কুয়াকাটায় দোকানের দেয়াল ধসে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি দোকানের পুরনো দেয়াল ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুয়াকাটার কেরানীপাড়া এলাকায় রাখাইন মার্কেটের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন নবীনপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে আবু বক্কর (৪২) এবং অন্যজন হাকিম আলীর ছেলে কামাল (৪০)। জানা গেছে, তারা দোকানের পুরনো সাটার খুলে নতুন সাটার লাগানোর কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে দেয়ালটি ধসে তাদের ওপর পড়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের প্রাণহানি ঘটে।

মহিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নোমান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




রাজাপুরের মাহিন্দ্র ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::ঝালকাঠির রাজাপুরের পিংড়ি এলাকায় মাহিন্দ্র ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।

সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পিংড়ি স্কুল ব্রীজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।

রাজাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, ভান্ডারিয়াগামী একটি মাহিন্দ্রা ও ঝালকাঠিগামী একটি ইট টানা ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়। এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। এঘটনায় খুলনা-বরিশাল রুটে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।

মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় নিশ্চিত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান রাজাপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন

twitter sharing button



ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ১৬৮২ মামলা, জরিমানা আদায় ৬৩ লাখ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠানামাসহ বিভিন্ন কারনে সৃষ্ঠ দীর্ঘ দিনের যানজটে অতিষ্ঠ নগড়বাসী। ফলে যানজটের নিরসন ঘটিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ’র সবগুলো ট্রাফিক বিভাগ।

এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের সমাধান খুঁজতে পুলিশ ও দেশের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরই ধারাবাহিকতায় যারা সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ।

গত এক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৬৮২ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এসব মামলায় আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাত-দিন কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। গতকাল রোববার (০৩নভেম্বর) এক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৬৮২ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এ সংক্রান্তে ১৬৮২ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

এছাড়াও অভিযানকালে ২১৫ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪৭ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

এদিকে এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের সমাধান খুঁজতে পুলিশ ও দেশের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের অন্তত একটি ট্রাফিক করিডোরে তাদের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কিছু ঘরোয়া সমাধান খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। তাদের স্থানীয় দক্ষতা ব্যবহার করে সিগন্যালিং সিস্টেম ঠিক করতে বলা হয়। ট্রাফিক সমস্যার কিছু দ্রুত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে ডিএমপিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরে যানজটে প্রতিবছর দেশের অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) নাজমুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার পর ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ মোতায়েন আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক আহমেদ।




মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামীকাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্বের বহুল আকাঙ্খিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সমাপ্তি ঘটছে আজ। আগামীকাল ভোটাররা তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা কাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে চান। বলা হয়, বাস্তবে এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কেবল আমেরিকার নয়, বিশ্বের কূটনীতি এবং সামরিক নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে তার। কাল মূল ভোট হলেও দেশটিতে আগাম ভোট শুরু হয়েছে আগেই এবং সাত কোটির বেশি ভোটার ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন। গতবারের চেয়ে এবারের আগাম ভোট বেশি পড়বে বলে আশা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বি কমলা হ্যারিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও আরো চার প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করছেন।




পাঠচক্র থেকে গণ-অভ্যুত্থানে

ভাবিনি কখনো সামনের সারিতে এসে রাজনীতি করব। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকে রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল। যুক্ত ছিলাম প্রথম কোটা আন্দোলনে। সামাজিক একটা পরিবর্তন চাইতাম। যখন প্রথম বর্ষে পড়ি, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে আমার এক সহপাঠীকে আটক করা হয়। ঘটনাটি আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে।

২০১৯ সালে নুরুল হকের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিই। কিন্তু প্রথাগত ধারার রাজনীতি কখনো সেভাবে আমাকে আকর্ষণ করেনি। তাই নুরুল হকের সংগঠনে পরে আর যুক্ত হইনি। তবে ক্যাম্পাসের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যে আন্দোলন হয়, সেখানে ছিলাম। সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমার ভূমিকা ছিল। ২০২০ সালে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ৫৫ দিন কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে আমরা অড্ডা দিয়েছি, মাহফুজ ভাইয়ের (মাহফুজ আলম) সম্পাদনায় কাঁটাতার নামে পত্রিকা বের করেছি। ওই সময় আমার ভেতরে একটা পরিবর্তন আসে। বুঝতে পারি, নতুনভাবে শুরু করতে হবে। তবে কী করব, তা জানতাম না। এ সময় পৃথিবীতে করোনা শুরু হলো।

করোনার পর ক্যাম্পাসে ফিরে দেখলাম, আবরার হত্যাসহ আরও কিছু নিপীড়নমূলক ঘটনায় ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি যেভাবে নাজুক হয়েছিল, তারা সেটা কাটিয়ে উঠেছে—ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি দিচ্ছে, লাইব্রেরি করছে ইত্যাদি। অনুভব করলাম, ছাত্র আন্দোলন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই একটু পড়াশোনার মধ্যে ঢুকলাম। এই পর্যায়ে মাহফুজ ভাইয়ের নেতৃত্বে অনেকটা গোপনেই শুরু হলো গুরুবার আড্ডা। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ছাত্র আন্দোলন, ধর্ম প্রভৃতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা আর তর্ক—এভাবেই আড্ডাটা চলছিল।

২০২২ সালে আবরারের স্মরণসভায় হামলা হয়। এ ঘটনায় সে সময় ছাত্রদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামে নতুন সংগঠন করলাম। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৬ জানুয়ারি কোনো বাধা ছাড়াই ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এল। সবার মধ্যেই হতাশা।

আমি তখন টিউশনি করতাম, কোচিংয়ে ক্লাস নিতাম। তবে মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানো। আমরা হাল ছাড়িনি। নানা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সংগঠনের ব্যানারে না করে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ইফতার মাহফিল, ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কর্মসূচি—এসব করেছি। আমাদের চিন্তা যত না ছিল সংগঠন করা, তার চেয়ে বেশি ছিল সংগঠনের হাত ধরে একটা রাজনৈতিক পরিসর রচনা এবং ছাত্রদের সেখানে যুক্ত করা। এ জন্য আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিই। মাহফুজ ভাই, আসাদ ভাই (ভূঁইয়া মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান) মিলে পূর্বপক্ষ ও রণপা নামে পত্রিকা বের করেন। পাশাপাশি চলে গুরুবার আড্ডা, রসিক আড্ডা নামের পাঠচক্র এবং ছয়চক্র নামের একটি একাডেমিক আড্ডা। আরও ছিল রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে এগুলো আদতে ছিল লড়াই।

এই বাস্তবতায় আমরা ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হই। সবাই মিলে গ্রন্থাগারের ভেতরে গিয়ে বিসিএসপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ডাকলাম। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই-ই এল। আমরা একটা দলের মতো হলাম। গ্রন্থাগারের সামনে মিছিল করে কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলাম। তখন কিন্তু আমাদের কোনো ব্যানার ছিল না। ব্যানারবিহীনভাবে মাত্র তিনটি কর্মসূচির পর কোরবানি ঈদের বন্ধ শুরু হলো। আন্দোলনে ঈদের আগে অল্প কয়েকজন মেয়ে ছিল, পরে অনেকে যোগ দেয়। আমরা আলটিমেটাম দিলাম।

ঈদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে গোছালাম। সারা দেশে তৈরি করলাম প্রতিনিধি নেটওয়ার্ক। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে অভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হলো। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুরের বেগম রোকেয়া—বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হলো আন্দোলন। ঈদের ছুটিতে আমরা বিভিন্ন সার্কেলে গিয়েছি, বুদ্ধিজীবীদের কাছে গিয়েছি। তেমন সাড়া পাইনি।

ঈদের পর ১ জুলাই আন্দোলন শুরু হলেও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে যাত্রা শুরু হয় ৫ তারিখ। ‘কোটা পুনর্বহাল চাই না’ ফেসবুক গ্রুপে নাম আহ্বান করলে এই নামের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে। আর এমন নাম দেওয়ার কারণ হলো, কোটা নিয়ে ২০১৮ সালের আন্দোলনটা ছিল ব্যক্তিগত স্বার্থের জায়গা থেকে। ফলে এমন একটা নাম আমরা দিতে চেয়েছি, যাতে নামের মধ্যেই একটা নীতি প্রতিফলিত হয়। শুধু চাকরি নয়, এ আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিতাড়ন, ভালো আমলাতন্ত্র—এসবও যুক্ত করতে চেয়েছিলাম। করা যায়নি। মাঠে শুধু বৈষম্যবিরোধীটাই টিকে গেছে।

আন্দোলনের কৌশল

আন্দোলনে সব সময় ভিন্ন ধরনের নামে কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। হরতাল-অবরোধ—এসব খুব প্রচলিত। মানুষ জানে এখানে কী হয়—একটা বাধা আসে, পুলিশ বা ছাত্রলীগ হামলা করে। তাই আমরা ‘বাংলা ব্লকেড’ নাম দিলাম এই চিন্তা করে যে শহুরে মধ্যবিত্ত এখানে যুক্ত হোক। আবার জেন-জি প্রজন্মও যেন যুক্ত হয়, তা-ও আমাদের লক্ষ্য ছিল। এই ভিন্নধর্মী কর্মসূচির প্রভাব কিন্তু আন্দোলনে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন যখন দমনের চেষ্টা হলো, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। আবার দোয়া-মোনাজাত, গায়েবানা জানাজা—এ ধরনের কর্মসূচিও ছিল আমাদের। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে সংযুক্ত হয়েছেন। আদতে আমরা ডান-বাম, শহর-গ্রামসহ নানান মতাদর্শের মানুষ যেন একটা জায়গায় দাঁড়াতে পারে—এমন এক পরিসর তৈরি করতে চেয়েছি।

আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল মধ্যপন্থী। বামপন্থী-ইসলামি-বিএনপিপন্থী—সবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এ অবস্থানের কারণে সবার সঙ্গেই আমরা মিশতে পারতাম, এখনো পারি।

আন্দোলনের আরেকটি কৌশলগত দিক ছিল একক নেতৃত্ব না রাখা এবং পরিচিত কাউকে সামনে না আনা। আমি যেহেতু পরিচিত ছিলাম না, তাই সামনে ছিলাম। এমনকি প্রথম দিকে জুনিয়ররা সামনে ছিল। প্রতিদিনই গান-কবিতা হচ্ছে। অপরিচিতদের দেখে সবাই যুক্ত হচ্ছে। কেউ বুঝতেই পারেনি, এখানে নেতৃত্বটা দিচ্ছে কে।

শেখ হাসিনা তখন দেশে ছিলেন না, চীনে গিয়েছিলেন। আমরা ভেবেছি, দেশে ফিরে তিনি ইতিবাচক কিছু একটা বলবেন। কিন্তু ১৪ জুলাই তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করলেন। কথাটি সবার আত্মমর্যাদায় আঘাত করল। ওই রাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হল থেকে বেরিয়ে এলেন ক্যাম্পাসের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।

১৫ জুলাই মেয়েদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করল। ক্যাম্পাস থেকে আমরা বিতাড়িত হলাম। ১৫ তারিখ রাত থেকে একটু একটু পালিয়ে থাকতে শুরু করি। মুঠোফোন বন্ধ রাখি। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয়জন শহীদ হন। এদিন বিকেলে শহীদ মিনারে আমাদের কর্মসূচি ছিল। সবাই লাঠি নিয়ে শহীদ মিনারে এলেন। আমি ঘোষণা করলাম, আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন। মারা যাওয়ার আগের দিনও বাকেরের (আবু বাকের মজুমদার) সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর থেকেই মূলত আন্দোলন সর্বব্যাপকতা লাভ করে। গণজোয়ার শুরু হয়। জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে তাদের বিতাড়িত করেন শিক্ষার্থীরা। মেয়েদের হলে শুরু হয় প্রতিরোধ। এ আন্দোলনে মেয়েদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। আন্দোলনের বড় শক্তিও তাঁরা।

যেভাবে গোয়েন্দাদের ধোঁকা দিয়েছিলাম

আমাদের আন্দোলনের সফলতার আরেকটি বড় কারণ হলো, গোয়েন্দাদের ধোঁকা দিতে পারা। ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো বন্ধের ঘোষণা দেয় ইউজিসি। ১৭ জুলাই ছিল কফিনমিছিল। ওই দিন আবার মহররম। আমরা এত প্রচারণা করতে পারিনি। সেদিনও পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সম্মিলিতভাবে আমাদের আক্রমণ করে। এর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের লোকজন কথা বলতে চায় আমাদের সঙ্গে। তারা চেয়েছিল আমরা যেন সবাইকে নিয়ে ওদের সঙ্গে বসি, যাতে ওদের পক্ষে সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু সবাইকে নিয়ে ওদের সঙ্গে আমরা বসিনি, আমাদের কেউ কেউ বসেছে আর পরিকল্পনা করেই কাউকে কাউকে বাইরে রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসের মধ্যে ওদের সঙ্গে যখন বসেছি, তারা আমাদের বলেছে, ‘তোমরা সংলাপ করো। তোমরা যার সঙ্গে বসতে চাও, তার সঙ্গেই বসতে পারো।’ বিপরীতে আমরা বলেছি, ‘ঠিক আছে আমাদের কথা মানলাম।’ আমি হয়তো গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসেছি, আর আসিফকে (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) রাখা হয়েছে বাইরে। আমাদের মিটিং শেষ হওয়ার আগেই সে পরের দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দিয়েছে। গোয়েন্দারা বারবার এভাবে বিভ্রান্ত হয়েছে। ওরা বুঝতে পারত না, কাকে বললে কী হবে? কে মূল নেতৃত্বে?

একপর্যায়ে ভাবতে থাকি, যেকোনো মুহূর্তে আমাদের গ্রেপ্তার করবেন গোয়েন্দারা। তাই তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নিজেদের মুঠোফোন নিয়ে যাইনি। এ সময় তাঁরা আবারও আমাদের বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে লাগবে, তোমরা সংলাপে বসো।’ আমরা বলেছি, ‘আমাদের হল থেকে বের করে দিচ্ছেন, মন্ত্রীরা নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন, ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এভাবে তো সংলাপ হয় না। এগুলো ঠিক করেন, বসব।’ তাঁদের এভাবে বুঝ দিয়ে বের হতাম। কথা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতাম না, অন্য কিছু একটা করতাম।

১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিলাম। এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নামলেন, শহীদ হলেন অনেকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যখন মারা হচ্ছিল, সে সময় শুরু হয়েছে আমাদের পলাতক জীবন—মাঠে ছিলাম না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিলাম। ভিডিও–বক্তৃতা দিচ্ছি, ঘন ঘন জায়গা পাল্টাচ্ছি। কাছে কখনো মুঠোফোন ছিল, কখনো ছিল না। সবই করেছি গোয়েন্দাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য। জানতাম আমাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এক রাতে ধানমন্ডির একটা বাসায় ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, আমি এখানে নিরাপদ না। কাউকে না বলে খালি পায়ে বের হয়ে গেলাম। ওই রাতে ধানমন্ডির একটা মসজিদে ছিলাম। পরদিনই সেই বাসার মালিককে তুলে নিয়ে গেছে। সে রাতে ওখানে থাকলে গ্রেপ্তার হতাম নিশ্চিত।

তুলে নিয়ে গেল

১৯ জুলাই ১০-১২ দিন পর বাসায় গেলাম। তত দিনে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। আসিফ ও বাকেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পারলাম না। সরকার সে সময় একদিকে নির্বিচার মানুষ মারছে, অন্যদিকে ধরছে আন্দোলনকারীদের। আওয়ামী বয়ান ছিল, মৃত্যুর জন্য ছাত্ররা দায়ী, আন্দোলনকারীরা দায়ী। সরকারবিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে, তাই এত মানুষ মারা গেছে।

এদিকে এভাবে পালিয়ে বেড়াতে আমার আর ভালো লাগছিল না। ভাবলাম, যা হওয়ার হবে, এবার প্রকাশ্য হব। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় নন্দীপাড়ায় এক বন্ধুর বাসায় গেলাম। রাত ১১টায় কারফিউর সংবাদ দেখলাম। তবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে আন্দোলনের কোনো সংবাদ নেই। তখন আমি বিবিসি, এএফপি ও নেত্র নিউজের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। বার্তা পাঠালাম, শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।

রাত বোধ হয় তখন আড়াইটা-তিনটা বাজে। ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ডেকে তোলা হলো আমাকে। শুনলাম, ডিবি পুলিশ এসেছে। ছাদে চলে গেলাম। আমাকে অনুসরণ করে পুলিশও উঠে এল ছাদে। তাদের বললাম, ‘আমিই নাহিদ ইসলাম।’ চোখ বেঁধে আমাকে নিয়ে চলে গেল তারা। পরে আমাকে একটা রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করল, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ আছে, কে টাকা দেয় ইত্যাদি।

২০ জুলাই বিকেল থেকে আমাকে ওরা দাঁড় করিয়ে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে মারতে থাকে। কেউ এসে মারে, কেউ বোঝায়। কেউ আবার ইমোশনাল কথাবার্তা বলে। বলে, ‘আন্দোলন স্থগিত করো।’

আমাকে ওরা খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল কি না জানি না, ডিবিতে সব সময়ই হ্যালুসিনেশনের মতো হতো আমার। একসময় তারা বলল, ‘তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কাল কোর্টে রায় হবে। তুমি গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে, আন্দোলন স্থগিত করবে। কোটা সংস্কার হয়ে যাবে। তোমরা চাইলে আন্দোলন থেকে এভাবে এক্সিট নিতে পারবে।’ আমি হ্যাঁ-না কিছুই বলিনি।

২১ জুলাই ভোর চারটার দিকে আমাকে তারা পূর্বাচলে ফেলে যায়। বলেছিল, ‘তোমাকে যে তুলে এনেছি, এটা কেউ জানে না। কাউকে জানাবে না। জানালে আবার তুলে নিয়ে যাব।’ তারা আমার পকেটে এক হাজার টাকাও দিয়ে যায়, যাতে বাড়ি ফিরতে পারি। গোটা দিন গোয়েন্দারা আমাকে নির্যাতন করেছিল। আন্দোলনের পরিস্থিতি কিছুই জানতাম না। ২১ তারিখ ভোরে প্রথম আলোনিউ এজসহ ৮-১০টি পত্রিকা কিনে বাসায় এলাম। পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেলাম।

তারপর চিকিৎসার জন্য গেলাম গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে। সেখানেও গোয়েন্দা সংস্থা পিছু ছাড়ল না। আদতে ২২ জুলাই থেকেই গণস্বাস্থ্যে আমরা ওদের কাছে জিম্মি ছিলাম। দরজার সামনে সব সময় সাত-আটজন গোয়েন্দা থাকত। ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দিয়েছিল। দর্শনার্থীদের আসতে দিত না। এমনকি আমার মুঠোফোনও নিয়ে গিয়েছিল। তখন সহযোদ্ধা অনেকের খোঁজ পাচ্ছি না। এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ক্রমাগত আমাদের চাপ, প্রলোভন, সবশেষে হুমকি দিচ্ছে। ওদের এসবের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমন করা। আমাদের বলল, ‘সংবাদ সম্মেলন করো।’ কী কী বলতে হবে, তা তারা শিখিয়ে দিল।

তবে ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে যে সংবাদ সম্মেলন হলো, সেখানে আমরা ওদের শেখানো কথা বললাম না। ওরা কোনোভাবেই আমাকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। কারণ, ওদের আমি এক কথা বলি, আবার গণমাধ্যমে বলি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।

এর মধ্যে আসিফ, বাকেরও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালবাসী হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে আসিফ, বাকেরসহ আমাকে ওরা আবার তুলে নেয়। এবার ডিবি অফিসে। পরে আরও কয়েকজন সমন্বয়ককে তুলে আনা হয়। চলতে থাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন। ওরা বলে, মেয়েদের ধরে নিয়ে আসবে। যেসব সমন্বয়ক এখন বাইরে আছে, তাদেরও গুম করা হবে। নানা রকম চাপ দিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিবৃতি আদায় করে তারা।

বলা দরকার, ডিবি অফিসেই পুলিশের নিম্নপদস্থ দু-একজন আমাদের সাহায্য করত। রাতে পত্রিকা দিতে চেষ্টা করত।

৩০ তারিখ ছাড়া পেলাম আমরা। নির্যাতনের ধকলে আমি তখন খুব অসুস্থ। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। ডিবিতে বাধ্য হয়ে বিবৃতি দিয়েছি, মানুষ ভুল বোঝে কি না—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে বুঝলাম, না, সবাই বুঝতে পেরেছে কোন পরিস্থিতিতে আমরা সেদিন বিবৃতিটি দিয়েছিলাম।

অতঃপর এক দফা

ব্যক্তিগতভাবে ১-২ আগস্টেই আমি বুঝেছি, এবার এক দফার ঘোষণা দিতে হবে। ৩ জুলাই বলেছিলাম, আমাদের চোখ গণভবনের দিকে। এরপর তো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভীত হয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেন। বেলা দেড়টার দিকে শুনলাম, হাসিনা পালিয়েছেন। প্রথমে বিশ্বাস করিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, ঘটনা সত্যি।

মানুষ মুক্তি খুঁজছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সেই মুক্তি ঘটেছে। সব সময় আমি পেছনেই থাকতে চেয়েছি। কিন্তু নিয়তি আমাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

নাহিদ ইসলাম: তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক ও টেলিযোগ উপদেষ্টা; বৈষম্যবিবোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা




ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জমির মালিকদের ‘ভূমি মালিকানা সনদ (সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ-সিএলও)’ দেবে সরকার। কিউআরকোড বা ইউনিক নম্বরসংবলিত এই ‘ভূমি স্মার্ট কার্ড’ বা সনদই ভূমির মালিকানা নির্ধারণে চূড়ান্ত দলিল বলে গণ্য হবে। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতেও ব্যবহার হবে এই কার্ড। কোনো কারণে টানা তিন বছর কেউ খাজনা না দিলে তার জমি বাজেয়াপ্ত ও খাস করা হবে।

এ ছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কারও জমি অবৈধভাবে দখল করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এসব বিধান রেখে ‘ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।




ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছে ৫৪টি দেশ

ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কসহ ৫৪টি দেশ ও দু’টি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

রোববার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গত ১ নভেম্বর একটি চিঠি জাতিসঙ্ঘে জমা দেয়া হয়।

হাকান ফিদান বলেন, তুরস্কের উদ্যোগে লেখা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের কাছে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করা বন্ধ করতে হবে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি আফ্রিকার মুসলিম দেশ জিবুতিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় তুরস্ক-আফ্রিকা অংশীদারত্ব পর্যালোচনা সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা মানে গণহত্যায় সহযোগিতা করা।’

এ সময় ইসরাইলের বর্তমান প্রশাসন বিশ্বব্যাপী হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি ইসরাইলকে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

হাকান ফিদান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা এমন এক কাঠামো সৃষ্টি করছে, যেখানে ইতিহাসের অন্যায়গুলো পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে এই অপ্রতিরোধ্য পরিবর্তন আসবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যারা এতদিন অবহেলিত ছিল, তাদের সঙ্গেই এখন বিশ্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন’।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




মোবাইল কলরেট কমানো ও মেয়াদবিহীন প্যাকেজ চালুর আহ্বান নাহিদ ইসলামের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মোবাইল কলরেট কমানোর এবং ইন্টারনেটের জন্য মেয়াদবিহীন প্যাকেজ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্মসংস্থান এবং দেশের উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে। রবিবার (৩ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিসে রবি এবং গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “যেহেতু আন্দোলন কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, তাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে কাজ করার উপযুক্ত সময় বিরাজ করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার জনসমর্থিত হওয়ায় দেশ ও দেশের মানুষের উপকারে আসা যেকোনো কাজ করতে আগ্রহী। তিনি মোবাইল কলরেট কমানোর জন্য যুব সমাজের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বৈঠকে জানান, “বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। এখন ফিডব্যাক গ্রহণ করা হচ্ছে, যা টেলিকমিউনিকেশন খাতের জন্য শুভলক্ষণ।” রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব শেঠী বলেন, টেলিকমিউনিকেশন খাতে কমিশন বেইজড বিভিন্ন স্তর তৈরি হয়েছে, যার ফলে মোবাইল অপারেটররা মুনাফা বঞ্চিত হচ্ছে।

এই বৈঠকে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহেদুল আলম এবং গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৪-এর জমকালো সমাপ্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘বাংলাদেশ অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের বল রুমে অনুষ্ঠিত হলো। ২ নভেম্বর এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের সেরা অ্যাচিভারদের সম্মানিত করা হয়। তারকাবহুল এই আসরে ছিলেন জনপ্রিয় তারকা পূজা চেরী, রুনা খান, নিরব, দীঘি ও আয়োজক শাহরিয়ার স্বপনসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে তারকাদের পারফরম্যান্সে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যা দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে সবার মিলনমেলার আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই আসরে ‘লিপস্টিক’ সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পূজা চেরী সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ‘তুফান’ সিনেমার জন্য সেরা নির্মাতা হিসেবে পুরস্কার পান রায়হান রাফী, এবং এই ছবির জনপ্রিয় গান ‘দুষ্টু কোকিল’-এর জন্য সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গার ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন দিলশাদ নাহার কনা। ওয়েব ফিল্ম ‘অসময়’-এ দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে রুনা খান এবং একই চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন ইরেশ যাকের।

নাট্যশিল্পীদের মধ্যে তানিয়া বৃষ্টি নাটক ‘চোখটা আমাকে দাও’-এর জন্য সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পান, আর তানহা তাসনিয়া ‘বাড়ি গাড়ি নারী’ নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করে পুরস্কৃত হন। ধারাবাহিক নাটকে সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন মুনিয়া ইসলাম, এবং লামিয়া লাম উঠতি তারকা হিসেবে সম্মানিত হন।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী বাঁধন সরকার পূজা, এবং নৃত্য পরিবেশন করেন আনিকা কবির শখ ও মৌসুমী হামিদ। এ আয়োজনের জুরি বোর্ডে ছিলেন খ্যাতিমান প্রোডিউসার এহসানুল হক বাবু, সঙ্গীতশিল্পী খুরশিদ আলম ও সাংবাদিক মাসিদ রণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী ও নতুনধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ সাদী উজ জামান।




নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে সাগরে রওনা পটুয়াখালীর জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার জেলেরা অবশেষে দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ইলিশ ধরতে যাত্রা শুরু করেছে। ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখার জন্য ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। তবে এই সময়কালে ভারতীয় ও কিছু অসাধু দেশীয় জেলেদের মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার জেলে আর্থিক সংকটে পড়েন। সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলেও অনেকের মতে তা ছিল অপর্যাপ্ত। ট্রলার মালিকরা এ সময়ে তাদের ট্রলার এবং সরঞ্জাম মেরামতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

আলীপুর মৎস্য বন্দরের পরিচালক মিজানুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এবার প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, “আজ মধ্যরাত থেকে জেলেরা সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। নিবন্ধিত ৭৯ হাজার ৩০৭ জন জেলের মধ্যে ৬৪ হাজার ৭৭০ জনকে ২৫ কেজি করে সরকারি চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময়ে আইন লঙ্ঘন করায় ১৪২ জন জেলেকে আটক করা হয় এবং ৩৬৭টি অভিযানে ২১ লাখ ৮১১ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের প্রাচুর্য থাকলে জেলেরা তাদের ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবেন এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো এই সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”