চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেকেই আর বেঁচে নেই। ফিলিস্তিনের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করার সময় তারা ছিলেন তরুণ। কিন্তু এখন বেঁচে থাকা প্রায় সবারই বয়স সত্তর বা তার বেশী। তবুও তাদের সাহস ও উৎসাহ কমেনি। ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের ভালোবাসা এখনও প্রবল।
যোদ্ধাদের ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার অভিজ্ঞতা ছিল। ছবি: কে এম বদিউজ্জামান (ফেরত আসা যোদ্ধা)
৬৭ বছর বয়সী জিয়াউল কবির দুলু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এটি তার একমাত্র যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়। পরবর্তীতে তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুলু বলেন, “মেজর এম এ জলিল আমাকে পাঠিয়েছিলেন। আমি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়েছি। আমার সাথে যুদ্ধ করা আরও অনেক সহযোদ্ধাও ফিলিস্তিনের জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল।”
যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এর ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি যুবক প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। জিয়াউল কবির দুলু ছিলেন তাদের মধ্যেই একজন।
লেবাননের পত্রিকা আল-আখবার ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এর তথ্য উল্লেখ করে এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েকজন ফিলিস্তিনি সামরিক ব্যক্তিত্বকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে, বাংলাদেশি যুবকেরা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে অংশ নেন। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৭৬ জনকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে এবং তারা কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন।
দুলু বলেন, “কেউ কেউ গিয়েছিলেন ইসরায়েলি দখল থেকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করতে, কেউ ইসলামি ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আর কেউ গিয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই চেয়েছিলেন ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে। সবার একটি সাধারণ লক্ষ্য ছিল, ইসরায়েলের পরাজয়।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া সবাই শুধু ইসলামী অনুভূতি থেকেই অনুপ্রাণিত ছিলেন না। দুলু জানান, তার দলে দুইজন হিন্দুও ছিলেন। তিনি বলেন, “তবে দেশে ফিরে আসার পর তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”
যেসব স্বেচ্ছাসেবক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা প্রধানত ছিলেন মেজর এম এ জলিলের অনুসারী। মেজর জলিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ৯ এর কমান্ডার ছিলেন।
সেক্টর ১১-এর নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিকরা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের অনুসারীরাও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।