দুইটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও উদ্ঘাটন হয়নি। মামুন রাঢ়ীর হত্যা ও আরেক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ-ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপরতা বজায় রাখলেও, নিস্পত্তি আনতে পারেনি।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট রাতে—গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দর থেকে ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হন বামরাইল ইউনিয়নের উত্তর মোড়াকাঠীর আব্দুস সালাম রাঢ়ীর ছেলে মামুন রাঢ়ী। সাত দিন পর (২৬ আগস্ট) মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী খালে তার গলাকাটা, ক্ষতবিক্ষত লাশ ভেসে ওঠে। নিহতের বাবা ওইদিনেই গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্লু না পেতে মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়; পরে মামলা তদন্তের নির্দেশ পেয়েছে জেলা সিআইডি।

পরবর্তী কয়েকদফা সিআইডি অভিযান, ঘটনাস্থল ও নিহতের গ্রাম পরিদর্শন, সন্দেহভাজনদের কথা-ক করা সত্ত্বেও আজও মামুনের ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা যায়নি এবং হত্যার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহত মামুনের বড় ভাই সোহেল রানা ও পরিবার চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; মা রাশিদা বেগম বারবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

অপরদিকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকালে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবক। তার গায়ে নেভি ব্লু টি-শার্ট ও জলপাই রঙের গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ছিল। মৃতদেহের গায়ে মাথায় আঘাতের চিহ্ন, শরীরে ফোস্কা ও পচন দেখা গেছে; বিশেষ করে দুই পায়ের হাঁটুর নিচে গোড়ালির ওপর মাংসপেশি বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেছে—মেডিক্যাল রিপোর্টে হত্যার নীরস প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ আছে। ঘটনার পর মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

মেডিক্যাল ও তদন্ত নথি অনুযায়ী ওই অজ্ঞাতনামা লাশটি ২০২৪ সালের ১৭ থেকে ২০ জুলাই মধ্যবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছে—পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় টিঁকে আছে তদন্তের বড় বাধা; প্রকাশিত সময় থেকে প্রায় ১৫ মাস পার হতে চললেও ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি, যার কারণে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এখনো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও নিহত পরিবার দুটি ঘটনার যথাযথ, দ্রুত ও পারদর্শী তদন্ত দাবি করে বলেছেন—নির্বাহিত তদন্তে কারণভিত্তিক গবেষণা ও গোয়েন্দা তৎপরতা না বাড়ালেই ভুলু হয়ে যাবে সুবিচারের দাবি। তারা আশা করেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অভিযোগকারীদের আশা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে এ জাতীয় গোমরার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যু

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নিহতের নাম অভিনাশ চন্দ্র দাস (২৮)। তিনি সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের ঢেউখালি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অভিনাশ কিছু অর্থ ও স্বর্ণালংকার শ্বশুরবাড়িতে জমা রাখেন। সোমবার বিকেলে স্ত্রী মনিকা দাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সেই অর্থ ও গহনা ফেরত চান। এ সময় শ্বশুর শান্তি দাস (৫৫), শ্যালক হৃদয় দাস এবং স্ত্রী মনিকা দাসের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শ্বশুর শান্তি দাস কোদাল দিয়ে অভিনাশের মাথায় আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শান্তি দাস, হৃদয় দাস ও মনিকা দাস বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


 




পটুয়াখালী দুমকিতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা রাজনীতিতে সরব!

পটুয়াখালীর দুমকিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টির সমাবেশকে স্বাগত জানাতে লেবুখালী পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় আয়োজিত মিছিলে বহিষ্কৃত ছাএ নেতা চাকলাদার গোলাম সরোয়ার কে অংশ নিতে দেখা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন রিপন শরীফ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জিএম ওলিউর রহমান এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কার করা হয়। তাঁদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৫ আগস্টের পর দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিএম ওলিউর রহমান সম্প্রতি বিএনপির সদস্য পদ নবায়ন করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, যা নিয়ে দলীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বিষয়টিকে ‘বহিষ্কার থেকে প্রমোশন’ বলেও ট্রল করছেন।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া গোলাম সরোয়ারকেও লেবুখালীর মিছিলে অগ্রভাগে দেখা গেছে, যেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান নেতৃত্ব দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা বলেন, মিছিলে কে আসলো তা দেখা সম্ভব নয়। তবে বহিষ্কৃতদের বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলবো।

উপজেলা সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, বহিষ্কৃতদের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ সদস্য নবায়ন করে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংসু সরকার কুট্টি বলেন, একজন কেন্দ্রীয় নেতার আশ্রয়ে বহিস্কৃতদের নিয়ে কিছু কিছু অনিয়ম হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, এতবড় দল, সাংগঠনিক কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হচ্ছে, আমরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছি। বিষয়টি কঠর ভাবে দেখা হবে।
#######

মো: আল-আমিন, ডেক্স রিপোর্ট।



দুমকির আজিজ আহমেদ কলেজের তিন শিক্ষককে মাউশির কারণ দর্শানোর চিঠি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আজিজ আহমেদ কলেজের তিন শিক্ষক একসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), ঢাকা।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন—জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সিদ্দিকুর রহমান (ইনডেক্স-৩০৭৯৭১২), বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহিনা আক্তার (ইনডেক্স-৩০৭৯৭১৬) এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. মোশারেফ হোসেন (ইনডেক্স-৩০৮৬৮৪৪)

জানা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মাউশির পক্ষ থেকে ১৯ মার্চ সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিনের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে মাউশি বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. ওমর ফারুককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিন তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

এরপর ৭ অক্টোবর মাউশির সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন আজিজ আহমেদ কলেজের তিন শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হবে।

তদন্তে উঠে এসেছে, জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সিদ্দিকুর রহমান ২০০৪ সালে উত্তর মুরাদিয়া বশিরিয়া আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হন এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখান থেকে বেতনভাতা উত্তোলন করেন। একই বছর তিনি আজিজ আহমেদ কলেজেও শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
একইভাবে শাহিনা আক্তার ২০০৫ সালে আজিজ আহমেদ কলেজে যোগ দিলেও ২০১০ সাল পর্যন্ত কারখানা আলিম মাদ্রাসা থেকে বেতনভাতা নেন।
অন্যদিকে, মো. মোশারেফ হোসেন সালামপুর আমিনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় চাকরি করেও ২০০৪ সালে আজিজ আহমেদ কলেজে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়েও উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “দুই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নেওয়া অপরাধ কিনা তা আইনি ব্যাখ্যা দিয়েই বোঝা যাবে।”
তবে শাহিনা আক্তার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোশারেফ হোসেন বলেন, “আমি ১৯৯৫ সালের বিধান অনুযায়ী নিয়োগ নিয়েছি এবং কারণ দর্শানোর চিঠির জবাব ইতোমধ্যে দিয়েছি।”

আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক বলেন, “মাউশির চিঠি আমরা পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে নিখোঁজের একদিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর নাহিদ মৃধা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর পাকডাল গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখতে পান তারা। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে খবর দেন।

নিহত নাহিদ মৃধা উত্তর পাকডাল এলাকার নিজাম মৃধা ও সালমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। সে স্থানীয় উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নাহিদ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে পরদিন দুপুরে বিদ্যালয়ের পাশের ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, শিশুটি খেলার সময় দুর্ঘটনাবশত ডোবার পানিতে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় ৪০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ, ১৫ কেজি মা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

পটুয়াখালীর দশমিনায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদী থেকে ৪০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট ও সুতার জাল জব্দ করেছে মৎস্য দপ্তর, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ টিম। এসময় উদ্ধার করা ১৫ কেজি মা ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দ করা জালগুলো পরে হাজিরহাট এলাকায় নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীর বিভিন্ন স্থানে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। তবে কোনো জেলেকে আটক করা হয়নি।

নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস বলেন, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কেউ যেন নদীতে মাছ ধরতে না পারে, এজন্য প্রতিদিনই অভিযান চলছে। শনিবারের অভিযানে ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।”

দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, “মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে। কারেন্ট জাল ব্যবহার ও অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয়ে সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময় মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় গাঁজা পরিবহনে যুবকের কারাদণ্ড

কলাপাড়া উপজেলার হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় গাঁজা পরিবহনের দায়ে গাজী সায়েম মেহেদী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় সন্দেহজনক এক ব্যক্তিকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এরপর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারায় গাজী সায়েম মেহেদীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, “মাদক সমাজের জন্য ভয়ংকর এক অভিশাপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কিছুদিন ধরে মাদকের লেনদেন বেড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবিতে একতরফা ‘মতবিনিময় সভা’ ঘিরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজের সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘মতবিনিময় সভা’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—সভায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকলেও কাউকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিকেল ৩টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে, বিকেল ৪টায়। সভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের মতামত শোনার কথা থাকলেও তা বাস্তবে ঘটেনি। বক্তব্য দেন কেবল ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্য।

অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শিবলী আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে মতবিনিময়ের নামে একতরফা অনুষ্ঠান করা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। এর নাম হওয়া উচিত ছিল ‘একতরফা আলোচনা সভা’।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের নীরব রাখা হয়। তারা বলেন, সভা চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী কথা বলতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান আগ্রহ দেখালেও প্রশাসন সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করে দেন এবং চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিলনায়তন ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদকর্মীরা ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উপাচার্য নানা অজুহাতে সাংবাদিকদের বাধা দেন। ফলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়েই তাদের হল ত্যাগ করতে হয়।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় পবিপ্রবিতে পৌঁছান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নবনির্মিত জিমনেশিয়াম পরিদর্শন করেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপরই অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত ‘মতবিনিময় সভা’, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে এক ‘একতরফা আলোচনা সভা’-তে পরিণত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা ইউএইচএফপিও অপসারণের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মেজবাহ উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডা. মেজবাহ উদ্দিন অবৈধ প্রক্রিয়ায় ইউএইচএফপিও পদে যোগদান করেছেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। বক্তারা দাবি করেন, “তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবার মান নষ্ট করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন।”

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, “২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা-বেচায় ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটেছে।”

মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি জানান—
ডা. মেজবাহ উদ্দিনকে অবিলম্বে অপসারণ, তার দায়িত্বকালীন সকল আর্থিক লেনদেনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত, এবং হাসপাতালের সব বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা।
তারা জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছি। কিছু বিষয় পেয়েছি, যা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আছে। আগের ঘটনাগুলোর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার সাধারণ মানুষ সরাসরি রাজধানীতে গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়ানোয় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়েই চলছে আলোচনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম